হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনায় শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ‘৫০-৫০’ বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কর্মকর্তা।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দলে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনও প্রতিনিধি নেই। অথচ সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির বিস্তারিত শর্ত কার্যকর করতে আইআরজিসির সম্মতি অপরিহার্য।
কর্মকর্তার ভাষ্য, এ কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করছেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আবারও সমঝোতা থেকে সরে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে একটি সমঝোতা শুক্রবারই হতে পারে।
কী বলছে ইরান?
অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা হওয়ার খবর অস্বীকার করে আসছে।
তেহরানের দাবি, বর্তমানে তাদের কর্মকর্তারা কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়েই আলোচনা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ সংলাপ চলছে না।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পথ তৈরি করতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বেড়েছে এবং এশিয়ার স্পট এলএনজি বাজারেও মূল্য কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে আইআরজিসির সম্মতি ছাড়া কোনও অন্তর্বর্তী সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনও সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।