২৩ আগস্ট ২০২৬

সৌদি-পাক-তুর্কি জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবস্থান জানাল ভারত

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
সৌদি-পাক-তুর্কি জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবস্থান জানাল ভারত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।

এর আগে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়ে ভারতের অবস্থান কী। ওই প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।’

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর ঘিরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন আদালত

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন আদালত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই পদক্ষেপকে তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটন আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস তার রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিতের নীতি স্পষ্টতই বেআইনি। কারণ এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী, যা কনসুলার কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদনের ক্ষমতার ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

বিচারক ভার্গাস আরও জানান, নির্দিষ্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে সরাসরি অভিবাসন ভিসা স্থগিত করা দেশের মূল বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার একচ্ছত্র লঙ্ঘন। এর আগে তৎকালীন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারকের আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামক দুটি অধিকার রক্ষা সংস্থা, ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের মার্কিন নাগরিক স্বজনরা।

ভিসা নীতির পর্যালোচনায় বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতভিসা নীতির পর্যালোচনায় বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ের মতো লাতিন আমেরিকার দেশ, অ্যালবেনিয়া ও বসনিয়ার মতো বলকান অঞ্চল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশ এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিস্তর অভিবাসন প্রত্যাশীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই দেশগুলোর নাগরিকরা মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অজুহাতে পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন বিরোধী কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ৩৯টি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ডিসেম্বরের বৈচিত্র্যময় ভিসা স্থগিতের ধারাবাহিকতায় এই স্থগিতাদেশটি জারি করা হয়েছিল।

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে এই নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার হরণ করেছে, যদিও পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সৌদি-পাক-তুর্কি জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবস্থান জানাল ভারত

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
সৌদি-পাক-তুর্কি জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে অবস্থান জানাল ভারত

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদান বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই।

এর আগে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে—এমন গুঞ্জন নিয়ে ভারতের অবস্থান কী। ওই প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমন কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব।’

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দিল্লি সফর ঘিরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।

‘আবারও ভারতের অংশ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান’: রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্য

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
‘আবারও ভারতের অংশ হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান’: রামদেবের বিতর্কিত মন্তব্য

একদিন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের অংশ হয়ে উঠবে এবং এ জন্য সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে বলেছেন যোগ গুরু রামদেব। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভারতে কোনও ধর্মই হুমকির মুখে নেই, বরং হুমকির মুখে পড়েছে দেশের সম্মান ও মর্যাদা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামদেব এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ধর্মান্তরকরণ, সনাতন ধর্ম, শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্র নিয়ে মন্তব্য করেন। গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা সাংবিধানিক ও নৈতিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রামদেব অভিযোগ করেন, এই দুই দেশে হিন্দুরা ব্যাপক অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে অত্যাচার ও অন্যায় হয়েছে তা মানব সভ্যতার অন্যতম বড় নিষ্ঠুরতা। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য না দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রামদেব বলেন, এমন একদিন আসবে যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান আবারও ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।

ধর্মান্তরকরণ এবং ছত্তিশগড়ে এটি রোধে প্রণীত আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দু, খ্রিস্টান বা মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগগুলো মূলত ‘রাজনৈতিক বাকপটুতা’ বা বক্তব্যের অংশ। তিনি বলেন, অতীতে যে পরিবর্তনই ঘটুক না কেন, নিশ্চিত করতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ নির্যাতিত না হয়। হিন্দুধর্ম, ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম- কোনোটার জন্যই কোনও হুমকি নেই। যা হুমকির মুখে রয়েছে তা হলো ভারতের সম্মান ও মর্যাদা।

রামদেব ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং এর নাগরিকদের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বলেন, আমি দেখতে চাই ভারতের অর্থনীতি বিশ্বের সেরা হবে, রূপির মান অন্তত ডলার ও পাউন্ডের সমান হবে এবং ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হবে যাতে ভারতীয়দের বিশ্বের কোথাও ভিসার প্রয়োজন না হয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ প্রতিটি দেশে ভারতের সমান সম্মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সনাতন ধর্ম নিয়ে রামদেব বলেন, এই ধর্মে এমন কোনও ঘাটতি নেই যা মানুষকে ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করবে। তিনি দাবি করেন, সনাতন সংস্কৃতি ও প্রাচীন ধর্ম। এতে এমন কী অভাব ছিল যে আমাদের মুসলিম বা খ্রিস্টান হতে হবে? একদল লোক তলোয়ার, প্রলোভন, অলৌকিক ঘটনা এবং নানা ভুল ধারণা ছড়িয়ে আমাদের নিজস্ব সনাতনী হিন্দু ভাইদের ইসলামে রূপান্তরিত করেছিল। আমরা তখনও নীরব ছিলাম। এমনকি খ্রিস্টানরা যখন মানুষকে ধর্মান্তরিত করেছিল তখনও আমরা নীরব থেকেছি।

সামাজিক বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে কোনও ত্রুটি নেই। কেবল কিছু বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি এসব বৈষম্য চর্চা করে। তিনি আরও বলেন, সনাতনী হওয়ার অর্থ হলো শ্রী রামের মর্যাদা, শ্রী কৃষ্ণের যোগ ও কর্ম এবং শিবের পবিত্রতা ও সত্যতাকে গ্রহণ করা। এসব মূল্যবোধ অনুসরণ করা হলে ধর্মান্তরের কোনও প্রশ্নই থাকে না।

ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা যেন কোনও ষড়যন্ত্র ছাড়া সঠিকভাবে চলে, সে বিষয়ে সরকারের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান রামদেব। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কৃষিতে যাতে কোনও অনিয়ম না হয় তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। এগুলোর উন্নতি ঘটিয়েই ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা সম্ভব।

পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির এক মন্তব্যের জবাবে রামদেব বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেশে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অরাজকতা’ ছড়ানোর শামিল। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সকলের কথা বলার স্বাধীনতা আছে, তবে সেই স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই দেশ ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত না হয়।

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্পকে আলোচনার আহ্বান এরদোয়ানের

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্পকে আলোচনার আহ্বান এরদোয়ানের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ফোনালাপে এই আহ্বান জানানো হয়।

একই সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টায় আঙ্কারার সমর্থনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ এবং ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক বারবার এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং পাকিস্তান ও কাতারের মতো মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার পাশাপাশি পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এরদোয়ান উল্লেখ করেছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার বিষয়ে কূটনীতির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং তুরস্ক শান্তি প্রচেষ্টায় তার সমর্থন বজায় রাখবে।

স্থায়ীভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর এবং ওয়াশিংটন সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার রয়টার্সকে এক শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ইরান পুরোপুরি ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক অবস্থানে চলে যাবে। ওই কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরই দুই নেতার মধ্য ফোনালাপের খবর এলো।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু করার অগ্রগতিও থমকে গেছে।

তুরস্ক ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করার পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণেরও নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দফতর জানায়, এরদোয়ান ও ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গাজায় যুদ্ধ এবং তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য ওই চুক্তিকে ‘শক্ত অবস্থানের’ নিদর্শন হিসেবে প্রশংসা করেন এরদোয়ান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরদোয়ান ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন এক সময়ে যখন ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের হামলা আরও বেড়েছে।

তবে এই ফোনালাপের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নেপাল সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতের সেনাপ্রধান

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
নেপাল সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতের সেনাপ্রধান

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। সোমবার কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

নেপাল সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে নেপালে রয়েছেন জেনারেল শেঠ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি নেপাল সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

হাতে কালশিটে থেকে অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা: ট্রাম্প কি সত্যিই ফিট?

১৯৫০ সালে শুরু হওয়া একটি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নেপাল ও ভারত পরস্পরের সেনাপ্রধানকে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে আসছে।

প্রেসিডেন্ট পৌডেলের সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে নেপালের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রবিবার নেপালে পৌঁছান জেনারেল শেঠ।

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতের সেনাপ্রধানের নেপাল সফর দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের সেনা-টু-সেনা সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনন্য ও পরীক্ষিত প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে পুনর্ব্যক্ত করে।

জেনারেল শেঠ ভারতীয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর মধ্যকার সামগ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

সোমবার নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জামও হস্তান্তর করেন জেনারেল শেঠ। নেপাল সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি সেনা সদর দফতর প্রাঙ্গণে একটি চারা রোপণ করেন এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন।

নেপাল সেনাবাহিনী বলেছে, জেনারেল শেঠের এই সফর নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মানসূচক পদমর্যাদা প্রদান, সামরিক বৈঠক, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সরঞ্জাম হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে জেনারেল শেঠের এই সফরে ভারত ও নেপালের চলমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ধারাবাহিকতাই উঠে এসেছে।