৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
গৃহহীন হয়ে রাস্তায় বহু প্রবাসী বাংলাদেশী, দূতাবাসের সহযোগিতা না পাওয়ার দাবি

কুয়েতে বাসস্থান হারিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিকের দিন-রাত কাটছে রাস্তা কিংবা খোলা জায়গায়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে গতকাল দেশটির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র এ গরমে অনেক প্রবাসী অসুস্থ হয়ে পড়লেও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা মিলছে না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

কুয়েতের সরকারি পরিসংখ্যানের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বসবাস করছেন। এসব শ্রমিকের অনেকেই এখন বাসস্থান সংকটের মুখে। গত ১৫ জুলাই রাতে আকস্মিকভাবে দেশটির জিলিব আল-শুয়ুখ, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ এবং অবৈধ অভিবাসীবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।

কুয়েতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অংশ নেয়। অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারী ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) কুয়েত প্রবাসীরা ১৬১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কুয়েত থেকে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৬৩ কোটি ডলার। রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে কুয়েতের অবস্থান অষ্টম স্থানে রয়েছে।

টানা তিনদিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশী আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘বুধবার রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। ওই সময় থেকে রাস্তায় রাত-দিন কাটছে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গায়ের চামড়া পুড়ে যাচ্ছে। টানা তিনদিন ঘুমহীন, গোসল ও পানিছাড়া। এ পরিস্থিতির মধ্যে আর টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’ আবদুল কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনেছি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কেউ একজন এ এলাকায় এসেছিল। কিন্তু এখানে থাকা শত শত বাংলাদেশীর কেউ তাদের দেখেনি। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।’

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে মূলত অনিরাপদ ও অবৈধ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমিতে অবৈধ দখলদারত্ব, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আকামা (বসবাসের অনুমতি) লঙ্ঘনকারী, পলাতক ব্যক্তি এবং আবাসিক এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

অভিযানের পর অনেক বাড়িওয়ালা রাতারাতি ঘর ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার ফলে অনেক প্রবাসী আশ্রয় হারিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বাসা ভাড়াও বাড়ার পাশাপাশি হঠাৎ সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে। এসব এলাকায় আগে যেখানে কুয়েতি ২০০ দিনার (৮০ হাজার টাকা) থেকে ২৫০ দিনার (প্রায় ১ লাখ টাকা) এর মধ্যে বাসা ভাড়া পাওয়া যেত, এখন সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০-৫০০ দিনার। বাংলাদেশী টাকায় দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থে বাসা ভাড়া নেয়া অনেক প্রবাসীরই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উচ্ছেদের শিকার এসব এলাকার প্রবাসীরা জানান, হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া—এ দুই এলাকায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী থাকেন। আনুমানিক ১০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী থাকেন এখানে। গত বুধবার মাঝরাতে হঠাৎ পুলিশ এসে প্রায় সবাইকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই দিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তাঘাটে। কেউ কেউ নতুন বাসা খোঁজার চেষ্টা করছেন, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বেশির ভাগ প্রবাসীই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

উচ্ছেদ করা আব্বাসিয়া এলাকায় দুই বছর ধরে বসবাস করছিলেন নড়াইলের রিয়াজুল ইসলাম। এখন কাটছে খোলা আকাশের নিচে। রিয়াজুল বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দরজায় লাথির শব্দ শুনে খুলে দেখি পুলিশ। তারা সবাইকে পাসপোর্ট, মোবাইল আর আকামা নিয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর পানি, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কে বৈধ বা অবৈধ সেটা দেখার জন্য সবার আইডিও চেক করে। ভোর ৬টা পর্যন্ত সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে রাখে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পারেনি। তাই পরদিন আবার এসব ভবনে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেন। এ সময় অনেকে কোথাও যাওয়ার উপায় না পেয়ে ভবনের ছাদে রাতে আশ্রয় নেন। তবে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সবাইকে বের করে দিয়েছে।’

বাড়ি ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আগে যেখানে আমরা ২০০-২৫০ দিনার খরচ করে বাসায় থাকতাম, এখন খোঁজ নিয়ে দেখলাম দুই-তিন রুমের একই ফ্ল্যাটের ভাড়া ৪০০-৫০০ দিনার। এটা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।’

উচ্ছেদের পরদিন ১৬ জুলাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উচ্ছেদের শিকার প্রবাসীদের একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী শেল্টার হাউজে থাকার ব্যবস্থা করেছে দেশটির সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অভিযানের ফলে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও পরিবারগুলো তাদের বৈধ অবস্থানের প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থান করতে পারবে। তবে সেখানে অবস্থানকালে তারা কর্মস্থলে যোগদান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করতে পারবেন না।’

এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সেলর (শ্রম) শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারসহ একটি প্রতিনিধি দল ওই শেল্টার হাউজে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক অবস্থা সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

