১৩ আগস্ট ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' (Makkah Joint Deterrence Agreement) কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই সমঝোতাকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জোটে আরও বেশি সংখ্যক মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে চায় আঙ্কারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই জোটকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাতার রূপ দেওয়া হবে।

কী রয়েছে 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স' চুক্তিতে?

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো হলো:

  • যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি: জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের যেকোনো সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পদ্ধতিতে, কতখানি এবং কী ধরনের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে—তা তাৎক্ষণিক ট্রিপক্ষীয় পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

  • কাউকে লক্ষ্য না করা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো দেশ আক্রান্ত না হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই জোটের হুমকি হিসেবে ধরা হবে না। এছাড়া ন্যাটোর (NATO) সক্রিয় সদস্য তুরস্ক এবং সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ (যেমন: ইরান)-কে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি বিদ্যমান কৌশলগত জোটের বিকল্প নয়।

পরবর্তী সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে কাদের নাম আলোচনায়?

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈশ্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পরবর্তী ধাপে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে:

সম্ভাব্য সদস্য দেশ যোগদানের সম্ভাবনা ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
মিসর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মতে, মিসর এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’। কায়রোকে নিয়ে 'আর-৪' (R-4) ফ্রেমওয়ার্কে কাজ চলছে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলেই মিসর এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে, যা জোটের সামরিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
কাতার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারে কাতারকে সবচেয়ে স্বাভাবিক সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসির সকল দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুয়েত কাতার ও কুয়েত উভয় দেশেরই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় দেশই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত যৌথ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নিশ্চিতে আগ্রহী।
অন্যান্য দেশ কৌশলগত কারণে আজারবাইজান, জর্ডান এবং নতুন গতিপথের সিরিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

মিসরের যোগদানে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামনে কিছু আইনি ও কূটনৈতিক বাধা রয়েছে:

১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংক্রান্ত নীতি: কায়রো এমন কোনো কঠোর সামরিক বাধ্যবাধকতায় যাবে না যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক, বিদ্যমান সামরিক সহায়তা এবং পূর্বের শান্তিকৌশলকে সংকটে ফেলে।

২. নিজেদের শর্ত ও অবস্থান: লিবিয়া বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অবস্থান কিংবা অন্য দেশের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর মতো বাধ্যবাধকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে কায়রো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ন্যাটোর মতো কঠোর কোনো একীভূত সামরিক কমান্ড অর্গানাইজেশন হবে, নাকি 'ইচ্ছুক দেশগুলোর' (Coalition of the Willing) একটি নমনীয় কিন্তু কার্যকর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে মিসর, কাতার ও কুয়েতের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ওপর। তবে এটি যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

(তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি)

ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্স এমিরেটস, কাতার ও ইতিহাদ

বিজনেস ক্লাসে রাজত্ব কাতার এয়ারওয়েজের, সার্বিক পছন্দে শীর্ষে এমিরেটস!
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্স এমিরেটস, কাতার ও ইতিহাদ

২০২৬ সালের Flyers’ Choice Awards-এ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্সের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের ভোটে এমিরেটস অঞ্চলটির পছন্দের এয়ারলাইন হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। দ্বিতীয় হয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

AirlineRatings.com আয়োজিত এই পুরস্কারের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে যাত্রীদের ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন কেবিন শ্রেণি, সেবা, যাত্রী আস্থা এবং আঞ্চলিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে মূল্যায়ন করেছেন যাত্রীরা।

পুরস্কারে এমিরেটস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ভালো ফল করেছে। দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনটি ‘Preferred Premium Economy Airline’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া ‘Preferred Business Class’ বিভাগে কাতার এয়ারওয়েজের পর দ্বিতীয় এবং ‘Preferred Economy’ বিভাগে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এমিরেটস।

কেবিন ক্রুদের সেবার ক্ষেত্রেও এমিরেটস উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। ‘Best Cabin Crew’ বিভাগে এয়ারলাইনটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। একই বিভাগে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তৃতীয় হয়েছে।

