২৩ জুলাই ২০২৬

সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি কংগ্রেসে জমা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এতে এমন সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে উপকরণ ব্যবহারের পথ রোধ করার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে আসছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যেই কংগ্রেসে ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নথি জমা দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুলআজিজ বিন সালমান সই করবেন।

গত বছর রিয়াদে তারা এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৪ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার উল্লেখ করে তৈরি করা হয়েছে। সৌদি আরবে বহু বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক শিল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দিতে এ ধরনের চুক্তি বাধ্যতামূলক।

পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে সৌদি

চুক্তিতে তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই মানদণ্ড থাকলে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে পারত না। অথচ এই দুটি কার্যক্রমই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে চুক্তি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এছাড়া চুক্তিতে ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রটোকল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) কোনো দেশের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর আরও বিস্তৃত ও কঠোর তদারকির ক্ষমতা দেয়। এর মধ্যে ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।

একটি সূত্র জানায়, প্রশাসন বুধবারের মধ্যেই চুক্তিটি কংগ্রেসে জমা দিতে পারে। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, এটি এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়া হবে। তৃতীয় একটি সূত্র, যা সুরক্ষাব্যবস্থা অনুপস্থিত কি না সে বিষয়ে কিছু বলেনি, শুধু জানিয়েছে যে চুক্তিটি খুব শিগগিরই জমা দেয়া হবে।

ক্রিস রাইট আগে বলেছিলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নয় এবং এতে অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টে উল্লেখিত সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধী মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর মানদণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তবে একটি সূত্র জানায়, চুক্তিটি পারমাণবিক জ্বালানি চক্রে—যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও রয়েছে—সহযোগিতার জন্য একটি আইনি পথ তৈরি করে। তবে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সংশ্লিষ্ট কোনো সক্ষমতা বা প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে না।

অস্ত্র বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এ কারণে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২০১৮ সালে সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেছিলেন, “সৌদি আরব কোনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে চায় না। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করব।”

সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তি ভাগাভাগি নিয়ে একটি চুক্তি কংগ্রেসে জমা দেয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে এতে এমন সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে উপকরণ ব্যবহারের পথ রোধ করার জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে আসছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রশাসন কয়েক দিনের মধ্যেই কংগ্রেসে ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নথি জমা দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী আবদুলআজিজ বিন সালমান সই করবেন।

গত বছর রিয়াদে তারা এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করেছিলেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে হোয়াইট হাউস এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৫৪ সালের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারার উল্লেখ করে তৈরি করা হয়েছে। সৌদি আরবে বহু বিলিয়ন ডলারের বেসামরিক পারমাণবিক শিল্প গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দিতে এ ধরনের চুক্তি বাধ্যতামূলক।

পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারবে সৌদি

চুক্তিতে তথাকথিত ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই মানদণ্ড থাকলে সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে পারত না। অথচ এই দুটি কার্যক্রমই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয় বলে চুক্তি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এছাড়া চুক্তিতে ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রটোকল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) কোনো দেশের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর আরও বিস্তৃত ও কঠোর তদারকির ক্ষমতা দেয়। এর মধ্যে ঘোষণাবহির্ভূত স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে। সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো এ তথ্য জানায়।

একটি সূত্র জানায়, প্রশাসন বুধবারের মধ্যেই চুক্তিটি কংগ্রেসে জমা দিতে পারে। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, এটি এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়া হবে। তৃতীয় একটি সূত্র, যা সুরক্ষাব্যবস্থা অনুপস্থিত কি না সে বিষয়ে কিছু বলেনি, শুধু জানিয়েছে যে চুক্তিটি খুব শিগগিরই জমা দেয়া হবে।

ক্রিস রাইট আগে বলেছিলেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নয় এবং এতে অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টে উল্লেখিত সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধী মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর মানদণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম।

তবে একটি সূত্র জানায়, চুক্তিটি পারমাণবিক জ্বালানি চক্রে—যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও রয়েছে—সহযোগিতার জন্য একটি আইনি পথ তৈরি করে। তবে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সংশ্লিষ্ট কোনো সক্ষমতা বা প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে না।

অস্ত্র বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এ কারণে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

২০১৮ সালে সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুবরাজ বলেছিলেন, “সৌদি আরব কোনো পারমাণবিক বোমা অর্জন করতে চায় না। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরাও যত দ্রুত সম্ভব একই পথ অনুসরণ করব।”

হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন খলিল আল-হাইয়া।

সোমবার ফিলিস্তিনের ইসলামি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে।

গত বছর তেহরানে শীর্ষ হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ, গাজায় সিনওয়ার এবং সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ নিহত হওয়ার পর আল-হাইয়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

