মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতেও।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েত ১ হাজার ৬০০ কোটি বা ১৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় বিদেশী বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। দেশটির জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্কে অংশীদার হয়েছে বিশ্বের তিন শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড। এটি কুয়েতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশী বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খবর এফটি।
চুক্তি অনুযায়ী, ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর ও ব্রুকফিল্ড যৌথভাবে একটি নতুন যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ৪৯ শতাংশ মালিকানা নেবে। যৌথ উদ্যোগটি কুয়েতের ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় তেল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় পরিচালনা করবে। তবে পাইপলাইন ব্যবহারের অধিকার কুয়েতের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির কাছেই থাকবে।
অর্থাৎ অবকাঠামোর মালিকানা ও পরিচালনার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই বিদেশী পুঁজি নেয়া হচ্ছে।
চুক্তির মাধ্যমে কুয়েত তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার পাবে। সরকার এ অর্থ জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। বিশেষ করে ২০৩৫ সালের মধ্যে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
কুয়েত সরকারের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্বের অন্যতম বড় তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।
কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) উপ-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ নাওয়াফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, ‘কঠিন আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেও কুয়েত এখনো বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।’
ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যান বলেন, ‘বিপুল সম্পদ, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি ও অর্থনীতিকে বহুমুখী করার প্রচেষ্টার কারণে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।’