ব্যস্ত সড়কের কানফাাটানো শোরগোল কিংবা কলকারখানার বিকট শব্দদূষণ—যা এতদিন সাধারণ মানুষের জন্য বিরক্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ ছিল, তাকেই বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ওমানের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী আমনা কায়েদ আল জাবরি। ওমানের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর এই বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে পদার্থবিজ্ঞানের ‘শব্দতরঙ্গ’ অধ্যায়টি পড়ার সময় আমনার মাথায় প্রথম এই ভাবনাটি আসে। তিনি অনুধাবন করেন, শব্দ যেহেতু বিজ্ঞানের নিয়মে শক্তিরই একটি রূপ, তাই একে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব।
দীর্ঘ গবেষণা ও নিরলস চেষ্টার পর তিনি একটি বিশেষ মেকানিজম বা প্রযুক্তি তৈরি করেন। এটি শব্দের স্পন্দন বা শব্দশক্তিকে প্রথমে তাপশক্তিতে রূপান্তর করে এবং পরবর্তীতে থার্মোইলেক্ট্রিক (Thermoelectric) প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করে। উদ্ভাবনটির মূল কারিগরি গোপনীয়তা আপাতত সুরক্ষিত রাখা হলেও আমনা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যৎ পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ও সবুজ শক্তি উৎপাদনে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।
আমনার উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি কেবল নবায়নযোগ্য শক্তির খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্বাস্থ্যখাতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত দূরবর্তী বা প্রান্তিক এলাকায় ছোটখাটো চিকিৎসা সরঞ্জাম, মনিটর ও সেন্সর সচল রাখতে এই ব্যবস্থা দারুণভাবে কার্যকর হবে।
নিজের এই অসামান্য উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওমানের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন আমনা। তিনি যুক্তরাজ্যে ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এবং আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘৬৭তম ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সায়েন্স ফোরাম’-এ অংশ নিচ্ছেন।
নিজের এই অর্জনকে স্বপ্নের বাস্তবায়ন আখ্যা দিয়ে বিশ্বের উদীয়মান তরুণদের উদ্দেশ্যে আমনা বলেন:
"প্রতিটি সফল ও মহৎ উদ্যোগই একটি সাধারণ চিন্তাভাবনা থেকে শুরু হয়। দৃঢ় সদিচ্ছা আর অধ্যবসায় বজায় রাখলে সেই সামান্য ধারণাই একদিন বিশ্বজয়ের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।"