অস্থায়ীভাবে শেল্টার হাউজে অবস্থানকালে কর্মস্থলে যোগদান বা কোনো উদ্দেশ্যে শেল্টার হাউজ ত্যাগ করার সুযোগ না থাকায় অনেক প্রবাসীই এ আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ‘আমরা যেসব প্রবাসী এখানে থাকতাম তারা কম খরচে থাকতে পারতাম। যেহেতু ভবনগুলো পুরনো, তাই ভাড়াও কম ছিল। উচ্ছেদের বিষয়ে আমাদের মালিক পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তারা হয়তো ভাড়ার জন্য আমাদের উচ্ছেদের তথ্য গোপন রেখেছে। দূতাবাস থেকেও কিছু জানতে পারিনি। তাহলে বাসা ছাড়ার একটা প্রস্তুতি থাকত। এসব ভবনে আমাদের মতো সাধারণ কর্মজীবী লোকজন থাকে। হঠাৎ করে রাতের মধ্যে সবাইকে বাসা থেকে বের করে দেয়। এত পরিমাণ বাংলাদেশীর জন্য দূতাবাসের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তারা শুধু শেল্টারে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন কিন্তু যারা ভবঘুরের মতো রাস্তায় থাকছেন তাদের খবর কেউ নিচ্ছে না।’

কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীরা যেসব ভবনে থাকতেন সেখানে উচ্ছেদের বিষয়টি অনেক পুরনো। যেহেতু সরকার বাড়ির মালিকের কাছে নোটিস পাঠায়, তাই মালিকরা ভাড়া হারানোর ভয়ে হয়তো ভাড়াটিয়াদের কোনো তথ্য জানায়নি। তাই হঠাৎ উচ্ছেদে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা।

সরকারিভাবে যে শেল্টারে অস্থায়ীভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেখান থেকে বের হওয়া বা কাজে যোগ দেয়ার সুযোগ নেই। শেল্টার থেকে বের হতে হলে উচ্ছেদ করা এলাকার ভবনের বাইরে থাকার জায়গা আছে মর্মে মুচলেকা দিয়ে বের হতে হবে প্রবাসীদের। তাই অনেকেই শেল্টারে আসেননি। আবার শেল্টারে না আসা উদ্বাস্তু অবস্থায় থাকা প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো একটি ভবন ভাড়া নিয়ে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করার মতোও পরিস্থিতিও নেই বলে জানায় দূতাবাস সূত্রটি।

কুয়েতের বর্তমান এ পরিস্থিতির বিষয়ে ভালোভাবে অবগত নন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

কুয়েত সরকার যদি কোনো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেখানে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা দেয়, সেটি তাদের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অনেক সময় সরকার সিলগালা করে দেয়। কুয়েতেও যদি এমন কোনো বিষয় হয়ে থাকে, তাহলে বিস্তারিত জেনে আমাদের পক্ষ থেকে যা করণীয়, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আলোচনার মাধ্যমে যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব, আমরা তা করব।’

সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
সৌদি আরবে প্রবাসীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৩ দিন ধরে ঘরে পড়েছিল মরদেহ

সৌদি আরবে আবহা শহরে সোহাগ রানা (৪২) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর টানা তিন দিন তার মরদেহ নিজ শয়ন কক্ষে পড়ে ছিল। খবর পেয়ে ওই সৌদি পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেছে বলে ভাষ্য তার পরিবারের।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মৃত সোহাগের পরিবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরআগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবে আবহা শহরের বাসা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

মৃত সোহাগ রানা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ উল্যাহ মিয়ার বাড়ীর বশির উল্যাহর ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

মৃত সোহাগের মামাতো ভাই সৌদি প্রবাসী সৈয়দ রিগান জানান, সোহাগ ৭ বছরের বেশি সময় ধরে সৌদিতে আছেন। এর আগে তিনি দুবাইতে ছিলেন। এখানে আসায় পর গত কয়েকমাস তার আকামা ছিল না, পাসপোর্টের মেয়াদও শেষ। কিছুদিন ধরে অনেক চেষ্টা করছিলেন তা নবায়ন করতে। এনিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন সোহাগ।

তিনি আরও জানান, গত সোমবার থেকে তিনি তার কর্মস্থলের দোকানে যাননি। প্রথম দিন তাকে দোকানে না দেখে অন্য সহকর্মীরা ভেবে ছিলেন তিনি অসুস্থ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনও না যাওয়ায় কফিলকে বিষয়টি জানালে তিনিসহ অন্যরা বাসায় গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করা।

পরে অনেক ডাকাডাকির পর ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে তারা সোহাগের মরদেহ রুমে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা অতিরিক্ত চিন্তা থেকে স্ট্রোকে সোহাগের মৃত্যু হয়েছে।

সোহাগ রানার মরদেহ দেশে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার।

প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসী রুবেলের মৃত্যু, মরদেহ আনতে দালালের ৬ লাখ টাকা দাবি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানী পুর নামাপাড়া গ্রামের প্রবাসী রুবেল মিয়া (২৪) কম্বোডিয়ায় মারা গেছেন। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দালাল ৭ লাখ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫ টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেশটির পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি।

রুবেলের পরিবারের অভিযোগ, রুবেল মিয়া ৫ লাখ টাকা দালাল কামরুল ইসলামকে দিয়ে দেড় বছর আগে কম্বোডিয়া যান। সেখানে যাওয়ার পর পাসপোর্ট জোর করে নিয়ে যাওয়ায় এতদিন অবৈধভাবে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। এরমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে পোচেনটং রেফারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। রুবেলের মরদেহ দেশে আনতে এখন ৬ লাখ দাবি করছেন দালাল কামরুল।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত টাকা দিয়ে মরদেহ আনা সম্ভব নয় বলে প্রবাসী রুবেলের বাড়িতে বিলাপ চলছে। ছেলের মুখখানা শেষবারের মত দেখতে বৃদ্ধ পিতা-মাতা সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী ও রুবেলের পরিবার জানায়, জমি বিক্রি করে দালাল কামরুলকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে কম্বোডিয়া গিয়েছিল। কিন্তু দেড় বছর কাজকর্ম না দিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ায় অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিলেন রুবেল। এমনকি, বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে সেই টাকা দিয়ে খাবার খেত।

রুবেলের সঙ্গে স্থানীয় আরও ৪ যুবক অবৈধভাবে তাবু টানিয়ে বসবাস করছিল। রাতে তাবুতেই রুবেল অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় যুবক মিনহাজ রুবেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রুবেলের কৃষক বারা সামু মিয়া ফকির বলেন, ‘সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ছিলাম। দেড় বছরে এক টাকাও সে বাড়িতে পাঠাতে পারেনি। উল্টো বাড়ি থেকে টাকা পাঠালে খাবার পেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা পাঠালে দেশে আসার আকুতির কথা ছেলে জানিয়েছিল কিন্ত দিতে পারি নাই। এখন ছেলের লাশ দেশে আনতে দালাল কামরুল ৬ লাখ টাকা চান।’

মিয়া ফকির বলেন, ‘আমি গরীর মানুষ এত টাকা আমি কেমনে দিমু।’

রুবেলের মা মিনারা খাতুন বলেন, ‘ভিসা না দিয়ে আমার ছেলের পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিল দালাল। অবৈধভাবে বসবাস করে মানসিক যন্ত্রনায় তার মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মুখ দেখে মরতে চাই।’

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেটে একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিন শতাধিক আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে শহরজুড়ে হঠাৎ তীব্র আবাসন সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে সেখানে অবস্থানরত এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে বাংলাদেশ থেকে কলকাতা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে নিম্নলিখিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

কলকাতায় আগমনের আগে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বুকিং নিশ্চিত করে এবং হোটেলটির বর্তমান কার্যক্রম, কক্ষের প্রাপ্যতা ও অবস্থান সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হয়ে ভ্রমণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগত রোগীর সফরসঙ্গীদের কলকাতায় আসার আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা, বুকিংয়ের বৈধতা, হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কলকাতায় আগমনের আগেই নিশ্চিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনাপ্রবণ আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি ও অন্যান্য নিয়ম কানুন মেনে ওই হোটেলগুলো পুনরায় চালু হতে মাসখানেকের বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় এসে আবাসনের সমস্যায় পড়া এড়াতে অগ্রিম হোটেল বুকিং নিশ্চিত না করে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
প্রবাসীর বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে আহত দুই, আটক ১

মাদারীপুরে এক ইতালি প্রবাসীর বসতবাড়িতে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারপুর গ্রামের ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আটক সালাউদ্দিন গাজী সদর উপজেলার মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের মাফেজ গাজীর ছেলে। সে সম্পর্কে ইতালি প্রবাসীর খালাতো ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইতালি প্রবাসী রাজ্জাক মোল্লার বাড়ির পেছনের কক্ষে ভোররাতে হঠাৎ হাতবোমা বিস্ফোরণ হয়। এতে আহত হন অন্তত দুইজন।

এ সময় টিনশেড ঘরের বেড়া উড়ে যায়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্জাক মোল্লার খালাতো ভাই সালাউদ্দিন গাজীকে আটক করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশ বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহও করে।

পুলিশের ধারণা, ইতালি প্রবাসীর ঘরে বসে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে এরমধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে মাঠে নেমেছে একাধিক টিম।

তিনি বলেন, আটক সালাউদ্দিন গাজীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে আহতরা গ্রেফতার আতঙ্কে এখনো সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হননি।

ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে বাংলাদেশিসহ আটক ৯৬

ক্রোয়েশিয়ায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় বাংলাদেশিসহ ৯৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ।

বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সীমান্ত নজরদারি অভিযানে পৃথক দু’টি ঘটনায় তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার দেশটির কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বিকেলে বিস্ত্রিৎসা গ্রামের কাছে দু’টি নৌকা থেকে ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানি ও ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এ সময় দু’জনকে মানবপাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। পরে সন্ধ্যায় একই এলাকায় আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ১৮ জন আফগান, ১৩ জন বাংলাদেশি ও দু’জন পাকিস্তানি নাগরিক। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স সার্ভিসের বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সীমান্ত পুলিশ।