১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। নিজ নিজ মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়েও সম্মত হয় দুই পক্ষ। এ সম্পর্কের আওতায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও একমত তারা।

বুধবার জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে বৈঠক করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বৌরিতা।

সেখানেই কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে। এসংক্রান্ত দুটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে সই করেন তাঁরা।

বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল এবং মরক্কো।

আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ২০২১ সালে মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ের সূত্রপাত হয়।

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। নিজ নিজ মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়েও সম্মত হয় দুই পক্ষ। এ সম্পর্কের আওতায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও একমত তারা।

বুধবার জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে বৈঠক করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বৌরিতা।

সেখানেই কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে। এসংক্রান্ত দুটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে সই করেন তাঁরা।

বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল এবং মরক্কো।

আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ২০২১ সালে মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ের সূত্রপাত হয়।

সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সৌদি আরব ও মিসরের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ
গত ১৫ সেপ্টেম্বর কায়রো বিমানবন্দরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানান মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে সৌদি আরব ও মিসরের ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাম্প্রতিক বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন লোহিত সাগরের নৌপথ, সৌদি তেল অবকাঠামো এবং সুয়েজ খাল—তিনটিই আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে ঝুঁকির মুখে।

১৫ সেপ্টেম্বর কায়রোতে সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠকে দুই নেতা বাব আল-মানদেব, লোহিত সাগর ও আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সিসি একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান এবং ইয়েমেন সংকটের একটি ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ পক্ষে অবস্থান নেন।

বৈঠকের কয়েক দিন আগেই ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। একই সময়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির তেল অবকাঠামোও হুতিদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। ফলে রিয়াদ এখন নিজেদের নিরাপত্তার পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

সৌদির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ মিসর?

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরব ও মিসরের স্বার্থ অনেকটাই অভিন্ন। কারণ বাব আল-মানদেব প্রণালির দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশ করে। ফলে এই নৌপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রফতানি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তেমনি সুয়েজ খালের আয়ও কমে যেতে পারে।

মিসরের সিনেট সদস্য ও কায়রোর নীতিনির্ধারণী মহলের ঘনিষ্ঠ আবদেল মোনেম সাঈদ মনে করেন, হুতিদের অগ্রযাত্রা সরাসরি মিসরের অর্থনীতি ও সুয়েজ খালের ওপর চাপ তৈরি করছে। তার মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মোকাবিলায় মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে কৌশলগত ও সামরিক সমন্বয় প্রয়োজন।

কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, কায়রো এখন সুয়েজ খাল থেকে বাব আল-মানদেব পর্যন্ত এলাকাকে একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে দেখছে। বাব আল-মানদেব অনিরাপদ হয়ে পড়লে মিসর জাহাজ চলাচল, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কৌশলগত প্রভাব—তিন ক্ষেত্রেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

‘নতুন আরব ব্যবস্থা’র ইঙ্গিত

সিসি ও মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকের আগে মিসরের পার্লামেন্টের আরববিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাহ আবু হেমিলা বলেছিলেন, এই সফর আরব ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি নতুন রূপরেখার সূচনা করতে পারে।

তার মতে, মিসর-সৌদি সম্পর্ক একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত নতুন আরব আঞ্চলিক কাঠামোর ভিত্তি হতে পারে। এর অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে থাকবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা। পাশাপাশি ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সুদানের পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকবে।

সিসির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতেও মিসর ও সৌদি আরবের নিরাপত্তাকে বৃহত্তর আরব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

কতটা সামরিক সহায়তা দেবে মিসর?

এখন পর্যন্ত সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও নতুন সামরিক চুক্তি বা ইয়েমেনে যৌথ সামরিক অভিযান নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তবে মিসর ইতোমধ্যেই সৌদি নেতৃত্বাধীন লোহিত সাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের অংশ। আগস্টে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সময়ে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর-সৌদি সামরিক সহযোগিতা বাড়লে তার আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামুদ্রিক নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং লোহিত সাগরে সামরিক সমন্বয় বাড়তে পারে।

তবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে মিসরের সীমা থাকবে বলেই মনে করছেন তিনি। অর্থাৎ, কায়রো লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলেও ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চাইবে না।

এর পেছনে মিসরের অতীত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন মিসরীয় নেতা গামাল আবদেল নাসের উত্তর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সেই সামরিক অভিযানে মিসরের উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটে এবং প্রত্যাশিত ফলও আসেনি।

ফলে ইয়েমেন নিয়ে কায়রোর নীতিতে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের অগ্রযাত্রা

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে মোখা বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। তারা বাব আল-মানদেবের কাছের মায়ুন দ্বীপ ও ধুবাব এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, হুতিরা গত কয়েক দশকে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যারা নৌপথ ও তেল অবকাঠামোয় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নিরাপত্তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিসর-সৌদি সমঝোতার সঙ্গে সুদানের যোগসূত্র

ইয়েমেন ছাড়াও মিসর ও সৌদি আরবের মধ্যে সুদানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির মিল রয়েছে।

