২০ অক্টোবর ২০২৬
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে তাদের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে দেশটির সরকার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৪০টির বেশি মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু এসব এজেন্সির নাম প্রকাশের পর জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ‘সিন্ডিকেট’ উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, যেসব এজেন্সির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এগুলোর ২-৩টি ছাড়া বাকি সবই মূলত ডামি এজেন্সি, যেগুলোর পেছনে প্রভাবশালীরা সক্রিয় আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমবাজার নিয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে এবং এখানে যা হবে স্বচ্ছতার সঙ্গেই হবে। আশা করছি, দ্রুতই শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সে দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা পেয়ে যাব। কোনো গোপনীয়তা বা সিন্ডিকেট থাকবে না, নিয়ম মেনে সবাই কাজের সুযোগ পাবে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’ পরে চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়েও একই কথা বলেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক কবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা মালয়েশিয়া দেবে—তা এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানতে পারেনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা বলেছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২১ সালে, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। যদিও নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা অভিযোগের জের ধরে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে। তবে ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগে যারা সিন্ডিকেট করেছে এবং যাদের দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে তারাসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুরু থেকেই মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, ‘যাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের আমরা নিজেরাই তো চিনি না। মালয়েশিয়া সরকার তাদের কিভাবে চিনল। আসলে আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালীরা এগুলোর পেছনে আছে এবং এক্ষেত্রে বড় দুর্নীতিও কাজ করেছে।’

যদিও সিন্ডিকেট বা এ ধরনের কোনো কিছুর তৎপরতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টার নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই রবিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নির্দেশনা জারি করাকে দ্রুতই ‘শ্রমবাজার খোলার’ ইঙ্গিত বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।

ওই নির্দেশনা জারি করে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

মালয়েশিয়া সরকারে এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মী নিয়োগ কিংবা মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজে যোগদান পর্যন্ত আটটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

এর প্রথম ধাপে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বা নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মী চেয়ে আবেদন করতে হবে বা অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

এরপরের ধাপে আগ্রহী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তৃতীয় ধাপে লেভি বা নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে, যা মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং মাইআইএমএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

এরপর নিয়োগদাতা শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করবেন। এ প্রক্রিয়াটিও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর ওয়ান-স্টপ সেন্টার এবং সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এটি হয়ে যাওয়ার পর বিদেশি কর্মীর নিজ দেশের মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

এগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর ষষ্ঠ ধাপে কর্মী উৎস দেশ থেকে নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটি করতে হবে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি (আরএ) বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে।

সপ্তম ধাপে বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিয়োর) সংগ্রহ করতে হবে এবং শেষ বা অষ্টম ধাপে বিদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ওই নির্দেশনায় মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-এর তালিকা জানতে নিয়োগদাতাদের মালয়েশিয়া সরকারের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্লাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফডব্লিউসিএমএস পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ।

প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি: আবেদন শুরু হচ্ছে

প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই আবেদন করা যাবে। গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাজীবনে সহায়তা এবং মেধার বিকাশে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

জানা যায়, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কমাতে শিক্ষাবৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনের শেষ তারিখ এবং শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার শর্তাবলি উল্লেখ রয়েছে।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে।

আবেদনে কোনো ভুল বা প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা বিবেচনায় সমস্যা হতে পারে।

দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁকে তলব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করার ঘটনা ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ সরকারকে কিছু জানানো হয়নি। তবে চিঠির মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে ঘটা এই ঘটনাকে ‘আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাঠানো বার্তা অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক বা ‘ব্যভিচার’ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন ওই দুই প্রবাসী—যা সৌদি আইনে অত্যন্ত গর্হিত ও গুরুতর অপরাধ।

সেই দেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো নথিপত্র না পাওয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। সৌদি আরবের তরফ থেকে জবাব এলে নিহতদের মরদেহ ফেরত আনা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

উল্লেখ্য, গত বুধবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসী হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার, ১৮ অক্টোবর দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ এক ভারতীয় নারীকে দ্রুত কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে মাঝ আকাশে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নাশতায় নিয়মিত পাউরুটি খেলে কী হয়

যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, ওই নারীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতের নাগরিক। তাঁর সঙ্গে উড়োজাহাজে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। যাত্রীতালিকায় তাঁদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। এর মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। উড়োজাহাজটি ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে এ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

যাত্রীতালিকার তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা এয়ারপোর্টে লাগেজ নামানোর দৃশ্য সরাসরি দেখা যাবে

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের দরজা খুলে যাওয়ার মতো ঘটনা যাত্রী ও ক্রুদের জন্য গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদে উড়োজাহাজ অবতরণ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে এবং অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

তবে উড়োজাহাজটির দরজা কী কারণে খুলে গিয়েছিল, সেটি যান্ত্রিক ত্রুটি, দরজার লকিং ব্যবস্থার সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে অঞ্জনা ভৌমিকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির পর উড়োজাহাজটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার কারণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের ফলাফল পাওয়া না পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
যাত্রীশূন্য শাহজালাল বিমানবন্দর, বদলে গেছে চেনা চিত্র

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের স্বাভাবিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একসময় যেখানে যাত্রী ও স্বজনদের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা ছিল সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে অনেকটা নীরবতা। ফাঁকা আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল, গাড়িশূন্য পার্কিং এবং যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অনুপস্থিতিতে বিমানবন্দরের চেনা চিত্রই যেন বদলে গেছে।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। বিমানবন্দরের সামনের গাড়ি পার্কিং এলাকাও ছিল প্রায় ফাঁকা। আগে যেখানে যাত্রীদের নিতে আসা স্বজনদের ভিড়, গাড়ির চাপ এবং টার্মিনালে প্রবেশের তাড়াহুড়ো দেখা যেত, সেখানে এখন অনেকটাই নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় দেশে প্রবাসীদের আসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সৌদিগামী অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বহির্গমন টার্মিনালেও যাত্রীর চাপ কমে গেছে।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের ফ্লাইট অবতরণের সময় বিমানবন্দরে স্বজনদের ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। একজন প্রবাসীকে নিতে অনেক সময় সাত থেকে আটজন পর্যন্ত স্বজন বিমানবন্দরে আসেন। এতে টার্মিনালের বাইরের অংশ এবং গাড়ি পার্কিং এলাকায় প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। জায়গার অভাবে অনেককে যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচিত দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

দুবাই থেকে আসা ভাইকে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, আগেও একাধিকবার বিমানবন্দরে এসেছেন, তবে এবারকার মতো এতটা ফাঁকা পরিবেশ আগে দেখেননি।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে দায়িত্ব পালনকারী এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, যাত্রী কম থাকায় বিমানবন্দর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের সামলাতে যে চাপ ছিল, বর্তমানে তা নেই। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে।

বহির্গমন টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমেছে। কিছু ওমরাহযাত্রী দেখা গেলেও আগের মতো ভিড় ছিল না। কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে বিমানবন্দরে এসে যে ভিড় দেখেছিলেন, এবার তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র চোখে পড়েছে।

যাত্রী কমে যাওয়ায় কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও আপাতত কাজের চাপ কম অনুভব করছেন। তবে দীর্ঘদিনের ব্যস্ত পরিবেশে অভ্যস্ত কর্মীদের কাছে এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আট দিনে শাহজালাল বিমানবন্দরে ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন আরও হাজারো প্রবাসী।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেফতার

দুর্নীতির মামলায় বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে গত বছর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রথম মামলায় অভিযোগে বলা হয়, শেখ আব্দুল হান্নান বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।

স্বামী প্রবাসে, অন্য ব্যক্তির ভাড়া বাসায় মিললো স্ত্রীর মরদেহ

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলায় তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই মামলায় তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং তাকে সহায়তা করার অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