ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইস্যুতে এশিয়ান ফুটবলে বাড়ছে বিভাজন। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কিউএফএ) অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউয়েফা ও কনকাকাফের সঙ্গে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অবস্থান নেওয়া নিয়ে গত সপ্তাহে তীব্র আপত্তি জানায় কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কিউএফএ)। কিউএফএ সভাপতি হামাদ বিন খলিফা আল-থানি এএফসি সভাপতিকে লেখা এক চিঠিতে অভিযোগ করেন, শেখ সালমান নিজের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। থানি আরও অভিযোগ করেন, তিনটি কনফেডারেশনের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার আগে এএফসি তার সঙ্গে কিংবা কিউএফের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি।
কাতারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা চিঠিতে কঠোর জবাব দিয়েছেন শেখ সালমান। এএফসি সভাপতি বলেন, ‘এশিয়ান ফুটবলের মৌলিক গুরুত্বের কোনো বিষয়ে এএফসি ও এশিয়ান ফুটবলের অবস্থান রক্ষায় সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা এবং দায়িত্ব—দুটিই আমার রয়েছে।’
শেখ সালমান আরও বলেন, এএফসির গঠনতন্ত্র তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে এবং সংগঠনের সভাপতি হিসেবে এশীয় ফুটবলের স্বার্থ ও মূল্যবোধ রক্ষা করা তার দায়িত্ব। ‘যে পরিস্থিতির কারণে ওই যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে এএফসির নীরব থাকা সেই দায়িত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হতো।’
গত সপ্তাহের চিঠিতে আল-থানি জানতে চেয়েছিলেন, এএফসি কী ভিত্তিতে তার ৪৭টি সদস্য দেশের হয়ে কথা বলার অধিকার নিজেদের বলে মনে করেছে। এর জবাবে শেখ সালমান উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি এবং এএফসির অন্য সভাপতিরা এশীয় ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের প্রতি এএফসির সমর্থনের কথা তুলে ধরেন, যখন বিশ্বজুড়ে কাতারকে নিয়ে ব্যাপক চাপ ও সমালোচনা চলছিল।
শেখ সালমান বলেন, ‘সেই সময় প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া কিউএফএর তাৎক্ষণিক স্বার্থের অনুকূলে থাকায় তারা কোনো প্রক্রিয়াগত আপত্তি তুলেছিল বলে আমার মনে পড়ে না।’
তিনি আরও বলেন, অতীতের এসব ঘটনায় কিউএফএ একই ধরনের প্রক্রিয়া মেনে নিয়েছিল এবং তা থেকে সুবিধাও পেয়েছিল। তাই এবার তাদের হঠাৎ ও বেছে বেছে তোলা আপত্তির সঙ্গে আগের অবস্থানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
কাতার ও এএফসির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের শুরু ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর। গত মাসের শেষদিকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠনের একটি প্রস্তাব দেন ফিফা সভাপতি। প্রস্তাবটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল এফএফইর প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা। তীব্র সমালোচনার মুখে এই পরিকল্পনা বাতিল করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো।
গত সপ্তাহে ইউয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। তিন কনফেডারেশন দাবি করেছিল, ফিফার বাণিজ্যিক ও পরিচালন কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে আলোচনা করা হয়নি।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয় কাতার, লেবানন, মরক্কো, সুদান, মিশর এবং মৌরিতানিয়ার জাতীয় ফেডারেশন। এরপর এএফসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে চিঠি দেয় কাতার।
কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুয়ারির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিল রহমান। দোহায় কাতার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং অর্থায়ন সুবিধাসমূহ সম্প্রসারণের বিষয়ে দুই পক্ষই গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। আগামীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন সংক্রান্ত নানাবিধ কার্যক্রম ও যৌথ পদক্ষেপের বিষয়েও উভয় নেতা নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল রহমান কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুয়ারিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে দোহা সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ বিন শেরিদা আল-কাবি ও অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল-কুওয়ারির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদা বৈঠক করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে জ্বালানি ও আর্থিক খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। আলোচনার বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানিতে কাতার বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। বর্তমান সংকটের মধ্যে তাই দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি খাতের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।
দেশে জ্বালানির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে আমদানি নির্ভরতাও বাড়ছে। এ অবস্থায় নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাতারের মতো বিশ্বের প্রথম সারির জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় ঢাকা।