১৫ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের খবর চাউর হতেই বিশ্ব রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক শক্তির ভয়েই ট্রাম্প এমন অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন দাবি করে ঘটনাটিকে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরিয়ে দিচ্ছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তাকে ট্রাম্পের জন্য চরম ‘অপমান ও লাঞ্ছনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় অবস্থান করছিলেন ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, প্রেসিডেন্টকে বহনে ব্যবহৃত বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পরিণত হতে পারে। এই হামলাকে তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তা তো বটেই—এমনকি তিনি কত তলার কক্ষে ছিলেন তা-ও ইরানের কাছে নির্ভুলভাবে জানা ছিল। এই তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৮ জুলাই তুরস্ক ত্যাগের সময় ট্রাম্প এবং তার হাতে গোনা কয়েকজন সফরসঙ্গীকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি খাদ্য সরবরাহকারী ট্রাকে করে ছোট বিমানে তোলা হয়। অন্যদিকে, মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মীবৃন্দ এবং সফররত সাংবাদিকদের নিয়ে সাধারণ নিয়মেই আলাদাভাবে উড্ডয়ন করানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের এই চরম আতঙ্ককে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে লিখেছে, ‌‘খুব শিগগিরই ট্রাম্প ডাস্টবিনে গিয়ে লুকোবেন।’ সঙ্গে খাবারভর্তি বাক্সের মধ্যে ট্রাম্পের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করা হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তা ছাড়া, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো বিলবোর্ড ও ম্যুরালে ট্রাম্পের কফিনে শোয়া কিংবা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ছবি এঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক আলী ওয়ায়েজ এ বিষয়ে বলেন, ইরানি কট্টরপন্থীরা যারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছে।

তবে বিমান পরিবর্তন বা মার্কিন নথির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান এবং এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ গঠন করেছিল, যা তেহরান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

২০১৮ সালে ইরাকের আল-আসাদ ঘাঁটিতে নিজের গোপন সফরের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প নিজেই একবার বলেছিলেন, অন্ধকারের মধ্যে বাতি নিভিয়ে, জানালা বন্ধ করে বিমানে ভ্রমণ করার ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। সব মিলিয়ে ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদলের ঘটনা মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে নতুন করে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী'-কে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নজিরবিহীন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের 'পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স'-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প বলেন, "খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছি।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে বলেন:

"হরমুজ প্রণালী ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবেই ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।"

ঘারিবাবাদি আরও জোর দিয়ে দাবি করেন, ইরানের ‘কৌশলগত পরাজয়’ প্রতিপক্ষ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালীর ওপর তেহরানের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে কখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে কিংবা পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ইরানই নেবে।

দুই দেশের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কারণে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। জ্বালানি ও পরিবহন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • জাহাজ চলাচলের ধস: শুক্রবার মাত্র দুটি সাধারণ জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে এবং কোনো ধরনের অপরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ট্যাঙ্কার প্রণালীতে প্রবেশ করেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ পার হয়েছিল।

  • স্বাভাবিক সময়ের বৈপরীত্য: বর্তমান সংকট শুরুর আগে অর্থাৎ যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির পূর্বে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করত। এমনকি চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেও গড়ে দিনে ১২টি করে জাহাজ চলাচল করছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে তারা টানা অভিযান চালাচ্ছে। সেন্টকমের তথ্য মতে, গত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের নৌবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে মোট ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, ৩টি জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ২টি জাহাজে সরাসরি উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বর্তমানে এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাপ অব্যাহত রেখেছে, বিপরীতে ইরান ওই জলসীমায় নিজেদের সার্বভৌম আধিপত্য বজায় রাখতে অনড়। চরম সামরিক উত্তেজনার পরও দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কূল-কিনারা বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের খবর চাউর হতেই বিশ্ব রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক শক্তির ভয়েই ট্রাম্প এমন অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন দাবি করে ঘটনাটিকে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরিয়ে দিচ্ছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তাকে ট্রাম্পের জন্য চরম ‘অপমান ও লাঞ্ছনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় অবস্থান করছিলেন ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, প্রেসিডেন্টকে বহনে ব্যবহৃত বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পরিণত হতে পারে। এই হামলাকে তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তা তো বটেই—এমনকি তিনি কত তলার কক্ষে ছিলেন তা-ও ইরানের কাছে নির্ভুলভাবে জানা ছিল। এই তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৮ জুলাই তুরস্ক ত্যাগের সময় ট্রাম্প এবং তার হাতে গোনা কয়েকজন সফরসঙ্গীকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি খাদ্য সরবরাহকারী ট্রাকে করে ছোট বিমানে তোলা হয়। অন্যদিকে, মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মীবৃন্দ এবং সফররত সাংবাদিকদের নিয়ে সাধারণ নিয়মেই আলাদাভাবে উড্ডয়ন করানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের এই চরম আতঙ্ককে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে লিখেছে, ‌‘খুব শিগগিরই ট্রাম্প ডাস্টবিনে গিয়ে লুকোবেন।’ সঙ্গে খাবারভর্তি বাক্সের মধ্যে ট্রাম্পের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করা হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তা ছাড়া, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো বিলবোর্ড ও ম্যুরালে ট্রাম্পের কফিনে শোয়া কিংবা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ছবি এঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক আলী ওয়ায়েজ এ বিষয়ে বলেন, ইরানি কট্টরপন্থীরা যারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছে।

