২১ আগস্ট ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বর্তমান রিজার্ভ ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বর্তমান রিজার্ভ ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

মক্কায় বাংলাদেশি হাফেজ জাকারিয়ার বিশ্বজয়

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬
মক্কায় বাংলাদেশি হাফেজ জাকারিয়ার বিশ্বজয়

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতা’য় বিশ্বসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তিনি চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এই বিভাগে প্রতিযোগীদের ১৫ পারা পবিত্র কোরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সেরার মুকুট অর্জন করেন তিনি।

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচটি বিভাগে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় ১৩৩টি দেশের মোট ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সৌদি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকদের কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিযোগীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হবে। এবারের আয়োজনের মোট পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।

প্রতিযোগিতা চলাকালে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া বলেন, পবিত্র কোরআনই তাকে একটি ছোট গ্রাম থেকে মক্কার পবিত্র নগরীতে নিয়ে এসেছে। মসজিদুল হারামে এসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান ও স্মরণীয় অর্জন।

কোরআন হিফজ ও তিলাওয়াতের এই আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে মক্কার পবিত্র ভূমিতে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছেন হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। তার এই সাফল্য দেশের কোরআন শিক্ষা ও মাদরাসা অঙ্গনে নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে আগুনে পুড়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
চিকিৎসা নিতে গিয়ে আগুনে পুড়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জন নিহত ও অন্তত আটজন দগ্ধ হয়েছেন। দেশটির গণমাধ্যম বলছে, নিহতরা সবাই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতা এসে তিন তলা হোটেল শিখা ইনে উঠেছিলেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ২টার দিকে শহরের ঘিঞ্জি এলাকা নিউমার্কেট সংলগ্ন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলটিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রাথমিক ধারণা, এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার জানান, আগুন লাগার খবরে তাদের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন। পরে হোটেলে আটকে পড়া জীবিত ও লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ধোঁয়ার কারণে দমকলকর্মীদের সিঁড়ি দিয়ে ওপরের তলায় পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৯ মরদেহ পাওয়া গেছে। মৃত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আটকে পড়াদের উদ্ধার এবং আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করাই আমাদের অগ্রাধিকার। আগুন নেভানো হয়েছে। এখন ভবন ঠান্ডা করার কাজ চলছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের দুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে র তারাপীঠে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আটজন নিহত হন। গত ১৭ আগস্ট ভোরে হোটেল বিদেষিণীর নিচতলায় যখন আগুন লাগে, বেশির ভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।

বাংলাদেশে আল কায়েদার সক্রিয়তার তথ্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল কায়েদা বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে বলে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনটিকে ‘অনুমাননির্ভর’ বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুমানের ওপর তৈরি কোনো রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে না বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে আল কায়েদার ঘাঁটি করবার চেষ্টার বিষয়টিকে সরকার কীভাবে দেখছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কারা রিপোর্ট দিয়েছে? সে রিপোর্ট নিয়ে আমি শুনেছি, সেটা পড়িনি। ওখানে হয়ত কিছু অবজারভেশন দিতে পারে, আমি না দেখে বলতে পারব না।’

সরকার প্রতিবেদনটিকে আমলে নিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্ট এখনো পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুক শুনেছি—ওখানে বলা হয়েছে তারা একটা এজিউম করেছে, একটা অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর কোনো রিপোর্টের ওপর আমরা অ্যাকশন নিতে পারি না।’

এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টা জনগণ বলবে। আমরা তো সবসময় বলব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে পেরেছি। তবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নীতকরণের জন্য আরও সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ আপনারা দেখতে পেয়েছেন।’

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সফলতার দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা দুই-একটি সংকটময় মুহূর্ত খুব সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছি। যেমন মধ্যপ্রাচ্য একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের সারা বিশ্বে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। কিন্তু আমরা দীর্ঘ এক মাস পর্যন্ত কোনো জ্বালানি তেলের বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করিনি।’


গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে বিভিন্নভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বা বিভিন্ন রকমভাবে হয়। যে সমস্যায় আমরা পড়েছি। এছাড়া গ্যাসের যে আমদানিনির্ভরতা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সৃষ্টি হয়েছিল। এখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসার জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর-অনশোরে গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

আশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাতে করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পদেই এই গ্যাসের সমস্যাটা সমাধান করতে পারব।’

