১৬ আগস্ট ২০২৬

সহানুভূতি নয়, দক্ষতা! প্রতিবন্ধীদের সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত করছে কাতার

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
সহানুভূতি নয়, দক্ষতা! প্রতিবন্ধীদের সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত করছে কাতার

কাতারের শ্রমবাজারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে 'কাতার চেম্বার'।

কাতার চেম্বারের চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ খলিফা বিন জসিম আল-থানি জানিয়েছেন, কাতার দোহায় অনুষ্ঠিতব্য ‘চতুর্থ গ্লোবাল ডিসএবিলিটি সামিট ২০২৮’ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রাক্কালে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কাতার সরকারের উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন শেখ খলিফা বিন জসিম আল-থানী। তিনি জানান, ২০২৮ সালের এই বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের নেতৃত্বশীল অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাতার সরকার বর্তমানে প্রচলিত সহানুভূতি বা আর্থিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সরাসরি কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করছে। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সুষম সমন্বয় ঘটিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল বাধা দূর করে তাদের অর্থপূর্ণ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে কাতারের বেসরকারি খাতকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কাতার চেম্বার। কেবল সাধারণ নিয়োগ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুগম ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চেম্বার তিনটি বিশেষ পদক্ষেপে গুরুত্ব আরোপ করেছে:

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা: শারীরিক বা মানসিক চ্যালেঞ্জ থাকা ব্যক্তিদের জন্য ধারাবাহিক ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা।

স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ: ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ’-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংস্থা ও বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা।

সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং কোনো বৈষম্য ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদে নিয়োগ বিধানে উৎসাহিত করা।

কাতার চেম্বারের এই জোরালো অবস্থান ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রতিবন্ধী নাগরিকদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর সামাজিক ও মানব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাতারে ছয় মাস ধরে বন্দি তিন ইরানি সামরিক পাইলট, দাবি তেহরানের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
কাতারে ছয় মাস ধরে বন্দি তিন ইরানি সামরিক পাইলট, দাবি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে মার্চের যুদ্ধে ইরানের তিন পাইলটকে জীবিত আটক করেছিল কাতারি বাহিনী, এমন দাবি করেছে ইরান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। এ বরাতে খবর প্রকাশ করে আনাদোলু এজেন্সি।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ জানান, মার্চে হামলা চালানোর সময় দুটি সু২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দুটি বিমানে মোট চারজন পাইলট ছিলেন।

বাঘেরজাদেহের দাবি, যুদ্ধবিমান দুটির বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন ইরানি পাইলটকে জীবিত অবস্থায় কাতারি বাহিনী আটক করে। ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাঘেরজাদেহ দাবি করেন, যুদ্ধ অভিযানের সময় নিজেদের যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে আসার পর কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ওই তিন পাইলটকে আটক করা হয়।

তবে ইরানের এই দাবি ‘সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার’ করেছে কাতার। দোহা বলেছে, ইরানের এ ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে’ তারা বিস্মিত।

শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে জানান, অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানোয় কাতার সরকার বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার তীব্র নিন্দা কাতারের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার তীব্র নিন্দা কাতারের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও পরিকল্পিত সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কাতার রাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ধরণের ধারাবাহিক সহিংসতা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান তুলে ধরেছে:

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা মূলত ইসরায়েলি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় পরিচালিত হচ্ছে, যা তাদের আরও সহিংস হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

নিরপরাধ বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর এ জাতীয় ‘নির্লজ্জ অপরাধ’ অবিলম্বে বন্ধ করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে কাতার।

ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি বলে উল্লেখ করেছে দোহা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাতার সরকারের এই সময়োচিত প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক মানুষের অধিকার রক্ষায় দেশটির দৃঢ় অবস্থানের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।

তিন ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ অস্বীকার করল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
তিন ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ অস্বীকার করল কাতার

ইরানের তিন পাইলটকে ছয় মাস ধরে আটক রাখার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে কাতার।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সূচনালগ্নে সামরিক অভিযানের সময় কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ওই পাইলটদের আটক করা হয়। তবে দোহা জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং পাইলটদের আটকের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় সামরিক অভিযানে ওই তিন পাইলটকে কাতার আটক করেছিল বলে দাবি করেছে ইরান। এরপর ছয় মাস ধরে তারা কাতারে বন্দি রয়েছেন বলেও জানিয়েছে তেহরান। ইরান ওই তিন পাইলটকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের দাবি, যুদ্ধের শুরুর দিকে সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে ইরানি দুটি যুদ্ধবিমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ভূপাতিত হওয়ার পর পাইলটরা বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন এবং কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে তাদের আটক করা হয়।আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রধানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ বলেন, পাইলট জাভাদ সালেহি, আবদুল মাজিদ দাশতিয়ান ও ইমরান বেহরোশিয়ান ছয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন।

তিনি জানান, একই অভিযানে নিহত চতুর্থ পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ ইরানের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২ মার্চ যুদ্ধের তৃতীয় দিনে ওই অভিযানে তিনি নিহত হন।

তবে ইরানের এই দাবি ‘সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার’ করেছে কাতার। দোহা বলেছে, ইরানের এ ধরনের ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে’ তারা বিস্মিত।ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাঘেরজাদেহ দাবি করেন, যুদ্ধ অভিযানের সময় নিজেদের যুদ্ধবিমান থেকে বেরিয়ে আসার পর কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ওই তিন পাইলটকে আটক করা হয়।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিতে কাতারের বিরুদ্ধে ওই তিন পাইলটের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়। চিঠিটি আইসিআরসি প্রধান মিরজানা স্পোলিয়ারিচের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, পাইলটদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইন ও বিধির পরিপন্থি।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, ওই তিন পাইলটকে তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বা যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি বলেন, ‘কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর’ পাইলটদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাতারের ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আল-আনসারি আরও বলেন, কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাইলটদের মরদেহের সন্ধানে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয় করতে কাতার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য কাতারের দেয়া আমন্ত্রণে তেহরান এখনও সাড়া দেয়নি।

কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর কিছু ইরানি পাইলটকে আটক বা বন্দি করে রাখার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করেছে কাতার।


শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে জানান, অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছড়ানোয় কাতার সরকার বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুখপাত্র আল আনসারি কাতার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের প্রকৃত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন:

কাতারি আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর এবং আকাশযানগুলোর বিপজ্জনক গতিপথ নিশ্চিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাইলটদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক প্রোটোকল অনুসরণ করে ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ড. আল আনসারি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাতারি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পেশাদারিত্বের সাথে পাইলটদের দেহাবশেষ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে একজন পাইলটের দেহাবশেষ হস্তান্তরের বিষয়ে ইতোমধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বিস্তারিত সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য কাতার সরকার গত এপ্রিল মাসে একটি ইরানি প্রতিনিধিদলকে দোহা সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেও ইরান এখনো সেই আমন্ত্রণে কোনো সাড়া দেয়নি।

শ্রীলঙ্কায় ১০ লাখ রিয়াল খরচে কাতার চ্যারিটির অত্যাধুনিক সায়েন্স ল্যাব!

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

শ্রীলঙ্কার কালুতারা মুসলিম সেন্ট্রাল কলেজে একটি নবনির্মিত আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণাগার ভবন উদ্বোধন করেছে কাতার চ্যারিটি। দেশটিতে শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষার প্রসারে এটিকে একটি বড় ধরণের বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ১০ লাখ ৬৫ হাজার (১০,৬৫,০০০) কাতারি রিয়াল ব্যয়ে নির্মিত এই বিজ্ঞান কমপ্লেক্সের মূল লক্ষ্য হলো সিংহলি, তামিল এবং ইংরেজি ভাষাসমূহে অধ্যয়নরত ১,৫০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য আধুনিক ও উন্নত মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ

পশ্চিম প্রদেশের গভর্নর হানিফ ইউসুফ এবং শ্রীলঙ্কায় কাতার দূতাবাসের চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স খলিল আল-মাহমুদ যৌথভাবে এই নতুন স্থাপনাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • মাহমুদ আবু খলিফা: কাতার চ্যারিটির শ্রীলঙ্কা কান্ট্রি ডিরেক্টর।

  • নন্দনা পাথমাকুমারা: সংসদ সদস্য।

  • আলী সাবরি: প্রাক্তন মন্ত্রী।

  • নাফরাস নিলার: কালুতারা মুসলিম সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ।

ভবনের সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক পরিকাঠামো

নবনির্মিত বিজ্ঞান কমপ্লেক্সটিকে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ব্যবহারের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে:

অবকাঠামোগত খাত সুনির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধাসমূহ
৪টি বিশেষায়িত ল্যাব রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান এবং সাধারণ বিজ্ঞানের জন্য আধুনিক নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদিসহ সুসজ্জিত পরীক্ষাগার।
অত্যাধুনিক শ্রেণীকক্ষ ইন্টারেক্টিভ শিক্ষাদান ও ডিজিটালি শেখার সুবিধার্থে ৪টি প্রশস্ত ডিজিটাল ডিসপ্লে সমন্বিত কক্ষ।
পরিবেশ ও নান্দনিকতা ক্যাম্পাসের সামগ্রিক সৌন্দর্য ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবনের সামনে সুসজ্জিত বাগান নির্মাণ।

কাতার চ্যারিটির কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদ আবু খলিফা এবং কাতারি কূটনৈতিক খলিল আল-মাহমুদ উভয়েই জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাই যেকোনো জাতির দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল ভিত্তি। এই ধরনের সমন্বিত ল্যাবরেটরি শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় আলোচনার বাইরে হাতে-কলমে বৈজ্ঞানিক চিন্তা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

শ্রীলঙ্কার পশ্চিম প্রদেশের গভর্নর ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং শিক্ষায় এমন অবদানের জন্য কাতার চ্যারিটি ও কাতারের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘ইনসারেগ’ সনদ পেল মিশর, নেপথ্যে কাতারের লেখুইয়া বাহিনী

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
মিশরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিভিল প্রটেকশন জেনারেল ডিরেক্টরেটের 'সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম' জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের (OCHA) আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার উপদেষ্টা গ্রুপ (INSARAG) কর্তৃক মিডিয়াম স্তরের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস বা ক্লাসিফিকেশন অর্জন করেছে। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী 'লেখুইয়া' (Lekhwiya)-র এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন লেখুইয়ার প্রশাসন ও সরবরাহ বিষয়ক সহকারী কমান্ডার স্টাফ ব্রিগেডিয়ার মুবারক শেরিদা আল কাবী।

এই ঐতিহাসিক অর্জনটি কাতার ও মিশরের মধ্যে যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার সহযোগিতার সুফল হিসেবে হিসেবে উঠে এসেছে:

  • প্রথম প্রশিক্ষক হিসেবে রেকর্ড: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মিশরীয় উদ্ধারকারী দলটিকে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অর্জনে সরাসরি সহায়তা প্রদান করেছে কাতারের আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল (Qatari International Search and Rescue Group)। এর মাধ্যমে কাতার আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম আরব দল হিসেবে অন্য একটি আরব দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রেণিবিন্যাস অর্জনে সহায়তা করার অনন্য রেকর্ড গড়েছে।
  • উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: অনুষ্ঠানে মিশরের সিভিল প্রটেকশন সেক্টরের সহকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মেজর জেনারেল আমর মুস্তফা এল-বায়লি, দুই দেশের ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং 'ইনসারেগ' (INSARAG)-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানের ফাঁকে লেখুইয়ার স্টাফ ব্রিগেডিয়ার মুবারক শেরিদা আল কাবী এবং মিশরের সহকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মেজর জেনারেল আমর মুস্তফা এল-বায়লির মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মিশরের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রশিক্ষক দল হিসেবে কাতারী টিমের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। উভয় পক্ষই নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং যৌথ আরব নিরাপত্তা ও উদ্ধার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।