২০ অক্টোবর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল ভান্ডারের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ কোটির বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে। এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

চুক্তির বিস্তারিত কাঠামো অবশ্য প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। কোন কোন তেলক্ষেত্র বা কোম্পানি এর আওতায় পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এসব তেল ভান্ডারের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করবে, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা দেননি তিনি।

ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে এ চুক্তিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেছেন, চুক্তির আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেল ক্ষেত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারের কর রাজস্ব প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

রদ্রিগেস বলেন, এসব বিনিয়োগ শুধু দেশটির তেলশিল্পের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নেই সহায়তা করবে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামের তেল পাবে, যা দেশটির জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ভেনেজুয়েলার জন্য চুক্তিটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আনবে এবং হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও জানান রুবিও। তার মতে, এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথও তৈরি হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলভান্ডার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের কম বিনিয়োগ, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। দেশটির তেলশিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারগুলোর জন্য অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।

তবে চুক্তিটির আইনি ও আর্থিক ভিত্তি নিয়ে এখনো বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো ও আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ডেভিড গোল্ডউইন প্রশ্ন তুলেছেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও নতুন হাইড্রোকার্বন আইনের আওতায় মার্কিন সরকারের তেলক্ষেত্র ইজারা নেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি আছে কি না। তার মতে, কোনো তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য মার্কিন সরকারের ইজারা নেওয়ার এমন নজিরও নেই।

ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দুর্বল বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সীমিত রপ্তানি সক্ষমতা এবং তেলশিল্পে সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন চুক্তি বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ আনতে পারবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল উত্তোলন, পরিবহন ও পরিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম কমবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

১৯৭০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা তার তেলশিল্প রাষ্ট্রীয়করণ করে। পরে প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের আমলে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত যৌথ উদ্যোগে যেতে বাধ্য করা হয় এবং একপর্যায়ে এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপসসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সম্পদ অধিগ্রহণ করা হয়।

নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে দেশটির তেল উৎপাদন আরও দ্রুত কমে যায়। এখন ট্রাম্প প্রশাসন সেই শিল্প পুনরুজ্জীবিত করে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।

একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে সেগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

তিনি লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কিছু করতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

এ সিদ্ধান্তের জেরে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তা ইউক্রেনের ক্ষতি করবে। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমার সঙ্গে পুতিনের তুলনা চলে না। পুতিন একজন আগ্রাসী, যিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছেন এবং তার বাহিনী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছে। পুতিনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও অভিযোগ করেন, কিয়েভ রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যদিও এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, এমনকি শুরু থেকেই হয়তো তা চাননি।

৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

রুশ জ্বালানি গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিয়েভের পাশাপাশি ইউরোপীয় অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এমন পদক্ষেপ মস্কোকে পুরস্কৃত করার শামিল।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নিযুক্ত দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় অবিরাম যোগাযোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য কূটনীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।

জেলেনস্কি লেখেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায়। রাশিয়া ছাড়া বাকি সবাই গত সাড়ে চার বছর ধরে এমন শান্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের আলোচনা চলার সময়ও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকির পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোমানিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ফ্লাইট ওএস৮২-এর ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। পরে বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় উড়োজাহাজটি সোফিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের নামানোর পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়।

অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। তবে এই হুমকির সঙ্গে এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিব থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ায় অবতরণ করে।

ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

ফ্রান্স ও স্পেনে উত্তাপ ছড়ানো বিক্ষোভ ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মিলানে পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই কারণে লিসবনে তাঁবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে তোলা একটি ছবিতে পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেলোনি লিখেন, শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করতে একটি পক্ষ বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

এদিকে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে লিসবনে বিক্ষোভকারীরা একটি তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের বিক্ষোভে একই ধরনের শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল।

লিসবনের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কোয়ারে শনিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ পদযাত্রা করেন। অনেকে সারা রাত সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতির সমালোচনা করেন ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো। তিনি বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থকে রক্ষা করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসনে ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করে।

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ক্ষোভের দিকটি বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।’ মূলত ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন মন্টিনিগ্রো।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

ফ্রান্সে স্কুলে বিদ্যমান সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য।

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশটির সরকার।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।

সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কয়েক ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

প্রথমত, প্যারিসসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরো শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।

চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শিক্ষানীতি ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারের এসব বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাসেলস পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং ৩২ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

বিক্ষোভে পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বেলজীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং পাঁচজনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

শনিবার সন্ধ্যায় শহরটির বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস সাঁ-ল্যামবার চত্বরে জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী প্রিন্স-বিশপস প্যালেস লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এ সময় আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন তাদের বন্ধুদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।