২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ শেষ করতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠিয়েছে ইরান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
যুদ্ধ শেষ করতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে  বার্তা পাঠিয়েছে ইরান

যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেছেন, তাদের শর্ত হলো সব ফ্রন্টে (লেবানন, ইরান এবং ফিলিস্তিন) যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় দিতে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে।

আর তাদের শর্ত কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহসেন রেজাই।

এখন ট্রাম্পের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছি।’

ইরানের দেওয়া শর্ত মানা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে ভুল হিসাব-নিকাশ করেছেন এবং তার হুমকি কোনো কিছুই পরিবর্তন করবে না।

ইরানের প্রভাবশালী এ রাজনীতিবিদ আরও বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দুর্বলতা সম্পর্কে জানতেন। এ কারণে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সফল হতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত।’

যুদ্ধ শেষ করতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠিয়েছে ইরান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
যুদ্ধ শেষ করতে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে  বার্তা পাঠিয়েছে ইরান

যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের শর্ত জানিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই।

তিনি বলেছেন, তাদের শর্ত হলো সব ফ্রন্টে (লেবানন, ইরান এবং ফিলিস্তিন) যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড় দিতে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে।

আর তাদের শর্ত কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহসেন রেজাই।

এখন ট্রাম্পের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছি।’

ইরানের দেওয়া শর্ত মানা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সম্পর্কে ভুল হিসাব-নিকাশ করেছেন এবং তার হুমকি কোনো কিছুই পরিবর্তন করবে না।

ইরানের প্রভাবশালী এ রাজনীতিবিদ আরও বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দুর্বলতা সম্পর্কে জানতেন। এ কারণে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সফল হতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত।’

ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ইরানে জনসমাবেশ: দেশরক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিতে প্রস্তুত ৬ লাখ ইরানি

যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর শুক্রবার ইরানে সরকার আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। এ সময় দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় এ ধরনের সমাবেশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়ার মধ্যে সরকার জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা দিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি করেছে ইরান।

‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ নামে কর্মসূচির আওতায় সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীদের শুক্রবার তেহরানের কেন্দ্রীয় সড়কে সামরিক পোশাকে মিছিল করতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল ইরানের পতাকা। সমাবেশে উপস্থিত দর্শকেরা তাদের স্বাগত জানান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কয়েক দিন ধরে নাগরিকদের এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। শিগগিরই তাদের অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহারের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানানো হয়। সরকারের দাবি, নতুন স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ মিলিশিয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর হিসেবে কাজ করবে।

তেহরানের আইআরজিসি প্রধান জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ৬ লাখের বেশি মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের হিসাবে, তেহরানের রাস্তায় ৩ লাখের বেশি মানুষ ছিল।

সমাবেশ শুরুর সময় বাসিজের নতুন প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেন, স্বেচ্ছাসেবকেরা ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার’জন্য প্রস্তুত থাকবে। শিগগিরই অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সমাবেশ হবে বলে জানান তিনি।

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্কের পথে ইসরায়েল

মরক্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। নিজ নিজ মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়েও সম্মত হয় দুই পক্ষ। এ সম্পর্কের আওতায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও একমত তারা।

বুধবার জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালজের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে বৈঠক করেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিম বৌরিতা।

সেখানেই কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে। এসংক্রান্ত দুটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে সই করেন তাঁরা।

বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল এবং মরক্কো।

আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ২০২১ সালে মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ের সূত্রপাত হয়।

সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে গোপন বৈঠক ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের সঙ্গে সৌদি আরবসহ সাত আরব দেশের সেনাপ্রধান বৈঠক করেছেন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশরের সামরিক কর্মকর্তারা।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস বৈঠকটির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে জার্মানির একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে গোপনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৈঠকটির আয়োজন করেন। পরে অ্যাক্সিওসকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেন্টকমও।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর এ ধরনের এটি প্রথম বৈঠক। এর আগেও এসব দেশের কর্মকর্তারা একই ধরনের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে অংশ নেওয়া আরব দেশগুলোর কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে সৌদি আরব ও কাতার রয়েছে। ইসরায়েলের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।

বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের সামরিক অভিযান সম্পর্কে অংশ নেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

কুপার হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নৌ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান। ইরান জলপথটি অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।

বৈঠকের বিষয়ে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, জার্মানিতে নির্ধারিত একটি সম্মেলনের সময় আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আতিথ্য দিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, সেন্টকমের সহায়তায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুতি গোষ্ঠীর অগ্রগতি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে ইসরায়েল।

ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত এবং সৌদি আরবে তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্রের দাবি, ইসরায়েল সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে- এমন সম্ভাবনা কম।

বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে আঞ্চলিক শক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো হলো—

হুতি

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার মুখেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব সামরিক অভিযান গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হুতিদের কার্যক্রম ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরব

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে। রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও পড়ে এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)। ২০২২ সালে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।

দেশ পরিচালনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া—পিএলসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং সরকারের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

তবে পিএলসির ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলো ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, যা সাধারণভাবে ‘ইসলাহ’ নামে পরিচিত। এটি একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইসলাহের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। হুতিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পিএলসির ভেতরে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হলো ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস। এটি ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। তারেক সালেহ ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ইয়েমেনের যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।

এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা