৩১ আগস্ট ২০২৬

দুবাই, দিল্লি ও কাতার থেকে আসা ফ্লাইটে তল্লাশি: আটক ৫ যাত্রী

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
দুবাই, দিল্লি ও কাতার থেকে আসা ফ্লাইটে তল্লাশি: আটক ৫ যাত্রী

শাহজালালে ৬২৫ কার্টন সিগারেটসহ ২৮ লাখ টাকার মালামাল জব্দ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে বিদেশি সিগারেট, প্রসাধনী, জর্দা ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।

গতকাল রবিবার সিআইআইডির বি ও সি-শিফটের পৃথক অভিযানে পাঁচ যাত্রীর কাছ থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

সিআইআইডি জানায়, মহাপরিচালকের কাছে আসা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নজরদারি চালায় বি-শিফট। গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় দুই যাত্রী হিমেল ও শারমিন আক্তারের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৫৪০ কার্টন সিগারেট ও ১ দশমিক ২৪ কেজি হোয়াইটেনিং সিরাম জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, রাত ২টা ১০ মিনিটে দিল্লি থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে অভিযান চালায় সিআইআইডির সি-শিফট। এ সময় দুই যাত্রী মাহাথে হাসান বাবু ও সোহদুল হাসান শাকিলের কাছ থেকে ৮৫ কার্টন সিগারেট, ২৭৬ পিস ‘বিস্কোস’ হোয়াইটেনিং সিরাম ও জর্দা জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া একই শিফটে কাতার থেকে আসা একটি ফ্লাইটে রফিকুল সরদার নামের এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৩ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

সি-শিফটের অভিযানে জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। দুই শিফটের অভিযানে মোট ৬২৫ কার্টন সিগারেটসহ প্রায় ২৮ লাখ টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনশীল রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
প্রবাসী কর্মীদের বিমান ভাড়া সহনশীল রাখতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ

বিমানের টিকিট নিয়ে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেছেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভাড়া সহনীয় রাখতে ট্রাভেল এজেন্সি আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিকিটের কালোবাজারি রুখতে এখন থেকে বিমানে যাত্রার টিকিটে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর ও প্রকৃত বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের স্বার্থরক্ষা ও টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার এরই মধ্যে ১০ দফা সম্বলিত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ট্রাভেল এজেন্সিকে বিমান টিকিটে তাদের নাম, লাইসেন্স নম্বর ও টিকিটের বিক্রয়মূল্য স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।

বিমান ভাড়া নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে সাধারণত ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে ভাড়া নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের আয় ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা কাজ করে। রুট, গন্তব্য, দূরত্ব, বুকিংয়ের সময়, যাত্রার তারিখ, আসন প্রাপ্যতা, এয়ারলাইন্সের ধরন, আন্তর্জাতিক বাজারে এভিয়েশন জ্বালানির দাম, বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট চার্জ, সরকারি কর ও অন্যান্য ফি বিবেচনায় নিয়ে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

ফলে একই রুটে সময়, চাহিদা ও আসন প্রাপ্যতার পার্থক্যের কারণে বিমান ভাড়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হতে পারে বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, তাই শুধু একটি বা একাধিক সূচক বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ের বিমান ভাড়ার তুলনা করা যৌক্তিক নয়।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা, আলাদা ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক চেক-ইনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীস্বার্থ রক্ষা এবং বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এজন্য আইন সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে

বাংলাদেশে তৈরি গাড়ির সিটের কভার যাচ্ছে জাপানের হোন্ডা-সুজুকিতে
আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

দেশে জাপানি মালিকানাধীন একটি কারখানায় তৈরি গাড়ির সিটের কভার রপ্তানি হচ্ছে জাপানে। সেখানে এসব কভার দিয়ে সম্পূর্ণ আসন বা সিট তৈরি করে হোন্ডা ও সুজুকিসহ বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে সংযোজন করা হয়।

আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত টিএস টেক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং সেখানে ৩৭৫ জন কর্মী কাজ করছেন।

গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। মূলত জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আসনের ট্রিম কভার সরবরাহ করে তারা।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছয়তলা স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ে (এসএফবি) প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে।

কারখানাটিতে শ্রমিকেরা চামড়া ও অন্যান্য উপকরণ নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী কেটে বিভিন্ন অংশ সেলাই করে সিটের ট্রিম কভার তৈরি করেন। কাঁচামালের বেশির ভাগই আসে জাপান ও চীন থেকে।

তৈরি কভারগুলো পরে জাপানে টিএস টেকের বিভিন্ন কারখানায় পাঠানো হয়। সেখানে এগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হয়।

টিএস টেক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাতোরু ওনিশি টিবিএসকে বলেন, "জাপানে আমাদের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকি। বাংলাদেশে আমরা মূলত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের আসনের ট্রিম কভার এবং দরজা ও ছাদের ট্রিমের মতো প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করি।"

তিনি বলেন, "কাঁচামাল কাটা ও সেলাইয়ের কাজ মূলত বাংলাদেশের কারখানায় করা হয়। এরপর জাপানে সম্পূর্ণ আসন তৈরি করা হয় এবং পরে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো গাড়িতে সংযোজন করে।"

বাংলাদেশের কারখানাটিতে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার সিটের ট্রিম কভার তৈরি হচ্ছে। আগামী বছরও উৎপাদন প্রায় একই পর্যায়ে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

অটোমেশন ও থ্রিডি প্রিন্টিং

সম্প্রতি কারখানাটি ঘুরে দেখা যায়, বিশাল উৎপাদন এলাকায় পুরোদমে কাজ চলছে। কোনো অংশে চামড়া কাটা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সেলাই মেশিনে বিভিন্ন অংশ জোড়া দিচ্ছেন। কেউ কেউ যত্নসহকারে কভারের বিভিন্ন অংশ যুক্ত করছেন। অন্যদিকে তৈরি পণ্য পরীক্ষা ও মাপজোখ করছেন একদল শ্রমিক।

ওনিশি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও অটোমেশনের ওপর ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে টিএস টেক। পাশাপাশি কারখানার নিজস্ব উৎপাদনকাজে থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত করতে ২০২৩ সালের আগস্টে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ছিল কনভেয়ার বেল্ট, অটোমেশন ব্যবস্থা ও অটো-লে মেশিন স্থাপন।

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের জিগ ও উৎপাদন সহায়ক সরঞ্জামও কারখানাটিতেই তৈরি করে টিএস টেক। এর মধ্যে কিছু সরঞ্জাম থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে নকশা ও তৈরি করা হয়।

টিএস টেক একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে তাদের ৭৩টি কারখানা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে জাপানেই রয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মী।

ওনিশি বলেন, "জাপানের বাজারে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্য তৈরি করি। জাপানের বাইরেও টিএস টেক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করছে।"

ডে-কেয়ার সেন্টার

উৎপাদন কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মীদের সহায়তায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে টিএস টেক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নারী।

২০২৫ সালে কারখানার ভেতরেই একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ওনিশি জানান, বর্তমানে সেখানে পাঁচজন শিশুসেবিকার তত্ত্বাবধানে ১৯টি শিশু রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জাপানি ভাষার দোভাষী আসমার সন্তানও এই ডে-কেয়ার সেন্টারে থাকে। তিনি বলেন, "এটি আমার জন্য খুবই ভালো হয়েছে। সন্তানকে ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারি।"

গর্ভবতী কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সবুজ রিবন পরানো হয়, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া যায়।

সবুজ রিবন পরা এক কর্মী বলেন, "এখানে গর্ভবতী কর্মীদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।"

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: বাংলাদেশে ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি দেখছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: বাংলাদেশে ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি দেখছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতির কাটিয়ে ওঠা পুরোনো সমস্যাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘায়িত ও অনিশ্চিত এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্য পরিবহনের গতিপথেও তৈরি হয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। ফলে সমুদ্রপথে জাহাজীকরণ ব্যয় বেড়েছে, বাড়ছে আমদানি খরচও। এর সবচেয়ে বড় চাপ এখন জ্বালানি খাতে। তেল ও এলএনজি নিয়ে দেশে দীর্ঘদিনের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

জ্বালানিসংকটের এই ধাক্কা এখন শুধু জ্বালানি খাতে থেমে নেই। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, কোথাও কমছে কাজের সময়, আবার কোথাও বন্ধ হচ্ছে কারখানা। কমছে সার উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বাড়ছে চাপ, বাড়ছে লোডশেডিং ও জ্বালানি ব্যয়। এর সঙ্গে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাড়ছে পণ্যের দামও। এসবই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে মানুষের আয়রোজগার ও কর্মসংস্থানে।

সার্বিক পরিস্থিতি অনুমান করে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এই সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। একই কারণে দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে আরও ১২ লাখ মানুষ। চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেট সহায়তা প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক এই আশঙ্কামূলক মূল্যায়ন করেছিল।

এর আগে খোদ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসবে—এমন পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু জুনের মূল্যায়ন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই সংখ্যা নেমে আসতে পারে ৫ লাখে। অর্থাৎ যুদ্ধের ধাক্কায় দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাব্য অগ্রগতির বড় অংশ এখন থেমে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার পুরোনো দুর্বলতা এই আশঙ্কাকে আরও বড় করে তুলেছে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। অথচ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ঘাটতি মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০-৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫-৬০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ মানে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সেপ্টেম্বরের জন্য কেনা দুটি এলএনজি কার্গোর দামও প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি পড়েছে।

জ্বালানির এই বাড়তি খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের ভর্তুকির চাপ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বোঝা ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যা ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে অন্য খাতের বরাদ্দেও চাপ নিতে হতে পারে।

কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস দরকার; আবার ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মতো সারের জন্য বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। গ্যাস-সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার পাঁচটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘ হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।

শিল্পের অবস্থাও স্বস্তির নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে ২৬ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বছরে বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের সঙ্গে বাড়তি আমদানি ব্যয় যোগ হওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। কোথাও কাজের সময় কমছে, কোথাও উৎপাদন কমছে, আবার কিছু কারখানা বন্ধও হচ্ছে।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, গ্যাস না পাওয়ায় শিল্পকারখানায় নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না; কোথাও কাজের সময় কমেছে, আবার জ্বালানিসংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার কিছু লক্ষণ ইতিমধ্যে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন উত্তর দেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ফ্রন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না। এছাড়া সিরিয়া ও ইরানের মত দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হল শান্তি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তা বলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আমাদের অংশীদার রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি পাকিস্তানের মুখপাত্র। ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহ নিয়েও তিনি আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনা

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার একই ধরনের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

শনাক্ত হওয়া নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই বাংলাদেশিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ইউএনও আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্য মরদেহগুলোও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।