১৬ আগস্ট ২০২৬

অগ্নিকাণ্ডে সাতকানিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
অগ্নিকাণ্ডে সাতকানিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা শরীফে অগ্নিকাণ্ডে মো. ইলিয়াস নামে সাতকানিয়ার এক প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নিহত মো. ইলিয়াস চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদার পাড়ার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে কাজ করলেও সেখানেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তার জীবন থেমে গেল।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মদিনার মাজারায় (খামার) কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রবাসীদের থাকার একটি ঝুপড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সেখানে থাকা ৮ থেকে ১০ জন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে মো. ইলিয়াস কোনোভাবে ঝুপড়ির ভেতরে আটকা পড়ে যান।

চোখের পলকে আগুন পুরো ঝুপড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি আর বের হতে পারেননি। আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের চোখের সামনে এমন করুণ পরিণতির ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত ইলিয়াসের বন্ধু আলমগীর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভুয়া ‘ইমাম মেহেদী’ দাবিকারী সৌদি প্রবাসীর সহযোগী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
ভুয়া ‘ইমাম মেহেদী’ দাবিকারী সৌদি প্রবাসীর সহযোগী গ্রেপ্তার

নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবিকারী সৌদি প্রবাসী মুস্তাক মো. আরমান খানের সহযোগী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি দল।

বুধবার সকালে সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গোয়েন্দ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশি নাগরিক মুস্তাক মো. আরমান খান বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্লাটফর্মে নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করে আসছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি মুস্তাকের অনুসারী এবং তার হয়ে অনলাইনে তৎপরতা চালাতেন।

সিরাজুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং সপরিবারে দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে আগেই রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ছিল। সেই মামলা তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মুস্তাক মো. আরমানের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে জিহাদে অংশ নিতে সৌদি আরব যাওয়ার সময় এ পর্যন্ত ১৯ জন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

২২ বছর প্রবাস কাটানো বৃদ্ধের ট্রেনের ধাক্কায় করুণ পরিণতি

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
২২ বছর প্রবাস কাটানো বৃদ্ধের ট্রেনের ধাক্কায় করুণ পরিণতি

নরসিংদী রেলস্টেশনের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঢাকাগামী গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় শাহ আলম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আটটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ আলম নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কীর্তিনিবাসদী গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি শহরের পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহ আলম কর্মজীবনের প্রায় ২২ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন। দেশে ফেরার পর তিনি দুবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সাধারণত কেবল নামাজ পড়ার জন্যই বাসা থেকে বের হতেন। শুক্রবারেও আছরের নামাজের আগে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রাতে তার মৃত্যুর খবর আসে।

নিহতের বড় ছেলে তানজিমুল তৌহিদ লিমন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে আমাদের বড় করেছেন। অসুস্থ শরীর নিয়ে শুধু নামাজ পড়তেই বাইরে যেতেন। এভাবে বাবাকে হারাতে হবে তা কখনো ভাবিনি।’

নিহতের বন্ধু চিকিৎসক কামাল উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন তারা রেলস্টেশন মসজিদে একসঙ্গে নামাজ পড়তেন। তবে শুক্রবার দেখা হয়নি। এশার নামাজ পড়তে এসে তিনি শাহ আলমের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দীলিপ চন্দ্র সরকার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়। পরে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া বর্মণ (২১) নামের প্রবাসীর স্ত্রী।

জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে ছেলে দুজন ও মেয়ে একজন। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ রয়েছে।


বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার ডা. ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই সফল সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রিয়া বর্মণ ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার গ্রিস প্রবাসী বিজয় বর্মণের স্ত্রী। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। প্রথম তারা একসঙ্গে তিন সন্তানে বাবা-মা হলেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ডা. ইসরাত জাহানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রিয়া বর্মণ।

পরবর্তীতে চিকিৎসকের চিকিৎসায় তিনি গর্ভধারণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ২টায় সিজারিয়ানের মাধ্যমে নবজাতকদের প্রসব করানো হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এ.জেড.এম ফরহাদ জানান, নির্ধারিত সময়ের একটু আগে, অর্থাৎ সাড়ে সাত মাসের মাথায় গর্ভকালীন জটিলতা ও প্রসব ব্যথা নিয়ে প্রিয়া বর্মণকে হাসপাতালে আনা হয়।

তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একে একে তিন সন্তানকে নিরাপদে প্রসব করানো হয়। তিনি আরও জানান, তাদের হাসপাতালে এই নিয়ে পঞ্চমবারের মতো একসঙ্গে তিনটি করে সন্তান সফলভাবে প্রসব করানো হলো।

সিনিয়র স্টাফ নার্স জিবা আক্তার বলেন, জন্মকালে ওজন কিছুটা কম থাকায় শিশুদের সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টা এনআইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে তারা বিপদমুক্ত রয়েছে।

নবজাতকদের ফুফু রুপা বর্মণ বলেন, গর্ভাবস্থার দুই মাস বয়স থেকেই তারা তিন সন্তান হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। নতুন অতিথিদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেবার প্রশংসা করেন।

তিন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন নবজাতকদের মা প্রিয়া বর্মণ।

অগ্নিকাণ্ডে সাতকানিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২৬
অগ্নিকাণ্ডে সাতকানিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনা শরীফে অগ্নিকাণ্ডে মো. ইলিয়াস নামে সাতকানিয়ার এক প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নিহত মো. ইলিয়াস চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদার পাড়ার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে কাজ করলেও সেখানেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তার জীবন থেমে গেল।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মদিনার মাজারায় (খামার) কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রবাসীদের থাকার একটি ঝুপড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সেখানে থাকা ৮ থেকে ১০ জন দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে মো. ইলিয়াস কোনোভাবে ঝুপড়ির ভেতরে আটকা পড়ে যান।

চোখের পলকে আগুন পুরো ঝুপড়িতে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি আর বের হতে পারেননি। আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের চোখের সামনে এমন করুণ পরিণতির ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহত ইলিয়াসের বন্ধু আলমগীর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

“আমার মাইয়াডা ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর লগে লড়ছে। আমি অন্ধ মানুষ বাবা… শেষবারের মতো আমার মাইয়াডারে ধইরা দেখবার চাই। আমার মাইয়াডারে দেশে আইনা দেন!”

চোখে আলো নেই, কিন্তু ওমানের হাসপাতালের হিমশীতল বিছানায় কাতরাতে থাকা সন্তান সুমি আক্তারের কষ্ট যেন হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে অনুভব করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা জয়নব খাতুন। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী এলাকার এই বৃদ্ধা।

পাঁচ মাস ধরে ওমানের সোহার এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুমি। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে পঙ্গুপ্রায় হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা সুমি এখন আর ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আর এই মুমূর্ষু অবস্থাতেই তাঁকে বিদেশের মাটিতে একাকী ফেলে সুচতুরভাবে দেশে পালিয়ে এসেছে পাষণ্ড স্বামী।

প্রায় পাঁচ বছর আগে পাশের দক্ষিণ টাপুর চর এলাকার ওমানপ্রবাসী মো. বাবু রায়হানের সঙ্গে সুমির বিয়ে দেন দিনমজুর বাবা সাইদুর রহমান। বিয়ের পর সুমিকে ওমানে নিয়ে যান বাবু। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় চরম নিগ্রহ।

পরিবারের কাছে পাঠানো দুটি ভয়েস বার্তায় সুমি নিজের আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিদিন তাঁকে মারধর করতেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুমিকে মেঝেতে ফেলে পেটে ও কোমরে নির্মমভাবে লাথি মারা হতো। স্বামীর এমন নির্যাতনে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার পর থেকেই সুমির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হতে শুরু করে।

গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে ওমানের সোহারের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই দেশে সটকে পড়েন স্বামী বাবু রায়হান। শুধু তা-ই নয়, প্রবাসীরা সুমির চিকিৎসার জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন, সেই অর্থও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে বাবুর বিরুদ্ধে। চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে ফেলে আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই বাবু দাবি করেন, “ওটা তো বাংলাদেশ না যে চাইলেই থাকতে পারব, তাই চলে আসছি।” একই সাথে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে ওমানের ওই হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশি নারী সুযোগ পেলে ভিডিও কলে সুমিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখান। বাবা সাইদুর রহমান অশ্রুসজল চোখে বলেন, “আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না, শুধু তাকিয়ে থাকে। আমরা কথা বললে নিঃশব্দে শোনে।”

নিঃস্ব দিনমজুর বাবা ও অন্ধ মায়ের পক্ষে সুমিকে নিজস্ব খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাহায্য তো দূরের কথা, স্থানীয় থানায় গিয়েও কোনো আইনি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ পরিবারটির।

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুমির পরিবার ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে’ লিখিত আবেদন করলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁকে অতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এক অন্ধ মায়ের বুকের হাহাকার আর দিনমজুর বাবার অসহায় অশ্রু—এখন কেবলই একটি অলৌকিক অপেক্ষায়। তাঁদের একটাই আকুল আকুতি, সরকারি ও মানবিক হস্তক্ষেপে যেন সুমিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জীবনের আলো হারিয়ে যাওয়া সেই অন্ধ মা যেন শেষবারের মতো অন্তত সুস্থভাবে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন তাঁর কলিজার টুকরো সন্তানকে।