মিসরের সরকারি তথ্যসেবা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ সুদানের ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার যেকোনও হুমকিকে মিসর, সৌদি আরব ও পুরো অঞ্চলের সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, দুই দেশই রাষ্ট্রের বিভক্তি, সশস্ত্র মিলিশিয়া, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং বাইরের শক্তির সমর্থন পাওয়া অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। সুদান, লিবিয়া, সোমালিয়া ও এখন ইয়েমেনেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বে কঠিন ভারসাম্য

তবে মিসরের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো পুরোপুরি সহজ নয়। কারণ মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

সুদানের যুদ্ধে আমিরাতের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফকে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে মিসর সুদানের কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও আমিরাতের নীতিতে পার্থক্য রয়েছে। এর ফলে কায়রোকে রিয়াদ ও আবুধাবির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

বিশ্লেষক ক্রিগের মতে, মিসর সম্ভবত নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, কিন্তু একই সঙ্গে আমিরাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কও ধরে রাখবে।

এখানে অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে মিসরে আমিরাতের নিট বিনিয়োগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দ্বিগুণেরও বেশি—যা কায়রোর জন্য আবুধাবির অর্থনৈতিক গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো?

সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। পাকিস্তান ও তুরস্ককে যুক্ত করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, লোহিত সাগরে বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ার মতো পদক্ষেপ তারই অংশ।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা দেখিয়েছে, বিভিন্ন নিরাপত্তা অংশীদার থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবকে এখনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
মিসরের সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা সমন্বয় সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হতে পারে—যেখানে সৌদি আরব একক কোনও পরাশক্তির ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক একাধিক অংশীদারকে নিয়ে নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

ইয়েমেনে সামরিক সমাধানের বদলে রাজনৈতিক পথ

সিসি-মোহাম্মদ বিন সালমান বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মিসর ইয়েমেন সংকটের ‘সর্বাত্মক ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের’ প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে, লোহিত সাগরের নৌপথ রক্ষায় সামরিক সহযোগিতা বাড়লেও ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে কায়রো সতর্ক থাকবে।

অর্থাৎ, সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমিকা সম্ভবত গোয়েন্দা তথ্য, নৌ নজরদারি, বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক সামরিক সমন্বয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা থাকবে। ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়ানোই কায়রোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সাম্প্রতিক বৈঠক তাই শুধু মিসর-সৌদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; বরং বাব আল-মানদেব, সুয়েজ খাল, সৌদি তেল রফতানি এবং বৃহত্তর আরব নিরাপত্তাকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মিসর শেষ পর্যন্ত কতটা সামরিকভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে হুতিদের অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগরের নৌপথের পরিস্থিতি এবং ইয়েমেন সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সঙ্গে সৌদি আরবসহ সাত আরব দেশের সেনাপ্রধান বৈঠক করেছেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক কর্মকর্তারা।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস বৈঠকটির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে জার্মানির একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে গোপনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৈঠকটির আয়োজন করেন। পরে অ্যাক্সিওসকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেন্টকমও।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর এ ধরনের এটি প্রথম বৈঠক। এর আগেও এসব দেশের কর্মকর্তারা একই ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে অংশ নেওয়া আরব দেশগুলোর কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার রয়েছে। ইসরায়েলের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।

বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অংশ নেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

কুপার হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নৌ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান। ইরান জলপথটি অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

বৈঠকের বিষয়ে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, জার্মানিতে নির্ধারিত একটি সম্মেলনের সময় আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আতিথ্য দিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, সেন্টকমের সহায়তায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুতি গোষ্ঠীর অগ্রগতি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে ইসরায়েল।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত এবং সৌদি আরবে তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্রের দাবি, ইসরায়েল সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে- এমন সম্ভাবনা কম।

বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠিতব্য নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঐকমত্যের স্বার্থে সালালাহ শহরে আগামীকালের নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার জন্য আমরা সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্রিকস জোটের অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের চিফ অব প্রটোকল আব্বাস মৌসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং তাদের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের কারণেই ব্রিকস দেশগুলো এমন সাহসী অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে পেশিশক্তির নির্লজ্জ ব্যবহার, একপেশে নীতি এবং নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ বার্তা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের সম্মেলন গত রবিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়।

ওই ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা কিংবা উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে কোনো সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি।

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে আঞ্চলিক শক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো হলো—

হুতি

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার মুখেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব সামরিক অভিযান গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হুতিদের কার্যক্রম ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরব

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে। রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও পড়ে এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)। ২০২২ সালে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।

দেশ পরিচালনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া—পিএলসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং সরকারের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

তবে পিএলসির ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলো ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, যা সাধারণভাবে ‘ইসলাহ’ নামে পরিচিত। এটি একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইসলাহের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। হুতিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পিএলসির ভেতরে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হলো ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস। এটি ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। তারেক সালেহ ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ইয়েমেনের যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।

এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা