৮ আগস্ট ২০২৬

গাজায় মরক্কোর সেনা: মানবিক মিশন নাকি ইসরায়েলকে সমর্থন?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০২৬
গাজায় মরক্কোর সেনা: মানবিক মিশন নাকি ইসরায়েলকে সমর্থন?


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং ‘বোর্ড অফ পিস’-এর উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) সেনা পাঠাতে সম্মত হয়েছে মরক্কো। প্রথম আরব ও আফ্রিকান দেশ হিসেবে উত্তর আফ্রিকার দেশটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল। গত ১৫ জুলাই রাজধানী রাবাতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইএসএফ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা এবং ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মহাপরিচালক নিকোলে ম্লাদেনভের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ অধিনায়ক এবং আল-কুদস কমিটির সভাপতি; তার নির্দেশেই মূলত এই সামরিক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে গাজার রাফাহ শরণার্থী শিবিরে ৫০০ সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে তা কমিয়ে ২০০ জওয়ানে নামিয়ে আনা হয়।

রাবাতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সামরিক মুখপাত্রদের দাবি, এই পদক্ষেপ মূলত একটি মানবিক মিশন এবং অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টারই অংশ। দেশটির ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতেই এই অবদান রাখা হচ্ছে। সরকারি খাতের সমর্থকরা গাজায় একটি ফিল্ড হাসপাতাল বা সামরিক হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনাকে প্রধান মানবিক সাফল্য হিসেবে সামনে তুলে ধরছেন।

কিন্তু মরক্কো সরকারের এই মানবিক আখ্যানকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সেদেশের নাগরিক সমাজ এবং ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীরা। তাদের মতে, মরক্কোর এই পদক্ষেপের আড়ালে মূলত ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতিকেই পরোক্ষ সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বয়কট আন্দোলন বিডিএস-এর প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই কথিত হাসপাতাল স্থাপন একটি ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয় এবং রাবাত প্রকৃতপক্ষে গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ নিষ্ক্রিয় করা ও মার্কিন-ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার ভূমিকায় নামছে।

ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ট্রাম্পের প্রস্তাবের আলোকেই তাদের নিরস্ত্রীকরণের শর্তসাপেক্ষ ঘোষণা দিলেও ইসরায়েল সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বদলে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সেখানে নতুন করে অবৈধ বসতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মরক্কোর মতো একটি আরব দেশের সেনা মোতায়েন ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও সামরিক নিয়ন্ত্রণকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

দেশের ভেতরেও সরকারের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মরক্কোবাসীদের মধ্যে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ অনুসারে, মরক্কোর সাধারণ মানুষের প্রায় ৮৯ শতাংশই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ মেনে নিতে রাজি নয়। তরুণ সমাজ এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের একাংশ এই ঘটনাকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে সংঘটিত গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাজধানী রাবাতসহ বিভিন্ন শহরে রাষ্ট্রীয় চাপ সত্তেও জনগণ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মরক্কোর রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনমতের মধ্যবর্তী ব্যবধান দিনে দিনে আরও স্পষ্ট ও চওড়া হচ্ছে। মরক্কো সরকার এই স্বাভাবিকীকরণকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডগত স্বার্থ অর্থাৎ পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন স্বীকৃতি পাওয়ার কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখে আসছিল। কিন্তু বাস্তবে ইসরায়েলি ভূখণ্ডগ্রাসী নীতির কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় দেশের ভেতরের সাধারণ মানুষ সরকারের এই কৌশলগত অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না।

মরক্কো ছাড়াও কসোভো, আলবেনিয়া, কাজাখস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি দেশ আইএসএফ বাহিনীতে যোগ দিতে সম্মত হলেও মিসরের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের ভূমিকার পরিধি শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। ফলস্বরূপ, একক আরব দেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ সেনা পাঠিয়ে মরক্কো এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও দেশের সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জেদ্দায় আজ সই হচ্ছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি!

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
জেদ্দায় আজ সই হচ্ছে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান আজ শুক্রবার একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করবে বলে জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এমন দুটি আঞ্চলিক সূত্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, জেদ্দায় অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করবেন।

তবে ওই দুই প্রতিবেদনে চুক্তিটির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এতে কী ধরনের শর্ত বা বিধান থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই তিন দেশের এই তিন নেতা বৈঠকে বসছেন।

একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ‘বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। আর সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি এর গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

গত মাসে ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছিলেন এরদোয়ান ও শাহবাজ শরিফ। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আলোচনায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও উঠে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে অবদান রাখে—এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি। বর্তমান ইসরায়েলি সরকার, যে যুদ্ধের প্রতি আসক্ত, তাকে আবারও আমাদের অঞ্চলকে বারুদ ও রক্তের গন্ধে ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।’

প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পাকিস্তান বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের একটি। ওই চুক্তিতে বলা হয়, দুই দেশের যেকোনো একটির ভূখণ্ডে হামলা হলে সেটিকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ওই চুক্তিতে সই করেছিলেন। সে সময় এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল। কারণ, ইসরায়েল কাতারের ওপর একটি নজিরবিহীন হামলা চালানোর এক সপ্তাহ পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। একই সময়ে এমন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী একমাত্র দেশ পাকিস্তান।

এদিকে ইয়েমেনে কয়েক ডজন সেনা নিহত হওয়ার পর রাতভর সৌদি আরবের নাজরান শহরে বিদ্রোহীদের চালানো হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের পক্ষে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সৌদি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারী এবং চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। শিশুটির আঘাত মাঝারি মাত্রার বলে জানানো হয়েছে।

হামলায় ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকত্বধারী ব্যক্তিরাও আহত হয়েছেন।

এই হামলার আগে সৌদির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। এসব সতর্কবার্তায় অর্থনৈতিক ও বেসামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর এবং বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি যুবরাজ ও মাখোঁর ফোনালাপ

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি যুবরাজ ও মাখোঁর ফোনালাপ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে টেলিফোনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, ফোনালাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে সাম্প্রতিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েও তারা আলোচনা করেন। উভয় নেতা উত্তেজনা কমিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে বৃহস্পতিবার সরকারি সফরে সৌদি আরবে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এ সফরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, বৈঠকে পাকিস্তান-সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় হবে।

মোদি-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬
মোদি-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টেলিফোনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, নেতানিয়াহু মোদিকে ফোন করেন। এ সময় দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মতবিনিময় করেন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবর।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত-ইসরায়েলের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

এ ছাড়া, ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন মোদি ও নেতানিয়াহু।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর তেহরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়, যা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ০৭, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র আবার নতুন করে হামলা করলে প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইরান। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাত ও অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই বার্তা উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে পৌঁছে দেয় ইরান।

দুটি ইরানি সূত্র, দুটি উপসাগরীয় সূত্র এবং এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আরাগচি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্পের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নতুন হামলা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।

এক জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, প্রতিটি আলোচনায় আরাগচির বার্তা ছিল একই—ইরান প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত, তবে কূটনৈতিক সমাধানই বৃহত্তর সংঘাত ও ধ্বংস এড়ানোর সর্বোত্তম উপায়।

এক উপসাগরীয় সূত্রের ভাষ্য, ইরানের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোয় হামলা করে, তাহলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পালটা আঘাত হানবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হুঁশিয়ারির মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে তারা ওয়াশিংটনকে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত রাখে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।

আরেক উপসাগরীয় সূত্র জানিয়েছে, ইরানের সতর্কবার্তা মূলত সব উপসাগরীয় দেশের জন্য হলেও এটি প্রধানত সৌদি আরব ও কাতারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেছে তেহরান।

এদিকে কাতার, ওমান ও সৌদি আরবও ওয়াশিংটনকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে পুরো অঞ্চল ‘আগুনের গোলকে’ পরিণত হতে পারে বলে ইরান সতর্ক করেছে।

গত ২ আগস্ট ট্রাম্প জানান, দ্রুত সমঝোতা সম্ভব হলে তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করতে সম্মত হয়েছেন।

কাতার থেকে তুরস্কে কার্যক্রম সরাচ্ছে হামাস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০২৬
কাতার থেকে তুরস্কে কার্যক্রম সরাচ্ছে হামাস

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তাদের বেশিরভাগ কার্যক্রম কাতারের রাজধানী দোহা থেকে তুরস্কে স্থানান্তরিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল বুধবার ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কান-এর বরাতে জানা গেছে, হামাস তাদের কার্যক্রম তুরস্কে সরিয়ে নেবে। তবে প্রকাশ্য ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশ আগের মতোই কাতারে বজায় রাখা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দোহা থেকে হামাসের এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ কাতার সরকারের অসন্তোষ।

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচনের বিষয়ে কাতার তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, আল-হাইয়াকে নতুন নেতা নির্বাচনের পর থেকে দোহায় পরিচালিত হামাসের প্রতিটি অফিশিয়াল বা দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের জন্য আগাম অনুমোদন নেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে কাতার।

দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের অনেক শীর্ষ নেতার মতো হামাসের নতুন প্রধান স্বেচ্ছা নির্বাসনে দোহায় রয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর দোহায় হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য নিহত হলেও, প্রাণে বেঁচে যান আল-হাইয়া।