২৫ আগস্ট ২০২৬

ইউক্রেনের জন্য ৬.১ বিলিয়ন ইউরোর নতুন প্রতিরক্ষা প্যাকেজ ইইউর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
ইউক্রেনের জন্য ৬.১ বিলিয়ন ইউরোর নতুন প্রতিরক্ষা প্যাকেজ ইইউর

ইউক্রেনের জন্য ৬.১ বিলিয়ন ইউরো (৭.১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের নতুন প্রতিরক্ষা সহায়তা অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় কমিশন। স্থানীয় সময় সোমবার অনুমোদিত এ সহায়তার আওতায় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও রাডার সরবরাহ করা হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে ইউরোপ তাদের সমর্থন অটুট ও সুনির্দিষ্ট থাকার বিষয়টি তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া হামলা জোরদার করায় ইউক্রেনের জনগণকে সুরক্ষা এবং দেশটির আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে সহায়তা করা জরুরি। ইউরোপ ইউক্রেনের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

এই অর্থায়ন ৯০ বিলিয়ন ইউরো (১০৫.১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের অংশ। ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য এই ঋণের আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে ৬০ বিলিয়ন ইউরো এবং বাজেট সহায়তা হিসেবে ৩০ বিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ দ্রুত করা এখন আরও জরুরি হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ অনুমোদনের সঙ্গে ইউক্রেন সাপোর্ট লোনের আওতায় ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১৬ বিলিয়ন ইউরোর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় পরিকল্পনাও যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮.৩৫ বিলিয়ন ইউরো ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

ইইউ জানিয়েছে, অধিকাংশ সরঞ্জাম ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কেনা হবে। বিদ্যমান মজুত ব্যবহার, অর্ডারের অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাস এবং উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সরবরাহ দ্রুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি জমা দিয়ে ইউক্রেন অর্থ ছাড়ের আবেদন করতে পারবে। তবে তহবিল ছাড়ের আগে চুক্তিগুলো ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে সম্মত হওয়া ক্রয় পরিকল্পনার আওতায় পড়ে কি না, তা যাচাই করা হবে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইইউ কাউন্সিল ৯০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের ইউক্রেন সাপোর্ট লোন অনুমোদন করে।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ইইউ ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনকে মোট ২২০.২ বিলিয়ন ইউরো (২৫৬.৯ বিলিয়ন ডলার) সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয় করা সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩.৮ বিলিয়ন ইউরোও রয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণে নিজেদের পরিচয় লুকাচ্ছেন অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিদেশ ভ্রমণে নিজেদের পরিচয় লুকাচ্ছেন অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিক!

বিদেশ ভ্রমণের সময় নিজেদের ইসরাইলি পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় বা উদ্বেগ বোধ করেন দেশটির ৫২ শতাংশ মানুষ। সেন্টার ফর জুইশ ইমপ্যাক্টের সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে তারা আচরণে পরিবর্তন এনেছেন। কেউ ভ্রমণের গন্তব্য পরিবর্তন করেছেন, কেউ সফর বাতিল করেছেন। আবার কেউ বিদেশে কিছু কার্যক্রম এড়িয়ে চলছেন।

জরিপে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়েও মানুষের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। ৬৪ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী। তবে মাত্র ২৩ শতাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নীতি ও অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারছে ইসরাইল।

এ ছাড়া ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরাইলের জনকূটনীতি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার কার্যক্রমকে অকার্যকর বলে মনে করেন।

তবে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে গেছে বলে মনে করেন না অধিকাংশ উত্তরদাতা। ৩৩ শতাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল তৈরি করে জনকূটনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা সবচেয়ে জরুরি। ২৫ শতাংশ মনে করেন, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। মাত্র ১৪ শতাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব নয়।

দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও জরিপে কিছু ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসরাইল এখনো একটি ঐক্যবদ্ধ সমাজ হিসেবে টিকে থাকতে পারে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জরিপে এই হার ছিল ৬৭ শতাংশ।

তবে ধর্মনিরপেক্ষ ইসরাইলি ও কট্টরপন্থী অর্থডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থান সম্ভব বলে মনে করেন ৬৪ শতাংশ। আর ইহুদি ও আরবদের সহাবস্থান সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন মাত্র ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান শি জিনপিংয়ের

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার বেইজিংয়ে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শি জিনপিং বলেন, চীন সবসময় একটি সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে।

তিনি বলেন, জর্ডানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সম্মান জানানো উচিত। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডানের ‘অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার’ কথাও তুলে ধরেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি ‘সর্বাত্মক, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধানের’ আহ্বান জানিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার পক্ষে।

এমন সময়ে দুই নেতার বৈঠক হলো, যখন জর্ডান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার জোট এবং অন্যদিকে ওয়াশিংটন, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যে কঠিন অবস্থানে রয়েছে। News

