কাতারের শ্রমবাজারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে 'কাতার চেম্বার'।
কাতার চেম্বারের চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ খলিফা বিন জসিম আল-থানি জানিয়েছেন, কাতার দোহায় অনুষ্ঠিতব্য ‘চতুর্থ গ্লোবাল ডিসএবিলিটি সামিট ২০২৮’ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রাক্কালে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কাতার সরকারের উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন শেখ খলিফা বিন জসিম আল-থানী। তিনি জানান, ২০২৮ সালের এই বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের নেতৃত্বশীল অবস্থানকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কাতার সরকার বর্তমানে প্রচলিত সহানুভূতি বা আর্থিক সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সরাসরি কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করছে। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সুষম সমন্বয় ঘটিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল বাধা দূর করে তাদের অর্থপূর্ণ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে কাতারের বেসরকারি খাতকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কাতার চেম্বার। কেবল সাধারণ নিয়োগ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ সুগম ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চেম্বার তিনটি বিশেষ পদক্ষেপে গুরুত্ব আরোপ করেছে:
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা: শারীরিক বা মানসিক চ্যালেঞ্জ থাকা ব্যক্তিদের জন্য ধারাবাহিক ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ: ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের জন্য স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ’-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সামাজিক সংস্থা ও বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা।
সচেতনতা বৃদ্ধি: ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা এবং কোনো বৈষম্য ছাড়া যোগ্যতার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদে নিয়োগ বিধানে উৎসাহিত করা।
কাতার চেম্বারের এই জোরালো অবস্থান ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা প্রতিবন্ধী নাগরিকদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর সামাজিক ও মানব উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।