২৫ আগস্ট ২০২৬

সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

তুরস্ক এখন শুধু ন্যাটোর বড় সামরিক শক্তি নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। দেশটির হাতে বিপুলসংখ্যক সেনা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত শক্তিশালী করছে আঙ্কারা।

২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তুরস্কের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং দেড় লাখের মতো আধাসামরিক সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

স্থলবাহিনী তুরস্কের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশটির কাছে প্রায় ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার।

আকাশপথেও তুরস্কের শক্তি বড়। দেশটির সামরিক বহরে প্রায় ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার রয়েছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমান বহরের মূল শক্তি এখনো এফ-১৬। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি কেএএএন যুদ্ধবিমানও উন্নয়ন করছে দেশটি।

তবে তুরস্কের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ড্রোন। দেশটির বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ বিশ্বের পরিচিত সামরিক ড্রোনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তুরস্ক এখন বিভিন্ন দেশে এসব ড্রোন রপ্তানিও করছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

নৌবাহিনীতেও তুরস্কের বড় উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির নৌবহরে প্রায় ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিন। কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের নৌবাহিনী সক্রিয়। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির নিয়ন্ত্রণও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের অংশ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, এখন তা ৮৫ শতাংশের বেশি বলে তুরস্কের সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সামরিক শক্তির পেছনে ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থান করার পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত রয়েছে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার সঙ্গে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস, বলকান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তুরস্ক বহু বছর ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তির সুবিধাও পাচ্ছে দেশটি।

তবে শুধু ট্যাংক, বিমান বা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি করাতে 'অর্থনৈতিক আক্রমণ' শুরু করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও ট্রাম্পের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধের' অংশ হলে তাদের 'শত্রু' হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাদের স্বার্থেও আঘাত হানা হবে।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে 'অভূতপূর্ব মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার' মুখে পড়তে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রেজায়ি বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো আরও চাপ প্রয়োগের উপায় রয়েছে। তিনি দাবি করেন, 'আমরা এখনো কোনো মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলা করিনি।'

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত আমরা শুধু সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছি। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তাহলে ইরানের আশপাশে এবং অন্যত্র যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কোম্পানি রয়েছে। আমরা সেগুলোতে হামলা করব।'

ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত 'ভূমিকম্পের মতো' হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রেজায়ি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম তেহরান সরাসরি মার্কিন ও পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিল। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো তেল কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে ইরান।

এদিকে দ্য টেলিগ্রাফ শনিবার জানিয়েছে, ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ করে রেখেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের এই হুমকি ট্রাম্পের গত বুধবারের সতর্কবার্তারই প্রতিধ্বনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে 'যেকোনো ধরনের সহায়তা' দেওয়া দেশগুলোকে 'ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির' মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেহরানের বিরুদ্ধে 'এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান' চালানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

দ্য টেলিগ্রাফ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বেসেন্ট জানিয়েছেন, তিনি সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে 'ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা' নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে কোন মার্কিন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, তা নির্দিষ্ট করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিতেও হামলার হুমকি দিয়েছিল। এরপর সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনার বাইরে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অনেকটাই এড়িয়ে চলেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোতে হামলা হলে তা ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে।

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত হবে। শনিবার রাতে তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চিহ্নিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটির নিচে তিনি লেখেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড।'

ইরান এর আগেও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে।

শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ও জ্বালানি ট্যাংকারকে আশ্রয় দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, হামলার শিকার হলে পরে যেন তারা অভিযোগ না করে। বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শনিবার দাবি করেন, বিশ্ব ইতোমধ্যে তেহরানের 'বিজয় মেনে নিয়েছে' এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ব্যাপকভাবে 'ঘৃণা' করা হয়।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত তেমন সফল হননি। সর্বাত্মক যুদ্ধ আবার শুরু করতে অনিচ্ছুক এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতার অভাব থাকায় তিনি এখন ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর পথেই এগোচ্ছেন।

