৯ আগস্ট ২০২৬

পারিবারিক পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার শীর্ষে কাতার

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
পারিবারিক পর্যটনে উপসাগরীয় অঞ্চলে সবার শীর্ষে কাতার

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ভুক্ত প্রতিবেশী দেশগুলোর পর্যটকদের কাছে পছন্দের শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে কাতার। বছরব্যাপী নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজন, বিশ্বমানের আধুনিক অবকাঠামো এবং চমৎকার অতিথিপরায়ণ পরিবেশের কারণে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর দর্শনার্থীরা কাতারকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান 'পারিবারিক পর্যটন কেন্দ্র' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

ঐতিহাসিক সুক ওয়াকিফ পরিদর্শনের সময় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সৌদি আরব ও ওমান থেকে আসা পর্যটকরা কাতার পর্যটন খাতের সাম্প্রতিক অভূতপূর্ব রূপান্তরের ব্যাপক প্রশংসা করেন।

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নিপুণ মেলবন্ধন

পর্যটকরা জানান, বিশেষ করে ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পর থেকে পর্যটন ও নগর উন্নয়নে কাতারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ দেশটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সৌদি পর্যটক মোহাম্মদ আল-জুহাইমি বলেন:

"কাতার ঐতিহ্য ও আধুনিক জীবনযাত্রার এক চমৎকার সমন্বয়। সুক ওয়াকিফ এবং কাতারা কালচারাল ভিলেজের মতো স্থানগুলো যেমন ঐতিহ্যকে ধারণ করে, তেমনি এর নিরাপদ ও পরিবার-বান্ধব পরিবেশ প্রতিটি ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে। আমি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষকে কাতারের আতিথেয়তা উপভোগ করার আহ্বান জানাই।"

অপর সৌদি পর্যটক মোহাম্মদ ফাহদ আল-আজাবি কাতারকে এই অঞ্চলের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে অভিহিত করে জানান, ওল্ড দোহা পোর্ট, কাতারা, দ্য পার্ল-কাতার এবং সুক ওয়াকিফ তাঁর ভ্রমণের নিয়মিত তালিকাভুক্ত গন্তব্য।

বিশ্বমানের অবকাঠামো ও নিরাপদ পরিবেশ

সৌদি নাগরিক নওফল আল-কাহতানি এবং মেশাল হামাদ আল-মারি দেশটির আধুনিক হোটেল, গণপরিবহন এবং কেনাকাটার সুবিধার প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, লুসাইল বুলেভার্ড, মুশাইরেব ডাউনটাউন দোহা এবং আল সাফলিয়া দ্বীপের মতো আকর্ষণীয় স্পটগুলো সব বয়সের পর্যটকদের বিনোদনের চমৎকার সুযোগ তৈরি করেছে।

ওমানি পর্যটকদের প্রিয় বার্ষিক গন্তব্য

ওমান থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক আদেল আল-শেহরি জানান, কাতার এখন তাঁদের পরিবারের নিয়মিত বার্ষিক ছুটির গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি মরুভূমির সাফারি এবং বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস বা জলক্রীড়া সব বয়সের মানুষের হৃদয় জয় করে নিচ্ছে।

অন্যান্য ওমানি দর্শনার্থীরা ভৌগোলিক নৈকট্য, যাতায়াতের সহজলভ্যতা এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠাকে কাতারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বিশ্বমানের নাগরিক সুবিধার সুবাদে কাতার কেবল একটি মৌসুমি অবকাশ কেন্দ্র নয়, বরং সারা বছরজুড়ে জিসিসি অঞ্চলের পর্যটকদের প্রথম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

মক্কায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে কাতার দল

মক্কায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে কাতার দল

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর গ্র্যান্ড মসজিদে আয়োজিত ৪৬তম কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থকরণ, তেলাওয়াত ও ব্যাখ্যা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে কাতার। দেশটির ওয়াকফ ও ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (আওকাফ) প্রতিনিধিত্বে একটি প্রতিনিধিদল এই সম্মানজনক বিশ্বমঞ্চে যোগ দিয়েছে।

চলতি হিজরি ১৪৪৮ সালের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি আগামী ৬ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে সারা বিশ্বের বিশিষ্ট হাফেজ ও প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন।

কাতারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক নেটওয়ার্ক বিভাগের প্রধান ওমর আকলা আল-রুওয়াইলি। প্রতিনিধিদলে প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি দুজন প্রতিযোগী রয়েছেন, যারা প্রতিযোগিতার আলাদা দুটি ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক কুরআনিক অনুষ্ঠানগুলোতে কাতারের উপস্থিতি সুসংহত করার পাশাপাশি পবিত্র কুরআন ও এর হাফেজদের অব্যাহত সমর্থনের অংশ হিসেবেই এই অংশগ্রহণ। একইসঙ্গে এটি কাতারি সমাজে পবিত্র কুরআনের গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বকীয় সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পুনরায় চালু

কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পুনরায় চালু
কাতার এয়ারওয়েজের বিমান। ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। আগামী শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) থেকে বাহরাইন, কুয়েত এবং ইরাকের এরবিল (Erbil) রুটে পূর্বের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যাত্রী পরিষেবা চালু হবে।

ফ্লাইট চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্দেশনা
এভিয়েশন খাতের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও আকাশপথের পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীদের সুবিধার্থে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

ভ্রমণসূচী হালনাগাদ: সাময়িক রুট স্থগিতের কারণে যেসব যাত্রীর ভ্রমণসূচীতে পরিবর্তন এসেছে, তাদের নিজেদের আপডেট দ্রুত চেক করতে বলা হয়েছে।

সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি: সর্বশেষ ও সঠিক তথ্য জানতে যাত্রীদের কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (qatarairways.com) কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নিরাপত্তা বজায় রেখে বিমান চলাচলের এই উদ্যোগ যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিশ্চিন্ত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা।

কাতারের নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন

কাতারের  নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে পরিচালিত এক ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে নিহত ইরানি বিমান বাহিনীর পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি-র মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর কাতার থেকে মরদেহ ইরানে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইরানি গণমাধ্যম ও দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শিরাজের শহীদ دوران বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের দুটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর সুখোই-২৪ (Su-24) যুদ্ধবিমান কাতারের রাজধানী দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি (Al Udeid Air Base) অভিমুখে মিশন পরিচালনা করে।

অভিযানের মূল বিবরণ:

  • ঝুঁকিপূর্ণ মিশন: সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ফাঁকি দিয়ে পারস্য উপসাগরের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানি যুদ্ধবিমান দুটি আল-উদেইদ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

  • ক্ষয়ক্ষতি: ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।

  • আকাশ প্রতিরক্ষার আঘাত ও ক্র্যাশ: মিশন সম্পন্ন করে ফেরার পথে পারস্য উপসাগরের ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত আঘাতে একটি সুখোই-২৪ বিমান ভূপাতিত হয়। এতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি নিহত হন।

ঘটনার পর থেকে বাকি বৈমানিকদের ভাগ্যের পরিণতি ও মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। টানা কয়েক মাস ধরে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ যাচাইয়ের পর জেনারেল কাজেমির মরদেহ নিশ্চিত করে রাজধানী তেহরানের শহীদ লাশগারী ঘাঁটিতে আনা হয় এবং পরবর্তীতে সামরিক সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তাঁর জন্মস্থান শিরাজে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে অংশ নেওয়া অপর তিনজন বৈমানিক ও ক্রু সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আল-উদেইদ ঘাঁটিতে হামলার কারণে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের কিছু সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে এই বৈমানিককে জাতীয় বীর ও তাদের অভিযানকে বীরত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হলেও, আঞ্চলিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সংঘাতকে আরও জটিল ও বহুমুখী রূপ দিয়েছিল।

উপসাগরে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
উপসাগরে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের জোর কূটনৈতিক তৎপরতা

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি সৌদি আরব, জর্ডান ও কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, জর্ডানের আয়মান সাফাদি এবং কুয়েতের শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর সঙ্গে আলাপে শেখ মোহাম্মদ উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর সব প্রচেষ্টার প্রতি কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

কাতারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নেতারা সব পক্ষকে সংলাপ ও কূটনীতির পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ২০ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ওই সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কাতারের এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে উপসাগরীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতায় ফিরলে কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণার অঙ্গীকার নাফতালি বেনেটের

বেনেট আরো জানান, শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত না করাটা একটি ‘অমার্জনীয় ভুল’
প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ক্ষমতায় ফিরলে কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ ঘোষণার অঙ্গীকার নাফতালি বেনেটের
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট

ইসরায়েলে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে কাতারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘ইরানের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম ‘টেলিভিশন চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাফতালি বেনেট এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাতারকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে তালিকাভুক্ত না করাটা তেল আবিবের জন্য একটি ‘অমার্জনীয় ভুল’।

নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বেনেট বলেন, ‘‘ইরান প্রকাশ্যেই ইসরায়েলকে বিশ্বমানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কথা বলে, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কাতার পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নুখবা ফোর্সের পরিচালিত হামলার মূল অর্থায়ন করেছে কাতার। এ ছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিষাক্ত ও আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।’’

কাতারকে সরাসরি হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বেনেট আরও অভিযোগ করেন, দোহা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ঢেলে সেখানে তাদের নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করছে।

এমনকি ইসরায়েলের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রাণকেন্দ্র তথা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত কাতারের এই প্রভাব পৌঁছে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বেনেটের মতে, কাতার সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে না নেমেও ইসরায়েলকে ভেতর থেকে প্রতিনিয়ত দুর্বল ও নিঃশেষ করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে।