১৭ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কার ৩০ হাজার ডলার

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কার ৩০ হাজার ডলার

একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করে ইরানের হাতে তুলে দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার (বা ৫ বিলিয়ন তোমান)। আর এই কাজ কোনো নারী করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে ৬০ হাজার ডলারে।

খোদ ইরানের সামরিক বাহিনী দেশের নাগরিকদের জন্য এই অবিশ্বাস্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই পুরস্কার ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে উদ্ধৃত করে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকদের কাছ থেকে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার 'প্রচুর অনুরোধ' আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন আটক করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মার্কিন সেনা নামেনি।

জেরুজালেম পোস্টের খবর অনুযায়ী, পুরস্কার শুধু নগদ অর্থেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেনাপ্রধান হাতামি জানান, মার্কিন সেনাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেবে ইরান এবং ওই ব্যক্তিকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অসারতা এই যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে তাদের প্রবেশের আর কোনো অনুমতি নেই।

গত ১৭ জুন সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যখন শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এলো। তবে এই যুদ্ধবিরতি বরাবরই বেশ নড়বড়ে ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোয়নি, বরং দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে থেমে থেমে গোলাগুলি চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ইরাক বা জর্ডানের মতো ইরানের বাইরের দেশগুলোতে মারা গেছেন।

গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েলই প্রধান বাধা: সৌদি, কাতারসহ ৮ দেশের যৌথ বিবৃতি

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আটটি মুসলিম দেশ।

গতকাল রবিবার দেওয়া ওই বিবৃতিতে সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

এতে বলা হয়, “ইসরায়েলের এই অবস্থান শান্তি পরিকল্পনায় সরাসরি অস্বীকৃতি জানানোর সমতুল্য। এতে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নস্যাৎ হচ্ছে এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গোড়া থেকেই ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

“এই ধরনের প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে এটি নিশ্চিত হল যে, গাজা এবং বাদবাকী অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে শান্তি আনার চেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার জন্য এখন ইসরায়েলই দায়ী।”

গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর ১৫ দফা পরিকল্পনা গত সপ্তাহেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস পুরোপুরি অস্ত্রসমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গত বছর ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই এ পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছিল, যার সূচনা হয়েছিল যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে। এই শান্তি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফলে।

বিবৃতিতে ৮ মুসলিম দেশ বলেছে, “এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করার মানে হল, শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য অস্বীকৃতি। তাছাড়া, এটি গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং স্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরিতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা বিপথগামী করার সরাসরি হুমকিস্বরূপও।"

দেশগুলোর মন্ত্রীরা শান্তি পরিকল্পনা এবং এর রোডম্যাপ অনুযায়ী ইসরায়েল যেন সব প্রতিশ্রুতি ও শর্ত মেনে চলে এবং আর কোনও বাধা সৃষ্টি করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের টেকসই ও সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

শান্তি পরিকল্পনা অনবরত প্রত্যাখ্যান, বাধা দেওয়া, মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানানো কিংবা বিলম্ব করা, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি অবনতি এবং গাজা যুদ্ধ অবসানে বিঘ্নসহ যে কোনও পরিণতির জন্য ইসরায়েল সরাসরি ও পরিপূর্ণভাবে দায়ী থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কার ৩০ হাজার ডলার

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দি করলে পুরস্কার ৩০ হাজার ডলার

একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করে ইরানের হাতে তুলে দিলে মিলবে ৩০ হাজার ডলার (বা ৫ বিলিয়ন তোমান)। আর এই কাজ কোনো নারী করলে পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে ৬০ হাজার ডলারে।

খোদ ইরানের সামরিক বাহিনী দেশের নাগরিকদের জন্য এই অবিশ্বাস্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই পুরস্কার ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাকে উদ্ধৃত করে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নাগরিকদের কাছ থেকে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার 'প্রচুর অনুরোধ' আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কখন আটক করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মার্কিন সেনা নামেনি।

জেরুজালেম পোস্টের খবর অনুযায়ী, পুরস্কার শুধু নগদ অর্থেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেনাপ্রধান হাতামি জানান, মার্কিন সেনাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি দ্বিগুণ দামে কিনে নেবে ইরান এবং ওই ব্যক্তিকে নতুন একটি অস্ত্র দেওয়া হবে। ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অসারতা এই যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে তাদের প্রবেশের আর কোনো অনুমতি নেই।

গত ১৭ জুন সই হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ যখন শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণা এলো। তবে এই যুদ্ধবিরতি বরাবরই বেশ নড়বড়ে ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগোয়নি, বরং দক্ষিণ ইরান এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে থেমে থেমে গোলাগুলি চলেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ইরাক বা জর্ডানের মতো ইরানের বাইরের দেশগুলোতে মারা গেছেন।

আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভয়াবহ সংকটের মধ্যে একটি সাধারণ লাইটারও এখন হয়ে উঠেছে জীবনধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রান্না, রুটি তৈরি, পানি গরম করা কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধ—সবকিছুর শুরু আগুন দিয়ে, আর সেই আগুন জ্বালাতে প্রয়োজন একটি লাইটার।

রোববার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজার ৪৬ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা রাবাব দেইফাল্লাহর কাছে এখন পুরোনো একটি জীর্ণ লাইটার অত্যন্ত মূল্যবান। কাঠের চুলায় আগুন ধরাতে তিনি বারবার সেটি চাপেন। যুদ্ধ শুরুর পর নতুন লাইটার কেনা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁর ছেলে কয়েকবার সেটি মেরামত করেছে।

রাবাব বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই আগুনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আগুন জ্বালানোর শুরুটা একটি লাইটার দিয়ে, আর এই ছোট জিনিসটিই এখন গাজায় পাওয়া সবচেয়ে কঠিন জিনিসগুলোর একটি।’

যুদ্ধের আগে তিনটি লাইটার মাত্র এক শেকেলে পাওয়া যেত। এখন একটি নতুন লাইটারের দাম ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। নতুন কেনার বদলে পুরোনো লাইটারটি মেরামত করতেই রাবাবকে সর্বশেষ ১২ ডলার খরচ করতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এই টাকা কি লাইটারের পেছনে খরচ করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?’

লাইটারের সংকটে অনেক পরিবার এখন মহা মূল্যবান এই বস্তুটিকে একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। কখনো প্রতিবেশীর জ্বলন্ত আগুন থেকে একটি কার্ডবোর্ডে আগুন নিয়ে আসতে হচ্ছে। কখনো প্রতিবেশীর চুলায় গিয়ে খাবার রান্না করতে হচ্ছে। লাইটার না পেলে কোনো কোনো পরিবার দিনের পর দিন ঠান্ডা খাবার খেতেও বাধ্য হচ্ছে।

একই সংকটে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মানসুর। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ছয় সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই নারী মাটির চুলায় খাবার তৈরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু গ্যাসের সংকট এবং লাইটারের অভাবে তাঁর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাসনা বলেন, গ্রাস থাকলে চুলা জ্বালাতে সামান্য স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট, কিন্তু মাটির চুলায় আগুন ধরাতে লাইটারের মতো স্থিতিশীল আগুন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পণ্য চলাচলে বিধিনিষেধ ও সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাজা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৩০ হাজারের বেশি ট্রাক প্রবেশ করলেও দৈনিক গড়ে ১৯১ টির বেশি ট্রাক ঢোকেনি—যা যুদ্ধের আগের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

লাইটার না পাওয়ায় গাজায় নতুন একটি পেশারও জন্ম হয়েছে—লাইটার মেরামত। আল-কারমেল স্কুলের কাছে ছোট দোকান বসিয়ে ২৪ বছর বয়সী তামের আল-শাওয়িশ এখন এই কাজ করেই পরিবার চালান। নষ্ট লাইটার থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্য লাইটারে ব্যবহার করেন তিনি।

তামের বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের এমন কাজ করতে বাধ্য করেছে, যেসব কাজের কথা আমরা আগে কখনো ভাবিনি।’

বাস্তুচ্যুত বাবা শাদি আবু শামলা বলেন, একটি স্কুলে অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অথচ সেখানে মাত্র চারটি লাইটার আছে। সেগুলো এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে ঘুরে বেড়ায়। তিনি বলেন, ‘লাইটার এখন জীবনের মেরুদণ্ড। আপনার তাঁবুতে লাইটার থাকলে আপনি ঠিক আছেন। না থাকলে আপনি আটকে গেছেন।’

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা তাই কখনো কখনো একটি ছোট লাইটারের মূল্য দিয়েও মাপা যায়—যে লাইটারটি একটি পরিবারের খাবার, উষ্ণ পানি কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধের আশার আলো জ্বালায়।

হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী'-কে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নজিরবিহীন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের 'পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স'-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প বলেন, "খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছি।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে বলেন:

"হরমুজ প্রণালী ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবেই ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।"

ঘারিবাবাদি আরও জোর দিয়ে দাবি করেন, ইরানের ‘কৌশলগত পরাজয়’ প্রতিপক্ষ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালীর ওপর তেহরানের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে কখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে কিংবা পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ইরানই নেবে।

দুই দেশের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কারণে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। জ্বালানি ও পরিবহন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • জাহাজ চলাচলের ধস: শুক্রবার মাত্র দুটি সাধারণ জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে এবং কোনো ধরনের অপরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ট্যাঙ্কার প্রণালীতে প্রবেশ করেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ পার হয়েছিল।

  • স্বাভাবিক সময়ের বৈপরীত্য: বর্তমান সংকট শুরুর আগে অর্থাৎ যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির পূর্বে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করত। এমনকি চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেও গড়ে দিনে ১২টি করে জাহাজ চলাচল করছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে তারা টানা অভিযান চালাচ্ছে। সেন্টকমের তথ্য মতে, গত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের নৌবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে মোট ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, ৩টি জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ২টি জাহাজে সরাসরি উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বর্তমানে এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাপ অব্যাহত রেখেছে, বিপরীতে ইরান ওই জলসীমায় নিজেদের সার্বভৌম আধিপত্য বজায় রাখতে অনড়। চরম সামরিক উত্তেজনার পরও দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কূল-কিনারা বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করা হবে : ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করা হবে : ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লং আইল্যান্ডে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

মার্কিন নিউ ইয়র্ক পোস্টের সূত্রে বার্তা সংস্থা এএনআই তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলায় হয়, ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং দ্রুতই কৌশলগত এই প্রণালীটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনা হবে। মার্কিন নৌ-অবরোধকে ইস্পাতের প্রাচীর উল্লেখ করে তিনি জানান, তেহরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেখানে মার্কিন আধিপত্য বজায় থাকবে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আমেরিকার এসব মৌখিক দাবি বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারেনি। তেহরানের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধই থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের চরম উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের নিরাপদ পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে জরুরি কূটনৈতিক সংযমের আহ্বান জানানো হচ্ছে।