২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এআই দৌড়ে এগিয়ে যেসব চীনা কোম্পানি

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে চীন এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চিপ এবং ওপেন-সোর্স কৌশলের ওপর ভর করে এআই খাতে ঘটাচ্ছে এক অভাবনীয় রূপান্তর।

মেইতুয়ানের সম্পূর্ণ দেশীয় চিপে তৈরি মডেল থেকে শুরু করে ডিপসিকের বিশ্ব কাঁপানো ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’—সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের এআই ইকোসিস্টেম এখন ওয়াশিংটনের সমকক্ষ হওয়ার পথে।

যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কম্পিউটার চিপ রপ্তানিতে কড়াকড়ির মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে চীন। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট থেকে শুরু করে নতুন স্টার্টআপগুলো।

চীনের এআই দৌড়ে এগিয়ে থাকা উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

প্রযুক্তি জায়ান্টদের দাপট

বাইদু

‘চীনের গুগল’ নামে পরিচিত বাইদু এআই খাতে সবচেয়ে আগে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শীর্ষ এআই গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে ‘এরনি’ নামের চ্যাটবট, যা চীনের প্রথম দিকের চ্যাটবটগুলোর একটি। তবে তাদের আয়ের বড় অংশ এখনো আসে অনলাইন সার্চ ও বিজ্ঞাপন ব্যবসা থেকে।

আলিবাবা

ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা পরিচিত তাদের ওপেন-সোর্স ‘কুয়েন’ এআই মডেলের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামারদের কাছে এটি জনপ্রিয়। কারণ প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই মডেলটি পরিবর্তন ও ব্যবহার করা যায়।

টেনসেন্ট

শেনঝেনভিত্তিক টেনসেন্টকে একসময় এআই প্রতিযোগিতায় কিছুটা সতর্ক খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হতো। তবে সম্প্রতি তারা বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা পনি মা সম্প্রতি স্বীকার করেন, অতীতে টেনসেন্টের এআই উদ্যোগ ছিল ‘ফুটো জাহাজের’ মতো। এখন প্রতিষ্ঠানটি এক বিলিয়নের বেশি ব্যবহারকারীর উইচ্যাটে এআই এজেন্ট পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করছে।

টিকটকের এআই

টিকটকের মালিক বাইটড্যান্স ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন এআইয়েও জোর দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির চ্যাটবট ‘দৌবাও’ বর্তমানে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট। এর মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩০ কোটির বেশি। সম্প্রতি এটি অর্থের বিনিময়ে সাবস্ক্রিপশন সুবিধাও চালু করেছে।

জুনে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘সিড্যান্স ২.৫’ নামের ভিডিও তৈরির নতুন এআই মডেল। সিনেমার মতো মানসম্মত ভিডিও তৈরির সক্ষমতার কারণে এটি কপিরাইট ও সৃজনশীল পেশায় এআইয়ের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

চীনের এআই নায়ক: ডিপসিক

২০২৩ সালে একটি হেজ ফান্ডের পার্শ্বপ্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডিপসিক।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কম খরচে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চ্যাটবট উন্মুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। অনেকেই এই ঘটনাকে এআই খাতে ‘স্পুটনিক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দেন, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্য নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।

ওপেন-সোর্স কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে ডিপসিক চীনের এআই শিল্পে নতুন গতি এনে দেয়। এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত করে ‘ভি৪’ মডেল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থায়ন পর্ব শেষে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

‘এআই টাইগার’ স্টার্টআপগুলো

ঝিপু এআই, মিনিম্যাক্স এবং মুনশট এআইকে একসঙ্গে বলা হয় চীনের ‘এআই টাইগার’। মূল এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পুরোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

ঝিপু এআইয়ের ‘জিএলএম-৫.২’ মডেল ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের বিকল্প হিসেবে বিদেশি প্রোগ্রামারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ও বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রিসেনের মতে, অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিকে প্রথম চীনা মডেল হিসেবে দেখছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন শীর্ষ এআই মডেলের সমকক্ষ, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগিয়েও।

অন্যদিকে মুনশট এআই পরিচিত তাদের জনপ্রিয় ‘কিমি’ মডেলের জন্য। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন। এতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৫০ কোটি ডলার।

নতুন প্রতিযোগীরা

খাদ্য সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম মেইতুয়ান জুনে জানায়, তাদের ‘লংক্যাট-২.০’ মডেলই প্রথম বড় আকারের এআই মডেল, যা পুরোপুরি চীনে তৈরি কম্পিউটার চিপ দিয়ে প্রশিক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এটিকে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে।

এদিকে স্মার্টফোন নির্মাতা শাওমি তুলনামূলক দেরিতে এআই প্রতিযোগিতায় নামলেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্চে প্রতিষ্ঠাতা লেই জুন জানান, আগামী তিন বছরে এআই খাতে অন্তত ৮৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘মিমো-ভি২.৫’ মডেল বর্তমানে বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের প্ল্যাটফর্ম ওপেনরাউটারে মাসিক ব্যবহারের হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।

এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
এআইয়ের ভুলে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে আংশিকভাবে প্রকাশিত একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এআই নির্মিত ভুয়া প্রতিবেদনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে হামলা চালাতে প্রায় উদ্যত হয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্রের মতে, ঘটনাটি প্রায় একটি যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি কতোটা গুরুতর, এ ঘটনা তারই প্রমাণ বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশারদরা।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া ও মিথ্যা প্রতিবেদনটি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের এক বিশ্লেষক তৈরি করেছিলেন। তিনি একটি এআই চ্যাটবটের কাছে চীনা জাহাজটির মালামালের তালিকা (ম্যানিফেস্ট) সম্পর্কে জানতে চান।

সিএনএন জানিয়েছে, চ্যাটবটটি ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর ওপর ভিত্তি করে জানায় যে, জাহাজটিতে একটি ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম’ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে আটক করার প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে জানতে পারা যায়, পুরো প্রতিবেদনটি আসলে এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফসল।

জাহাজটিতে প্রকৃতপক্ষে কী ছিল কিংবা বিশ্লেষক কোন এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন—তা বাণিজ্যিক টুল নাকি মার্কিন সরকারের নিজস্ব—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যেভাবে সার্বিকভাবে এআই গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে, তাতে সম্ভাব্য টুলের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি স্মারকলিপিতে প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘এআই-ফার্স্ট’ বা এআই-বান্ধব সংস্থায় পরিণত করার নির্দেশনা দেন এবং মার্কিন শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর আহ্বান জানান।

তবে কৌশলটি পুরোপুরি পরিকল্পনামাফিক এগোয়নি। সামরিক বাহিনীকে তাদের তৈরি মডেল স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যানথ্রোপিক। এর জের ধরে সরকার তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধও করেছিল। যদিও পরবর্তীতে অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে গ্রক ব্যবহারের সুযোগ দিতে চুক্তিবদ্ধ হয় স্পেসএক্স-এআই। পরবর্তীতে মে মাসে এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগে নিজেদের এআই প্রযুক্তি সরবরাহের জন্য অংশীদারত্বে আবদ্ধ হয়।

সরকারের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ আগ্রাসীভাবে এগুলোর পেছনে ছুটছে। তবে এআই-এর এ ধরনের বিস্তার যে স্বাভাবিক কোনো এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি বহন করে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ।

নিজে থেকেই ৩টি প্রতিষ্ঠান হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
নিজে থেকেই ৩টি প্রতিষ্ঠান হ্যাক করল গুগলের জেমিনাই

সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা পরীক্ষার সময় গুগলের এআই মডেল জেমিনাই ইন্টারনেটে প্রবেশ করে অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং পরিচালনা করেছে, যা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমন কাজ করার প্রথম জানা উদাহরণ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে এই তথ্য জানায় এনডিটিভি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান 'ইরেগুলার'-এর পরিচালিত একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। ইরেগুলারের এক মুখপাত্র জানান, অন্যান্য এআই ল্যাবের মতোই এটি একই সমস্যা কেন্দ্রিক ছিল এবং জুলাইয়ের শেষের দিকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে তা জানানো হয়েছে। নিজেদের অংশের সব জানা সমস্যা কয়েক সপ্তাহ আগেই সমাধান করা হয়েছে বলে ইরেগুলারের মুখপাত্র নিশ্চিত করেন।

একটি ঘটনায় জেমিনাই মডেলটি বারবার পাসওয়ার্ড অনুমান করে একটি সুরক্ষিত সিস্টেমে প্রবেশ অধিকার অর্জন করে। অন্য দুটি ক্ষেত্রে মডেলটি একটি পাবলিক রিপোজিটরিতে প্রবেশাধিকারের তথ্য খুঁজে পায়, যা ব্যবহার করে এটি সুরক্ষিত সিস্টেমে ঢুকে পড়ে। এআই এজেন্টের ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসন এবং ইন্টারনেট ও কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেটা, অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই-ও ইরেগুলারের সঙ্গে সম্পর্কিত এই ধরনের ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে। মেটা আগস্টে জানায়, ঘটনাটি কোনো স্যান্ডবক্স স্কেপ বা জটিল সাইবার আক্রমণ ছিল না, অন্যদিকে ইরেগুলার জানায় যে তারা এআই সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য নিরাপদ অনুশীলন তৈরি করছে। রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে গুগল তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
কাতারে অফিশিয়ালি কোথায় ও কত দামে পাবেন নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ এবং ফোল্ডেবল আইফোন ডুও?

অ্যাপলের সদ্য উন্মোচিত বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন ১৮ প্রো (iPhone 18 Pro), আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স (iPhone 18 Pro Max) এবং ব্র্যান্ডের প্রথম ফোল্ডেবল ডিভাইস আইফোন ডুও (iPhone Duo) কিনতে কাতারজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অ্যাপল এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনার ঘোষণা দেয়।

অত্যন্ত শক্তিশালী এ২০ প্রো (A20 Pro) চিপ, পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার বা ডায়াফ্রামযুক্ত ক্যামেরা সিস্টেম এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ নিয়ে তৈরি নতুন এই আইফোনগুলো ঘিরে কাতারের বাজারেও শুরু হয়ে গেছে প্রি-অর্ডার ও কেনাকাটার প্রস্তুতি। স্থানীয় ক্রেতাদের সুবিধার্থে কাতারের অনুমোদিত ও অফিসিয়াল রিটেইলারদের তালিকা এবং মূল্যতালিকা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

প্রি-অর্ডার ও বাজারে আসার সময়সূচি

আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স: গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এগুলোর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কাতারের বিভিন্ন রিটেইলার শোরুম ও স্টোরে এগুলো সরাসরি হাতে পাওয়া যাবে।

আইফোন ডুও (ফোল্ডেবল): অ্যাপলের প্রথম এই ফোল্ডেবল ডিভাইসটির প্রি-অর্ডার শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৬ এবং অক্টোবরের শেষ নাগাদ এটি বাজারে স্টোরে উপলব্ধ হবে।

কাতারে অফিশিয়ালি আইফোন ১৮ সিরিজ কেনার বিশ্বস্ত মাধ্যম ও স্টোরসমূহ

কাতারে কোনো ধরনের প্রতারণা বা আনঅথরাইজড পণ্যের ঝুঁকি এড়াতে অ্যাপলের অফিশিয়াল পার্টনার ও অনুমোদিত শোরুমগুলো থেকে ডিভাইস সংগ্রহ করা সবচেয়ে নিরাপদ। নিচে প্রধান অফিশিয়াল আউটলেটগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

অ্যাপল অথরাইজড রিসেলার ও ফ্ল্যাগশিপ স্টোরসমূহ:

কাতারের বড় বড় শপিং মল যেমন—দোহা ফেস্টিভাল সিটি, মল অফ কাতার, প্লেস ভ্যান্ডোমে অবস্থিত প্রধান ইলেকট্রনিক্স ও অ্যাপল প্রিমিয়াম রিসেলার শপগুলোতে প্রথম চালানেই ডিভাইসগুলো পাওয়া যাবে।

প্রধান টেলিকম অপারেটর:

ওরেডু কাতার (Ooredoo Qatar): অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি এবং আকর্ষণীয় ডাটা বান্ডেল প্যাক বা কিস্তি সুবিধাসহ আইফোন ১৮ সিরিজ ক্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে।

ভোডাফোন কাতার (Vodafone Qatar): পোস্টপেইড ও প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য অফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ক্রয়ের বিশেষ অফার ও সহজ পেমেন্ট অপশন নিয়ে আসছে।

স্বনামধন্য ইলেকট্রনিক্স চেইন শপসমূহ:

জারির বুকস্টোর (Jarir Bookstore)

লুলু হাইপারমার্কেট (Lulu Hypermarket - ইলেকট্রনিক্স বিভাগ)

টেকনো ব্লু (Techno Blue)

ভার্জিন মেগাডোর (Virgin Megastore)

অফিশিয়াল প্রারম্ভিক মূল্যতালিকা (কাতারি রিয়ালে)
কাতারের বাজারে মডেল ও ভ্যারিয়েন্ট ভেদে নতুন আইফোনগুলোর অফিশিয়াল দাম নির্ধারিত হয়েছে নিম্নরূপ:

আইফোন ১৮ প্রো: শুরু হচ্ছে ৪,৯৯৯ কাতারি রিয়াল থেকে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স: শুরু হচ্ছে ৫,৩৯৯ কাতারি রিয়াল থেকে।

আইফোন ডুও (ফোল্ডেবল): শুরু হচ্ছে ৮,৩৪৭-৮,৩৪৯ কাতারি রিয়াল থেকে।

বিঃদ্রঃ স্টোরেজ ক্যাপাসিটি (যেমন—২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি বা ১ টিবি) বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিভাইসগুলোর মূল্যে তারতম্য হতে পারে।

গ্রাহকদের জন্য বিশেষ পরামর্শ

বাজার থেকে হ্যান্ডসেট কেনার সময় অবশ্যই অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি কার্ড, আইএমইআই (IMEI) নম্বর এবং বিটিসি বা কাতারের মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সিলমোহর যাচাই করে নেওয়া উচিত। অননুমোদিত থার্ড-পার্টি শপ থেকে অতিরিক্ত সস্তায় কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে অনেক সময় অফিশিয়াল অ্যাপল কেয়ার ওয়ারেন্টি পাওয়া যায় না, তাই জেনুইন রিসেলারদের মাধ্যমেই প্রি-অর্ডার বা সরাসরি ক্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
গুগলের এআই মোড: ফ্লাইট ও হোটেলের বুকিং এখন হাতের মুঠোয়

গত বছর সার্চ অপশনে এআই মোড চালু করেছিল গুগল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় লিংকসহ প্রাসঙ্গিক উত্তর পান। এবার এই অপশনে আরও নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করেছে গুগল, যার মাধ্যমে ভ্রমণপ্রেমীরা বেশ উপকৃত হবেন। গুগল ভ্রমণকেন্দ্রিক নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করে এআই মোডের পরিধি বাড়াচ্ছে বলে গ্যাজেট ৩৬০-এর প্রতিবেদনে জানা যায়।

গুগল এআইর সর্বশেষ হালনাগাদে দেখা যায়, ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে, পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য তুলনা করতে এবং এআই মোডের মাধ্যমেই থাকার জায়গা খুঁজে বুক করতে পারবেন। নতুন এসব সুবিধার ফলে গুগল সার্চ থেকে বের না হয়েই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা এবং প্রয়োজনীয় বুকিং দেওয়া যাবে।

নতুন এক ব্লগ পোস্টে সার্চের এআই মোডে যুক্ত হওয়া সর্বশেষ সুবিধাগুলোর ঘোষণা দিয়েছে গুগল। গুগল ফ্লাইটসের জনপ্রিয় মূল্য ট্র্যাকিং সুবিধাটি সরাসরি এআই মোডে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কথোপকথনের সময়ই ব্যবহারকারীরা ফ্লাইটের দামের সতর্কবার্তা (প্রাইস অ্যালার্ট) চালু করতে পারবেন। কোথা থেকে যাত্রা করবেন, কোথায় যাবেন এবং কখন উড়বেন—এসব তথ্য দিলে এআই মোড ৩শটির বেশি এয়ারলাইন ও ভ্রমণসাইটের সর্বশেষ মূল্যের ভিত্তিতে পাওয়া বিকল্পগুলো দেখাবে।

গুগল আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা এআই মোডেই পুরো ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবেন এবং এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইট বা পছন্দের বুকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিট কিনতে পারবেন।

ব্যবহারকারীরা এআই মোডকে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করতে বলতে পারবেন। নির্বাচিত গন্তব্য ও ভ্রমণের তারিখের ভাড়ায় পরিবর্তন হলে প্রতিবার ব্যবহারকারীর কাছে ই-মেইল পাঠানো হবে। এআই মোডে ফ্লাইটের দাম ট্র্যাক করার সুবিধা এখন বিশ্বের ১৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোড এখন ব্যবহারকারীদের ফ্লাইট ও হোটেলের খরচ পয়েন্ট বা মাইলে দেখাতে পারবে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীকে তাঁর ভ্রমণের বিবরণ দিতে হবে এবং কোন লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে চান, তা উল্লেখ করতে হবে।

এরপর গুগলের ভ্রমণ অংশীদারদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এআই মোড যোগ্য ফ্লাইটের জন্য কত মাইল প্রয়োজন, তা দেখাবে। হোটেলের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের লিংকে গিয়ে সার্চ থেকেই সরাসরি তাঁদের রিওয়ার্ড ব্যবহার করে বুকিং সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে পয়েন্ট ও মাইলের মূল্য দেখার সুবিধা এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, আলাস্কা এয়ারলাইনস, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, হিলটন এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসসহ বিভিন্ন লয়্যালটি ও ভ্রমণ অংশীদার এই সুবিধার আওতায় থাকবে। শিগগিরই অ্যাঙ্কর, ফ্লাইং ব্লু, হায়াত, লাতাম এয়ারলাইনস এবং লুফথানসা গ্রুপের জন্যও এ সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়ছে তারা।

এ ছাড়া সার্চের এআই মোডের মাধ্যমে সরাসরি হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা চালু করেছে গুগল। ব্যবহারকারীরা তাঁদের গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং হোটেলসংক্রান্ত পছন্দ জানালে এআই মোড অতিথিদের দেওয়া পর্যালোচনা এবং তুলনা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ বিভিন্ন বিকল্পের তালিকা দেখাবে।

কোনো হোটেল পছন্দ হওয়ার পর ব্যবহারকারী এআই মোডকে বুকিংয়ে সহায়তা করতে বলতে পারবেন। কোনো সমন্বিত হোটেল চেইন বা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির পাশে ‘কনটিনিউ অন গুগল’ নির্বাচন করলে ব্যবহারকারী বুকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং গুগল পের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

এআই মোডে হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ইংরেজি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই বুকিং ডটকম, চয়েস হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল, এক্সপিডিয়া, হিলটন, হোটেলস ডটকম, আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, প্রাইসলাইন, ট্রিপ ডটকম এবং উইন্ডহ্যাম হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের মতো অংশীদারদের মাধ্যমেও এই সুবিধা চালু করা হবে।