১৭ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ছবি: এক্স

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে একটি যৌথ নৌ-সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ। ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশ এতে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন প্রথম দফায় এই জোটে যোগ দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৫টি দেশ যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে। এর মধ্যে ১৩টি দেশ ইতোমধ্যেই পুরোপুরি জোটে যোগ দিয়েছে।

এর আগে ৩০ জুলাই ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট) গঠনের কথা জানিয়েছিল সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ভবিষ্যতে অন্য দেশও এই জোটে যোগ দিতে পারবে। জোটের নীতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে যেসব দেশ একমত হবে, তাদের সবাইকেই স্বাগত জানানো হবে।

গত ১৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে সই করলেও ১৩টি দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে জোটের সনদে সই করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

১৩ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় জোটটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই বৈঠকের পরপরই এই ঘোষণা আসে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মাধ্যমে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাকি দেশগুলোও খুব দ্রুত যোগ দিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই জোট কীভাবে কাজ করবে তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ নৌ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে, কার্যপ্রণালী পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং যৌথ নৌ-মহড়া ও অনুশীলন পরিচালনা করবে।

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক শক্তি কতটা?turkey-saudi
এর আগে জানানো হয়েছিল, সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি এই জোটের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী মিশনগুলো পরিচালনা করবেন।

এই জোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতে কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি এবং বেসামরিক অবকাঠামো এখন বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের ঘোষণা এলো।

আল জাজিরা বলেছে, এমন এক সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাড়ছে। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এ পথ দিয়ে আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।

এরপর গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগর দিয়ে যে তেল পরিবহন করা হচ্ছিল তাও ব্যাহত হয়। এছাড়া ইয়েমেন উপকূলের কাছে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে হুতিরা টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

লোহিত সাগরের এক পাশে রয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেন। অন্য পাশে রয়েছে মিসর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়া। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়।

এই পথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এই পথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এলাকায় বারবার হামলাও চালিয়েছে হুতিরা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক সিনিয়র অ্যানালিস্ট আহমেদ নাজি আল জাজিরাকে বলেছেন যে, এই নতুন সামুদ্রিক জোটটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে এর গুরুত্ব নির্ভর করবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট দেখেছি। যার মধ্যে এডেন উপসাগরে দস্যুতার সংকটের সময় প্রতিষ্ঠিত জোটগুলোও রয়েছে। যদিও এগুলোর কয়েকটির রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠপর্যায়ে নিজেদের লক্ষ্যগুলোকে বাস্তব ফলে রূপান্তর করতে হিমশিম খেয়েছে।”

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এই জোটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটি তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি চুক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়।

এই জোট কী অর্জন করতে চায়?

নাজির মতে, এই জোটের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল হুতিদের প্রতিহত করার চেষ্টাই করছে না। সেই সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুতিদের আক্রমণকে শুধু সৌদির নিজস্ব সমস্যা হিসেবে না দেখিয়ে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকে তারা সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। বর্তমানে সেই সরকারের প্রধান ঘাঁটি বন্দরনগরী এডেনে।


হুতিদের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি নেতৃত্ব ইয়েমেনের ওপর অন্যায় অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এরপর থেকে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একাধিক জাহাজ এবং তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ এবং তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হুতিরা বাব আল-মান্দেব সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। নাজি বলেন, রিয়াদ মনে করে, হুতিদের চালানো হামলার জবাব দেওয়ার দায়িত্ব কেবল সৌদি আরবের একার হওয়া উচিত নয়। বরং লোহিত সাগরে গোষ্ঠীটি যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তা মোকাবিলা করার জন্য আরও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

নাজির মতে, জোটটিকে এখনো তার কাছে ‘রক্ষণাত্মক’ বলে মনে হচ্ছে। কারণ হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করার উদ্দেশ্য এই জোটের রয়েছে বলে কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। তবে তার মানে এই নয় যে হামলা চলতে থাকলে সৌদিরা চুপ করে থাকবে।

নাজির ভাষ্য, সৌদির যদি কখনো মনে হয় যে সরাসরি জবাব দেওয়া দরকার, তখন এই জোট রিয়াদকে আন্তর্জাতিক সমর্থন এনে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি এই জোটের মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, হামলা কেবল সৌদির স্বার্থকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না। এগুলো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এটিকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।

বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
বাংলাদেশকে নিয়ে সৌদির নতুন নৌ-জোট! লোহিত সাগরে হুতি দমনে কতটুকু সফল হবে?
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের সঙ্গে জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। ছবি: এক্স