বৈঠকে চীন ও জর্ডান কূটনীতি, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চুক্তি সই করেছে। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারেরও আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের নিশানায় ট্রাম্পের ছেলে? ১ কোটি ডলার পুরষ্কার ঘোষণা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
ইরানের নিশানায় ট্রাম্পের ছেলে? ১ কোটি ডলার পুরষ্কার ঘোষণা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের ওপর সরাসরি নজরদারির এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। একই সঙ্গে দেশের বাইরে থাকা তার কনিষ্ঠ পুত্রকে নিশানা করে মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল থ্রিতে সম্প্রতি একটি বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ‘হোয়্যার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প’ শিরোনামের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারনের বিভিন্ন গতিবিধি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, ব্যারন সম্পূর্ণভাবে তাদের নজরদারিতে রয়েছেন। তিনি নিয়মিত নিরাপত্তাকর্মীদের নজর এড়িয়ে এক্সবক্স, ফিফা গেম ও ডিসকর্ড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর আগে গত মাসে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে লক্ষ্য করেও একই ধরনের ভিডিও প্রচার করেছিল তেহরান।

তবে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্প পরিবারের সব সদস্য এবং তাদের বাসভবনে সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ঘোষণা দিয়েছেন, ঠিক তখনই এই বিতর্কিত ভিডিওটি সামনে আনা হলো। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের সামরিক পরাজয় বলে দাবি করেছে ইরান।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধস ...

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তায় রেকর্ড ধস ...

চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে অভিশংসনের মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে শুক্রবার সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের শেষ দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

মার্টল বিচে এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, আমি অভিশংসিত হতে যাচ্ছি। তারা আমাকে অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণাই নেই।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগে দুবার অভিশংসনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তিনি বেঁচে যান। অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন। তবে এসব উদ্যোগ তেমন অগ্রগতি পায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। দলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটারদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি জরিপে সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

তবে শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, রিপাবলিকান ভোটাররা নির্বাচনে ভোট না দিলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাতিল করে দেবে।

তিনি বলেন, আমরা হেরে গেলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, কর কমানোর সুবিধা হারাবেন, আমরা যা করেছি সব হারাবেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিকের ওপর কর না থাকার মতো পদক্ষেপও ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে বাতিল হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, আপনাদের কর বেড়ে যাবে। আপনাদের বেতন কমে যাবে। চাকরি হারাবেন। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের প্রচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল ডারলাইন গ্রাহামের পক্ষে সমর্থন আদায় করা। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম সিনেটর হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন।

তবে নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জয় পাননি। ফলে মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নিতে হবে।

গ্রাহামের নির্বাচনী সাফল্য ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নিজ দলের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তার সমর্থিত প্রার্থীদের জয় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মঙ্গলবার রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের পছন্দের তিন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী না হলেও ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে হবে যেন ব্যালটে তার নাম রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বলে, ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকে, তখন ভালো করে। কিন্তু যখন ব্যালটে থাকে না, তখন তার লোকজন ভোট দিতে আসে না। তাই আমি চাই আপনারা দয়া করে এমনটা ভাবুন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন আদালত

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন আদালত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই পদক্ষেপকে তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন আদালত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ম্যানহাটন আদালতের বিচারক জিনেট ভার্গাস তার রায়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিতের নীতি স্পষ্টতই বেআইনি। কারণ এটি ফেডারেল অভিবাসন আইনের পরিপন্থী, যা কনসুলার কর্মকর্তাদের ভিসা অনুমোদনের ক্ষমতার ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

বিচারক ভার্গাস আরও জানান, নির্দিষ্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে সরাসরি অভিবাসন ভিসা স্থগিত করা দেশের মূল বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার একচ্ছত্র লঙ্ঘন। এর আগে তৎকালীন ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এই বিচারকের আদালতে একটি মামলা দায়ের করে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার নামক দুটি অধিকার রক্ষা সংস্থা, ভিসা আবেদনকারী এবং তাদের মার্কিন নাগরিক স্বজনরা।

ভিসা নীতির পর্যালোচনায় বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিতভিসা নীতির পর্যালোচনায় বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসা স্থগিত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ের মতো লাতিন আমেরিকার দেশ, অ্যালবেনিয়া ও বসনিয়ার মতো বলকান অঞ্চল, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশ এবং আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিস্তর অভিবাসন প্রত্যাশীরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই দেশগুলোর নাগরিকরা মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন অজুহাতে পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন বিরোধী কড়া পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ৩৯টি দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং ডিসেম্বরের বৈচিত্র্যময় ভিসা স্থগিতের ধারাবাহিকতায় এই স্থগিতাদেশটি জারি করা হয়েছিল।

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে এই নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি অধিকার হরণ করেছে, যদিও পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আদালতের এই রায়ের বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।