১৭ আগস্ট ২০২৬

আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভয়াবহ সংকটের মধ্যে একটি সাধারণ লাইটারও এখন হয়ে উঠেছে জীবনধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রান্না, রুটি তৈরি, পানি গরম করা কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধ—সবকিছুর শুরু আগুন দিয়ে, আর সেই আগুন জ্বালাতে প্রয়োজন একটি লাইটার।

রোববার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজার ৪৬ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা রাবাব দেইফাল্লাহর কাছে এখন পুরোনো একটি জীর্ণ লাইটার অত্যন্ত মূল্যবান। কাঠের চুলায় আগুন ধরাতে তিনি বারবার সেটি চাপেন। যুদ্ধ শুরুর পর নতুন লাইটার কেনা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁর ছেলে কয়েকবার সেটি মেরামত করেছে।

রাবাব বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই আগুনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আগুন জ্বালানোর শুরুটা একটি লাইটার দিয়ে, আর এই ছোট জিনিসটিই এখন গাজায় পাওয়া সবচেয়ে কঠিন জিনিসগুলোর একটি।’

যুদ্ধের আগে তিনটি লাইটার মাত্র এক শেকেলে পাওয়া যেত। এখন একটি নতুন লাইটারের দাম ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। নতুন কেনার বদলে পুরোনো লাইটারটি মেরামত করতেই রাবাবকে সর্বশেষ ১২ ডলার খরচ করতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এই টাকা কি লাইটারের পেছনে খরচ করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?’

লাইটারের সংকটে অনেক পরিবার এখন মহা মূল্যবান এই বস্তুটিকে একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। কখনো প্রতিবেশীর জ্বলন্ত আগুন থেকে একটি কার্ডবোর্ডে আগুন নিয়ে আসতে হচ্ছে। কখনো প্রতিবেশীর চুলায় গিয়ে খাবার রান্না করতে হচ্ছে। লাইটার না পেলে কোনো কোনো পরিবার দিনের পর দিন ঠান্ডা খাবার খেতেও বাধ্য হচ্ছে।

একই সংকটে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মানসুর। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ছয় সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই নারী মাটির চুলায় খাবার তৈরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু গ্যাসের সংকট এবং লাইটারের অভাবে তাঁর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাসনা বলেন, গ্রাস থাকলে চুলা জ্বালাতে সামান্য স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট, কিন্তু মাটির চুলায় আগুন ধরাতে লাইটারের মতো স্থিতিশীল আগুন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পণ্য চলাচলে বিধিনিষেধ ও সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাজা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৩০ হাজারের বেশি ট্রাক প্রবেশ করলেও দৈনিক গড়ে ১৯১ টির বেশি ট্রাক ঢোকেনি—যা যুদ্ধের আগের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

লাইটার না পাওয়ায় গাজায় নতুন একটি পেশারও জন্ম হয়েছে—লাইটার মেরামত। আল-কারমেল স্কুলের কাছে ছোট দোকান বসিয়ে ২৪ বছর বয়সী তামের আল-শাওয়িশ এখন এই কাজ করেই পরিবার চালান। নষ্ট লাইটার থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্য লাইটারে ব্যবহার করেন তিনি।

তামের বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের এমন কাজ করতে বাধ্য করেছে, যেসব কাজের কথা আমরা আগে কখনো ভাবিনি।’

বাস্তুচ্যুত বাবা শাদি আবু শামলা বলেন, একটি স্কুলে অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অথচ সেখানে মাত্র চারটি লাইটার আছে। সেগুলো এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে ঘুরে বেড়ায়। তিনি বলেন, ‘লাইটার এখন জীবনের মেরুদণ্ড। আপনার তাঁবুতে লাইটার থাকলে আপনি ঠিক আছেন। না থাকলে আপনি আটকে গেছেন।’

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা তাই কখনো কখনো একটি ছোট লাইটারের মূল্য দিয়েও মাপা যায়—যে লাইটারটি একটি পরিবারের খাবার, উষ্ণ পানি কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধের আশার আলো জ্বালায়।

আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
আগুন জ্বালানোর আকুতি: গাজায় লাইটারই এখন ‘সোনা’

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভয়াবহ সংকটের মধ্যে একটি সাধারণ লাইটারও এখন হয়ে উঠেছে জীবনধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। রান্না, রুটি তৈরি, পানি গরম করা কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধ—সবকিছুর শুরু আগুন দিয়ে, আর সেই আগুন জ্বালাতে প্রয়োজন একটি লাইটার।

রোববার (১৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে আল-জাজিরা জানিয়েছে, গাজার ৪৬ বছর বয়সী পাঁচ সন্তানের মা রাবাব দেইফাল্লাহর কাছে এখন পুরোনো একটি জীর্ণ লাইটার অত্যন্ত মূল্যবান। কাঠের চুলায় আগুন ধরাতে তিনি বারবার সেটি চাপেন। যুদ্ধ শুরুর পর নতুন লাইটার কেনা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁর ছেলে কয়েকবার সেটি মেরামত করেছে।

রাবাব বলেন, ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই আগুনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আগুন জ্বালানোর শুরুটা একটি লাইটার দিয়ে, আর এই ছোট জিনিসটিই এখন গাজায় পাওয়া সবচেয়ে কঠিন জিনিসগুলোর একটি।’

যুদ্ধের আগে তিনটি লাইটার মাত্র এক শেকেলে পাওয়া যেত। এখন একটি নতুন লাইটারের দাম ২৭ থেকে ৩৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা। নতুন কেনার বদলে পুরোনো লাইটারটি মেরামত করতেই রাবাবকে সর্বশেষ ১২ ডলার খরচ করতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘এই টাকা কি লাইটারের পেছনে খরচ করব, নাকি এক ব্যাগ আটা কিনব?’

লাইটারের সংকটে অনেক পরিবার এখন মহা মূল্যবান এই বস্তুটিকে একে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছে। কখনো প্রতিবেশীর জ্বলন্ত আগুন থেকে একটি কার্ডবোর্ডে আগুন নিয়ে আসতে হচ্ছে। কখনো প্রতিবেশীর চুলায় গিয়ে খাবার রান্না করতে হচ্ছে। লাইটার না পেলে কোনো কোনো পরিবার দিনের পর দিন ঠান্ডা খাবার খেতেও বাধ্য হচ্ছে।

একই সংকটে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মানসুর। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে ছয় সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য এই নারী মাটির চুলায় খাবার তৈরি করে বিক্রি করেন। কিন্তু গ্যাসের সংকট এবং লাইটারের অভাবে তাঁর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাসনা বলেন, গ্রাস থাকলে চুলা জ্বালাতে সামান্য স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট, কিন্তু মাটির চুলায় আগুন ধরাতে লাইটারের মতো স্থিতিশীল আগুন প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পণ্য চলাচলে বিধিনিষেধ ও সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় গাজায় প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গাজা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৩০ হাজারের বেশি ট্রাক প্রবেশ করলেও দৈনিক গড়ে ১৯১ টির বেশি ট্রাক ঢোকেনি—যা যুদ্ধের আগের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

লাইটার না পাওয়ায় গাজায় নতুন একটি পেশারও জন্ম হয়েছে—লাইটার মেরামত। আল-কারমেল স্কুলের কাছে ছোট দোকান বসিয়ে ২৪ বছর বয়সী তামের আল-শাওয়িশ এখন এই কাজ করেই পরিবার চালান। নষ্ট লাইটার থেকে যন্ত্রাংশ খুলে অন্য লাইটারে ব্যবহার করেন তিনি।

তামের বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের এমন কাজ করতে বাধ্য করেছে, যেসব কাজের কথা আমরা আগে কখনো ভাবিনি।’

বাস্তুচ্যুত বাবা শাদি আবু শামলা বলেন, একটি স্কুলে অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অথচ সেখানে মাত্র চারটি লাইটার আছে। সেগুলো এক তাঁবু থেকে আরেক তাঁবুতে ঘুরে বেড়ায়। তিনি বলেন, ‘লাইটার এখন জীবনের মেরুদণ্ড। আপনার তাঁবুতে লাইটার থাকলে আপনি ঠিক আছেন। না থাকলে আপনি আটকে গেছেন।’

গাজায় যুদ্ধের ভয়াবহতা তাই কখনো কখনো একটি ছোট লাইটারের মূল্য দিয়েও মাপা যায়—যে লাইটারটি একটি পরিবারের খাবার, উষ্ণ পানি কিংবা শিশুর জন্য এক কাপ দুধের আশার আলো জ্বালায়।

হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বলল ইরান

ইরানের সঙ্গে চলমান তীব্র যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ 'হরমুজ প্রণালী'-কে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন নজিরবিহীন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের 'পুলিশ একাডেমি সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স'-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় ট্রাম্প বলেন, "খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছি।"

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে বলেন:

"হরমুজ প্রণালী ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবেই ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।"

ঘারিবাবাদি আরও জোর দিয়ে দাবি করেন, ইরানের ‘কৌশলগত পরাজয়’ প্রতিপক্ষ মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই প্রণালীর ওপর তেহরানের অবরোধ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে কখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে কিংবা পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ইরানই নেবে।

দুই দেশের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কারণে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। জ্বালানি ও পরিবহন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'কেপলার'-এর তথ্য অনুযায়ী:

