৩১ জুলাই ২০২৬

উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ মহড়াকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি বলেছেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, অপারেশনাল পরিকল্পনার দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।

আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ একটি শক্তিশালী যৌথ উপসাগরীয় সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন, যা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।

তার মতে, বাহরাইন শিল্ড’ মহড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক সংহতির কৌশলগত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যেকোনো আকস্মিক বা শত্রুতামূলক হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

আল-নুয়াইমি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।

ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

কয়েক দিনের বিরতির পর ইরানে আবারও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর চেষ্টার কঠোর প্রতিশোধ নিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হামলার পর আবাদান, বন্দর আব্বাস, বুশেহর ও কেশমসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ‘হামলার চেষ্টার’ জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টা (ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টা) থেকে ইরানে এ হামলা শুরু হয়।

সেন্টকমের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর গতকালের ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে এটি শক্তিশালী জবাব।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুব কঠোর’ জবাব দেয়ার ঘোষণা দেন। মিশরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব, কারণ এবার আমাদের পালা। তারা জানে, এটি আসছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের সর্বশেষ হামলার পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের আবাদানে কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে।

এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে আবু মুসা, কিশ ও কেশম দ্বীপেও। তবে হরমোজগান প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিক শহরে কোনও হামলা হয়নি।

আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শহরের ভেতরে তিনটি বিস্ফোরণ হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে সংস্থাটি জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এতে হতাহতের কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি স্থানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ মহড়াকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি বলেছেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, অপারেশনাল পরিকল্পনার দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।

আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ একটি শক্তিশালী যৌথ উপসাগরীয় সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন, যা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।

তার মতে, বাহরাইন শিল্ড’ মহড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক সংহতির কৌশলগত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যেকোনো আকস্মিক বা শত্রুতামূলক হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

আল-নুয়াইমি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।

মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে।

লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

'অপারেশন এপিক ফিউরি': ১৮ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ছয় শতাধিক

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
'অপারেশন এপিক ফিউরি': ১৮ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ছয় শতাধিক

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন হতাহতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি ডেটাবেসে (ডিসিএএস) চুপিসারে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করে হতাহতের এই হিসাবে পরিবর্তন এনেছে।

গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন হিসাবকে মূলত মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন এড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কারণ, কাকতালীয়ভাবে ঠিক ওই দিনটিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে চিঠি দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর দাবি করেছিলেন।

শনিবার হালনাগাদ করা পেন্টাগনের নতুন তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। গত সপ্তাহে সিএনএনের পর্যবেক্ষণে আহতের সংখ্যা ৪৮২ জন থাকলেও, নতুন তালিকায় তা এক লাফে ১৪০ জনের বেশি বেড়েছে। ফিরে এসেছে বাদ পড়া নিহত চার সেনার নামও। জর্ডান ও উত্তর ইরাকে প্রাণ হারানো সেনারাও এই তালিকায় রয়েছেন।

গত সপ্তাহে ডেটাবেসে হতাহতের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেলে ১২ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে এর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান। জবাবে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমে এটিকে নিছক ‘সাময়িক ডেটা বিভ্রাট’ বলে দাবি করেন। তবে শুক্রবার সিএনএনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও রোববার পর্যন্ত পেন্টাগন কোনো জবাব দেয়নি।

পেন্টাগনের এই ৭ জুলাইয়ের নতুন হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মুরকাউস্কি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, প্রশাসন মূলত কৌশলে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে। তবে গত মে মাসেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা এই আইনটিকে পুরোপুরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেছিলেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে কোনো আক্রমণ না আসায় উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। পরপর দুদিন ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনী কোনো বিমান হামলা না চালানোর পর এ সিদ্ধান্ত জানাল দেশটি।

রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, আমাদের রণকৌশল মূলত প্রতিশোধমূলক আক্রমণভিত্তিক ছিল। মার্কিন হামলা বন্ধ থাকায় আমরাও আমাদের পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছি।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলার পর এ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হলো।

এর আগে প্রতিদিন মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে পাল্টা আঘাত হানছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরপর দুই রাত ইরানে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর পর, রোববার মধ্যপ্রাচ্যের কোনো স্থানে ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে কোনো আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।