রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ নিহতের পরিবারটি।
নিহত জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাশিয়ার মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলের কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি প্রবাসী জাকির হোসেন নিহত হন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়িতে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র দেড় বছর আগে জমি বিক্রি ও ধার করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। সেখানে রাশিয়ার আমুর এলাকায় এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন একটি গ্যাস কমপ্লেক্সে চাকরি করতেন তিনি। তার আয়ে ধারদেনা পরিশোধ করে সংসার কোনোমতে চললেও সম্প্রতি তার প্রমোশন হয়। সেই সুখবর এখন শোকের খবরে পরিণত হয়েছে।
জাকিরের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, জাকিরের পরিবার অত্যন্ত অসহায় ও অসচ্ছল। দেশে থাকা অবস্থায় তিনি রিকশা চালানোসহ নানা কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে দেড় বছর আগে জমি বিক্রি ও ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার আরও সংকটে পড়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে জাকির হোসেনের মৃত্যুর খবরটি আমরা পেয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জেনেছি পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। তার স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা হলো জাকিরের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই অসহায় পরিবারটিকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।