  • জাহাজ চলাচলের ধস: শুক্রবার মাত্র দুটি সাধারণ জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে এবং কোনো ধরনের অপরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ট্যাঙ্কার প্রণালীতে প্রবেশ করেনি। এর আগে বৃহস্পতিবার নয়টি এবং বুধবার মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ পার হয়েছিল।

  • স্বাভাবিক সময়ের বৈপরীত্য: বর্তমান সংকট শুরুর আগে অর্থাৎ যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির পূর্বে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করত। এমনকি চলতি আগস্ট মাসের শুরুতেও গড়ে দিনে ১২টি করে জাহাজ চলাচল করছিল।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে তারা টানা অভিযান চালাচ্ছে। সেন্টকমের তথ্য মতে, গত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের নৌবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে মোট ৬২টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, ৩টি জাহাজকে অচল করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ২টি জাহাজে সরাসরি উঠে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

বর্তমানে এই প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাপ অব্যাহত রেখেছে, বিপরীতে ইরান ওই জলসীমায় নিজেদের সার্বভৌম আধিপত্য বজায় রাখতে অনড়। চরম সামরিক উত্তেজনার পরও দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কূল-কিনারা বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করা হবে : ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড করা হবে : ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লং আইল্যান্ডে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

মার্কিন নিউ ইয়র্ক পোস্টের সূত্রে বার্তা সংস্থা এএনআই তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলায় হয়, ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান ব্যাপকভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং দ্রুতই কৌশলগত এই প্রণালীটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনা হবে। মার্কিন নৌ-অবরোধকে ইস্পাতের প্রাচীর উল্লেখ করে তিনি জানান, তেহরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেখানে মার্কিন আধিপত্য বজায় থাকবে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, আমেরিকার এসব মৌখিক দাবি বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারেনি। তেহরানের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কৌশলগত এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধই থাকবে।

বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের চরম উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তাদের নিরাপদ পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহল থেকে জরুরি কূটনৈতিক সংযমের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে ইরানের চরম ব্যঙ্গ

তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের খবর চাউর হতেই বিশ্ব রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক শক্তির ভয়েই ট্রাম্প এমন অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন দাবি করে ঘটনাটিকে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরিয়ে দিচ্ছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তাকে ট্রাম্পের জন্য চরম ‘অপমান ও লাঞ্ছনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান।

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় অবস্থান করছিলেন ট্রাম্প। সফরের শেষ দিনে মার্কিন গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, প্রেসিডেন্টকে বহনে ব্যবহৃত বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পরিণত হতে পারে। এই হামলাকে তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তা তো বটেই—এমনকি তিনি কত তলার কক্ষে ছিলেন তা-ও ইরানের কাছে নির্ভুলভাবে জানা ছিল। এই তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৮ জুলাই তুরস্ক ত্যাগের সময় ট্রাম্প এবং তার হাতে গোনা কয়েকজন সফরসঙ্গীকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে সরিয়ে একটি খাদ্য সরবরাহকারী ট্রাকে করে ছোট বিমানে তোলা হয়। অন্যদিকে, মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মীবৃন্দ এবং সফররত সাংবাদিকদের নিয়ে সাধারণ নিয়মেই আলাদাভাবে উড্ডয়ন করানো হয়।

মার্কিন প্রশাসনের এই চরম আতঙ্ককে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে লিখেছে, ‌‘খুব শিগগিরই ট্রাম্প ডাস্টবিনে গিয়ে লুকোবেন।’ সঙ্গে খাবারভর্তি বাক্সের মধ্যে ট্রাম্পের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করা হয়, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। তা ছাড়া, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো বিলবোর্ড ও ম্যুরালে ট্রাম্পের কফিনে শোয়া কিংবা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার ছবি এঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যেই প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক আলী ওয়ায়েজ এ বিষয়ে বলেন, ইরানি কট্টরপন্থীরা যারা দেশের সর্বোচ্চ নেতা এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখে বেশ আনন্দ পাচ্ছে।

তবে বিমান পরিবর্তন বা মার্কিন নথির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি তেহরান এবং এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ গঠন করেছিল, যা তেহরান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

২০১৮ সালে ইরাকের আল-আসাদ ঘাঁটিতে নিজের গোপন সফরের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প নিজেই একবার বলেছিলেন, অন্ধকারের মধ্যে বাতি নিভিয়ে, জানালা বন্ধ করে বিমানে ভ্রমণ করার ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। সব মিলিয়ে ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদলের ঘটনা মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে নতুন করে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সরকারি ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি ইরানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আমিরাত প্রশাসন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমিরাতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলপথটি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ নিয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার খবর জানানো হয়েছিল। একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।

প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, এর জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শনিবারও জাহাজে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।

এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।