২৭ জুলাই ২০২৬

শব্দদূষণ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চমকপ্রদ উদ্ভাবন ওমানের তরুণী আমনার

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
টপ স্টোরিজ

ব্যস্ত সড়কের কানফাাটানো শোরগোল কিংবা কলকারখানার বিকট শব্দদূষণ—যা এতদিন সাধারণ মানুষের জন্য বিরক্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ ছিল, তাকেই বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করার এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন ওমানের তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থী আমনা কায়েদ আল জাবরি। ওমানের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর এই বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে পদার্থবিজ্ঞানের ‘শব্দতরঙ্গ’ অধ্যায়টি পড়ার সময় আমনার মাথায় প্রথম এই ভাবনাটি আসে। তিনি অনুধাবন করেন, শব্দ যেহেতু বিজ্ঞানের নিয়মে শক্তিরই একটি রূপ, তাই একে সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তর করা সম্ভব।

দীর্ঘ গবেষণা ও নিরলস চেষ্টার পর তিনি একটি বিশেষ মেকানিজম বা প্রযুক্তি তৈরি করেন। এটি শব্দের স্পন্দন বা শব্দশক্তিকে প্রথমে তাপশক্তিতে রূপান্তর করে এবং পরবর্তীতে থার্মোইলেক্ট্রিক (Thermoelectric) প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করে। উদ্ভাবনটির মূল কারিগরি গোপনীয়তা আপাতত সুরক্ষিত রাখা হলেও আমনা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যৎ পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় ও সবুজ শক্তি উৎপাদনে এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।

আমনার উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি কেবল নবায়নযোগ্য শক্তির খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্বাস্থ্যখাতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত দূরবর্তী বা প্রান্তিক এলাকায় ছোটখাটো চিকিৎসা সরঞ্জাম, মনিটর ও সেন্সর সচল রাখতে এই ব্যবস্থা দারুণভাবে কার্যকর হবে।

নিজের এই অসামান্য উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওমানের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন আমনা। তিনি যুক্তরাজ্যে ১৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এবং আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘৬৭তম ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সায়েন্স ফোরাম’-এ অংশ নিচ্ছেন।

নিজের এই অর্জনকে স্বপ্নের বাস্তবায়ন আখ্যা দিয়ে বিশ্বের উদীয়মান তরুণদের উদ্দেশ্যে আমনা বলেন:

"প্রতিটি সফল ও মহৎ উদ্যোগই একটি সাধারণ চিন্তাভাবনা থেকে শুরু হয়। দৃঢ় সদিচ্ছা আর অধ্যবসায় বজায় রাখলে সেই সামান্য ধারণাই একদিন বিশ্বজয়ের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।"

সচল হরমুজ প্রণালি: ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজের দীর্ঘ সারি

প্রকাশ: রবিবার, জুন ২১, ২০২৬
সচল হরমুজ প্রণালি: ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজের দীর্ঘ সারি
টপ স্টোরিজ

মাস্কাট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে সচল হয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’। এই পথ খুলে যাওয়ার পরপরই ওমান উপকূলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের দীর্ঘ সারি ও ব্যাপক আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালি থেকে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারের পর গত ২৪ ঘণ্টায় এই রুটে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী ও জ্বালানি তেলের জাহাজের ট্রাফিক বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মূল রুট সচল হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তেহরানের নতুন শর্ত
দীর্ঘদিন পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌচলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও ট্রানজিট ব্যবস্থা নিয়ে নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই রুটের নিরাপত্তা এবং ট্রানজিট পাসের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও আইনি বিধিবিধান কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার পর কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নেওয়া বিভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পদক্ষেপের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রণালি সচল হলেও ইরানের দেওয়া নতুন শর্তগুলো এই রুটে চলাচলকারী পশ্চিমা জাহাজগুলোর জন্য কতটুকু জটিলতা তৈরি করে, তা এখন দেখার বিষয়।