৩১ আগস্ট ২০২৬

১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

২০ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবজুড়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৯৭৬ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৪ হাজার ১১০ জনকে। এ ছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১ হাজার ৪৫০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪১ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আরও ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় দেওয়া বা কাজে নিয়োগের অভিযোগে ২৭ জনকেও আটক করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বহিষ্কৃত ১৪ হাজার ৯০৫ জনের পাশাপাশি ১৮ হাজার ৯১৪ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ২ হাজার ৮৬৭ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে থাকা আরও ২৯ হাজার ৯৩৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আবাসন ও অভিবাসন আইন কার্যকরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ২৭ হাজার ৯৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮১ জন নারী।

সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে দেশজুড়ে এ ধরনের অভিযান চালায়। আবাসন অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করা, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ করা কিংবা সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশটির ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও জব্দ করা হতে পারে।

মুম্বাই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির স্বর্ণ, ৫ বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
মুম্বাই বিমানবন্দরে ১১ কোটি রুপির স্বর্ণ, ৫ বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

ভারতের মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১১ কোটি রুপি মূল্যের ৬ দশমিক ৮৫ কেজি বিদেশি স্বর্ণ জব্দ করেছে দেশটির রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর (ডিআরআই)। এ ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রীসহ একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার এক গ্রাউন্ড স্টাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শনিবার পরিচালিত অভিযানে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মুম্বাইকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

রবিবার কর্মকর্তারা জানান, ডিআরআইয়ের মুম্বাই আঞ্চলিক ইউনিট নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানের অভ্যন্তরীণ নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন মিডনাইট গোল্ডস্ট্রাইক’।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিআরআই কর্মকর্তারা বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় নিয়োজিত এক গ্রাউন্ড স্টাফকে আটক করেন। পরে তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে মোমের মধ্যে লুকানো ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের গুঁড়াসহ সাতটি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই গ্রাউন্ড স্টাফ ট্রানজিট যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচার এবং বিমানবন্দর থেকে তা বাইরে বের করে নেওয়ার সঙ্গে অন্যদের জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে ডিআরআই।

এরপর কর্মকর্তারা চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্যকে শনাক্ত করে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে আরও নয়টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়।

ডিআরআই জানিয়েছে, চক্রটি মুম্বাইকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক এবং মালদ্বীপের মালে থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ পাচারের কার্যক্রম চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ৬ দশমিক ৮৫ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ কোটি রুপি।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং স্বর্ণ পাচারের নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন সচ্ছলতা আনতে, লাশ হয়ে ফিরছেন জাকির

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন সচ্ছলতা আনতে, লাশ হয়ে ফিরছেন জাকির

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ নিহতের পরিবারটি।

​নিহত জাকির হোসেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।

সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাশিয়ার মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলের কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি প্রবাসী জাকির হোসেন নিহত হন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়িতে মৃত্যু সংবাদ পৌঁছায়।

​পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাত্র দেড় বছর আগে জমি বিক্রি ও ধার করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। সেখানে রাশিয়ার আমুর এলাকায় এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন একটি গ্যাস কমপ্লেক্সে চাকরি করতেন তিনি। তার আয়ে ধারদেনা পরিশোধ করে সংসার কোনোমতে চললেও সম্প্রতি তার প্রমোশন হয়। সেই সুখবর এখন শোকের খবরে পরিণত হয়েছে।

​জাকিরের চাচাতো ভাই মাহবুবুর রহমান জানান, জাকিরের পরিবার অত্যন্ত অসহায় ও অসচ্ছল। দেশে থাকা অবস্থায় তিনি রিকশা চালানোসহ নানা কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে দেড় বছর আগে জমি বিক্রি ও ঋণ করে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার আরও সংকটে পড়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

​এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, রাশিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণে জাকির হোসেনের মৃত্যুর খবরটি আমরা পেয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জেনেছি পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। তার স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমাদের প্রথম প্রচেষ্টা হলো জাকিরের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই অসহায় পরিবারটিকে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

‘ঘটনার কতদিন পর আজকা লাশ পাঠাইলো। এতগুলো দিন আমি ঘুমাইতে পারি নাই। আগুন আমার ছেলে দুটাকে কয়লা বানায়া দিছে। বিশ্বাস করতে পারতেছি না যে এরা আমার সেই সোনা বাজান।’

