২২ অক্টোবর ২০২৬

‘আমি কাতারে হামলা করেছি!’ নেতানিয়াহুর বিতর্কিত স্বীকারোক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
‘আমি কাতারে হামলা করেছি!’ নেতানিয়াহুর বিতর্কিত স্বীকারোক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে তোলপাড়
কাতারে হামলা চালানোর কথা প্রকাশ্যে গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো কোটি কোটি ডলার ইসরায়েলই অনুমোদন করেছিল এবং এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, কাতার ইসরায়েলের জন্য ‘শত্রুভাবাপন্ন’ একটি দেশ। গাজা যুদ্ধের সময় কাতার ইসরায়েলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
কাতারে ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পূর্ণ হবে। ২০২৫ সালের ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। বৈঠকটির আলোচ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব।
হামলার পর কাতার এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দেয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর হামলাটিকে গুরুতর লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছিলেন।
এদিকে সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়েও সাফাই দেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশেই মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ গাজায় পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল কাতারের এই অর্থ।
তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের অর্থ হামাসের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। কাতার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সব সহায়তাই গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ ও কঠোর নজরদারির মধ্যে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এর আগে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যুক্তরাষ্ট্রও এসব অর্থ স্থানান্তর সম্পর্কে অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত; নির্বাচনে এসব বিষয়ই বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

ইরানে নেতানিয়াহুর হামলার পরিকল্পনায় ট্রাম্পের বাধা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ইরানে নেতানিয়াহুর হামলার পরিকল্পনায় ট্রাম্পের বাধা

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে বিমান হামলা চালানোর পরিকল্পনা করলেও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শুরু করতে রাজি হননি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (২১ অক্টোবর) টামস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্র, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সূত্রগুলোর মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলার চেয়েও এবার আরও ভয়াবহ আক্রমণের ছক কষা হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই হামলায় অংশ নিত কি না তা স্পষ্ট না হলেও আগামী সপ্তাহগুলোতে হামলা শুরুর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অপর একটি সূত্রের দাবি, আইডিএফের এই পরিকল্পনার পেছনে আলোচনার কৌশলও থাকতে পারে, তবে লড়াই শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে।

এই খবরের দুই দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গোপনে ইসরায়েল সফর করে আঞ্চলিক হুমকি নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইসরায়েলি সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির মার্কিন কর্মকর্তাদের জানান, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে পারে, যার ফলে ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন স্থগিত করতে হতে পারে।

তবে ৯ অক্টোবর ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাবে না।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ পার্লামেন্টে পেশ করেছে আঙ্কারা। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চুক্তির মূল পাঠের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত আগস্টে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জোটভুক্ত কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একে অপরকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে।’ ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা জোটের মাধ্যমে সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো সব ধরনের সহযোগিতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। এরপর দেশগুলো তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সামরিক ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দিয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে এতে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরির বিধানও এই চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

১৬টি অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নেই। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হলে তবেই কোনো দেশ এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

নিচে চুক্তিটির পুরো পাঠ দেওয়া হলো

এই চুক্তির পক্ষগুলো হলো তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপান্তর করতে সম্মত হয়ে,

যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে,

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি,

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের গুরুত্বের কথা প্রকাশ করে,

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষগুলোর‘ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে,

আন্তর্জাতিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ‘পক্ষগুলোর‘ মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে,

‘পক্ষগুলোর’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্পের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে,

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষগুলো’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপন্ন হয়, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২

বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের মাধ্যমে সশস্ত্র আক্রমণ বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ‘পক্ষকে’ সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়া যায় এমন সব ধরনের সহায়তার পুরো ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্পদসহ উপলব্ধ সব উপায়ের মধ্য থেকে সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘পক্ষগুলো‘ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে; নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সম্মত হওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো (পক্ষগুলো) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করবে। তারা নিজ নিজ এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং যে কোনো হুমকি ও বিপদ দূর করতে সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহায়তার ধারা বজায় রাখবে।

অনুচ্ছেদ ৫

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশগুলো কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুদ্ধ ও শান্তি—উভয় সময়েই দেশগুলো তাদের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে—

ক) প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা।

গ) অংশগ্রহণকারী যে কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া।

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা।

ঙ) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. চুক্তি বাস্তবায়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাধা দূর করতে প্রধান দেশগুলো (কোর পার্টিস) একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ থাকবেন। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

২. প্রয়োজন মনে করলে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশগুলোর মধ্যে আলাদা চুক্তি বা প্রোটোকল সই হতে পারে।

৪. প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নতুন কোনো দেশের এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার নিয়ম ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা কমিটির থাকবে।

৫. কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় থাকবে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব, যিনি তিন বছরের মেয়াদে প্রধান দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের নিয়মগুলো দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কমিটির কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা সহযোগিতা আরো গভীর করতে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মেনে দেশগুলো নির্ধারিত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

সরঞ্জাম ও রসদ সহায়তার প্রাপ্যতা ও উপযোগীতার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ, শান্তি কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশগুলো একে অপরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তা দেবে।

মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন বজায় রেখে, দেশগুলো এই চুক্তিকে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি দেশগুলোর পূর্বে করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকার বা বাধ্যবাধকতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত গোপন তথ্য ও দলিলের গোপনীয়তা দেশগুলো রক্ষা করবে এবং জাতীয় আইন মেনে চলবে।

২. এসব গোপন তথ্য ও দলিল অন্য কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার করা যাবে না।

৩. কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি সংশোধন করা যাবে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. নিজ নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তিটি অনুমোদিত হতে হবে। সচিবালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে বের হয়ে যেতে (অব্যাহতি নিতে) পারবে।

৪. চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

৫. গোপন তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব চুক্তি শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকবে।

নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিমরা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিমরা

ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে প্রয়োজন আরব মুসলিম নাগরিকদের ভোট।

নেতানিয়াহু সরকারকে উৎখাত করতে আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আরব নেতারা।

ইসরায়েলের জনসংখ্যার ২১ শতাংশ হলো আরব সংখ্যালঘু, যারা ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি মুসলিম কিন্তু নাগরিকত্বে ইসরায়েলি।

এই জনগোষ্ঠীর ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেলে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহু-বিরোধী জোটের অনুকূলে যেতে পারে।

ইউনাইটেড আরব লিস্ট পার্টির প্রধান মনসুর আব্বাস এবং জয়েন্ট লিস্টের নেতা আহমেদ তিবি নতুন পরিবর্তনশীল সরকার গঠনে আরব ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে গাদি আইজেনকোটের জোট ৫২টি আসন পেতে পারে, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট ৫০টি আসন পেতে পারে।

মনসুর আব্বাসের দল পাঁচটি এবং যৌথ আরব জোট জয়েন্ট লিস্ট আটটি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আইজেনকোট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সরকার গঠনে অনীহা দেখালেও আব্বাস বিশ্বাস করেন, ভোটের পর রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং পুলিশ মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের চরমপন্থার কারণে আরব ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আভাস মিলছে।

স্ট্যাট-নেট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, এবার আরবদের ভোটদানের হার বেড়ে ৬৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ।

আসন্ন ২৭ অক্টোবরের এই নির্বাচন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর প্রথম নির্বাচন এবং এটিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আসিম মুনির।

নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিমরা

আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে।

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।

সংকট নিরসনে দেশটি দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

এ পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের তেহরান সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের গণহত্যা

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে রোববার।

দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন।

এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।