১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে সৌদি যুবরাজের বৈঠক

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মার্কিন সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে সৌদি যুবরাজের বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের জেদ্দায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অ্যাডমিরাল কুপার এবং তার সাথে থাকা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সৌদি যুবরাজ।

বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রতিমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. মুসাইদ বিন মোহাম্মদ আল-আইবান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৈঠকে উভয় দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নানা উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সেন্টকম প্রধানের এই সৌদি সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সৌদিতে হুতিদের ব্যাপক হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ব্যাপক হামলা, জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফের বেসামরিক এলাকায় হামলাগুলো চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার।

হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কতার আওতায় থাকা শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আল-উলা।

সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিবৃতিতে হুতিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হুতিদের ‘উগ্রপন্থি মতাদর্শ ও উত্তেজনা বাড়ানোর নীতি’ প্রকাশ করে।

সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোটের যৌথ বাহিনী দায়িত্বশীল ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে হুতিদের চালানো হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়।

হুতিদের ওই হামলার নিন্দা জানায় উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতিও প্রকাশ করে তারা।

মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম আকরিকের বিশাল খনি

​ভিশন ২০৩০-এর আওতায় খনিজ সম্পদ ও পারমাণবিক শক্তির সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি (১১০ মিলিয়ন) টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ খনিজ আকরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।

​সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী যুবরাজ আব্দুলআজিজ বিন সালমান এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।

​জ্বালানি মন্ত্রী জানান, মদিনার 'জাবল সায়েদ' প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে এই খনির সন্ধান মেলে। এই আকরিকগুলোতে ভারী উপাদানসহ দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজের (রেয়ার আর্থ মিনারেল) উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে এবং সেই সাথে ইউরেনিয়ামের প্রতিশ্রুতিশীল উপস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

​সৌদি আরব তাদের 'ভিশন ২০৩০' পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তবে, আকরিকগুলোতে ইউরেনিয়ামের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব কত তা মন্ত্রী প্রকাশ করেননি। ফলে এই খনি থেকে ঠিক কত পরিমাণ খাঁটি ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুবরাজ আব্দুলআজিজ জানান, সৌদি আরব ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প প্রক্রিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আহরণের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ফসফেট সার শিল্পে উৎপাদিত ফসফরিক অ্যাসিড থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ফরাসি প্রতিষ্ঠান 'ওরানো'-এর সাথে পরিচালিত পরীক্ষামূলক কাজে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পন্থায় ইউরেনিয়াম আহরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

​সৌদি আরব কেবল অপ্সরিত কাঁচামাল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অনুসন্ধান, খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধনের মাধ্যমে একটি সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ফসফেট, সোনা, তামা, দস্তা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা হচ্ছে।

​সম্মেলনে জ্বালানি মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-র অধীনে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে একটি নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছে রিয়াদ।

​অন্যদিকে, ভিয়েনায় মার্কিন জ্বালানি সচিবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে যে, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।

উল্লেখ্য, ইউরেনিয়াম মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত আইসোটোপ উৎপাদন ও গবেষণাতেও এর ব্যবহার রয়েছে।

সৌদি আরবে ১৩শ’ বছর পুরোনো প্রথম শতাব্দীর মসজিদ আবিষ্কৃত

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সৌদি আরবে ১৩শ’ বছর পুরোনো প্রথম শতাব্দীর মসজিদ আবিষ্কৃত

সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো একটি প্রাচীন মসজিদ আবিষ্কৃত হয়েছে।

প্রথম হিজরি শতাব্দীর এই মসজিদটি আবিষ্কারের ফলে সৌদি আরবে প্রারম্ভিক ইসলামী স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ গ্রানাইট পাথরে নির্মিত এই মসজিদটিতে প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের নান্দনিক ও সুনির্দিষ্ট বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—একটি স্পষ্ট মিহরাব, মসজিদে প্রবেশের জন্য তিনটি আলাদা প্রবেশপথ, একটি সম্ভাব্য মিনার এবং বেশ কিছু প্রাচীন আরবি শিলালিপি।

এই শিলালিপি ও গঠনশৈলী থেকেই মসজিদটি প্রথম শতাব্দীর অর্থাৎ ইসলামের শুরুর দিকের বলে নিশ্চিত করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, এই প্রাচীন মসজিদটি সৌদি আরবে প্রাথমিক ইসলামী যুগের নির্মাণশৈলী এবং জনবসতির বিস্তৃতি সম্পর্কে জানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে।

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের বিমানবাহিনী তাইজ প্রদেশের ধুবাব ও মোচা এলাকায় হুথিদের সরঞ্জাম, সদস্য ও সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।

ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর মুখপাত্র মাজিদ আবদুল্লাহ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তার দাবি, তাইজ প্রদেশের ধুবাব ও মোচা এলাকার ‘কিল বক্স’ হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাগুলোতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহর থেকে মোচাগামী সড়কের আশপাশের এলাকাকে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ওই সড়ক ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতেই আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মোচা দখলের দাবি করে হুথিরা। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের একটি বড় অংশে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে।

আরও পড়ুন

সৌদিতে হুতিদের হামলায় মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত, আহত ২

হুথিদের ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

সৌদির সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই: হুথি হামলার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান

হুথিদের ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
হুথিদের ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইয়েমেনের সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা গত এক সপ্তাহে নতুন মাত্রা পেয়েছে। হুথিদের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথি যোদ্ধারা। এতে রিয়াদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ার পর সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ বাব আল-মান্দেব নৌপথ দিয়ে রপ্তানি করছিল। ফলে হুথিদের হাতে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার দাবি সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনার অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সহযোগিতা করবে।

এদিকে মার্কিন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রিয়াদ সফর করেছে। সেখানে সৌদি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এই মুহূর্তে ইরান ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেই তাদের প্রধান মনোযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনে যত দ্রুত সম্ভব স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সংঘাতের শুরু ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের সময়। পরের বছর হুথি যোদ্ধারা রাজধানী সানা দখল করে নিলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর হাদি সরকারের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির অবশিষ্ট অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের হাতে। এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও তা স্থায়ী হয়নি। গত জুলাইয়ে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও অবনতির দিকে যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।