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে একটি যৌথ নৌ-সামরিক জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ। ভবিষ্যতে আরও অনেক দেশ এতে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাহরাইন, বাংলাদেশ, কোমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক এবং ইয়েমেন প্রথম দফায় এই জোটে যোগ দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৫টি দেশ যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছে। এর মধ্যে ১৩টি দেশ ইতোমধ্যেই পুরোপুরি জোটে যোগ দিয়েছে।

এর আগে ৩০ জুলাই ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ (বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট) গঠনের কথা জানিয়েছিল সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

দেশটির মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে ভবিষ্যতে অন্য দেশও এই জোটে যোগ দিতে পারবে। জোটের নীতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে যেসব দেশ একমত হবে, তাদের সবাইকেই স্বাগত জানানো হবে।

গত ১৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে সই করলেও ১৩টি দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে জোটের সনদে সই করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

১৩ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় জোটটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এই বৈঠকের পরপরই এই ঘোষণা আসে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মাধ্যমে জোটটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাকি দেশগুলোও খুব দ্রুত যোগ দিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই জোট কীভাবে কাজ করবে তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলো সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ নৌ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে, কার্যপ্রণালী পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং যৌথ নৌ-মহড়া ও অনুশীলন পরিচালনা করবে।

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক শক্তি কতটা?turkey-saudi
এর আগে জানানো হয়েছিল, সৌদি আরবের রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরি এই জোটের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র এবং অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং জোটের সনদ অনুযায়ী মিশনগুলো পরিচালনা করবেন।

এই জোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতে কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি এবং বেসামরিক অবকাঠামো এখন বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের ঘোষণা এলো।

আল জাজিরা বলেছে, এমন এক সময়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বাড়ছে। প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এ পথ দিয়ে আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হতো।

এরপর গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগর দিয়ে যে তেল পরিবহন করা হচ্ছিল তাও ব্যাহত হয়। এছাড়া ইয়েমেন উপকূলের কাছে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে হুতিরা টোল আদায়ের পরিকল্পনাও করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

লোহিত সাগরের এক পাশে রয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেন। অন্য পাশে রয়েছে মিসর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়া। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের প্রায় ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হয়।

এই পথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির জন্য এই পথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এলাকায় বারবার হামলাও চালিয়েছে হুতিরা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক সিনিয়র অ্যানালিস্ট আহমেদ নাজি আল জাজিরাকে বলেছেন যে, এই নতুন সামুদ্রিক জোটটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে এর গুরুত্ব নির্ভর করবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হয় তার ওপর। তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও বেশ কয়েকটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট দেখেছি। যার মধ্যে এডেন উপসাগরে দস্যুতার সংকটের সময় প্রতিষ্ঠিত জোটগুলোও রয়েছে। যদিও এগুলোর কয়েকটির রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল, তবে তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠপর্যায়ে নিজেদের লক্ষ্যগুলোকে বাস্তব ফলে রূপান্তর করতে হিমশিম খেয়েছে।”

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, এই জোটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটি তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি চুক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়।

এই জোট কী অর্জন করতে চায়?

নাজির মতে, এই জোটের মাধ্যমে সৌদি আরব কেবল হুতিদের প্রতিহত করার চেষ্টাই করছে না। সেই সঙ্গে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুতিদের আক্রমণকে শুধু সৌদির নিজস্ব সমস্যা হিসেবে না দেখিয়ে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

হুতিরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর থেকে তারা সৌদি আরব-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। বর্তমানে সেই সরকারের প্রধান ঘাঁটি বন্দরনগরী এডেনে।


হুতিদের অভিযোগ, প্রায় ১২ বছর ধরে সৌদি নেতৃত্ব ইয়েমেনের ওপর অন্যায় অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের সম্পদ লুট করেছে এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এরপর থেকে সৌদি আরবের পতাকাবাহী একাধিক জাহাজ এবং তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি পতাকাবাহী জাহাজ এবং তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হুতিরা বাব আল-মান্দেব সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দিতে পারে। নাজি বলেন, রিয়াদ মনে করে, হুতিদের চালানো হামলার জবাব দেওয়ার দায়িত্ব কেবল সৌদি আরবের একার হওয়া উচিত নয়। বরং লোহিত সাগরে গোষ্ঠীটি যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তা মোকাবিলা করার জন্য আরও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা থাকা উচিত।

নাজির মতে, জোটটিকে এখনো তার কাছে ‘রক্ষণাত্মক’ বলে মনে হচ্ছে। কারণ হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করার উদ্দেশ্য এই জোটের রয়েছে বলে কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। তবে তার মানে এই নয় যে হামলা চলতে থাকলে সৌদিরা চুপ করে থাকবে।

নাজির ভাষ্য, সৌদির যদি কখনো মনে হয় যে সরাসরি জবাব দেওয়া দরকার, তখন এই জোট রিয়াদকে আন্তর্জাতিক সমর্থন এনে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি এই জোটের মাধ্যমে একটি বার্তা দিতে চাইছে যে, হামলা কেবল সৌদির স্বার্থকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে না। এগুলো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই এটিকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শর্তে ঝুলছে তারেক রহমানের ভারত সফর

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শর্তে ঝুলছে তারেক রহমানের ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগও হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়ায় সফরের পরিবেশ অনুকূল নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিমের বক্তব্যের পর এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে মূলত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কোনো কোনো প্রতিবেদনে আগের আলোচনার সূত্র ধরে সফরের সম্ভাব্য সময়, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের আমন্ত্রণ এবং দুই দেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

আজ রোববার ঢাকায় এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারত কয়েক সপ্তাহ ধরে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ করলেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহীদুল করিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ওই প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফর আয়োজনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

কী বলছে ভারতীয় মিডিয়াগুলো
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে তাদের শিরোনাম করেছে, ‘Bangladesh seeks ‘conducive environment’ from Centre for PM Tarique Rahman’s possible Delhi visit’। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের জন্য বাংলাদেশ ভারতের কাছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আগের আলোচনার সূত্র ধরে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক: ডনের প্রতিবেদনহাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক: ডনের প্রতিবেদন
কিন্তু গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর ঢাকা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বলেছিল, ওই ঘটনা দেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ আগস্ট জানায়, ওই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের কোনো হাত ছিল না এবং শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য সরকার সমর্থন করে না বলে জানায় দিল্লি।

দ্য প্রিন্ট শিরোনাম করেছে, ‘PM Tarique’s India trip hinges on ‘propitious environment, expedition of Hasina extradition’—Dhaka’। অর্থাৎ, তারেক রহমানের ভারত সফর নির্ভর করছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের ওপর।

দ্য প্রিন্টও তাদের প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যটি তুলে ধরেছে।

এর বাইরে দ্য প্রিন্ট গত ১৪ আগস্ট তাদের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ঢাকা ও নয়াদিল্লি কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় নিয়ে আলোচনা করছে। ভারতের পক্ষ থেকে ২১ ও ২২ আগস্ট সফরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সফর আয়োজনকে বেশি সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।

এর পেছনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফর আয়োজনকে ঢাকার জন্য বেশি সুবিধাজনক মনে করা হচ্ছে।

দ্য প্রিন্ট আরও জানায়, ফেব্রুয়ারিতে ভারত তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ঢাকা শুধু বহুপক্ষীয় সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক নয়, পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সরকার নয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসরকার নয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতের আদালত: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
তবে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যের এসব সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ হয়ে যাচ্ছে। কারণ ঢাকা স্পষ্ট করেছে যে, ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক রহমান।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে দুই শর্ত
এনডিটিভি শিরোনাম করেছে, ‘Bangladesh Lists 2 Riders For PM Rahman's India Visit. One Is Hasina Return’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে অগ্রগতি না হলে তারেক রহমানের ভারত সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এনডিটিভি আরও জানায়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে মার্চে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাদেরও বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।

ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য ওয়্যারের বিশ্লেষণ
ইন্ডিয়া টুডে তাদের শিরোনামে বলেছে, ‘Bangladesh links Tarique Rahman's India visit to Hasina extradition demand’। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবির সঙ্গে তারেক রহমানের ভারত সফরকে যুক্ত করেছে বাংলাদেশ। তাদের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী সফরের আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

এদিকে দ্য ওয়্যার তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘Dhaka Says Hasina's Press Meet in Delhi 'Vitiated' Bangladesh PM's India Trip, Seeks Extradition Update’।

দ্য ওয়্যার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতর বরাত দিয়ে লিখেছে, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রক্রিয়াকে ‘বিনষ্ট’ করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে সফরের একটি সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো তারিখ চূড়ান্ত করা ছিল না।

আর সফরটি শুধু ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ছিল না, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়, অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এই সফরের আলোচনায় ছিল।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: ভারতবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: ভারত

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে আছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের পর ঢাকা আরও জোরালোভাবে তাঁকে ফেরত চেয়ে আসছে। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধটি প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং নয়াদিল্লি তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছে। দুই দেশের মধ্যে কিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনা ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি সফরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে গেছে। একই সঙ্গে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের বিষয়টিও সামনে এনেছে ঢাকা।

ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র শহীদুল করিম বলেন, বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে। এই নীতির ভিত্তি হবে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থ। প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নেও বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানান তিনি।

অর্থাৎ, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ ঢাকার দাবিগুলোতে নয়াদিল্লির অবস্থান ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে সফরের সময়সূচি এবং দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ।

ওটেক্সার প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমল পৌনে ৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ এর চেয়ে বেশি ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি) এই হিসাব জানিয়েছে।

তবে ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও জুনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছর জুনে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি কমার চিত্রটি বুঝতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানির তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পরিমাণের হিসাবে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি যেখানে মূল্যের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে তার চেয়ে কম হারে।

তবে এই বাজার সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ রপ্তানি বাড়াতে পেরেছে। মূল্যমানের হিসাবে জানুয়ারি-জুন সময়ে কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়া থেকে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪০ এবং ভিয়েতনাম থেকে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশের কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে পতন ২৫ দশমিক ২৭ এবং চীনের ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ বড় সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতের পতন বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হলেও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম এ সময় প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।

পরিমাণের হিসাবেও একই ধরনের প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিপরীতে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

ভারত ও চীন অবশ্য পরিমাণের দিক থেকে বড় পতনের মুখে পড়েছে। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ২২ দশমিক ৭৪ এবং চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

রপ্তানি মূল্যের পাশাপাশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যেও পরিবর্তন এসেছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও একই হারে কমেছে। এ সময়ে কম্বোডিয়ার ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ এবং চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। বাংলাদেশের পতন পাকিস্তানের কাছাকাছি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। তাই দেশটির সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমার মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়টি খাতটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উইন্ডশিল্ডে ফাটল: কাঠমান্ডুতে জরুরি অবতরণ বিমানের!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
উইন্ডশিল্ডে ফাটল: কাঠমান্ডুতে জরুরি অবতরণ বিমানের!

উড্ডয়নের পর কারিগরি ত্রুটির কারণে নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে আটকা পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট। রোববার (১৬ আগস্ট) কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটিতে ১২৭ জন যাত্রী ছিল। পরে তাদের অন্য একটি ফ্লাইটে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাঠমান্ডু কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উড্ডয়নের আগে উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। ফ্লাইটটির নম্বর ছিল বিজি৩৭২ এবং গন্তব্য ছিল ঢাকা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাঠমান্ডু কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে ১২৭ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ এর উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা যায়। এরপর ফ্লাইটটি বাতিল করে উড়োজাহাজটি আবার কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ত্রুটিটি মেরামত করতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয় বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ফলে বিজি৩৭২ ফ্লাইটের যাত্রীদের ঢাকায় ফেরাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বিজি৩৭২-এর ১২৭ যাত্রীকে পরবর্তী ফ্লাইট বিজি৩৭৪-এ ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে উড়োজাহাজটির প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগবে।

বিজি৩৭৪ ফ্লাইটটিতে ১০৭ জন যাত্রী রয়েছে। রোববার নেপালের স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটির কাঠমান্ডু থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিজি৩৭২-এর যাত্রীদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উইন্ডশিল্ডে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ফ্লাইটটি বাতিল করায় যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজটি কবে নাগাদ মেরামত করে পুনরায় চালু করা যাবে, সে বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস রিকগনিশন: অপরাধী শনাক্তে কড়া নজরদারি

অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালানো কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অপরাধীদের জন্য পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ই-গেট ও বডি স্ক্যানারের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে থাকা কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হলে এআই-চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে তার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এর মধ্যে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শাহজালালে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিমানবন্দরের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, কার্গো এলাকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মুখমণ্ডল শনাক্ত করে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করা যায়।

এআইভিত্তিক ভিডিও বিশ্লেষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অস্বাভাবিক আচরণও শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সন্দেহজনকভাবে একই স্থানে অবস্থান করলে, অস্বাভাবিক গতিবিধি দেখা গেলে কিংবা কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করতে পারে আধুনিক প্রযুক্তি। ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতেও প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীরা লাগেজ, পোশাক বা শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বর্ণ লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করলে বডি স্ক্যানারসহ আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বেবিচকের এভসেক নিরাপত্তা, বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বেবিচকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহ করে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বেবিচকের নিজস্ব এভসেক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে গত দুই থেকে আড়াই বছরে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, অপরাধী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সংস্থাগুলো আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।