১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

কাতারের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও শৃঙ্খলিত করতে লিমোজিন ও ট্যাক্সি সেবায় কঠোর নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে কাতারের কর্তৃপক্ষ।

প্রখ্যাত আরবি পত্রিকা ‘আল শার্ক’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমোজিন কোম্পানিগুলোর জন্য গাড়ির ভেতরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, সব ধরনের ট্যাক্সির ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের আইনি লঙ্ঘন রোধ করতে মাঠে কঠোর তদারকি ও পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ও সুবিধাসমূহ:

  • যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: গাড়ির ভেতরের ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি ট্রিপ বা যাত্রা রেকর্ড করা হবে। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ হিসেবে এটি কাজ করবে।

  • অধিকার সুরক্ষা: যেকোনো বিরোধ বা অভিযোগের দ্রুত ও সঠিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে চালক এবং যাত্রী উভয়েরই আইনগত অধিকার সুরক্ষিত হবে।

  • সেন্ট্রাল অপারেশন রুমের সাথে সংযোগ: এই ক্যামেরাগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় অপারেশন রুমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

কঠোর পরিদর্শনের মুখে অবৈধ চালক ও যানবাহন:

নতুন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি বা অবৈধ উপায়ে ট্যাক্সি চালানো ব্যক্তিদের ধরতে আকস্মিক ও নিয়মিত পরিদর্শন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিদর্শকরা গাড়ির অনুমোদিত প্রযুক্তিগত মান ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার পাশাপাশি চালকদের বৈধ পারমিট ও রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখছেন।

কাতারের পরিবহন খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং যাত্রীসাধারণের মনে শতভাগ স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের এই কড়া নজরদারি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ রিট্র্যাক্টেবল প্রযুক্তির স্টেডিয়ামের মেকানিক্যাল কাজ শুরু করছে কাতারি কোম্পানি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ রিট্র্যাক্টেবল প্রযুক্তির স্টেডিয়ামের মেকানিক্যাল কাজ শুরু করছে কাতারি কোম্পানি

সৌদি আরবের অন্যতম মেগা প্রকল্প এবং ফিফা ২০৩৪ বিশ্বকাপ ফুটবলের নির্ধারিত ভেন্যু ‘প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান স্টেডিয়াম’-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজের চুক্তি অর্জন করেছে কাতারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এস্থেথমার হোল্ডিং।

কোম্পানির কন্টাক্টিং অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (C&I) খাতের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ‘এলেগেন্সিয়া অ্যারাবিয়া ট্রেডিং’ ৮২৯ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল মূল্যের এই মেকানিক্যাল প্যাকেজটি লাভ করেছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৪০ মিনিট দূরে বিখ্যাত কুদিয়াইয়া সিটিতে ২০০ মিটার উচু তুয়াইক পাহাড়ের চূড়ায় এই স্টেডিয়ামটি নির্মিত হচ্ছে।

প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও কাজের পরিধি:

  • ধারণক্ষমতা: ফুটবল ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামটিতে প্রায় ৪৭,০০০ আসন থাকবে এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক ইভেন্টে এর মোট ধারণক্ষমতা ৬০,৯০০ ছাড়িয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, কমপ্লেক্সটি বছরে প্রায় ৭৬ লাখ দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করবে এবং ৬০টির বেশি ফুটবল ম্যাচসহ বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করবে।

  • বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ সমন্বিত ভেন্যু: জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের প্রথম এমন কোনো ভেন্যু হতে যাচ্ছে, যেখানে একই সাথে ছাদ, পিচ এবং বিশাল আকৃতির এলইডি দেওয়াল সম্পূর্ণ রিট্র্যাক্টেবল বা সংকোচনযোগ্য প্রযুক্তির আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে সারা বছর যেকোনো আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

  • এলেগেন্সিয়ার মেকানিক্যাল কাজ: এই মেকানিক্যাল প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করবে ‘এলেগেন্সিয়া ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল সার্ভিসেস’। সৌদি আরবে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। চুক্তির আওতায় তারা হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (HVAC), পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা (Firefighting) এবং বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (BMS) এর কাজ সম্পন্ন করবে।

সময়সীমা ও কর্মসংস্থান:

চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের মে মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের কাজ চলবে। বিভিন্ন ধাপে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩,০০০ এলিগেন্সিয়া কর্মী ও প্রকৌশলী কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ধরনের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল মেগা প্রকল্পে কাতারি কোম্পানির এমন বড় জয় আঞ্চলিক বাজারে এস্থেথমার হোল্ডিং ও এলিগেন্সিয়ার সক্ষমতা এবং আস্থারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কাতারের সব ট্যাক্সি ও লিমোজিনে এখন সিকিউরিটি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক!

কাতারের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও শৃঙ্খলিত করতে লিমোজিন ও ট্যাক্সি সেবায় কঠোর নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে কাতারের কর্তৃপক্ষ।

প্রখ্যাত আরবি পত্রিকা ‘আল শার্ক’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমোজিন কোম্পানিগুলোর জন্য গাড়ির ভেতরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, সব ধরনের ট্যাক্সির ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং যেকোনো ধরনের আইনি লঙ্ঘন রোধ করতে মাঠে কঠোর তদারকি ও পরিদর্শন অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নতুন ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য ও সুবিধাসমূহ:

  • যাত্রী ও চালকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: গাড়ির ভেতরের ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি ট্রিপ বা যাত্রা রেকর্ড করা হবে। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ হিসেবে এটি কাজ করবে।

  • অধিকার সুরক্ষা: যেকোনো বিরোধ বা অভিযোগের দ্রুত ও সঠিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে চালক এবং যাত্রী উভয়েরই আইনগত অধিকার সুরক্ষিত হবে।

  • সেন্ট্রাল অপারেশন রুমের সাথে সংযোগ: এই ক্যামেরাগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় অপারেশন রুমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

কঠোর পরিদর্শনের মুখে অবৈধ চালক ও যানবাহন:

নতুন এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে লাইসেন্সবিহীন গাড়ি বা অবৈধ উপায়ে ট্যাক্সি চালানো ব্যক্তিদের ধরতে আকস্মিক ও নিয়মিত পরিদর্শন অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিদর্শকরা গাড়ির অনুমোদিত প্রযুক্তিগত মান ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার পাশাপাশি চালকদের বৈধ পারমিট ও রেকর্ডপত্র খতিয়ে দেখছেন।

কাতারের পরিবহন খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং যাত্রীসাধারণের মনে শতভাগ স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের এই কড়া নজরদারি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

২০২৬-২৭ শীতকালীন মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
২০২৬-২৭ শীতকালীন মৌসুমে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ সালের শীতকালীন সিজন সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী নিজেদের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমান সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজ।

এই সিজনে বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইন্সটি, যার মাধ্যমে আফ্রিকা, এশিয়া প্যাসিফিক, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সপ্তাহে প্রায় ১,৮০০-এর বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

দোহায় অবস্থিত তাদের বিশ্বসেরা হাব হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HIA)-এর মাধ্যমে যাত্রীরা আরও নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

যাত্রীদের ইন-ফ্লাইট অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বহরে থাকা ১৫০টিরও বেশি ওয়াইডবডি বিমানে অত্যন্ত দ্রুতগতির স্টারলিংক (Starlink) স্যাটেলাইট ওয়াইফাই সংযোগ যুক্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৪০টি স্টারলিংক-সক্ষম ফ্লাইটে যাত্রীরা আকাশে বসেই সুপার-ফাস্ট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।
নথি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শীতকালীন সিজনে কোন অঞ্চলে কেমন সম্প্রসারণ ঘটছে তার মূল হাইলাইটস নিচে তুলে ধরা হলো:

আফ্রিকা মহাদেশে সংযোগ বৃদ্ধি

  • তানজানিয়ার জানজিবার (Zanzibar) রুটে আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।
  • সেশেলেস রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ৪টি থেকে বাড়িয়ে ৭টিতে উন্নীত করা হবে, যা কার্যকর হবে ১ মার্চ ২০২৭ থেকে।
  • দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আগামী ২ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ১৪টির পরিবর্তে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।

উত্তর আমেরিকা নেটওয়ার্ক

  • কানাডার মন্ট্রিল (Montréal) রুটে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সপ্তাহে ৫টির পরিবর্তে ৭টি ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা সিট ক্যাপাসিটি বা আসন ক্ষমতা ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ব্যাপক সম্প্রসারণ

এশিয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গন্তব্যে ফ্লাইট এবং ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হচ্ছে:
  • থাইল্যান্ডের ফুকেট (২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে ১৪ থেকে বাড়িয়ে ২১টি) এবং মালদ্বীপের মালে রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১টি করা হচ্ছে।
  • আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি রুটে ফ্লাইট সপ্তাহে ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১১টি করা হবে। এর মধ্যে দোহা ও হো চি মিন সিটির মধ্যে সরাসরি ৪টি সাপ্তাহিক ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত রয়েছে।
  • মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর রুটে ২৫ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে, যা ওয়ানওয়ার্ল্ড পার্টনার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ১৪টি ফ্লাইটের সাথে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেবে।
  • আগামী ৯ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে মেলবোর্ন হয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা (Canberra) রুটে দৈনিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হচ্ছে। একই সাথে মেলবোর্ন রুটেও সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭টি থেকে বাড়িয়ে ১৪টি করা হচ্ছে। এছাড়া পার্টনার এয়ারলাইন্স ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার সাথে মিলে সিডনি, ব্রিসবেন ও পার্থ রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কানেক্টিভিটি আরও শক্তিশালী

  • লন্ডনের হিথ্রো (LHR) বিমানবন্দরে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৫৬টি করা হচ্ছে, যা ১১ শতাংশ আসন ক্ষমতা বাড়াবে।
  • জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট (FRA) রুটেও ৭ ডিসেম্বর থেকে সপ্তাহে ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবে বিশেষ সম্প্রসারণ

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শীতকালীন সিজনে ফ্লাইট সংখ্যা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ফ্লাইট পুনরায় চালুর ঘোষণা রয়েছে:
  • কাসিম (ELQ): ২৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
  • তায়েফ (TIF): ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।
  • ইয়েনবু (YNB): ২ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।
  • তাবুক (TUU): ৩ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।
এই নতুন রুটগুলোর মাধ্যমে সৌদি আরবের মোট ১২টি গন্তব্যে সপ্তাহে ১৫৫টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করবে কাতার এয়ারওয়েজ, যা গত গ্রীষ্মকালীন সিজনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
নতুন এই শীতকালীন সিজনের টিকিট বুকিং ইতোমধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (qatarairways.com) এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে। প্রিভিলেজ ক্লাব (Privilege Club) সদস্যরা এই ফ্লাইটগুলোতে স্টারলিংক ওয়াইফাই ব্যবহারের পাশাপাশি এভিয়স (Avios) পয়েন্ট সংগ্রহ ও তা রিডিম করার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সাবেক আমির প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সাবেক আমির প্রয়াত শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কাতারের সাবেক আমির প্রয়াত মহামান্য শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন আয়োজন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি শায়খা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল-থানি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় জিসিসি (GCC), আরব গ্রুফ, ওআইসি (OIC) এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম-এর (NAM) প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আধুনিক কাতারের রূপকার ও দূরদর্শী নেতা

সভায় বক্তারা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির বর্ণাঢ্য জীবন ও তার অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতি তার বক্তব্যে কাতারের নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, শায়খ হামাদের ১৮ বছরের শাসনামলে কাতার শিক্ষা, বিজ্ঞান, জ্ঞানচর্চা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ভোটাধিকার প্রদানে তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মূল্যায়ন

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বক্তব্যে প্রয়াত আমিরকে একজন ‘দূরদর্শী নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার নেতৃত্বই কাতারকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি ও বিশ্বমঞ্চে একটি শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে। কূটনীতি, মধ্যস্থতা, শিক্ষা, জ্বালানি এবং গণমাধ্যমের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে কাতারের আত্মপ্রকাশের পেছনে তার অবদান অনন্য।

মহাসচিব আরও বলেন, “শেখ হামাদ বুঝতে পেরেছিলেন যে একটি দেশের প্রভাব কেবল অর্থনৈতিক অর্জন দিয়ে মাপা যায় না, বরং শান্তি ও সংলাপের প্রতি তার অবদানই আসল পরিমাপক।” কাতারের জাতীয় ভিশন ২০৩০ এবং কাতার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় তার যুগান্তকারী বিনিয়োগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও আঞ্চলিক জোটগুলোর শ্রদ্ধা

  • জিসিসি (GCC): বাহরাইনের স্থায়ী প্রতিনিধি জামাল ফারেস আলরোয়াইই জিসিসির পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, শেখ হামাদ তার জীবন ও মেধা কাতারের সেবা এবং আধুনিক রেনেসাঁ গঠনে উৎসর্গ করেছিলেন।
  • আরব গ্রুপ: ওমানের স্থায়ী প্রতিনিধি এটিকে কাতার ছাড়াও সমগ্র আরব ও ইসলামিক বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
  • ওআইসি (OIC): তুরস্কের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শেখ হামাদ ইসলামী উম্মাহর অধিকার রক্ষা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
  • ন্যাম (NAM): উগান্ডার প্রতিনিধি সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও মধ্যস্থতার প্রবক্তা হিসেবে তার আন্তর্জাতিক অবদানের কথা তুলে ধরেন।
কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধির বক্তব্য

জাতিসংঘে কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি শায়খা আলিয়া আহমেদ বিন সাইফ আল-থানি বলেন, এই বিশেষ অধিবেশন বিশ্বমঞ্চে মরহুম নেতার উচ্চ মর্যাদারই বহিঃপ্রকাশ। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সালের শাসনামলে তিনি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং জনমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আধুনিক কাতার গড়ে তুলেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শায়খ হামাদ কেবল দেশীয় উন্নয়নের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং তিনি লেবাননের দোহা চুক্তি, দারফুর শান্তি চুক্তি এবং জিবুতি-ইরিত্রিয়া মধ্যস্থতাসহ আন্তর্জাতিক বহু বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাতারকে বিশ্বস্ত আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছিলেন।

শায়খ হামাদের প্রদর্শিত শান্তি ও মানবকল্যাণের এই পথ ধরেই বর্তমান আমির মহামান্য শায়খ তামিম বিন হামাদ আল থানির নেতৃত্বে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিরিয়ার ভূখণ্ডে অবৈধ প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার।

এটিকে ভ্রাতৃপ্রতিম সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে অভিহিত করেছে দোহা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের সেনা প্রত্যাহার চুক্তি (Disengagement Agreement) মেনে চলতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বাধ্য করা এবং সিরীয় ভূখণ্ডে তাদের বারবার হামলা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে।

বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতার প্রতি কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির লড়াইয়ে তাদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার।