১১ অক্টোবর ২০২৬

মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ"

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে কাতারের উদ্যোগ ‘আলফু মুসলিমাহ

বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতারের আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন নামের একটি নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র।

সম্প্রতি দ্যা পেনিনসুলায় এবিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী বিশেষায়িত আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল-মুজাদিলাহ সেন্টার অ্যান্ড মসজিদ ফর উইমেন মুসলিম নারীদের ইতিহাস ও অবদান সংরক্ষণে ‘আলফু মুসলিমাহ’ নামের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।

কাতারের এডুকেশন সিটিতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বৈশ্বিক উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, ইতিহাসজুড়ে মুসলিম নারীদের জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার বা অতীত থেকে চলে আসা কাজের ধারাগুলোকে নথিবদ্ধ করা। এ উদ্যোগের আওতায় গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একটি যৌথ বিশ্বকোষ তৈরিতে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও জানানো হয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে “ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী মুসলিম নারীরা কেবল ব্যতিক্রমী কিছু ব্যক্তি ছিলেন”—এমন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। এর বিপরীতে জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা, সামাজিক নেতৃত্ব, রাজনীতি, অর্থনৈতিক জীবন ও পরিবারে নারীদের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণের ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

আল-মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ নাদি এবিষয়ে বলেন, আজকালকার তরুণীদের জন্য মুসলিম নারীদের আদর্শ হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়—এ নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই এই উদ্যোগের ধারণা এসেছে।

তিনি বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে ইসলামী নেতৃত্বের মডেল ধারণকারী মুসলিম নারীদের পরিসর এতটাই বিস্তৃত যে, তাদের ব্যতিক্রমী নারী হওয়ার যে ধারণা রয়েছে, তা আর টেকে না।”

তিনি আরো বলেন, “আলফু মুসলিমাহ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসব ইতিহাসকে আরো সহজলভ্য করে তোলা এবং ‘রিআয়া’ (رعاية) বা দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধানের ইসলামী ধারণার আলোকে নারীদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আরো বিস্তৃত ধারণা তুলে ধরা।”

এছাড়াও বলেন, “মুসলিম নারীদের অবদান নতুন কোনো বিষয় নয়; নারীরা দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান উৎপাদন ও জ্ঞান হস্তান্তর, গবেষণা, রাজনীতি, সমাজ, অর্থনৈতিক জীবন এবং পরিবারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ করে আসছে।”

মুসলিম নারীদের এসব অবদান নথিবদ্ধ করা ইসলামের আরও পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের অর্ধেকই নারী।

ইতিহাসের যেসব অংশ এতদিন উপেক্ষিত ছিল, এই উদ্যোগ সেসব অংশকে সামনে আনতে, নতুন প্রজন্মকে মুসলিম নারীদের অবদান ও নেতৃত্বের দীর্ঘ ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে ও নিজেদের চিনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে বিস্তৃত ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন সব অঞ্চল ও সময়ের নারীদের, যারা তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এবং যাদের নিয়ে একাডেমিক গবেষণা বা জনপরিসরে আলোচনা কম হয়েছে।

আলফু মুসলিমাহ ইসলামী সভ্যতাভুক্ত বিশ্ব ও মুসলিম সম্প্রদায়গুলোর ১১টি বিস্তৃত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে—আরবি ভাষাভিত্তিক ও ফার্সি-প্রভাবিত বিশ্ব, তুর্কি অঞ্চল, ভারতীয় উপমহাদেশ, সাব-সাহারান আফ্রিকা, মালয় দ্বীপপুঞ্জ, চীন ও পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, ইংরেজিভাষী দেশগুলো, মূল ভূখণ্ডের ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল।

ব্যক্তিবিশেষ নারীদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, মুসলিম নারীদের কীভাবে ঐতিহাসিক উৎসগুলোতে নথিবদ্ধ ও উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথায় তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিলো ও বর্ণনাগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—তাও এই প্রকল্পে পর্যালোচনা করা হবে।

আল মুজাদিলাহর রিসার্চ ম্যানেজার ড. নাজাহ আরো বলেন, “নারীদের সম্পর্কে নথি আছে কি না, আমরা শুধু সেটিই জানতে আগ্রহী নই; বরং নারীদের কীভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে, সেটিও আমাদের আগ্রহের বিষয়।” তিনি জানান, মুসলিম নারীদের ইতিহাস কীভাবে সংরক্ষিত ও এর ব্যাখ্যা কিভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, আমাদের উদ্যোগটি সেটিও পর্যালোচনা করতে চায়।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের কাছে একটি উন্মুক্ত প্রস্তাবনাও চাওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর গবেষণাগত মান এবং প্রকল্পের গবেষণা-পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা যাচাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত জীবনী লেখার গণ্ডির বাইরে গিয়ে প্রত্যেক মুসলিম নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, নেতৃত্বের ধরন ও উত্তরাধিকার বিশ্লেষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সময়কাল এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে।

একই সময়ে, আকর্ষণীয় লেখা, গল্প বলা, মৌখিক ইতিহাস এবং ভিজ্যুয়াল উপকরণের মাধ্যমে একাডেমিক গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তোলাও প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

আল মুজাদিলাহ জানায়, এই গবেষণায় ৫০০টির বেশি জীবনী অভিধান, পাণ্ডুলিপি, আর্কাইভ এবং বিপুলসংখ্যক ধ্রুপদি ও সমকালীন উৎস ব্যবহার করা হবে।

