৩১ জুলাই ২০২৬

ওমানের সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ওমানের  সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

ওমানের সালালাহ অঞ্চলের দেলকুত উপকূলে আরব সাগরে পড়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নিখোঁজ আবু ছায়েদ (৩৬) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকাঁকড়া গ্রামের পাটোয়ারীর হাট এলাকার ২নং ওয়ার্ডের কিলালি বাড়ির আবুল খায়ের ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র ও সঙ্গে থাকা প্রবাসীদের বরাতে জানা গেছে, ছুটির দিনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সালালাহর দেলকুত উপকূলে ঘুরতে যান আবু ছায়েদ। একপর্যায়ে সমুদ্রের কিনারায় পিচ্ছিল পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পা পিছলে তিনি সাগরে পড়ে যান। প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে মুহূর্তের মধ্যে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেন। পরে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে আবু ছায়েদের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেশে পৌঁছালে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর সন্ধান পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রবাসীর জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি, দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল

প্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে।

অভিযোগকারী, দলিল সম্পাদনকারী, দলিল লেখক, দলিলের সাক্ষী ও স্থানীয় গ্রামবাসীর লিখিত বক্তব্য, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম।

পরে বিধি অনুযায়ী জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে তার জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক।

একমাত্র সম্বল সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠান। পরে ফরহাদ আলী বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাড়াশ দলিল লেখক অফিসের দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবকে। কিন্তু তিনি ফরহাদ আলীর বাবা-মায়ের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম (৭৭) বলেন, বিদেশে আমার ছেলের আয় খুবই কম। ঠিকমতো টাকাও পাঠাতে পারে না। গত রমজানে পান্তা ভাত খেয়েও রোজা রেখেছি। বসতবাড়ি আর ছেলের কেনা জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। জমি ফেরত না পেলে শোকে হয়তো মরেই যাব।

জমির বিক্রেতা কহিত তেতুলিয়া গ্রামের মৃত সোলেমানের সন্তান বাবলু মিয়া, কালাম হোসেন, শামীমা খাতুন ও সুমি খাতুন জানান, তারা চার ভাই-বোন ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ আলীর কাছে দেড় বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করেন।

কিন্তু পরে জানতে পারেন, প্রতারণার মাধ্যমে দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।

জানা গেছে, পরে নুরুল ইসলাম দলিল লেখকের কাছে দলিলের জাবেদা নকল চাইলে তিনি দীর্ঘদিন তা দেননি। পরে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে পরিবারটি বিষয়টি জানতে পারে।

এরপর খাজনা ও নামজারি করতে ভূমি অফিসে গেলে তাদের জানানো হয়, দলিল অনুযায়ী জমির মালিক মির্জা আব্দুর রব। যদিও শুরু থেকেই জমিটি ভোগদখলে রয়েছে ফরহাদ আলীর পরিবারের।

জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাসী ফরহাদ আলীর মা ফিরোজা বেগমের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই বিধি অনুযায়ী তাড়াশ দলিল লেখক অফিসে কর্মরত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রবের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

সমুদ্রপথে ইতালি ও গ্রিসে পৌঁছানোর শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
সমুদ্রপথে ইতালি ও গ্রিসে পৌঁছানোর শীর্ষে বাংলাদেশ

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত কয়েক বছর ধরেই এই তালিকায় এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রীসে প্রবেশের তালিকাতেও এখন শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ, যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

এ বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, তাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশিদের নিয়ে রওনা হয় একটি নৌকা। দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল নৌকাটি। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে ইতালি ও গ্রীসে প্রবেশ করতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থেকে অসংখ্য বাংলাদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।

ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি একইপথে ইতালি প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রীসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, এভাবে যারা ইউরোপে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার মানুষ এভাবে ইউরোপে যেতে মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিত বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবপাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি মামলা বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ এসব মামলার তদন্ত করছে।

অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত কয়েক বছরে নতুন এক সংকট হয়ে উঠেছে সাইবার স্ক্যাম। মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশের অনেক মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামের শিকার হচ্ছেন। ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, বিদেশে চাকরির কথা বলে নেওয়া হলেও তাদের ৯৮ শতাংশ কোনো চাকরি পাননি। বরং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ৯০ শতাংশকে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ এতে রাজি না হলে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হবে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় "প্রতারণার ফাঁদে বন্দি"।

প্রবাসীর বাড়ি থেকে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ জব্দ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়ি থেকে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি মদ জব্দ


সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর নতুনবাজার সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় বিদেশি মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাসার মালিকের ছোট ভাই সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) উত্তর বালুচর এলাকার ইনরুস আলী আবু শিতাব (৪০) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ফিরুজ মিয়ার ছেলে মো. মহর আলী (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, র‌্যাব-৯ সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর এলাকায় প্রবাসীর একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ির নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮৮২ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

অভিযানের সময় মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবের সম্পৃক্ততা পায় র‌্যাব। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ চালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের মধ্যে রয়েছে—৭৫০ মিলি রয়েল গ্রিন ৫৯ বোতল, রয়েল স্ট্রং ৮ বোতল, ব্লেন্ডার প্রাইড ১২৭ বোতল, স্ট্রেলিং রিজার্ভ (বি৭) ৬ বোতল, সিগনেচার ৬৪ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৫২ বোতল, ওল্ড মন্ক ৬ বোতল। এছাড়া ৩৭৫ মিলি ব্লেন্ডার প্রাইড ১৪৭ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৬৭ বোতল, রয়েল গ্রিন ৫৭ বোতল, সিগনেচার ২৩ বোতল, ওল্ড মন্ক ৭৭ বোতল, আইস ভোদকা ১১ বোতল, ম্যাজিক মোমেন্ট ১৬ বোতল। ১৮০ মিলি রয়েল স্ট্রং ৩৫ বোতল ও সিগনেচার ৩৩ বোতল এবং কিং ফিসার (স্ট্রং) বিয়ার ৯৫ বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে র‌্যাব-৯ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাসার নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মেজর সাদমান বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত গোপন মদের গুদাম। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালানের তথ্য পাওয়া গেলেও গুদামটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এবার সেই গুদাম শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০.১১৫ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আবু সাদাতসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওমানের সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ওমানের  সালালাহ সাগরে পড়ে বাংলাদেশি প্রবাসী নিখোঁজ

ওমানের সালালাহ অঞ্চলের দেলকুত উপকূলে আরব সাগরে পড়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নিখোঁজ আবু ছায়েদ (৩৬) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চরকাঁকড়া গ্রামের পাটোয়ারীর হাট এলাকার ২নং ওয়ার্ডের কিলালি বাড়ির আবুল খায়ের ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র ও সঙ্গে থাকা প্রবাসীদের বরাতে জানা গেছে, ছুটির দিনে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে সালালাহর দেলকুত উপকূলে ঘুরতে যান আবু ছায়েদ। একপর্যায়ে সমুদ্রের কিনারায় পিচ্ছিল পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পা পিছলে তিনি সাগরে পড়ে যান। প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে মুহূর্তের মধ্যে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেন। পরে ওমানের ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

এদিকে আবু ছায়েদের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেশে পৌঁছালে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা তাঁর সন্ধান পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া. লাইভে এসে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া. লাইভে এসে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা!

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে এক সন্তানের জননী জান্নাতুল ফেরদৌস(২০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার ২৯ জুলাই দুপুরে নিহত জান্নাতুল ফেরদৌসের মরদেহ শ্বশুরবাড়ির শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করে লালমাই থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস তার দুবাই প্রবাসী স্বামী শাহজাহানের সাথে কথা বলার সময় ঝগড়া লাগালে এক পর্যায়ে লাইভে এসে সে ঘরে ওরনা পেচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এঘটনা তার প্রবাসী স্বামী বাড়ির অন্যদের জানানোর পর আশপাশের লোকজন জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেন ঘরের ভুতুড়ের সাথে জান্নাতুল ঝুলছে। পরে তারা ওরনা কেটে লাশ নিচে নামায় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সফিকুর রহমান ও রোকেয়া আক্তার সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

এদিকে নিহতের পিতা লাকসাম উপজেলার চুনাতী গ্রামের আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন আমার মেয়ের আগেও জামাই দুই বিয়ে করেছে। তড়িঘড়ি করে আমার মেয়েকে বিয়ে করে আনে, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদের সাথে বনিবনা হয়নি। মেয়েকে অনেক নির্যাতন করতো । আমার মনে হয় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।