তবে এই কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠতে পারে। বহু বছর ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকলেও ইরানকে এখনো নতি স্বীকার করানো যায়নি।

তবু ট্রাম্পের বিশ্বাস, নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করা গেলে শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকার চুক্তিতে রাজি হতে বাধ্য হবে।

সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

তুরস্ক এখন শুধু ন্যাটোর বড় সামরিক শক্তি নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। দেশটির হাতে বিপুলসংখ্যক সেনা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত শক্তিশালী করছে আঙ্কারা।

২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তুরস্কের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং দেড় লাখের মতো আধাসামরিক সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

স্থলবাহিনী তুরস্কের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশটির কাছে প্রায় ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার।

আকাশপথেও তুরস্কের শক্তি বড়। দেশটির সামরিক বহরে প্রায় ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার রয়েছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমান বহরের মূল শক্তি এখনো এফ-১৬। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি কেএএএন যুদ্ধবিমানও উন্নয়ন করছে দেশটি।

তবে তুরস্কের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ড্রোন। দেশটির বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ বিশ্বের পরিচিত সামরিক ড্রোনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তুরস্ক এখন বিভিন্ন দেশে এসব ড্রোন রপ্তানিও করছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

নৌবাহিনীতেও তুরস্কের বড় উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির নৌবহরে প্রায় ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিন। কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের নৌবাহিনী সক্রিয়। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির নিয়ন্ত্রণও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের অংশ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, এখন তা ৮৫ শতাংশের বেশি বলে তুরস্কের সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সামরিক শক্তির পেছনে ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থান করার পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত রয়েছে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার সঙ্গে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস, বলকান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তুরস্ক বহু বছর ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তির সুবিধাও পাচ্ছে দেশটি।

তবে শুধু ট্যাংক, বিমান বা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের

গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে তাকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও আরও একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও আটকের ঘটনায় মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গুরলেক জানান, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে তাকে খুঁজে বের করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করা হয়েছে। গাজায় সংঘটিত অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত মে মাসে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত দুটি নৌযানে হামলা চালিয়ে সেগুলো আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরে প্রায় ৫০টি নৌযান ছিল। নৌযানগুলো থেকে আটক কর্মীদের পরে ইসরায়েলের একটি কারাগারে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

তুরস্কের এ উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পদক্ষেপকে ‘ভয় দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি এরদোয়ানকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিযোগ করে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।

এর জবাবে এরদোয়ানের কার্যালয় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের ইসরায়েলি প্রচেষ্টার নিন্দা জানায়।

কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়: দাবি তেহরানের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়: দাবি তেহরানের
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের ‘মিসিং ইন অ্যাকশন সার্চ কমিটি’র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরজাদেহ। ছবি : সংগৃহীত।

কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় বলে দাবি করেছে ইরান। তাদের দ্রুত স্থলভাগের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাঘেরজাদেহ বলেন, তিন পাইলটকে উপকূলের বাইরে পানির ওপর থাকা একটি স্থানে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বাঘেরজাদেহ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান। তিনি আটক পাইলটদের দ্রুত স্থলভাগের হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অসুস্থ ও আহতদের দ্রুত ইরানে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির কাছে কাতারে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে ইরানি পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর এবং যোগাযোগের একাধিক চেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় কাতারি বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

কাতারের দাবি, নিখোঁজ তিন বিমানচালকের সন্ধানে তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এরই মধ্যে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে ইরানের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ইরানি একটি দলকে কাতারে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

এর আগে ১৬ আগস্ট বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছিলেন, পাইলটদের কী হয়েছিল তা তদন্ত করতে ইরানের একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল কাতারে পাঠানোর বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ দেরি করছে। কাতার অবশ্য সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

সর্বশেষ বক্তব্যে বাঘেরজাদেহ কাতারের পক্ষ থেকে ইরানি বিশেষজ্ঞদের গ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দোহার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাইলটদের আটকের অভিযোগ একদিকে কাতার অস্বীকার করলেও অন্যদিকে তাদের অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইরানের বক্তব্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে তিন পাইলটকে ঘিরে দুই দেশের বক্তব্যে এখনো পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।

মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) শেষ হওয়ার পরপরই নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের বদল এনে এখন আরও আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানান, দেশ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত।

মে মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান 'ইসলামাবাদ স্মারক' সই করেন। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই এই চুক্তি হয়েছিল। পরমাণু কর্মসূচির মতো ইস্যুগুলোকে পরে আলোচনার জন্য রেখে চুক্তিতে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্মারকে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হবে। এই চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কোনো পক্ষই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়নি।

জাভানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আগে যুদ্ধ শুরু করেছে। এত দিন আমরা আত্মরক্ষা করেছি। এখন আমরা আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারি।’

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি। প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের চমক (স্ট্র্যাটেজিক সারপ্রাইজ) অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে গত সপ্তাহে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি জানান, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থায় আক্রমণ হবে।

ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা স্থল হামলা চালানো হতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকরা এমন অভিযানের বাস্তবায়ন ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানে কোনো স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি গত সপ্তাহে আইআরজিসির পুরোনো ও বিশ্বস্ত কমান্ডারদের সামরিক ও নিরাপত্তার শীর্ষে বসিয়েছেন। সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরই আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (অফেন্সিভ ডিট্যারেন্স) গড়ে তোলার ঘোষণা আসে।

আইআরজিসির নতুন প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা। নির্দেশনায় শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি রাখার কথা বলা হয়েছে।

ওয়াহিদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইরান হেরে গেছে। সাগরে নৌ-অবরোধ দিয়ে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। হরমুজকে খুব দ্রুত আমেরিকার ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস পরে দাবি করে এই কথা ট্রাম্প ‘কৌতুক’ করে বলছেন।

জবাবে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন, তাঁদের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা নামলে তাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ অর্থ দেওয়া হবে।

হাতামি বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের আঘাত করার সব পথ খোলা রয়েছে।’

সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ভিন্ন দাবি করেছেন। রেজাইয়ের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল অভিযানের কথা ভাবছিল। অপরিপক্ব পরিকল্পনার কারণে তারা পিছিয়ে গেছে।

রেজাই জানান, জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের উত্তেজনার সময় মার্কিন বাহিনী তেহরান বা উত্তরাঞ্চলে হামলা করেনি। ১৫টি প্রদেশের প্রায় ৫০টি শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। দক্ষিণ ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। সড়ক, সেতু, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, রাডার ও উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

রেজাইয়ের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দখল এবং ইসফাহানের পরমাণু কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থল হামলার পথ তৈরিই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

রেজাই বলেন, ‘হরমুজে সেনা নামাতে অন্তত এক লাখ সৈন্যের প্রয়োজন। চল্লিশ বা পঞ্চাশ হাজার সৈন্য দিয়ে সম্ভব নয়। জাগ্রোস পর্বতমালা ও ফার্স প্রদেশ পার হওয়া সহজ নয়।’

ইরানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল ও দ্বীপগুলো রক্ষায় বড় প্রস্তুতি নিয়েছে। খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। হরমুজের চারপাশে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বিশেষ সেনা পাঠানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ-রেজা আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমাদের মাটিতে বিদেশি সেনাদের নামতে দেওয়া হবে না। মার্কিন বাহিনী আমাদের কোনো দ্বীপে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে আঘাত করা হবে।’

অন্যদিকে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা সশস্ত্র দলগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আইআরজিসি।

সোমবার আইআরজিসির রাজনৈতিক প্রধান জাভানি জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতার শর্ত যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মানে তবেই কেবল হরমুজ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমঝোতা চুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে যুদ্ধের জন্য বড় সংকট মনে করছে না তেহরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, কোনো হুমকি বা আল্টিমেটামে ইরান নীতি পরিবর্তন করে না। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার হিসাব মাথায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং কিছু পক্ষের বাধা সৃষ্টির কারণে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।