৩০ আগস্ট ২০২৬

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

সরকার সপ্তাহ প্রতিবছর পালিত হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।

বার্তায় রাজাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন খামেনি। পাশাপাশি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি, যিনি প্রায় দুই মেয়াদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সরকারের সক্রিয় কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খামেনি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি শত্রুদের নানা বিধিনিষেধ ও ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের মধ্যেও তৃতীয় দফার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।

গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ইরানের জনগণ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার সেবা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরে তিনি মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন।

খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধী অর্থনীতির নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো যতটা সম্ভব দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা। যেখানে পর্যাপ্ত দেশীয় উৎপাদন নেই, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনি এই বার্তা দিলেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে।

খামেনি বলেন, যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া এবং নতুন সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের আগেও বহু বছর ধরে ইরান ও এর সম্পদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে এর বিপরীত চিত্রই পাওয়া যায়।

তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন খামেনি। তিনি বলেন, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অগ্রগতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, জনগণের মনোবল ও জাতীয় উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন যে কোনো হতাশাজনক বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন, যেমন যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা, সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব; আগেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক সংহতির ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে খামেনি বলেন, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে। সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

ইসরায়েলের যুদ্ধবাজ সরকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শনিবার (২৯ আগস্ট) ডনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘জায়নবাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ যারা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে চায়, ইসরায়েল তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ইসরায়েলের গণহত্যা সংক্রান্ত নেটওয়ার্কের আইনহীন নীতি এবং সমস্ত নিয়ম, নীতি ও সীমানা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বক্তব্যে এরদোয়ান অভিযোগ করেন, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় যারা কাজ করছে, ইসরায়েল তাদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঞ্চলটির শান্তি ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের আইনবহির্ভূত নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েলের তথাকথিত গণহত্যার নেটওয়ার্ক নিয়ম, নীতি, মূল্যবোধ ও সীমারেখা উপেক্ষা করে চলেছে।

এরদোয়ান আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনার মধ্যেই এরদোয়ানের এই মন্তব্য এলো। তুরস্ক এর আগেও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসেছে এবং আঞ্চলিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না: গালিবাফ

ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে এই অঞ্চলে আর কেউ তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, আমেরিকান বাহিনী হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ওই দাবির জবাবে গত শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পুরোনো একটি বার্তা পুনরায় প্রকাশ করেন গালিবাফ।

এই যুদ্ধের সমীকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, ‘হয় সবাই তেল বিক্রি করবে, নয়তো কেউ পারবে না। যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কারও পক্ষে তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’

হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি আরও সতর্ক করেন, ‘যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।’

অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে মার্কিন ডলার বর্জনের ডাক দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং লেনদেনে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং অবরোধের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

সরকার সপ্তাহ প্রতিবছর পালিত হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ বাহোনারের স্মরণে। ১৯৮১ সালের ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বোমা হামলায় তারা নিহত হন।

বার্তায় রাজাই ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, বাহোনার এবং বিভিন্ন সরকারের নিহত কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও মন্ত্রীদের স্মরণ করেন খামেনি। পাশাপাশি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি, যিনি প্রায় দুই মেয়াদ ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

সরকারের সক্রিয় কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে খামেনি বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি শত্রুদের নানা বিধিনিষেধ ও ষড়যন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের মধ্যেও তৃতীয় দফার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা মেরামত এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ প্রশংসনীয়।

গত ছয় মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ইরানের জনগণ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন শাখার সেবা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরে তিনি মূল্যস্ফীতির মতো জীবনযাত্রাসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ওপর জোর দেন।

খামেনি বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধী অর্থনীতির নীতিগুলোকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো যতটা সম্ভব দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করা। যেখানে পর্যাপ্ত দেশীয় উৎপাদন নেই, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানি করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই খামেনি এই বার্তা দিলেন। এর আগে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে।

খামেনি বলেন, যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে শত্রুপক্ষের কর্মকাণ্ড দেশের ওপর প্রভাব ফেললেও অর্থনীতির বিভিন্ন উপাদান আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা, জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া এবং নতুন সক্ষমতাগুলো কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ইরানের শত্রুরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের আগেও বহু বছর ধরে ইরান ও এর সম্পদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করলে এর বিপরীত চিত্রই পাওয়া যায়।

তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন খামেনি। তিনি বলেন, সময়মতো নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কাজে লাগানো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা দেশের অগ্রগতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।

তিনি বলেন, জনগণের মনোবল ও জাতীয় উদ্দীপনা দুর্বল করে এমন যে কোনো হতাশাজনক বক্তব্য এবং কল্পিত বিভাজন, যেমন যুদ্ধ না আলোচনা, ঐকমত্য না উগ্রতা, সমঝোতা না যুদ্ধংদেহী মনোভাব; আগেও ইরানের জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি করেছে। ভবিষ্যতেও এসবের একই ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সামাজিক সংহতির ক্ষতি করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে খামেনি বলেন, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে। সরকারের সব কৌশল ও নীতিতে সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, নার্স ও চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান খামেনি। সন্তানদের লালন-পালনের মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎ গঠনে গৃহিণীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে কমিয়ে দেওয়া বা সরিয়ে নেওয়া মার্কিন কূটনীতিকদের আবার দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো শুরু করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানের সঙ্গে আবার বড় ধরনের যুদ্ধ বা তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হবে বলে মনে করছে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুলসংখ্যক মার্কিন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিদেশি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা শুরু করবে না। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের কয়েক মাসের অনিশ্চয়তারও অবসান হচ্ছে। এতদিন মার্কিন প্রশাসন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে আবার পূর্ণমাত্রায় জনবল নিয়োগ করবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল।

অনেক মার্কিন কূটনীতিককে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে তাদের সামনে সন্তানদের কোথায় স্কুলে ভর্তি করানো হবে এবং পরিবার নিয়ে আবার মধ্যপ্রাচ্যে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যেসব দেশে মার্কিন দূতাবাসে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক কূটনীতিক ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক ও কুয়েত। প্রথম দফায় মার্কিন কূটনীতিকদের লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ফেরত পাঠানো হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জনবল রাখা হবে। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে জনবল সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হবে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এরই একটি লক্ষণ হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ কার্যকর করবে। লেবানন ও ইরাকে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের ওপর ইতোমধ্যেই বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তুলনামূলক ছোট দেশ কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের হামলায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে। পেন্টাগন বিশেষভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে চিন্তা করছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দীর্ঘদিনের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে এর আগেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জুনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত ছিল।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সামরিক উত্তেজনা আপাতত কমার প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা ও কূটনৈতিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যে এখনও গভীর, সেটিও স্পষ্ট করছে।

ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের জন্য একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।

দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি বলেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান ও রিয়াদের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।”

তার মতে, এই আস্থার ঘাটতি দূর করতে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে।

এরই মধ্যে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ
বাগদাদের নতুন প্রস্তাবের পেছনে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে রিয়াদ দাবি করে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানায়।

অন্যদিকে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একই দিন দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

ইরাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণেও জোর
ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ‘সম্পূর্ণভাবে ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত’।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ইরাকি রাষ্ট্রের।

ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর ভেতরে থাকলেও অন্য কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এর বাইরে সক্রিয় রয়েছে।

গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিটিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরাকের মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগ
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এর আগেও ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবার দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সেই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাগদাদের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ইরান ও সৌদি আরব এখনও প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানোয় উদ্যোগটি কতটা এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি