২৭ আগস্ট ২০২৬
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে তাদের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে দেশটির সরকার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৪০টির বেশি মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু এসব এজেন্সির নাম প্রকাশের পর জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ‘সিন্ডিকেট’ উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, যেসব এজেন্সির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এগুলোর ২-৩টি ছাড়া বাকি সবই মূলত ডামি এজেন্সি, যেগুলোর পেছনে প্রভাবশালীরা সক্রিয় আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমবাজার নিয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে এবং এখানে যা হবে স্বচ্ছতার সঙ্গেই হবে। আশা করছি, দ্রুতই শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সে দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা পেয়ে যাব। কোনো গোপনীয়তা বা সিন্ডিকেট থাকবে না, নিয়ম মেনে সবাই কাজের সুযোগ পাবে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’ পরে চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়েও একই কথা বলেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক কবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা মালয়েশিয়া দেবে—তা এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানতে পারেনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা বলেছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২১ সালে, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। যদিও নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা অভিযোগের জের ধরে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে। তবে ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগে যারা সিন্ডিকেট করেছে এবং যাদের দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে তারাসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুরু থেকেই মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, ‘যাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের আমরা নিজেরাই তো চিনি না। মালয়েশিয়া সরকার তাদের কিভাবে চিনল। আসলে আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালীরা এগুলোর পেছনে আছে এবং এক্ষেত্রে বড় দুর্নীতিও কাজ করেছে।’

যদিও সিন্ডিকেট বা এ ধরনের কোনো কিছুর তৎপরতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টার নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই রবিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নির্দেশনা জারি করাকে দ্রুতই ‘শ্রমবাজার খোলার’ ইঙ্গিত বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।

ওই নির্দেশনা জারি করে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

মালয়েশিয়া সরকারে এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মী নিয়োগ কিংবা মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজে যোগদান পর্যন্ত আটটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

এর প্রথম ধাপে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বা নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মী চেয়ে আবেদন করতে হবে বা অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

এরপরের ধাপে আগ্রহী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তৃতীয় ধাপে লেভি বা নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে, যা মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং মাইআইএমএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

এরপর নিয়োগদাতা শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করবেন। এ প্রক্রিয়াটিও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর ওয়ান-স্টপ সেন্টার এবং সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এটি হয়ে যাওয়ার পর বিদেশি কর্মীর নিজ দেশের মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

এগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর ষষ্ঠ ধাপে কর্মী উৎস দেশ থেকে নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটি করতে হবে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি (আরএ) বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে।

সপ্তম ধাপে বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিয়োর) সংগ্রহ করতে হবে এবং শেষ বা অষ্টম ধাপে বিদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ওই নির্দেশনায় মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-এর তালিকা জানতে নিয়োগদাতাদের মালয়েশিয়া সরকারের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্লাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফডব্লিউসিএমএস পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ন্যাটোর আদলে গড়া ‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ: কী ভাবছে ঢাকা?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ন্যাটোর আদলে গড়া ‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ: কী ভাবছে ঢাকা?

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই নতুন জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশও বিবেচনা করতে পারে বলে একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে এমন পদক্ষেপে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়, তবে সেখানে আমাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, তারা বাংলাদেশকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেখানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মূলত সৌদি আরবই ঢাকাকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

চলতি মাসে সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন দেশ চুক্তিটিতে সই করে। এটি মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর-- এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে; যৌথ-প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে যখন চরম আঞ্চলিক উত্তেজনা চলছে, তখন তারা এমন চুক্তি করেছে।

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিতে আরও দেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি এক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়বে। কারণ, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে এড়িয়ে চলাই ছিল ঢাকার নীতি। মূলত এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এর বড় বাজার হলো ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কর্মরত লাখো শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি উৎস।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়া জানান, আনুষ্ঠানিক কোনো জোটে গেলে শুধু ভারতের সঙ্গে নয়; বরং চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, সম্পর্কগুলো হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে, তারা আসলে কোন পক্ষে আছে—সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় মাস বয়সী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এক স্পর্শকাতর সময়ে এই আমন্ত্রণ এলো। যদিও উভয় দেশই আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি হাসিনাকে ফেরত চেয়েও অনুরোধ করেছে ঢাকা। এসব কারণে দুদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র চলতি মাসে জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান ভারত সফর করবেন কি না—সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। মূলত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর ঢাকা এ ঘটনার সমালোচনা করে। বাংলাদেশ আগেই জানিয়েছে যে, ভারত সফরের জন্য একটি ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ প্রয়োজন।

এদিকে মক্কা চুক্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেন, কোনো এক পক্ষে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এই অর্থনীতি বহুমুখী অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ খুশি হবে না। তবে সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।

কাস্টমসের তৎপরতা বেড়েছে বিমানবন্দরে

আগস্টের তিন সপ্তাহের অভিযানে ১৫ কোটির বেশি রাজস্ব আদায়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
কাস্টমসের তৎপরতা বেড়েছে বিমানবন্দরে

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং শুল্ক ফাঁকি রুখতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তৎপরতা বেড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বেনাপোল সীমান্তসহ বিভিন্ন কাস্টমস স্টেশনে আগস্ট মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে বড় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসব সাঁড়াশি অভিযানে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা, বিদেশি সিগারেট, আইফোন, মূল্যবান প্রসাধনী ও মদ। যাত্রী প্রোফাইলিং, গোপন গোয়েন্দা তথ্য এবং শিফটভিত্তিক নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে এসব নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল নস্যাৎ করে দিচ্ছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। কাস্টমস গোয়েন্দাদের এ অভিযানের প্রভাব সরাসরি পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। এতে বৈধ পথে ব্যবসাবাণিজ্য ও প্রবাসী আয় আনায় উৎসাহিত হচ্ছেন দেশের নাগরিকরা।

এনবিআরের তথ্য অনুসারে আগস্টের প্রথম তিন সপ্তাহে দেখা যায়, প্রায় ১৫ কোটিরও বেশি টাকার পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে বড় একক অভিযান হয় চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দরে দুবাইফেরত ফ্লাইট থেকে ১,৮০২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া যাত্রীর অন্তর্বাসে লুকানো পেস্ট ও বারসহ বিভিন্ন অভিযানে কয়েক কেজি সোনা আটক করা হয়। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় মিথ্যা ঘোষণার পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক ও জরিমানা আদায়ও বেড়েছে।

অন্তর্বাসে সোনা ও ট্রলিতে গোপন পকেট, অভিনব কৌশলেও রেহাই নেই : কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি চোরাচালানকারীরা সোনা ও মূল্যবান পণ্য বহনে অত্যন্ত জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের জোরদার উপস্থিতিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের সব অপচেষ্টা। গত ১৭ আগস্ট শাহজালালে দুবাইফেরত যাত্রী থেকে ৮৮১ গ্রাম সোনা পেস্ট জব্দ করা হয়।

এর আগে ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম শাহ আমানতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি যাত্রীর অন্তর্বাস থেকে মোট ১৫০০ গ্রাম সোনা পেস্ট উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য ৩ কোটি টাকা। গত ১৫ আগস্ট শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের যাত্রীর ব্যবহৃত ট্রলির গোপন চেম্বার থেকে ১৩৩ গ্রাম সোনা ও লুকানো ২,৫৮৯ পিস ওষুধ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় প্যান্টের পকেটে লুকানো ১০০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়।

ইতিহাস গড়া চট্টগ্রাম অভিযান : গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ের বড় সিগারেটের চালান আটক করে সিআইআইডি। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ইএ১৪৮ ফ্লাইটে নজরদারি চালানো হয়। ফ্লাইটে তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৭৮২ কার্টন প্ল্যাটিনাম ও মন্ড সিগারেট এবং ১৩টি আইফোন উদ্ধার হয়।

একই ফ্লাইটের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টের একটি পরিত্যক্ত ব্যাগেজে মেলে আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। শুধু এই একক চালানেই শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মূল্য দাঁড়ায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

বিউটি ক্রিম, বিদেশি মদ ও প্রসাধনীর লাগাতার চালান জব্দ : আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকা ও উচ্চ কর এড়াতে বিভিন্ন ফ্লাইটে নিষিদ্ধ ক্ষতিকর বিউটি ক্রিম, প্রসাধন সামগ্রী ও মদ আনার প্রবণতা দেখা গেছে। গত ১৭ আগস্ট বিমানবন্দরে ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৩১৯ কেজি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম উদ্ধার করা হয়। গত ২০ ও ২১ আগস্ট পৃথক অভিযানে শত শত কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম, ভ্যাপ লিকুইড, মিল্ক পাউডার ও একাধিক আইফোন উদ্ধার হয়। গত ১২ ও ১৫ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে আগত একাধিক যাত্রীর লাগেজ থেকে দামি ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ আটক হয়।

মিথ্যা ঘোষণার আড়ালে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা নস্যাৎ : গত ৪ আগস্টে চট্টগ্রামের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সুলতানা করপোরেশনের একটি চালানে বড় ধরনের মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করা হয়। এতে ৭১ লাখ ৭২ হাজার ৬০৬ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব ও জরিমানা চূড়ান্ত করা হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানান, শুল্ক খাতে যথাযথ শুল্কায়ন ও পণ্য দ্রুত খালাস, বকেয়া আদায় ও মামলা নিষ্পত্তি, বন্ডের অপব্যবহার রোধ এবং সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিলাম কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হবে।

সাড়ে ৫ হাজার ডলারের ঘোষণায় মিলল পৌনে ২ কোটি টাকার পণ্য : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশে নামমাত্র মূল্য ঘোষণা করে আনা দুটি পৃথক চালানে কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যমানের বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, আইপ্যাড ও গাড়ির যন্ত্রাংশ আটক করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বলা হয়, সরদার গ্লোবাল ট্রেড নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের খালাসকারী প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ফাহিম ফাইভ স্টার লিমিটেডের মাধ্যমে এসব পণ্য দেশে আনা হয়। গোপন খবরের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট চালান দুটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে গোয়েন্দা সংস্থাটি। পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে পণ্যগুলোর কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। চালান দুটিতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে পণ্যের আমদানি মূল্য মাত্র সাড়ে ৫ হাজার মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছিল।

সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া ঢাকায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে সৌদি রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাশে থেকে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সফর আরও সুগম করা এবং হাজিদের দুর্ভোগ লাঘবে, বিশেষ করে মিনায় গোসলখানা ও শৌচাগার সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সৌদি আরবে ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন উল্লেখ করে সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনশক্তি নেওয়ার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সৌদি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি।

সাক্ষাৎকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার উল্লেখ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে তাদের নেতৃত্বের জন্য শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

সৌদি রাষ্ট্রদূত এ সময় জ্বালানি, সহায়তা ও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। ফলে এ সাক্ষাৎকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট নিয়ে কোনও ডেভেলপমেন্ট আছে কি না– জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট নিয়ে তো আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ এখন ইজ অ্যা কান্ট্রি অব রেকগনিশন এবং একটা আগ্রহ আছে, যারা মিডল ইস্টের (মধ্যপ্রাচ্যের) স্টেকহোল্ডার আছেন, গ্লোবালি যারা মুসলিম ওয়ার্ল্ডে... বিভিন্ন কী স্টেকহোল্ডারস... এখন বাংলাদেশের লিডারশিপ, পার্টিকুলারলি অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার তারেক রহমানের লিডারশিপে, তারা অনেক জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন টু কাম অ্যান্ড পার্টিসিপেট (আসতে ও অংশগ্রহণ করতে)।”

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, “আর মক্কা নিয়ে তো সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আছে। সেখানে মিডল ইস্টে একটা মানে যদি হয়... এমনও হয় যে ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে সেখানে তো আর যাওয়া অস্বাভাবিক না। সো, লেটস সি, ইটস বিং ভিউড পজিটিভলি (এটিকে সুদৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।”

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ন্যাটোর আদলে করা এ চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কর্মী পাঠাতে পারবে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সি, তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
কর্মী পাঠাতে পারবে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সি, তালিকা প্রকাশ করল মালয়েশিয়া

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত তালিকাটি নিয়ে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও কবে থেকে এবং কী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি মালয়েশিয়া সরকার।

এফডব্লিউসিএমএসের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন ১ জুন থেকে নতুন করে বিদেশি কর্মী প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দেয় দেশটি। এতে টিকিট থাকার পরও অনেক বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। অনেকে টিকিট না পেয়ে বিমানবন্দর থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ওই সময় প্রায় ১৭ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মালয়েশিয়া সরকার। তবে তাদেরও বড় একটি অংশ এখনো দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে এটি পুনরায় চালুর জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তবে তাতেও বাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান তারেক রহমান। তার সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়। সফরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়।

তবে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পরও বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। কবে থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু হবে, কীভাবে কর্মী বাছাই করা হবে এবং তালিকাভুক্ত ২৫টি এজেন্সি কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছে- এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।