২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘এক পদে’র বেশি খাবার না রাখার নির্দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘এক পদে’র বেশি খাবার না রাখার নির্দেশ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় পাকিস্তানজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে করোনাকালের লকডাউনের সময়ের মতো বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকার।

সরকারি ব্যয় কমাতে নতুন গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিয়েবাড়ির খাবারের তালিকায় কেবল ‘এক পদ’ বা একটি মাত্র খাবার রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিধিনিষেধ ঘোষণা করে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, সারা বিশ্বে তেলের দাম বাড়ায় জিনিষপত্রের দামও বেড়ে গেছে। তাই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে সরকার ও উচ্চবিত্তদেরই আগে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।

নতুন এই নিয়মের অধীনে সব সরকারি গাড়ির তেল ব্যবহারের কোটা একধাক্কায় অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সেনা, পুলিশ ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি খরচে যেকোনো নতুন গাড়ি কেনাও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমোদপ্রমোদ ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও বেশ কিছু নিয়ম চাপানো হয়েছে। এখন থেকে রাত ৯টার মধ্যে সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান রাত ১০টা এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অপচয় রুখতে বিয়ের মেহমানদের জন্য এক পদের বেশি খাবার পরিবেশন করা যাবে না। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, পেট্রোল পাম্প ও আইটি সার্ভিসের মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলো এই সময়ের কড়াকড়ি থেকে ছাড় পাবে।

এছাড়া আগামী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। খুব জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ যেতে হলেও বিমানে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে। জ্বালানির খরচ বাঁচাতে সরকারি দপ্তরের সব মিটিং অনলাইনে করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত গত ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান এই গভীর শক্তিসংকটে পড়েছে। দেশটি তাদের প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আমদানি করে থাকে, যা চলমান যুদ্ধের কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগেও সংকট সামাল দিতে মার্চ মাসে স্কুল বন্ধ রাখা ও জাতীয় দিবসের প্যারেড বাতিল করেছিল পাকিস্তান সরকার।

ইরান যুদ্ধে আটশর বেশি মার্কিন সেনা আহত, নিহতদের সংখ্যা গোপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে আটশর বেশি মার্কিন সেনা আহত, নিহতদের সংখ্যা গোপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধে নিহত সেনাদের সম্মান প্রদর্শন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চলমান ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কর্মকর্তার পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে এই খবর জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জানান, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন, যা পেন্টাগনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ বা ডিসিএএস-এ প্রদর্শিত সংখ্যার চেয়ে চারটি বেশি। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।

পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেজে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা বলা হলেও চারজনের তথ্য বাদ দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃতের সংখ্যা আড়াল করার ফলে নিহত সেনাদের স্বজনরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্পের ইরাননীতির প্রতি মার্কিন জনগণের অনিচ্ছা ও অসন্তোষ বাড়ছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা যুদ্ধ বন্ধে ও তথ্য বিকৃতি রুখতে নানা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে আইনি জটিলতার অভিযোগে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অভিশংসন দাবি করেছেন একজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের এক নথি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আটশরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।

গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।

এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।

তেলের বাজারে আমেরিকা মহাদেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।

বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

বাড়ছে বৈষম্যের অভিযোগ

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।

জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।

তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’

অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’ তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গায়ানা

গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।

গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।

এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপ

গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।

এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।

ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?

অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।

তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’

ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান সংবাদমাধ্যম সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস থেকে কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তিনি এ–সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যম তিনটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ তথ্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, ভুয়া খবর প্রচার করে এমন অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে নয়, বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে তিনি সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্য সংবাদমাধ্যম কোনগুলো—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নাম উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবাদমাধ্যমকে এভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই সংশোধনী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের এ নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। তাঁর মতে, প্রথম সংশোধনীর অধীনে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’। তাই সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে সেখান থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই।

তবে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরও শুক্রবার বিকেলে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হোয়াইট হাউস থেকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে সংবাদ সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা এই মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতাধীন অধিকার রক্ষায় লড়াই করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যেকোনো প্রশাসনের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ: ১৫ পুলিশসহ নিহত অন্তত ২৭

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
পাকিস্তানে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধ: ১৫ পুলিশসহ নিহত অন্তত ২৭

পাকিস্তানের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে সংঘটিত শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে ৬ বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পাকিস্তানের তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি শাখা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার তথ্যমতে, জুমার নামাজের জন্য মুসল্লিরা যখন জড়ো হচ্ছিলেন, ঠিক সে সময় আফগান সীমান্তের কাছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট জেলার পুরোনো পুলিশ লাইনের কাছে একটি মসজিদের প্রবেশদ্বারে বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের তালেবান বা টিটিপি-র সাথে যুক্ত হাফিজ গুল বাহাদুর কমান্ডারের নেতৃত্বাধীন ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদীন’ বা মুজাহিদ জোট এই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ আত্মঘাতী বোমা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় এবং পুলিশের সাথে তাদের তীব্র গোলাগুলি হয়। ডিপিএ বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে ড. তাহির শাহ জানান, অন্তত ১৫টি লাশ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তবে আল জাজিরার সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন। দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবীণ উদ্ধার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেছেন যে আহতদের বেশিরভাগই ছিলেন মুসল্লি।

এই হামলায় মসজিদটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অনেক দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার জানান, সংঘাতে অন্তত ছয়জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালেবান টিটিপি এবং অন্যান্য আক্রমণকারী দলগুলোকে আফগান ভূখণ্ড থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দিচ্ছে। যদিও কাবুলের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের স্বাক্ষর

ইউক্রেন যুদ্ধের খেসারত হিসেবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ জোরদার করতে কংগ্রেসের পাস করা বহুল আলোচিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে দ্বিপক্ষীয় সমর্থন পাওয়ার পর বিলটি ট্রাম্পের দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়।

ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিলটির খসড়া তৈরি ও মধ্যস্থতায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এটির নাম রাখা হয়েছে।

আইন পাসের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প ও মার্কিন কংগ্রেসকে ধন্যবাদ জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

নতুন এই আইনের অধীনে সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও পুতিন ঘনিষ্ঠ ধনকুবেরদের (অলিগার্ক) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ, প্রতিরক্ষা খাত এবং তেল পরিবহণে ব্যবহৃত অবৈধ ‘শ্যাডো ফ্রিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরকে কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে ইরানি অস্ত্র ও জ্বালানি খাতের ওপর চলমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইনটিতে ট্রাম্পকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী শীর্ষ পাঁচটি দেশের (যার মধ্যে চীন ও ভারত অন্যতম) ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ করতে পারবেন তিনি। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ক্রেমলিনের আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করে যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় বাধ্য করা।

গত আগস্টে ৮৬-১১ ভোটে মার্কিন সেনেট এবং গত বুধবার ২৬২-১৫৯ ভোটে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়ার পর বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের মুখ দেখল। বিগত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউক্রেন সংঘাত ও রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে গৃহীত এটিই সবচেয়ে বড় ও কঠোর আইনি উদ্যোগ।

প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন একে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা শুল্ক আরোপের একক ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে অর্পণ করার বিরোধিতা করে আইনটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, ভারত আগেই জানিয়েছে তাদের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হোয়াইট হাউসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আগামী সপ্তাহের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প।