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষিঋণের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। খাদ্য প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন।

বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ছবি: এক্স

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে একটি যৌথ নৌ-সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ। ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশ এতে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন প্রথম দফায় এই জোটে যোগ দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৫টি দেশ যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে। এর মধ্যে ১৩টি দেশ ইতোমধ্যেই পুরোপুরি জোটে যোগ দিয়েছে।

এর আগে ৩০ জুলাই ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট) গঠনের কথা জানিয়েছিল সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ভবিষ্যতে অন্য দেশও এই জোটে যোগ দিতে পারবে। জোটের নীতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে যেসব দেশ একমত হবে, তাদের সবাইকেই স্বাগত জানানো হবে।

গত ১৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে সই করলেও ১৩টি দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে জোটের সনদে সই করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

১৩ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় জোটটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই বৈঠকের পরপরই এই ঘোষণা আসে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মাধ্যমে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাকি দেশগুলোও খুব দ্রুত যোগ দিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই জোট কীভাবে কাজ করবে তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ নৌ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে, কার্যপ্রণালী পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং যৌথ নৌ-মহড়া ও অনুশীলন পরিচালনা করবে।

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক শক্তি কতটা?turkey-saudi
এর আগে জানানো হয়েছিল, সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি এই জোটের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী মিশনগুলো পরিচালনা করবেন।

এই জোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতে কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি এবং বেসামরিক অবকাঠামো এখন বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের ঘোষণা এলো।

আল জাজিরা বলেছে, এমন এক সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাড়ছে। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এ পথ দিয়ে আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।

এরপর গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগর দিয়ে যে তেল পরিবহন করা হচ্ছিল তাও ব্যাহত হয়। এছাড়া ইয়েমেন উপকূলের কাছে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে হুতিরা টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

লোহিত সাগরের এক পাশে রয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেন। অন্য পাশে রয়েছে মিসর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়া। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়।

এই পথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এই পথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এলাকায় বারবার হামলাও চালিয়েছে হুতিরা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক সিনিয়র অ্যানালিস্ট আহমেদ নাজি আল জাজিরাকে বলেছেন যে, এই নতুন সামুদ্রিক জোটটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে এর গুরুত্ব নির্ভর করবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট দেখেছি। যার মধ্যে এডেন উপসাগরে দস্যুতার সংকটের সময় প্রতিষ্ঠিত জোটগুলোও রয়েছে। যদিও এগুলোর কয়েকটির রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠপর্যায়ে নিজেদের লক্ষ্যগুলোকে বাস্তব ফলে রূপান্তর করতে হিমশিম খেয়েছে।”

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এই জোটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটি তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি চুক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়।

এই জোট কী অর্জন করতে চায়?

নাজির মতে, এই জোটের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল হুতিদের প্রতিহত করার চেষ্টাই করছে না। সেই সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুতিদের আক্রমণকে শুধু সৌদির নিজস্ব সমস্যা হিসেবে না দেখিয়ে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকে তারা সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। বর্তমানে সেই সরকারের প্রধান ঘাঁটি বন্দরনগরী এডেনে।


হুতিদের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি নেতৃত্ব ইয়েমেনের ওপর অন্যায় অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এরপর থেকে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একাধিক জাহাজ এবং তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ এবং তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হুতিরা বাব আল-মান্দেব সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। নাজি বলেন, রিয়াদ মনে করে, হুতিদের চালানো হামলার জবাব দেওয়ার দায়িত্ব কেবল সৌদি আরবের একার হওয়া উচিত নয়। বরং লোহিত সাগরে গোষ্ঠীটি যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তা মোকাবিলা করার জন্য আরও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

নাজির মতে, জোটটিকে এখনো তার কাছে ‘রক্ষণাত্মক’ বলে মনে হচ্ছে। কারণ হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করার উদ্দেশ্য এই জোটের রয়েছে বলে কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। তবে তার মানে এই নয় যে হামলা চলতে থাকলে সৌদিরা চুপ করে থাকবে।

নাজির ভাষ্য, সৌদির যদি কখনো মনে হয় যে সরাসরি জবাব দেওয়া দরকার, তখন এই জোট রিয়াদকে আন্তর্জাতিক সমর্থন এনে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি এই জোটের মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, হামলা কেবল সৌদির স্বার্থকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না। এগুলো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এটিকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।