যাত্রীদের আস্থা ও স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিহাদের অবস্থান শক্তিশালী। ‘Peace of Mind’ বিভাগে আবুধাবিভিত্তিক এয়ারলাইনটি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ তালিকায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস দ্বিতীয় হয়েছে। একই বিভাগে এমিরেটস চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

বিমানের বাহ্যিক নকশা বা লিভারির ক্ষেত্রেও ইতিহাদ স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘Best Aircraft Livery’ বিভাগে এয়ারলাইনটি তৃতীয় হয়েছে। এ বিভাগে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স প্রথম এবং এয়ার নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

এবারের পুরস্কারে সবচেয়ে বেশি বিভাগে জয় পেয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। চারটি শিরোপা জিতে তারা এবারের সবচেয়ে সফল এয়ারলাইন হয়েছে। তারা ‘Preferred Economy Airline’, ‘Best Cabin Crew Service’, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পছন্দের এয়ারলাইন এবং যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ‘Peace of Mind’ দেওয়া এয়ারলাইন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এদিকে কাতার এয়ারওয়েজ ‘Preferred Business Class’ বিভাগে প্রথম হয়েছে এবং এমিরেটস ‘Preferred Premium Economy’ বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

আঞ্চলিক ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডেল্টা এয়ার লাইনস, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কান্তাস এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ক্যাথে প্যাসিফিক শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

Flyers’ Choice Awards-এর বিশেষত্ব হলো, এটি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পরিবর্তে সরাসরি যাত্রীদের ভোটের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করে। ফলে যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পছন্দের প্রতিফলনই এ পুরস্কারের মূল ভিত্তি।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' (Makkah Joint Deterrence Agreement) কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই সমঝোতাকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জোটে আরও বেশি সংখ্যক মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে চায় আঙ্কারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই জোটকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাতার রূপ দেওয়া হবে।

কী রয়েছে 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স' চুক্তিতে?

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো হলো:

  • যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি: জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের যেকোনো সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পদ্ধতিতে, কতখানি এবং কী ধরনের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে—তা তাৎক্ষণিক ট্রিপক্ষীয় পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

  • কাউকে লক্ষ্য না করা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো দেশ আক্রান্ত না হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই জোটের হুমকি হিসেবে ধরা হবে না। এছাড়া ন্যাটোর (NATO) সক্রিয় সদস্য তুরস্ক এবং সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ (যেমন: ইরান)-কে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি বিদ্যমান কৌশলগত জোটের বিকল্প নয়।

পরবর্তী সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে কাদের নাম আলোচনায়?

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈশ্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পরবর্তী ধাপে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে:

সম্ভাব্য সদস্য দেশ যোগদানের সম্ভাবনা ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
মিসর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মতে, মিসর এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’। কায়রোকে নিয়ে 'আর-৪' (R-4) ফ্রেমওয়ার্কে কাজ চলছে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলেই মিসর এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে, যা জোটের সামরিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
কাতার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারে কাতারকে সবচেয়ে স্বাভাবিক সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসির সকল দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুয়েত কাতার ও কুয়েত উভয় দেশেরই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় দেশই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত যৌথ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নিশ্চিতে আগ্রহী।
অন্যান্য দেশ কৌশলগত কারণে আজারবাইজান, জর্ডান এবং নতুন গতিপথের সিরিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

মিসরের যোগদানে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামনে কিছু আইনি ও কূটনৈতিক বাধা রয়েছে:

১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংক্রান্ত নীতি: কায়রো এমন কোনো কঠোর সামরিক বাধ্যবাধকতায় যাবে না যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক, বিদ্যমান সামরিক সহায়তা এবং পূর্বের শান্তিকৌশলকে সংকটে ফেলে।

২. নিজেদের শর্ত ও অবস্থান: লিবিয়া বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অবস্থান কিংবা অন্য দেশের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর মতো বাধ্যবাধকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে কায়রো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ন্যাটোর মতো কঠোর কোনো একীভূত সামরিক কমান্ড অর্গানাইজেশন হবে, নাকি 'ইচ্ছুক দেশগুলোর' (Coalition of the Willing) একটি নমনীয় কিন্তু কার্যকর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে মিসর, কাতার ও কুয়েতের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ওপর। তবে এটি যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

(তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি)

দুই দশকের সামরিক মিশনের সমাপ্তি: ইরাক থেকে সব সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
দুই দশকের সামরিক মিশনের সমাপ্তি: ইরাক থেকে সব সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এরপর ১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না বলে জানিয়েছে ইরাকি সরকার।

বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে আইএসআইএসবিরোধী বৈশ্বিক জোটের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং জোটের সেনা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন থেকে ইরাকে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না। বৈঠকে আল জাইদি ও জেনারেল কুপার ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে একমত হন।

এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন শুরু হয়। পরে ২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আইএসআইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।

সামরিক মিশন শেষ হওয়ার পর ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাগদাদ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইরাকে বর্তমানে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছেন এবং তাদের কোথায় সরিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ওয়াশিংটনের দাবি, আইএসআইএসকে পরাজিত করার লড়াইয়ে ইরাক, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের অংশীদাররা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এখন দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গাসহ অন্যান্য স্থানীয় বাহিনীই নেতৃত্ব দেবে।

গত বছর ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে মার্কিন সেনারা বিভিন্ন ঘাঁটি ছেড়ে গেলেও স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে কিছু মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কয়েক দফা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ন্যাটোর আদলে মক্কা চুক্তি: সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোটে এবার কি মিসর?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
ন্যাটোর আদলে মক্কা চুক্তি: সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোটে এবার কি মিসর?
মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষর করছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান (বাম থেকে), সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ; ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায়। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিসরও যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জানিয়েছেন, জোটটিতে কায়রোর যোগ দেওয়ার পথে কয়েকটি কারিগরি বিষয় (টেকনিক্যাল ইস্যুজ) এখনো সমাধান হয়নি।

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন হাকান ফিদান। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ও শুক্রবার মিসরের রাজধানী কায়রো সফর করছেন তিনি। তবে মিসরের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাকান ফিদানের বক্তব্যের পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জোটটি আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল বুধবার লন্ডনভিত্তিক দৈনিক আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না তুরস্ক।

এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল এই তিন দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা চাই এর পরিধি আরও প্রসারিত হোক। হয়তো একদিন এমন উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হবে, যখন এই অঞ্চলের প্রতিটি দেশ একই ছাতার নিচে একত্রিত হতে পারবে।’

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ন্যাটোর মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে বলা হয়েছে, জোটের কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে বাকি সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া নতুন বাস্তবতা থেকেই এ ধরনের একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এখন আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।

তবে মিসরের যোগদানের পথে ফিদান যে ‘টেকনিক্যাল ইস্যুজ’ বা ‘কয়েকটি কারিগরি বিষয়’-এর কথা বলেছেন, সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তিনি জানাননি। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে চুক্তির কাঠামো ও সদস্যপদসংক্রান্ত শর্তাবলি রয়েছে। বিষয়টির পেছনে গভীর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও থাকতে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটে মিসরকে নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, ন্যাটোর মতো যৌথ সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা মেনে কায়রোও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ফলে ফিদানের ভাষায় ‘কারিগরি বিষয়’ হলেও এর সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা-স্বার্থ, পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির মাত্রা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমীকরণের মতো বিষয় জড়িত থাকতে পারে।

তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত!

বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তুরস্কে। তবে বিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

গতকাল বুধবার তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

মন্ত্রণালয় জানায়, নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় ইয়ালোভায় একটি এফ-১৬ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তদন্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তুরস্কের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম এনটিভির সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আগুনের গোলা এবং ঘন কালো ধোঁয়া উড়ছে। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।

এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান। আকাশযুদ্ধ, স্থল হামলা ও বিভিন্ন সামরিক অভিযানে বহু দেশ এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আসছে। দ্রুতগতি, উচ্চ চালনক্ষমতা ও বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতার কারণে এফ-১৬ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত। বর্তমানে এফ-১৬ তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি কোম্পানি ‘লকহিড মার্টিন’।

তুরস্কের কাছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের বড় বহর রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এফ-১৬ পরিচালনা করছে এবং নতুন তৈরি ও আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছে।