১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিরিয়ার ভূখণ্ডে অবৈধ প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার।

এটিকে ভ্রাতৃপ্রতিম সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে অভিহিত করেছে দোহা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের সেনা প্রত্যাহার চুক্তি (Disengagement Agreement) মেনে চলতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বাধ্য করা এবং সিরীয় ভূখণ্ডে তাদের বারবার হামলা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে।

বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতার প্রতি কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির লড়াইয়ে তাদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার।

সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশ: তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাল কাতার

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সিরিয়ার ভূখণ্ডে অবৈধ প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার।

এটিকে ভ্রাতৃপ্রতিম সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে অভিহিত করেছে দোহা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষ করে ১৯৭৪ সালের সেনা প্রত্যাহার চুক্তি (Disengagement Agreement) মেনে চলতে ইসরায়েলি বাহিনীকে বাধ্য করা এবং সিরীয় ভূখণ্ডে তাদের বারবার হামলা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে অঞ্চলে নতুন কোনো সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে।

বিবৃতিতে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং অখণ্ডতার প্রতি কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, সিরিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির লড়াইয়ে তাদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার।

কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক অ্যাপসের মাধ্যমে কাতারে ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বা যাত্রী পরিবহন সেবা পরিচালনার জন্য অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই তালিকায় মোট ১১টি অ্যাপসকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো কোম্পানি বা অবৈধ যানবাহন এই সেবা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা:

* Uber
* badrgo
* Aabir
* Karwa
* Ryde
* EzGo
* Wer2GO
* iDriver
* WaselGo
* QGlide
* BDrive

যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই যাতায়াতের সময় যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত অ্যাপসগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা:

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের যোগান দিত কাতার। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশটি নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদাও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনাটি খুবই গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, চালু থাকা ও নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস পেতে আগ্রহী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প খুঁজছে কাতার।

সম্ভাব্য এই চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।

একসময় বিশ্বের মোট এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একাই সরবরাহ করত কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকির কারণে তাদের সরবরাহ এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কাতারএনার্জি সাড়া দেয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই স্থাপনা সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সংঘাত আরও বাড়াতে প্রস্তুত ইরান। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কাই হয়তো কাতারকে বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

কাতারের হাতে ইতিমধ্যেই মার্কিন সরবরাহের কিছু সুযোগ রয়েছে। তারা টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিক। কারখানাটি গত এপ্রিলে রপ্তানি শুরু করেছে, ক্রমাগত উৎপাদনও বাড়াচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশটি তাদের কাতারএনার্জি ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। এই ইউনিটটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসার ওপর কাজ করে।

বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

বায়ুুমণ্ডলে থাকা আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পকে টেনে তা থেকে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানীয় জল উৎপাদনের জন্য একটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগান্তকারী সিস্টেম তৈরি করেছে কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লখুইয়া’ (Lekhwiya)। বাহিনীর সিকিউরিটি টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট এই উদ্ভাবনটি করেছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে পানীয় জলের বিকল্প উৎস হিসেবে এক বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

লখুইয়ার উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি দুটি ভিন্ন মডেলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অপারেশনাল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম:

  • প্রথম মডেল (ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ ব্যবহার): এই মডেলটি মূলত বিভিন্ন স্থাপনা বা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ব্যবহারের উপযোগী। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ লিটার, যা প্রায় ৬০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের পানির বোতলের সমান।

  • দ্বিতীয় মডেল (উচ্চ ধারণক্ষমতা): বৃহত্তর পরিসর বা যেসব এলাকায় পানির চাহিদা বেশি, সেসব জায়গার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই মডেলটি। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫,০০০ লিটার, যা প্রায় ১২,০০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের বোতলের সমান।

নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয়তা রোধ ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

এই সিস্টেমটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি যেকোনো ধরনের রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় দূষণ (chemical and radioactive contaminants) মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং এটি সর্বোচ্চ মানের সুরক্ষা ও বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পানি উৎপাদন করে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিস্টেমটি সম্পূর্ণ সৌরশক্তি (solar energy) বা সোলার পাওয়ারের সাহায্যে পরিচালনা করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা এর অপারেশনাল কার্যকারিতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শহীদ বদর আল-দোসারির স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ: ‘বদর’ সিস্টেম

গত বছর দোহায় সংঘটিত ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী লখুইয়ার বীর সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হামিদি আল-দোসারির পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘বদর’ (Badr) সিস্টেম।

জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প

বিশেষ করে যুদ্ধকালীন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রচলিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে বা সুপেয় পানির সংকট দেখা দিতে পারে—সেখানে এই এয়ার-টু-ওয়াটার (air-to-water) প্রযুক্তিটি জীবন রক্ষাকারী এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। লখুইয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত ও উদ্ভাবনমুখী।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

সহানুভূতি নয়, দক্ষতা! প্রতিবন্ধীদের সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত করছে কাতার

আলোচনার টেবিল যখন লক্ষ্যবস্তু:

দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা বেজে ৪৬ মিনিট। ওই মুহূর্তটি কেবল কাতারের ইতিহাসে নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে একটি বিপজ্জনক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা এসে আছড়ে পড়েছিল শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত দোহা শহরের বুকে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হামাসের একটি আলোচনা প্রতিনিধিদলের ব্যবহৃত আবাসিক ভবনে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এই নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান ২২ বছর বয়সি কাতার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর (লখুইয়া) সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হুমাইদি আল-দোসারিসহ বেশ কয়েকজন। আহত হন অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক। এই হামলার এক বছর পূর্তি কেবল কোনো স্মরণের দিন নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কাঠামোর একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক পরীক্ষার মুহূর্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত

ইসরায়েলের এই হামলা এমন তিনটি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যা এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সার্বভৌমত্ব বলবৎ থাকে শক্তির সীমার মধ্যে, মধ্যরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীরা রাজনৈতিক সুরক্ষায় থাকে, এবং আলোচনার টেবিল সবসময় যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের লক্ষ্য ছিল হামাস, কাতার নয়। কিন্তু এই কৌশলগত যুক্তিটি পুরো ঘটনাটির ভয়াবহতাকে আড়াল করে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কেবল শত্রুর উপস্থিতি রয়েছে—এই অজুহাতে অন্য কোনো দেশের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার লাইসেন্স কোনো রাষ্ট্র পেতে পারে না। তাছাড়া, কাতার যাদের আশ্রয় দিয়েছিল তারা কোনো সাধারণ স্থানে লুকিয়ে থাকা কেউ ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন একটি পরিচিত রাজনৈতিক আলোচনার চ্যানেল বা প্রক্রিয়ার অংশ। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, হামাস এবং অন্যান্য পক্ষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের স্বার্থেই দোহা সেই রাজনৈতিক পরিসরটি তৈরি করে দিয়েছিল। কারণ সরাসরি কথা বলতে না পারা পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল।

মধ্যস্থতার মূল শর্তই হলো—প্রতিপক্ষরা আলোচনা টেবিলে একে অপরকে যতই অপছন্দ করুক বা শর্তে রাজি না হোক না কেন, মধ্যস্থতাকারীর সেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও পরিসরটি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে হবে। আলোচনার আয়োজক দেশেই যদি মধ্যস্থতাকারীদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা কেবল শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে বোকামিতে পরিণত হয়।

দ্বিমুখী নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা

এই হামলা ইসরায়েলি নীতির একটি মৌলিক স্ববিরোধিতাকেও উন্মোচন করেছিল। একদিকে কাতারকে হামাসের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো, অন্যদিকে ঠিক সেই যোগাযোগের মাধ্যমটিকেই জিম্মি মুক্তি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করা হতো। কোনো পক্ষ যখন ছাড় পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকে অপরিহার্য মনে করে, আবার কূটনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেই সেই একই মাধ্যমকে অবৈধ ঘোষণা করে—তখন সেই নীতিতে কোনো নৈতিকতা থাকে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মানবাধিকার কমিশন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বড় শক্তিগুলো কেবল কূটনৈতিক স্তরে নিন্দা জানিয়েই দায় সেরেছে, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ছোট বা মাঝারি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব যদি বড় শক্তির সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা অবশিষ্ট থাকে না।

মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি

হামলার পরও কাতার ভেঙে পড়েনি বা মধ্যস্থতার ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। কারণ কাতার বুঝেছিল যে হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে দমিয়ে রাখা গেলেও আঞ্চলিক আস্থার সংকটে মধ্যস্থতার বিকল্প তৈরি হয় না। দোহা তার মার্কিন, মিশরীয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে গেছে এবং ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কূটনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতেও কাতারকেই ফিরে আসতে হয়েছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পর আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা ভবিষ্যতে কেমন মধ্যপ্রাচ্য দেখতে চাই? এমন এক অঞ্চল যেখানে গায়ের জোর ও সামরিক সক্ষমতাই ঠিক করে কার সার্বভৌমত্ব টিকবে, নাকি আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনীতিই ক্ষমতার ওপর সঠিক বাধানিষেধ আরোপ করবে?

কাতারের পক্ষ থেকে এই হামলার জবাবে কোনো দুর্বলতা প্রকাশ করা হয়নি। বরং হামলার পরও মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে সহিংসতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক নিয়ম নির্ধারণ করা যায় না। যারা সত্যি শান্তি ও আলোচনা চান, তাদের মনে রাখা উচিত—আলোচনার টেবিল নিজেই কখনো আরেকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।

মতামতভিত্তিক নিবন্ধের মূল লেখক: কাতারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-আইতাইবি। এটি দোহা নিউজে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রবন্ধের ভাবানুবাদ ও সম্পাদিত রূপ।