এসব কথা বলে আহাজারি করছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের ময়না খাতুন। তাঁর দুই ছেলে সুমন ও মোহন গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাঁরা হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা হয়। জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

গণ্ডগোহালী, উদনপৈ ও ডুবাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন মরদেহের দিকে।

দুই ছেলের সঙ্গে কথোপকথন তুলে ধরে ময়না খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে দুটো বলত, “মা আর কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরব। দেশে এসে বাড়ির কাজ শেষ করব। একসঙ্গে সুখে থাকব।” আমার দুনিয়া থেকে সবকিছুই চলে গেল।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের নিহত কলিমউদ্দিনের বাবা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে গেল আমাগো ভাগ্যের চাকা ঘুরাইতে, আর আমরা পাইলাম ওর লাশ! ওখানকার ফ্যাক্টরিতে কোনো নিরাপত্তা আছিল না কেন? আমার মতো আর কারও কোল যেন খালি না হয়।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এর আগে এতগুলো মরদেহ কখনো দেখিনি। এ ঘটনার পর থেকেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপার্জন সক্ষম ছেলেদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’

উদনপৈ গ্রামের নিহত ফরিদের মা সাফিয়া খাতুন বলেন, ‘ছেলেটাই আমাদের ভরসা আছিল। পেটের টানেই পাঠাইছিলাম দেশের বাইরে। আগুনে সব শেষ হয়া গেল রে!’

ডুবাই গ্রামের সোহেল রানার বাবা বাদল তরফদার বলেন, ‘সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দেশের বাইরে পাঠায়ছিলাম। এখন আমার তো আর কেউ নাই রে! তুই ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কে আছিল?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনই আত্রাইয়ের। সৌদি কর্তৃপক্ষ বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না করায় তাদের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘ছেলের মুখটা দেখার জন্য ব্যাকুল হইয়া আছি। আমার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এ জন্য পরে আসবে। শেষবার একটু ছোঁয়াও পাব না? সরকারের কাছে আবদার, ছেলের লাশটা দ্রুত নিয়ে আসে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান। ডিএনএ মিললে দ্রুত তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হবে।

সৌদি প্রবাসীদের জন্য কঠোর সতর্কতা, থাকছে জেল-জরিমানা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
সৌদি প্রবাসীদের জন্য কঠোর সতর্কতা, থাকছে জেল-জরিমানা

সৌদি আরবে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে বা নিজস্ব হিসাবে কাজ করা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, একই অপরাধ বারবার করলে নির্দিষ্ট সেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড দেবে। অবস্থার বিবেচনায় দেশে ফেরত পাঠানোর শাস্তিও হতে পারে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ কর্মসংস্থানের কাঠামোর বাইরে প্রবাসীদের নিজস্বভাবে কাজ করা আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার অপরাধ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও ডিপোর্ট করা হতে পারে। দ্বিতীয়বার ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা, এক মাসের কারাদণ্ড ও ডিপোর্ট এবং তৃতীয়বার বা এরপর সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ডিপোর্টের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া প্রবাসীদের অবৈধভাবে কাজ করতে সহায়তা করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও শাস্তির আওতায় আসবে। অবৈধ কর্মীকে নিয়োগ, পরিবহন, আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা ও ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

শ্রমবাজারে অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান বন্ধে সৌদি আরবজুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মনছুর আলম (৩২) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (২২ আগষ্ট) রিয়াদের স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনছুর রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কদমতলীর এলাকার কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের সৌদি প্রবাসী বন্ধ ইউছুপ আলীর বরাতে স্বজনরা জানান, গত শনিবার কাজ শেষে বাসার ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় মনছুর ও তার আরেক বাংলাদেশী সহকর্মীকে বহনকারী গাড়ীকে অন্য একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা দেয়। পরে মনছুর ও তার সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মনছুরকে মৃত ঘোষনা করেন। তার অন্য সহকর্মীর অবস্থাও সংকটাপন্ন।

নিহতের প্রতিবেশী নাঈম উদ্দিন জানান, নয় বছর ধরে রিয়াদে কর্মরত মনছুর এক বছর আগে বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গেছেন। তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান আছে। তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়াও স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় আছেন। তাদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।