তবে বিমান পরিবর্তন বা মার্কিন নথির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান এবং এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ গঠন করেছিল, যা তেহরান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

২০১৮ সালে ইরাকের আল-আসাদ ঘাঁটিতে নিজের গোপন সফরের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প নিজেই একবার বলেছিলেন, অন্ধকারের মধ্যে বাতি নিভিয়ে, জানালা বন্ধ করে বিমানে ভ্রমণ করার ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। সব মিলিয়ে ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদলের ঘটনা মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে নতুন করে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সরকারি ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি ইরানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আমিরাত প্রশাসন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমিরাতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলপথটি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ নিয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার খবর জানানো হয়েছিল। একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।

প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, এর জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শনিবারও জাহাজে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।

এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

মানবেতর জীবনযাপন ও অবসাদ: মার্কিন রণতরীতে আত্মহত্যার চেষ্টা

আব্রাহাম লিংকনের বিকল্প হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী
প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
মানবেতর জীবনযাপন ও অবসাদ: মার্কিন রণতরীতে আত্মহত্যার চেষ্টা

সমুদ্রে টানা আড়াইশ’ দিনের বেশি সময় কাটাতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‌‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর হাজার হাজার সেনা ভয়ংকর মানবিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার ও সুপেয় পানির ঘাটতি, বিকল শৌচাগার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তি মিলিয়ে রণতরীটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সেনাসদস্যদের এই দুরবস্থার খবর সামনে আসার পর পেন্টাগনের কাছে জরুরি জবাবদিহিতা দাবি করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান বিষয়ক সামরিক নীতির ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীটিতে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের মানসিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে কেউ কেউ সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকেই এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, যাকে পরবর্তীতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, সচল লন্ড্রি ব্যবস্থার অভাব এবং তাজা খাবারের বদলে অপ্রতুল রেশনের কারণে নাবিকদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এক নাবিকের স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই মিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকে চরম মানসিক চাপে পড়ে তার স্বজন প্রায় ২৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ইঞ্জিনের শব্দ, যুদ্ধবিমানের ওঠা-নামার বিকট গর্জন এবং তীরে নামার কোনো সুযোগ না থাকায় নাবিকদের মধ্যে মানসিক অবসাদ চরম সীমায় পৌঁছেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাঠানো এক চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মৌলিক সামগ্রীর চরম ঘাটতি, পানির দূষণ, বিকল প্ল্যাম্বিং, নিরাপত্তার অভাব এবং দীর্ঘদিন চিঠি বা পার্সেল না পৌঁছানোর মতো বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন নৌবাহিনী কি সত্যিই বর্তমানে এই উচ্চমাত্রার অপারেশনাল চাপ বজায় রাখতে সক্ষম? একই সুর মিলিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন জানান, জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, কাজ না করা টয়লেট এবং খাবারের চরম সংকটে নাবিকদের কখনো কখনো মাত্র অর্ধকাপ চাল ও দুটি টর্টিলা খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

এছাড়া সাবান, টুথপেস্ট বা ডিওডোরেন্টের মতো জরুরি প্রসাধনসামগ্রীও তাদের কাছে নেই। পরিস্থিতি তদারকিতে আইনপ্রণেতারা একটি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি দলকে সরাসরি জাহাজে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদকে অসত্য ও চরম বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। পানামায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিটি জাহাজ ও নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতিরিক্ত দীর্ঘ এই মিশনে সেনাসদস্যদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও সেনাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চলার কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রসদ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো সামরিক হুমকি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত উপাদানে সজ্জিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটিকে দক্ষিণ চীন সাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বারবার এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' রণতরীটিকে পাঠাতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যান্য শাখার তুলনায় নৌবাহিনীর নাবিকদের মধ্যেই উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এক জটিল ও কৌশলগত অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট বিজয়ের দেখা পাচ্ছে না। সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিঃশব্দে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের বিন্যাস বাড়াতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ (RUSI)-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত বিমানবাহিনীর সদস্য ও প্রতিরক্ষামূলক রসদ পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। এটিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কিংবা সম্ভাব্য যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্টিফেনসের মতে, কেবল বিমান বা সেনাসদস্য বাড়িয়ে স্থলভাগে কোনো বড় ধরনের বিজয় অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।

উত্তেজনাপূর্ণ এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছে ইরাকের একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল।

ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারি এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধিদলে ইরাকের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিসের প্রধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ইরাকি নিউজ এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:

ড্রোন হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা: সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার উৎস এবং তা প্রতিরোধের কৌশলগত রূপরেখা।

ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক কোনো সংঘাতের জন্য বাগদাদ তাদের আকাশসীমা বা ভৌগোলিক ভূমি অন্য কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে দেবে না।

যৌথ গোয়েন্দা সমন্বয়: ড্রোন অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সমন্বয় সেল গঠন ও তথ্য আদান-প্রদান।

একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত পুরো অঞ্চলকে সামরিক ঝুঁকির মধ্যে রাখছে, অন্যদিকে রিয়াদ ও বাগদাদের এই প্রতিরক্ষামূলক আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রক্সি যুদ্ধ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখার একটি কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।