৩১ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

“তারা রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। আমরা যদি এসব হত্যাকাণ্ড এবং সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারি, তবে বিশ্বকে দেখাতে পারব আসলে সেখানে কী ঘটছে”—মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্য থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক সাংবাদিকের এই আর্তনাদই বলে দেয় সেখানে চলমান সংকটের ভয়াবহতা।

গোপন নথি, এক্সক্লুসিভ ভিডিও এবং ফেকোলজিক্যাল বা ফরেনসিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আল জাজিরার অনুসন্ধানী দল তৈরি করেছে নতুন একটি তথ্যচিত্র—‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’ (Bloodshed on the Border)। এই ডকুমেন্টারিতে উন্মোচিত হয়েছে কীভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবপাচার করা হচ্ছে এবং একটি জাতিগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা এবং স্থানীয় ক্ষমতাশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের ক্রসফায়ারে আটকা পড়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। রাখাইনের এই সংঘাতে এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষ দ্বারাই টার্গেট হয়েছে। তাদের ব্যবহার, শোষণ, নির্যাতন ও লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারহীন এই বন্ধ রাজ্যে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের সময়কার বর্বরতার মতোই বর্তমান গৃহযুদ্ধেও উভয় পক্ষ থেকে রোহিঙ্গারা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশর একটি শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা সেতেরা বেগম জানান, বিদ্রোহীরা গ্রামে ঢুকে পরিখা খনন ও চেকপোস্ট তৈরি করেছিল, যার ফলে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ হারান।

‘মিয়ানমার উইটনেস’-এর ফরেনসিক গবেষকদের বিশ্লেষণ এবং রোহিঙ্গা নাগরিক সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা দেখিয়েছে, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্য দখল করার পর এই মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কী ধরনের নির্যাতন নেমে এসেছে। পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে মানবপাচারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থ কামাচ্ছে, তাতিও উঠে এসেছে এতে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও নারীদের জোরপূর্বক নৌকায় তুলে অন্য দেশে পাচার এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। ১৪ বছরের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী আয়শা জানিয়েছে, তাদের ওপর কতটা অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

আল জাজিরার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আরাকান আর্মি লিখিত উত্তর বা ইন্টারভিউ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর আগে তাদের নেতারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা ‘নৃশংসতা’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিনিয়র কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো আলোর দিশা না পেয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তাদের চুপ করে বসে থাকার আশা করা যায় না।

আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটের ‘মিয়ানমার এক্সপোজড’ (Myanmar Exposed) প্রতিবেদনের একটি অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে এই ডকুমেন্টারিটি, যা ২০২১ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী মিয়ানমারের অজানা ও লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবপাচার নিয়ে আল জাজিরার নতুন অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি ‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’

“তারা রোহিঙ্গা জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। আমরা যদি এসব হত্যাকাণ্ড এবং সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারি, তবে বিশ্বকে দেখাতে পারব আসলে সেখানে কী ঘটছে”—মিয়ানমারের যুদ্ধবিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্য থেকে গোপনে ভিডিও ধারণ করা এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগরিক সাংবাদিকের এই আর্তনাদই বলে দেয় সেখানে চলমান সংকটের ভয়াবহতা।

গোপন নথি, এক্সক্লুসিভ ভিডিও এবং ফেকোলজিক্যাল বা ফরেনসিক বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে আল জাজিরার অনুসন্ধানী দল তৈরি করেছে নতুন একটি তথ্যচিত্র—‘ব্লাডশেড অন দ্য বর্ডার’ (Bloodshed on the Border)। এই ডকুমেন্টারিতে উন্মোচিত হয়েছে কীভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে মানবপাচার করা হচ্ছে এবং একটি জাতিগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক জুন্টা এবং স্থানীয় ক্ষমতাশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের ক্রসফায়ারে আটকা পড়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা। রাখাইনের এই সংঘাতে এই মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উভয় পক্ষ দ্বারাই টার্গেট হয়েছে। তাদের ব্যবহার, শোষণ, নির্যাতন ও লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে ঘরছাড়া করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করার পর থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারহীন এই বন্ধ রাজ্যে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর জাতিগত নিধনের সময়কার বর্বরতার মতোই বর্তমান গৃহযুদ্ধেও উভয় পক্ষ থেকে রোহিঙ্গারা চরম নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশর একটি শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা সেতেরা বেগম জানান, বিদ্রোহীরা গ্রামে ঢুকে পরিখা খনন ও চেকপোস্ট তৈরি করেছিল, যার ফলে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে প্রাণ হারান।

‘মিয়ানমার উইটনেস’-এর ফরেনসিক গবেষকদের বিশ্লেষণ এবং রোহিঙ্গা নাগরিক সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল জাজিরা দেখিয়েছে, আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্য দখল করার পর এই মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কী ধরনের নির্যাতন নেমে এসেছে। পাশাপাশি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে মানবপাচারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থ কামাচ্ছে, তাতিও উঠে এসেছে এতে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও নারীদের জোরপূর্বক নৌকায় তুলে অন্য দেশে পাচার এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার মর্মান্তিক তথ্যও প্রকাশ পেয়েছে। ১৪ বছরের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী আয়শা জানিয়েছে, তাদের ওপর কতটা অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

আল জাজিরার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও আরাকান আর্মি লিখিত উত্তর বা ইন্টারভিউ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এর আগে তাদের নেতারা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে তারা ‘নৃশংসতা’ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দেয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিশাল শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিনিয়র কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের কোনো আলোর দিশা না পেয়ে তরুণ প্রজন্ম যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তবে তাদের চুপ করে বসে থাকার আশা করা যায় না।

আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটের ‘মিয়ানমার এক্সপোজড’ (Myanmar Exposed) প্রতিবেদনের একটি অংশ হিসেবে তৈরি হয়েছে এই ডকুমেন্টারিটি, যা ২০২১ সালের অভ্যুত্থান পরবর্তী মিয়ানমারের অজানা ও লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো সামনে নিয়ে এসেছে।

মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলল ইসরায়েল

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলল ইসরায়েল

মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে ইসরায়েল। ২০২৫ সালে দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি ছিল প্রায় ২৬৩ মার্কিন ডলার। একই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ ডলার এবং রাশিয়ার ১৪ ডলার।

ফিলিস্তিনি মার্কিন লেখিকা সুজান আবুলহাওয়ারের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিপরি পরিসংখ্যানের ওপর মূলত ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়েছে।

শুধু ইসরায়েলের ইহুদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করলে দেশটির মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি দাঁড়ায় প্রায় ৩৪০ ডলার। এই হিসাবে তা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় আট গুণ এবং রাশিয়ার তুলনায় ২৫ গুণ বেশি।

মোট অস্ত্র রপ্তানির হিসাবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের শীর্ষে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল ছিল সপ্তম অবস্থানে। এ তালিকায় ইসরায়েলের আগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালি।

তবে জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে চিত্র বদলে যায়। ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি নরওয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি ছিল।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই অবস্থান কোনো এক বছরের ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। গত ২৫ বছরের প্রায় প্রতিটি বছরেই মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অথবা শীর্ষ সারিতে ছিল।

১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের হিসাবেও মাথাপিছু গড় অস্ত্র রপ্তানিতে ইসরায়েল ছিল বিশ্বের শীর্ষে। এই সময়ে দেশটি প্রতিবছর গড়ে জনপ্রতি ৫৬ ডলার সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে।

অর্থনীতির আকারের তুলনায়ও ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির অনুপাত উল্লেখযোগ্য। সিপরির হিসাবে, ২০২৩ সালে দেশটির অস্ত্র রপ্তানি ছিল মোট জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। এই হার ফ্রান্সের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি।

তবে সিপরির হিসাবে ড্রোন, গোলাবারুদ, ছোট অস্ত্র, সাইবার প্রযুক্তি, নজরদারি সরঞ্জাম, সেবা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সরকারের নিজস্ব বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির কথা জানিয়েছিল। এই পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্থনীতির অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় সাড়ে আট গুণ এবং ফ্রান্সের তুলনায় প্রায় নয় গুণ।

তথ্যগুলো থেকে দেখা যায়, বৃহৎ পরাশক্তিগুলো মোট হিসাবে অস্ত্র রপ্তানি করে বেশি অর্থ আয় করলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারের অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি অন্য তুলনীয় দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এসসিও মঞ্চে বৈঠকে বসছেন পুতিন, জিনপিং ও পেজেশকিয়ান

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এসসিও মঞ্চে বৈঠকে বসছেন পুতিন, জিনপিং ও পেজেশকিয়ান

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও-র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অতীতে এসসিও সম্মেলনগুলোকে পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি 'বহুমুখী বিশ্ব' গড়ার এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছর এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ছয় মাসের মাথায় এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।


কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি জিনপিং, পেজেশকিয়ান ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অংশ নেবেন।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা কবলিত দুই দেশ—রাশিয়া ও ইরান তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই মস্কো ও বেইজিংকে ইরানের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করে গেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের গুঞ্জন অনুযায়ী, র‍্যাটক্লিফ রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ঐতিহাসিকভাবে এসসিও মূলত অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ১০টি স্থায়ী সদস্য ছাড়াও বর্তমানে এই জোটের ১৫টি 'সংলাপ অংশীদার' রয়েছে; যার মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং কাতার অন্যতম। এছাড়া আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া এই জোটের পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে।

এসসিও-র প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, এই গ্রুপটি 'অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোট নয়।' তবে পুতিন ও জিনপিং প্রায়শই এই মঞ্চ থেকে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়ে আসছেন। গত বছরের সম্মেলনেও পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছিলেন এবং শি জিনপিং মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

বিশকেকের এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন জোটের দুই প্রধান সদস্য দেশ (রাশিয়া ও ইরান) সরাসরি সামরিক যুদ্ধে লড়ছে এবং অন্য সদস্যরা (চীন ও ভারত) মার্কিন শুল্ক আরোপের কারণে বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের মুখোমুখি।

চলতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান ও সমুদ্র পরিবহন খাতের ওপর দ্বিতীয় স্তরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার লক্ষ্য মূলত ইরানি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া। ওয়াশিংটন ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের জাতীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থ 'দৃঢ়ভাবে রক্ষা' করবে। অন্যদিকে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ সময় নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ইরানও জানিয়েছে যে তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না, যদিও তাদের দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরান মাত্র ২০২৩ সালে এই ব্লকের পূর্ণ সদস্যপদ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, 'তেহরান বিশ্বাস করে এসসিও-র মতো জোটে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বড় সাহায্য করবে।' তবে এই জোট থেকে ইরান আসলে কতটা সুনির্দিষ্ট সুবিধা পাবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'যেকোনো সংকটের সময়ে এই জোটগুলো ইরানের সমস্যা সমাধানে খুব কমই ভূমিকা রাখতে পেরেছে।'

যদিও এসসিও দাবি করে যে তারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে জোটের ভেতরের অভ্যন্তরীণ অমিল ও বিরোধও স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটির ওপর প্রভাব বিস্তার নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই রয়েছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্যের প্রধান রুট। অন্যদিকে, বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘাত ও শীতল সম্পর্কও এই জোটের ঐক্যকে প্রায়শই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।

রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
রেমিট্যান্স প্রণোদনার ৮,৫৬৫ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে বিপাকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) সরকারি প্রণোদনার বকেয়া বাবদ ৮,৫৬৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থের বোঝা বহন করছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। সরকারের ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ সময়মতো ফেরত না পাওয়ায়—ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব আমানত থেকে এই ভর্তুকির অর্থ মেটাতে হচ্ছে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরকারি নীতি অনুযায়ী, দেশে আসা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর প্রবাসীদের ২.৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয় ব্যাংকগুলো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হয়ে ব্যাংকগুলো এই অর্থ বিতরণ করে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ তাদের ফেরত পাওয়ার কথা। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩,৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার প্রবাসী আয় আসা এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ডলারে প্রণোদনার খরচ বেড়ে ৩ টাকায় পৌঁছানোয়—সরকারের কাছ থেকে এই অর্থ ফেরত পেতে প্রায় সাড়ে ৯ মাস বিলম্ব হচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা নথি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষে বকেয়া দাবির পরিমাণ ছিল ৮,১৮৫ কোটি টাকা। এরপর ২ আগস্ট ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও, জুলাই মাসের নতুন ৮৭৯ কোটি টাকার দাবিসহ মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮,৫৬৫ কোটি টাকায়।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বকেয়া দাবি রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের—১,৫১৩ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (৮৫০ কোটি টাকা), সিটি ব্যাংক (৩৩৫ কোটি টাকা), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (২৫০ কোটি টাকা), পুবালী ব্যাংক (২৫০ কোটি টাকা) এবং সাউথইস্ট ব্যাংক (১৭০ কোটি টাকা)।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তাঁরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমানতকারীদের তহবিল থেকে প্রবাসীদের এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা ব্যাংকের মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। কারণ, এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হলে ব্যাংকগুলো অন্তত ৯ শতাংশ হারে সুদ পেতে পারত।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের খরচ (আমানতের সুদ) এবং সরকারের অর্থ ফেরতে বিলম্বের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ব্যবধানের ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমছে। এটি আগামী মাসগুলোতে প্রবাসী আয় সংগ্রহের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উৎসাহ কমিয়ে দিতে পারে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের অপর এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, "রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় তহবিল সংকটে রয়েছে, যার ফলে অর্থ ছাড় করতে দেরি হচ্ছে।" বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তহবিল পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বিতরণ করে। ফলে অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখন পুরোপুরি সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, "এই বিলম্বের কারণে ব্যাংকগুলোকে বড় ধরনের অপোরচুনিটি কস্ট গুনতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত থেকে এই নগদ অর্থ পরিশোধ করছে—যার বার্ষিক খরচ ৭ থেকে ৮ শতাংশ। অথচ এই অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করতে না পারায় ৯ শতাংশ বা তার বেশি আয় হাতছাড়া হচ্ছে।"

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, "ব্যাংকগুলোর ওপর এর প্রভাব ত্রিমুখী। প্রথমত, ঋণের জন্য ব্যবহারযোগ্য তারল্য কমে যায়। দ্বিতীয়ত, আমানতের ওপর সুদের দায় অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও— আটকে থাকা তহবিল থেকে কোনো আয় আসে না। এবং তৃতীয়ত, আয় বাড়ায় এমন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ হারায় ব্যাংক।"

তিনি আরও বলেন, "বাজেট ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত রেমিট্যান্স বাড়ায় প্রণোদনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও অনেক বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ ও অর্থ ছাড় বাড়েনি।"

মাসরুর আরেফিন প্রস্তাব করেন, ব্যাংকগুলোকে তিন মাসের অগ্রিম তহবিল দেওয়ার আগের ব্যবস্থাটি আবার চালু করা উচিত। এ ছাড়া প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংকগুলোর দাবি নিষ্পত্তি করা, রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের খরচ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি জানান, "বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে বকেয়া অর্থ পরিশোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।"

টাকার অবমূল্যায়নে বেড়েছে প্রণোদনার খরচ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সরকার এর আগে ব্যাংকগুলোকে অগ্রিম প্রণোদনার অর্থ প্রদান করত। তবে এখন অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় কোনো কোনো বকেয়া পরিশোধের মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

একজন ব্যাংকার বলেন, দুই বছর আগের তুলনায় এখন রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক বাড়ায় প্রণোদনার দায়ও বেড়েছে।

এদিকে, ২০২৪ সালের আগস্টের আগে রেমিট্যান্সের জন্য প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১১৭ টাকা এবং ব্যাংকগুলো প্রণোদনা হিসেবে প্রতি ডলারে অতিরিক্ত ২.৯৫ টাকা প্রদান করত। বর্তমানে রেমিট্যান্সের বিনিময় হার বেড়ে ১২৩ টাকায় দাঁড়ানোয় ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানত তহবিল থেকে প্রতি ডলারে ৩ টাকা করে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি বকেয়ায় বহুবিধ ঝুঁকি

ব্যাংকাররা সতর্ক করে বলছেন, অর্থ পরিশোধের এই বিলম্ব দীর্ঘায়িত হলে তা বেশ কয়েকটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রবাসী আয় আকৃষ্ট করতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও প্রচারণা চালানোর আগ্রহ কমে যেতে পারে। একই সাথে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ও মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার খরচ বহন করাও ব্যাংকগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

ছোট ও তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি পড়বে।

সরকারি পাওনার বড় একটি অংশ অনাদায়ি হিসেবে পড়ে থাকায় ব্যাংকগুলোর সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট-লাইবিলিটি ম্যানেজমেন্ট) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া প্রণোদনা প্রদানে বিলম্ব গ্রাহকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের বদলে অবৈধ 'হুন্ডি' পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, চলতি হিসাবের ভারসাম্য এবং রিজার্ভে রেমিট্যান্সের যে ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। ছবি : সিনহুয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়া আর কোনো কার্যকর পথ নেই বলে মন্তব্য করেছে চীন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির মধ্যেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বেইজিং। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ইস্যুতে সংলাপ ও আলোচনা একমাত্র কার্যকর পথ। চীন অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান ধারাবাহিক ও স্পষ্ট।

চীনের এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা চীনা ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘কে বলেছে আমি তা করছি না?’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সব সিদ্ধান্ত আগেভাগে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটও জানান, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে। তবে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।

ইরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন এই অভিযান দুই দেশের যুদ্ধের পর আরও জোরদার হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সংঘাতে ইরানে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ মার্কিন সেনাসদস্যও রয়েছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকির মধ্যেই চীন সংলাপের ওপর জোর দিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর পারস্পরিক সফরের অংশ হিসেবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে।

ইরান ইস্যুতে চীনের এ অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা থমকে আছে এবং হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।