১৯৬০ সালে গাজা উপত্যকায় জন্মগ্রহণকারী আল-হাইয়া ১৯৮৭ সালে হামাস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত রয়েছেন।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২৬
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শুক্রবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের চালানো একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার বিবৃতিতে জানায়, ইরান সমর্থিত এই ভয়াবহ হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত অপর চার সেনাকে জরুরি ভিত্তিতে জর্ডানের হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা পুনরায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

নিহত ও নিখোঁজ সেনাদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতভর তাদের আকাশসীমায় অন্তত ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এক সপ্তাহে মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

জর্ডানের এই ঘটনার পর চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘ভেস্তে গেছে’ বলে ঘোষণা করার পর থেকেই দুই পক্ষের সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হয়। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, বাড়ছে উত্তেজনা

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত, বাড়ছে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরো জোরদার হয়েছে। ইরানের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো তীব্র বিমান ও সামরিক হামলা সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে শুক্রবার দিবাগত রাতে ইরানে টানা সপ্তম রাতের হামলা চালানো হয়। এ দফায় ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, মাটির নিচের অস্ত্রাগার ও নৌ-সক্ষমতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ জারি করেছে মার্কিন বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি আমেরিকান সেনা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস ও দারাবে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো কেঁপে উঠেছে কেশম দ্বীপ।

দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, শনিবার প্রথম প্রহরে মার্কিন হামলায় প্রদেশের দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছে।

কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে ইরানের হামলা

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো—কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরির একটি গোলাবারুদ ডিপো, আলি আল সালেম ঘাঁটির প্রধান কার্যালয় ও সংযোগকারী সেতু এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটির সামরিক জ্বালানি ট্যাংক।

এর পাশাপাশি জর্ডানে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানের ‘মুওয়াফফাক সালতি’ ঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

আরব সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এই বিস্ফোরণের বিকট শব্দ দূরবর্তী অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকেও শোনা গেছে।

হামলার পর ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো শক্তি ইরানি জাতির ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করতে এলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর লৌহকঠিন সংকল্পের মুখোমুখি হতে হবে।

কুয়েতের প্রতিরোধ ও বাহরাইনে সাইরেন

কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দেশের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ইরানি ড্রোনগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত বা ইন্টারসেপ্ট করেছে। ড্রোন ধ্বংসের কারণেই দেশজুড়ে বিকট শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে বাহরাইনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো তীব্র শব্দে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বা সাইরেন বেজে উঠেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের অনতিবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত ও পাল্টা আঘাত

আইআরজিসি দাবি করেছে, বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ ৯ ড্রোন শনাক্তের পর তাদের নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

একই সাথে ইরানি নৌবাহিনী উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে উপকূল থেকে সাগরে নিক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের মার্কিন সামরিক সম্পদেও হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে আইআরজিসি।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকালে মার্কিন সহায়তাপুষ্ট চারটি জাহাজকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে আটকে দিয়েছে ইরান।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পুঁতে রাখা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার দাবি করেছে আইআরজিসি।

বন্দর আব্বাসসহ ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
বন্দর আব্বাসসহ ইরানে রাতভর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সর্বশেষ তরঙ্গ সমাপ্ত করার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই নতুন ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে পারস্য উপসাগরে চলমান এই সংঘাতের বিবরণ জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তাদের এই বিশেষ অভিযানে ইরানের প্রধান প্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি চৌকিগুলোকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত ইরানের সর্ববৃহৎ বন্দর এবং দেশটির নৌবাহিনী ও এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান ঘাঁটি সংবলিত বন্দর আব্বাস শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অবস্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে সামরিক অভিযানের আরও কিছু বিবরণ তুলে ধরে জানিয়েছে যে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন বিমান বাহিনী গ্রেটার তুনব দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে টানা নব্বই মিনিট ধরে তীব্র বোমাবর্ষণ সম্পন্ন করেছে।

এই নতুন হামলার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ক্ষেত্রগুলোতে আঘাত হানার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং একই সঙ্গে তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুগুলোতেও হামলা চালানোর নতুন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

এদিকে যুদ্ধের মানবিক আচরণ সংক্রান্ত ১৯৪৯ সালের ঐতিহাসিক জেনেভা কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য বা অত্যাবশ্যকীয় কোনো স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের এই ধরনের বেসামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার হুমকির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছিলেন যে এই ধরনের আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও ইরানের সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছিলেন, যার পরপরই তেহরানের সঙ্গে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের এই বিধ্বংসী যুদ্ধের ইতিহাস টেনে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক বড় ধরনের সামরিক আক্রমণ শুরু করলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি পরিচালনাকারী পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় এবং লেবাননে চালানো ইসরায়েলের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে।