হরমুজ প্রণালীতে নৌপথ ও নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানকে বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে, আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে গিয়ে 'পূর্ণ আক্রমণাত্মক' (Fully Offensive) নীতি গ্রহণ ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে তৈরি হওয়া নতুন সংঘাত ও উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরা হলো:
ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি ও মাস্কাট-তেহরান আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ও মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত ওমানের বিরুদ্ধে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঠোর হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
-
ট্রাম্পের মন্তব্য: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌঅবরোধ বা বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণে ওমান বাধা সৃষ্টি করলে দেশটিতে বোমাবর্ষণের হুমকি দেন ট্রাম্প।
-
ওমান-ইরান নৌরুট সমঝোতা: বিপরীতে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে তেহরান ও মাস্কাট একটি স্বাধীন রূপরেখা ও 'শিপিং ম্যাপ' চূলচেরা বিশ্লেষণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
-
সরাসরি যোগাযোগের দাবি প্রত্যাখ্যান: ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ওয়াশিংটন সরাসরি ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে যোগাযোগ করছে, তবে আইআরজিসির মুখপাত্র তাসনিম নিউজ এজেন্সির কাছে এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানের 'পূর্ণ আক্রমণাত্মক' নীতি ও সময়সীমা
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন নৌঅবরোধ ভাঙতে ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় তেহরান কৌশলগত নীতি পরিবর্তন করেছে।
-
সামরিক হামলা ও অবরোধ ভঙ্গ: কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যর্থ হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার চুক্তি প্রয়োগ না করলে ইরান হরমুজ প্রণালীসহ পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে সুনির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সামরিক হামলা চালাবে।
-
কয়েক সপ্তাহের সময়সীমা: পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কয়েক সপ্তাহের সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিচ্ছে ইরান।
৬০ দিনের স্মারকের মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বর্তমান সংকট
গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের সহায়তায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার ওপর একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
তবে সোমবার এই চুক্তিটির নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা পূর্ণ হলেও চূড়ান্ত কোনো নিষ্পত্তি অর্জিত হয়নি। ওয়াশিংটন এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও তেহরান দাবি করেছে এই স্মারক কোনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেনি। বিশ্বমানের জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই নৌপথে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে জ্বালানি খাতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।