১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এনামুল। একই সঙ্গে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা ও খলিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা বেগমকে বিয়ে করেন এনামুল ফকির। পরে সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে যান। এনামুলের দাবি, প্রবাসে থাকা অবস্থায় পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করেন।

এনামুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে তিনি তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর কাছে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চান।

তার দাবি, এ সময় তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার দেখানো হয়। পরে স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো সিটি গোল্ড বলে জানানো হয়। টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী ও তার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনামুল।

এনামুল জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা বেগম। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

তানজিলার সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন খলিল। তিনি বলেন, এনামুল যে অভিযোগ করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

খলিলের সাবেক স্ত্রীর দাবি, দাম্পত্য জীবনে খলিল তাকে বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করতেন। তাদের চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক ও নিয়মিত চ্যাটিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এনিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে খলিলকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তানজিলাকে ঘিরে এর আগেও নানা আলোচনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে স্থানীয়দের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ এবং তানজিলা-খলিলকে ঘিরে কথিত সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের তদন্তের পর এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কাতার থেকে টাকা-স্বর্ণ পাঠিয়ে দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসী

বাগেরহাটের মোংলায় কাতারপ্রবাসী এনামুল ফকিরের অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী তানজিলা বেগমসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এনামুল। একই সঙ্গে স্ত্রী তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা ও খলিল।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা বেগমকে বিয়ে করেন এনামুল ফকির। পরে সংসারের প্রয়োজনে তিনি কাতারে যান। এনামুলের দাবি, প্রবাসে থাকা অবস্থায় পরিবারের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি স্ত্রীর জন্য স্বর্ণালংকার তৈরি করেন।

এনামুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে তিনি তানজিলার সঙ্গে খলিল নামে এক ব্যক্তির কথিত সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীর কাছে প্রবাসে উপার্জিত অর্থ ও প্রায় ৭ থেকে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চান।

তার দাবি, এ সময় তাকে আসল স্বর্ণের পরিবর্তে সিটি গোল্ডের কিছু অলংকার দেখানো হয়। পরে স্বর্ণের দোকানে নিয়ে গেলে সেগুলো সিটি গোল্ড বলে জানানো হয়। টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী ও তার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় শ্বশুর ও শ্যালক তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনামুল।

এনামুল জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তানজিলা বেগম। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

তানজিলার সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন খলিল। তিনি বলেন, এনামুল যে অভিযোগ করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হবে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা উপস্থাপনের দাবিও জানান তিনি।

খলিলের সাবেক স্ত্রীর দাবি, দাম্পত্য জীবনে খলিল তাকে বিভিন্নভাবে জ্বালাতন করতেন। তাদের চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক ও নিয়মিত চ্যাটিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এনিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে খলিলকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তানজিলাকে ঘিরে এর আগেও নানা আলোচনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত জীবন বা পেশা নিয়ে স্থানীয়দের এসব বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ এবং তানজিলা-খলিলকে ঘিরে কথিত সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পুলিশের তদন্তের পর এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মোবাইল ফোনে ঝগড়ার জেরে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মোবাইল ফোনে ঝগড়ার জেরে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঠালখাই (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তামান্না আক্তার জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ নাসিমা বেগম দম্পতির মেয়ে।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে তামান্না আক্তার জলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়াত বেগম নামের ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

বিয়ের পর তার স্বামী সৌদি আরব চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একাধিকবার বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে গত - দিন আগে জলি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

ঘটনার দিন রোববার সারাদিন মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে জলির তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি বসতঘরের শোয়ার ঘরের চালের তীরের লোহার আংটার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

সময় তার ১৩ মাস বয়সী শিশু সন্তান চিৎকার করে উঠলে বাবা আব্দুল মজিদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে ঘরে যান। তারা জলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট জেলার গোয়ালাবাজারস্থ ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
আমিরাতে ভিসা বাতিল ৪৮০০ বাংলাদেশির, দেশে ফিরে বিপাকে প্রবাসীরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী আমিরাতে ফিরতে না পেরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ভিসা বাতিল করছে। তবে ভিসা বাতিলের কারণ জানতে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কী কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জুলাই থেকে তাদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারও ই-মেইল, কারও মোবাইল ফোনে এবং কারও ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কফিলের কাছে এ-সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। অনেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পাওয়ায় আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না।

এক প্রবাসী জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারসংক্রান্ত অভিযোগ নেই। আমিরাতে তার ব্যবসা ও পরিবার রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ ভিসা বাতিল হওয়ায় তিনি দেশে আটকা পড়েছেন। আমিরাতে ফিরতে না পারলে ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ ঘটনায় বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরীর মতে, এই পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।ই-পেপার সাবস্ক্রাইব করুন

এদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাতে কাজ শেষে ফিরে কল দেব—

স্ত্রীকে বলা শেষ কথাটি আর রাখা হলো না কাতার প্রবাসী আজমের

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
স্ত্রীকে বলা শেষ কথাটি আর রাখা হলো না কাতার প্রবাসী আজমের

‘দিনে প্রচণ্ড গরম। রাতে কাজে যাচ্ছি। ফিরে কল দিয়ে কথা বলব।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে স্ত্রী সুলতানা বেগমকে ফোনে কথাগুলো বলেছিলেন কাতার প্রবাসী আজম মিয়া। কিন্তু সেই কথার আর কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি তার। স্ত্রীর সাথে শেষ কথার কয়েক ঘণ্টা পরই নির্মাণাধীন বহুতল ভবন থেকে রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে ৩৫ বছর বয়সী আজমের মৃত্যু হয়।

এরপর থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে নির্বাক স্ত্রী, আর বাবার ফেরার অপেক্ষায় তিন সন্তান। বাড়িজুড়ে এখন শুধু কান্না আর অপেক্ষা।

জানা গেছে, কাতারের দোহায় একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আজম। শনিবার রাতে শিফটে কাজ করার সময় হঠাৎ রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি। এ সময় সাথে থাকা আরও দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তবে ঘটনাস্থলেই মারা যান আজম।

পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কাতার প্রবাসী স্বজনদের মাধ্যমে আজমের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার।

আজমের বড় ভাই মাতাব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা চার ভাই। সবার আলাদা সংসার। কিন্তু আজমের আয়েই তার স্ত্রী-সন্তানদের সংসার চলত। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট মেয়েটার বয়স মাত্র চার বছর। এখন ওরা কীভাবে চলবে, সেটাই বুঝতে পারছি না।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে জীবিকার তাগিদে কাতার পাড়ি জমান আজম। প্রায় দুই বছর আগে তিন মাসের ছুটিতে সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি তার।

স্বামীকে হারানোর খবর এখনো মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী সুলতানা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাত ৮টায় কল দিছিলাম। কইলো, গরমের লাগি রাতে কাম। ফিরা আইয়া কল দিমুনে। এরপর আর ফোন ধরে নাই। সকালে শুনি, আমার মানুষটাই নাই।

বাবার মৃত্যুর খবর বুঝে ওঠার আগেই তিন সন্তান মাকে বারবার জিজ্ঞেস করছে- ‘আব্বা কবে আইবো?’ কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই সুলতানার কাছে।

রোববার সকালে আজমের বাড়িতে যান কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রুশন মিয়া। তিনি বলেন, খবর শুনে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে। আজম খুব ভালো মানুষ আছিল। তার মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে চাপে পড়ে গেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, তার লাশ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন দেখেছিলেন আজম। কিন্তু কর্মস্থলের একটি দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে মুহূর্তেই থামিয়ে দিয়েছে।

প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ আবারও সামনে এনে দিয়েছে আজমের মৃত্যু। পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের আশায় হাজারো মানুষ বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু কর্মস্থলে দুর্ঘটনা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু মুহূর্তেই একটি পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

আজমের লাশ দেশে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবারের দাবি, প্রিয় স্বজনের লাশ যেন শেষবারের মতো নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

যে মানুষটি স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘রাতের কাজ শেষে ফিরে কল দেব’, তিনি আর ফেরেননি। রেখে গেছেন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে, আর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাড়িতে রেখে গেছেন এক অসমাপ্ত অপেক্ষা।

পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইলে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সহায়তারও দাবি জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুন

মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

মালয়েশিয়ার যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪৭২ বিদেশির ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
মালয়েশিয়ার যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৪৭২ বিদেশির ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কোতারায়ায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে দেশটির যৌথ বাহিনী। রবিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।

অভিযানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং অহেতুক জনসমাগমের অভিযোগসহ অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। কুয়ালালামপুরের অভিবাসন বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

আটক ৪৭২ জনের মধ্যে বাংলাদেশের ৩৬৪ জন ছাড়াও মিয়ানমারের ৫৭ জন, ফিলিপিন্সের ৯ জন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের ৭ জন করে, ভারতের ৬ জন, চীনের ৩ জন এবং জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ জানান, অভিবাসন বিভাগ, সিটি করপোরেশন (ডিবিকেএল), ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মোট ৩৩৭ জন কর্মকর্তা যৌথভাবে অভিযানে অংশ নেন।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী। বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের পরবর্তী তদন্তের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়।

তদন্তে দেখা যায়, যাচাই করা অধিকাংশ বিদেশির বৈধ কাগজপত্র ছিল। তবে নির্দিষ্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ডিবিকেএল আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

হামশাহ ইনজাউ বাংলাদেশিসহ অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশিদের অবিলম্বে ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ (পিআরএম)-এর আওতায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।