২৫ আগস্ট ২০২৬

বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মনছুর আলম (৩২) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (২২ আগষ্ট) রিয়াদের স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনছুর রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কদমতলীর এলাকার কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের সৌদি প্রবাসী বন্ধ ইউছুপ আলীর বরাতে স্বজনরা জানান, গত শনিবার কাজ শেষে বাসার ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় মনছুর ও তার আরেক বাংলাদেশী সহকর্মীকে বহনকারী গাড়ীকে অন্য একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা দেয়। পরে মনছুর ও তার সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মনছুরকে মৃত ঘোষনা করেন। তার অন্য সহকর্মীর অবস্থাও সংকটাপন্ন।

নিহতের প্রতিবেশী নাঈম উদ্দিন জানান, নয় বছর ধরে রিয়াদে কর্মরত মনছুর এক বছর আগে বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গেছেন। তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান আছে। তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়াও স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় আছেন। তাদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মনছুর আলম (৩২) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (২২ আগষ্ট) রিয়াদের স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনছুর রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কদমতলীর এলাকার কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের সৌদি প্রবাসী বন্ধ ইউছুপ আলীর বরাতে স্বজনরা জানান, গত শনিবার কাজ শেষে বাসার ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় মনছুর ও তার আরেক বাংলাদেশী সহকর্মীকে বহনকারী গাড়ীকে অন্য একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা দেয়। পরে মনছুর ও তার সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মনছুরকে মৃত ঘোষনা করেন। তার অন্য সহকর্মীর অবস্থাও সংকটাপন্ন।

নিহতের প্রতিবেশী নাঈম উদ্দিন জানান, নয় বছর ধরে রিয়াদে কর্মরত মনছুর এক বছর আগে বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গেছেন। তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান আছে। তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়াও স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় আছেন। তাদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রোমে ট্রিপল মার্ডার! প্রেমিকার পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করতে ইতালিতে সাবেক প্রেমিক শাহাদাত

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
রোমে ট্রিপল মার্ডার! প্রেমিকার পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করতে ইতালিতে সাবেক প্রেমিক শাহাদাত

প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ২২ বছর পর প্রতিশোধ নিতে অবৈধভাবে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেন। তিনি সাবেক প্রেমিকা, তার স্বামী ও তার এক কন্যাসন্তানকে ইতালির রাজধানী রোমে গত ২৬ জুন রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতালীয় পত্রিকার প্রতিবেদন, পুলিশ সূত্র এবং নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ঘাতক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরজু আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন।

বিয়ের পর কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী আরজুকে নিয়ে ইতালি চলে যান। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক শাহাদাত এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। দুই দশক ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

শাহাদাত হোসেন ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। সেখান থেকে কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে সুকৌশলে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি নিজেকে আরজুর ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। নিহত আরজুও সরল বিশ্বাসে তার পুরনো পরিচিত শাহাদাতকে তার বাড়িতে যেতে দিয়েছিলেন।


২৬ জুন রাতে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীদের ধারণা, শাহাদাত ওই দিন ওই বাসায় গিয়ে শুধু আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাকে দেখেন। প্রথমে আরজুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বা চিৎকার করলে শিশু আরিশাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত পালিয়ে যাননি। বরং তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ঘরের মেঝের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন এবং লাশগুলো লুকিয়ে রাখেন।

তিনি জানতেন, একে একে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাসায় ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন বাকিদের হত্যার জন্য। কিছুক্ষণ পর আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে বাসায় ফিরলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

সবশেষে বাসায় ফেরেন বড় ছেলে আয়ান (২০)। আয়ান তদন্তকারীদের জানান, তিনি ঘরে ঢুকে শাহাদাতকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাকে বলেন যে তার মা-বাবা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আয়ান যখন তার মা-বাবার কক্ষের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোন আরিশার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই আয়ান বুঝতে পারেন যে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। ঠিক সেই সময় শাহাদাত তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।


আয়ান প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তার সেই চিৎকারে শাহাদাত ভয় পেয়ে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন লাপাত্তা। ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ইল মেসাজ্জেরো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হয়তো ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ সেখানে তার স্ত্রী ও কন্যা বসবাস করেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এই চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের পর রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্মম হত্যাকাণ্ডটি তদন্তের জন্য ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ’


ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ফ্যানপোস্ট’ লিখেছে, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। কারণ হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর ফেসবুকে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারো জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’

বন্দুকধারীর গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
বন্দুকধারীর গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত সেই ব্যক্তিও বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাউনসভিলের রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

মো. রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রাজু ও অন্য বাংলাদেশিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। পায়ে গুলিবিদ্ধ অন্য বাংলাদেশি চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে সুস্থ আছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজুর স্বজনেরা জানান, ঘটনার সময় এক বন্দুকধারী ওই দোকানে ঢুকে হঠাৎ গুলি চালায়। এতে দোকানে কর্মরত রাজু এবং সেখানে থাকা আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। রাজুর বুকে এবং অন্য বাংলাদেশির পায়ে গুলি লাগে।

নোয়াখালীর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।’

রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে ব্রুকলিনে কাজ করার সময় একটি ফাস্টফুড দোকানের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যরাতের ঠিক পরপরই ব্রাউনসভিলের রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁর ভেতরে ৪৪ বছর বয়সী ওই কর্মীর মাথায় গুলি করা হয়। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ডান পায়ে গুলি লাগে।

চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরের ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে দুই ভুক্তভোগীকে নিয়ে যান। সেখানে ওই ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি রেস্তোরাঁটির কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ব্রুকলিনে একটি সহিংস সপ্তাহ পার হওয়ার পরপরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইস্ট নিউইয়র্কের নাইচার পিংক হাউসের বাইরে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাটিকে রোড রেইজ বা সড়ক-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষ হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপ সিং নামের ওই ব্যক্তি পিৎজা ডেলিভারি দিতে যাওয়ার সময় ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের কাছে বাগবিতণ্ডার মধ্যে তার বুক ও পেটে সাতটি গুলি করা হয়। পরে হত্যাকারী গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে, গুরদীপ সিং যে স্থানে খুন হন সেখান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে ইস্ট নিউইয়র্কের হাকিমসে ১৭ বছর বয়সী অহমীর জর্ডানকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তবে এ ঘটনায়ও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

১৫ দিনে ৫ প্রবাসীর মৃত্যু: পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে আতঙ্ক

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
১৫ দিনে ৫ প্রবাসীর মৃত্যু: পর্তুগাল প্রবাসীদের মাঝে আতঙ্ক

পর্তুগালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও শোক বাড়ছে। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় মারা গেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সৈয়দ জুনাইদ আলী।

স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়, পর্তুগালের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তার মৃত্যু হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সৈয়দ জুনাইদ আলীকে স্থানীয়রা ভদ্র, নম্র, মিশুক ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তার মৃত্যুতে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।

১৫ দিনে চার বাংলাদেশির মৃত্যু

জুনাইদ আলীর মৃত্যুর আগে পর্তুগালে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আরও চার বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর সামনে আসে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সূত্র অনুযায়ী, গত প্রায় এক মাসে দেশটিতে অন্তত পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে আকস্মিক অসুস্থতা, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়া এবং দুর্ঘটনার মতো ঘটনা রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় কাজ করেন। শারীরিক পরিশ্রম, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, একাকিত্ব ও মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো তাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে সরাসরি কারণ হিসেবে উল্লেখ করার আগে চিকিৎসা ও সরকারি নথির মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা একা থাকেন, দীর্ঘ সময় কাজ করেন কিংবা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রবাসীরা।

একই সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসচেতনতা, জরুরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে।

পা হারিয়েও ১৪ বছর সংগ্রাম:

মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান!
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার সাথে দেশ ছেড়েছিলেন কক্সবাজারের ছেলে মোহাম্মদ ফরিদ। সময়ের পরিক্রমায় স্বজনেরা ভেবেছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। অবশেষে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও মানবপাচারের শিকার হয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে ছেলেহারা বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের আড়াই দশকের দীর্ঘ প্রহর গোনার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

ফরিদের এই ২৫ বছরের প্রবাস জীবন ছিল যেন এক হৃদয়বিদারক নাটকের গল্প। ২৫ বছর আগে বাবার হাত ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে প্রথমে ভারতে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি দুর্ঘটনায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে মারাত্মক আহত হলে চিকিৎসকেরা তাঁর দুটি পাই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। শারীরিক এই সীমাবদ্ধতার মাঝেই এক মানবপাচারকারীর প্রলোভনে পড়ে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান থেকে ইরান হয়ে তুরস্ক পৌঁছান ফরিদ।

ইউরোপ পৌঁছানোর স্বপ্ন অধরা থেকে গেলেও তুরস্কের সমুদ্রতীরে দীর্ঘ ১৪ বছর পানীয় বিক্রি করে জীবনসংগ্রাম চালান তিনি। সেখানে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে তিনবার গ্রেপ্তার হন এবং সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর গত ১৮ আগস্ট ভোরে তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে ফরিদ স্বাভাবিকভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছিলেন না। তিনি কেবল নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম এবং 'উখিয়া, কক্সবাজার' শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারছিলেন। ঢাকা বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে ব্র্যাকের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যাপালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় ফরিদের মূল পরিবারের সন্ধান বের করেন।
ভিডিও কলে ছোট ভাই সৈয়দ আলমের সাথে কথা বলার সময় দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। ছোটবেলার স্মৃতি থেকে ফরিদের এক হাতে ছয়টি আঙুল থাকার শারীরিক বৈশিষ্ট্যটি দেখে পরিবার নিশ্চিত হয় যে হারিয়ে যাওয়া ফরিদই ফিরে এসেছেন।