ড. নাজাহর মতে, এই বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের উদ্দেশ্য হলো ‘আলফু মুসলিমাহকে’ শুধু পৃথক নারীদের জীবনী সংকলনের উৎস হিসেবে নয়, মুসলিম নারীদের ইতিহাস নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বিদ্যমান ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং বহু সংখ্যক গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আর বৃহত্তর পাঠকসমাজের জন্য এর লক্ষ্য হলো, আরো বিস্তৃত পরিসরের নারীদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে সহজবোধ্য বিবরণ তুলে ধরা।

ড. নাজাহ বলেন, “কাতার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন। প্রস্তাবনা আরবি ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় গ্রহণ করা হবে। আবেদনকারীরা প্রকল্পের সুপারিশকৃত তালিকা থেকে যেকোনো নারীকে বেছে নিতে পারবেন অথবা নিজেদের অঞ্চল কিংবা গবেষণার ক্ষেত্র থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।” প্রত্যেক আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রস্তাবনা জমা দিতে পারবেন।

উন্মুক্ত প্রস্তাবনার আহ্বানটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য আল-মুজাদিলাহর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ড. নাজাহ জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, মুসলিম নারীদের অবদানের আরো সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় নথি তৈরি করা এবং ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে গবেষণা, শিক্ষা ও জনসাধারণের উপলব্ধির জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলা।

সূত্র: দ্যা পেনিনসুলা

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

শ্রেণিকক্ষের পাঠ যখন বাস্তবতার স্পর্শে প্রাণ পায়, তখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, বাংলাদেশ স্কুলের দাতা সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে ছিল সৃজনশীলতার এক বিশাল সমারোহ। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পাশাপাশি তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার দক্ষতাও ফুটে ওঠে। দিবা শাখার প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মকাণ্ড, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একদিকে শিশুদের কোমল হাতে ফুটে ওঠা রঙিন শিল্পকর্ম, অন্যদিকে কিশোর শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। প্রতিটি প্রকল্প যেন ছিল—শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও নিজেদের অপার সম্ভাবনার এক বাস্তব পরিচয়।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, বৈজ্ঞানিক মননের অপূর্ব সৃষ্টি এবং নিজেদের কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টিশীলতা বৃহত্তর দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করার এক বিরল প্রয়াস। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যাহত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিজ্ঞান ও শিল্পের এ আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর চালানো নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। এই হামলায় হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দোহা এই হামলার ঘটনায় "কঠোরতম ভাষায়" নিন্দা জ্ঞাপন করছে। একই সাথে এই হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি এক প্রত্যক্ষ ও গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করে যে, কাতার সৌদি আরবের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরব সরকারের গৃহীত যেকোনো বিধিসম্মত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কাতারের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কাতার সরকার এই হামলায় নিহত শহীদদের পরিবার, সৌদি সরকার এবং দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেছে।

দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
দোহা–রিয়াদ রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করল কাতার এয়ারওয়েজ

কাতার এয়ারওয়েজ দোহা ও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যে চলাচলকারী একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। পরিচালনাগত কারণে ২০২৬ সালের ৯ ও ১০ অক্টোবর এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি।

৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে জারি করা এক ভ্রমণ সতর্কবার্তায় কাতার এয়ারওয়েজ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে যাত্রীদের অবহিত করে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

৯ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1168 / QR1169

  • QR1164 / QR1165

  • QR1238 / QR1239

  • QR1172 / QR1173

  • QR1166 / QR1167

১০ অক্টোবর বাতিল হওয়া ফ্লাইট

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবরের জন্য বাতিল হওয়া ফ্লাইট নম্বরগুলো হলো:

  • QR1170 / QR1171

  • QR1240 / QR1241

  • QR1238 / QR1239

  • QR1164 / QR1165

যাত্রীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

দোহা থেকে রিয়াদ কিংবা রিয়াদ থেকে দোহাগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনরায় টিকিট বুকিং বা বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরাসরি এয়ারলাইনটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এয়ারলাইনটির সূচি ও ভ্রমণসংক্রান্ত ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রীদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য কাতার এয়ারওয়েজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় বা পশ্চিমাংশে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটা এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করত। তবে যুদ্ধের পর ইরান প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, এসব হামলা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

কাতারে ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ: প্রবাসীদের জন্য ৩টি নতুন সুবিধা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬

গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (MoCI)। ২০০৮ সালের ৮ নম্বর ভোক্তা সুরক্ষা আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ড্রাইভিং স্কুল এবং প্রশিক্ষণার্থী বা গ্রাহকদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল করা।

নতুন নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

  • লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক: সেবা প্রদানের জন্য স্পষ্ট ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না ড্রাইভিং স্কুলগুলো।

  • প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ: চুক্তির মধ্যে অবশ্যই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরুর প্রকৃত তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পারমিট নম্বর প্রাপ্তির সুযোগ: সাধারণ ডাইরেক্টরেট অব ট্রাফিক (General Directorate of Traffic) কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট নম্বর যেন গ্রাহকরা সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়সীমা ও নজরদারি:

নিয়ম লঙ্ঘনকারী ড্রাইভিং স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থা সংশোধন এবং নতুন শর্তাবলী মেনে চলার জন্য নোটিশ জারির তারিখ থেকে এক মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কাতার জুড়ে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শণ অভিযান পরিচালনা করবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করা যায়।

কোনো ড্রাইভিং স্কুল নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্যের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬০০১ নম্বরে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অফিশিয়াল পেজে যোগাযোগ করা যাবে।