২৭ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে কমিয়ে দেওয়া বা সরিয়ে নেওয়া মার্কিন কূটনীতিকদের আবার দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো শুরু করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানের সঙ্গে আবার বড় ধরনের যুদ্ধ বা তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হবে বলে মনে করছে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুলসংখ্যক মার্কিন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিদেশি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা শুরু করবে না। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের কয়েক মাসের অনিশ্চয়তারও অবসান হচ্ছে। এতদিন মার্কিন প্রশাসন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে আবার পূর্ণমাত্রায় জনবল নিয়োগ করবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল।

অনেক মার্কিন কূটনীতিককে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে তাদের সামনে সন্তানদের কোথায় স্কুলে ভর্তি করানো হবে এবং পরিবার নিয়ে আবার মধ্যপ্রাচ্যে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যেসব দেশে মার্কিন দূতাবাসে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক কূটনীতিক ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক ও কুয়েত। প্রথম দফায় মার্কিন কূটনীতিকদের লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ফেরত পাঠানো হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জনবল রাখা হবে। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে জনবল সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হবে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এরই একটি লক্ষণ হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ কার্যকর করবে। লেবানন ও ইরাকে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের ওপর ইতোমধ্যেই বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তুলনামূলক ছোট দেশ কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের হামলায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে। পেন্টাগন বিশেষভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে চিন্তা করছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দীর্ঘদিনের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে এর আগেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জুনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত ছিল।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সামরিক উত্তেজনা আপাতত কমার প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা ও কূটনৈতিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যে এখনও গভীর, সেটিও স্পষ্ট করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ফিরছেন মার্কিন কূটনীতিকেরা, ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে কমিয়ে দেওয়া বা সরিয়ে নেওয়া মার্কিন কূটনীতিকদের আবার দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো শুরু করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই সিদ্ধান্ত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানের সঙ্গে আবার বড় ধরনের যুদ্ধ বা তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হবে বলে মনে করছে না। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিপুলসংখ্যক মার্কিন কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিদেশি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা শুরু করবে না। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাদের ও তাদের পরিবারের কয়েক মাসের অনিশ্চয়তারও অবসান হচ্ছে। এতদিন মার্কিন প্রশাসন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে আবার পূর্ণমাত্রায় জনবল নিয়োগ করবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল।

অনেক মার্কিন কূটনীতিককে তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে তাদের সামনে সন্তানদের কোথায় স্কুলে ভর্তি করানো হবে এবং পরিবার নিয়ে আবার মধ্যপ্রাচ্যে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

অপর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যেসব দেশে মার্কিন দূতাবাসে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক কূটনীতিক ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েল, লেবানন, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক ও কুয়েত। প্রথম দফায় মার্কিন কূটনীতিকদের লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ফেরত পাঠানো হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও লেবাননে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত জনবল রাখা হবে। অন্যদিকে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে জনবল সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হবে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এরই একটি লক্ষণ হলো, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ কার্যকর করবে। লেবানন ও ইরাকে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণের ওপর ইতোমধ্যেই বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। এর ফলে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশেষ করে তুলনামূলক ছোট দেশ কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের হামলায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে। পেন্টাগন বিশেষভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে চিন্তা করছে।

ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দীর্ঘদিনের কৌশল নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে এর আগেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জুনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখার কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত ছিল।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিকদের ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ওয়াশিংটনের সামরিক উত্তেজনা আপাতত কমার প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা ও কূটনৈতিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ যে এখনও গভীর, সেটিও স্পষ্ট করছে।

ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের জন্য একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।

দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি বলেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান ও রিয়াদের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।”

তার মতে, এই আস্থার ঘাটতি দূর করতে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে।

এরই মধ্যে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ
বাগদাদের নতুন প্রস্তাবের পেছনে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে রিয়াদ দাবি করে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানায়।

অন্যদিকে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একই দিন দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

ইরাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণেও জোর
ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ‘সম্পূর্ণভাবে ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত’।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ইরাকি রাষ্ট্রের।

ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর ভেতরে থাকলেও অন্য কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এর বাইরে সক্রিয় রয়েছে।

গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিটিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরাকের মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগ
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এর আগেও ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবার দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সেই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাগদাদের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ইরান ও সৌদি আরব এখনও প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানোয় উদ্যোগটি কতটা এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি করাতে 'অর্থনৈতিক আক্রমণ' শুরু করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাও ট্রাম্পের 'অর্থনৈতিক যুদ্ধের' অংশ হলে তাদের 'শত্রু' হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাদের স্বার্থেও আঘাত হানা হবে।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে 'অভূতপূর্ব মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার' মুখে পড়তে হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রেজায়ি বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের হাতে এখনো আরও চাপ প্রয়োগের উপায় রয়েছে। তিনি দাবি করেন, 'আমরা এখনো কোনো মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলা করিনি।'

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'এখন পর্যন্ত আমরা শুধু সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেছি। কিন্তু তারা যদি আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, তাহলে ইরানের আশপাশে এবং অন্যত্র যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কোম্পানি রয়েছে। আমরা সেগুলোতে হামলা করব।'

ট্রাম্প তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত 'ভূমিকম্পের মতো' হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন রেজায়ি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম তেহরান সরাসরি মার্কিন ও পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার হুমকি দিল। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো তেল কোম্পানিগুলোর ওপর হামলার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে ইরান।

এদিকে দ্য টেলিগ্রাফ শনিবার জানিয়েছে, ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হ্যাকাররা সাইবার হামলা চালিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ করে রেখেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের এই হুমকি ট্রাম্পের গত বুধবারের সতর্কবার্তারই প্রতিধ্বনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে 'যেকোনো ধরনের সহায়তা' দেওয়া দেশগুলোকে 'ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির' মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেহরানের বিরুদ্ধে 'এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান' চালানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও ইরানের হুমকি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

দ্য টেলিগ্রাফ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বেসেন্ট জানিয়েছেন, তিনি সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে 'ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা' নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেবেন।

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে কোন মার্কিন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে, তা নির্দিষ্ট করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। গুগল, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিতেও হামলার হুমকি দিয়েছিল। এরপর সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনার বাইরে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অনেকটাই এড়িয়ে চলেছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোতে হামলা হলে তা ট্রাম্পের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে।

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পরিণত হবে। শনিবার রাতে তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চিহ্নিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটির নিচে তিনি লেখেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড।'

ইরান এর আগেও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কেন্দ্র এবং সৌদি আরবের আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে।

শনিবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান ও জ্বালানি ট্যাংকারকে আশ্রয় দেওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, হামলার শিকার হলে পরে যেন তারা অভিযোগ না করে। বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শনিবার দাবি করেন, বিশ্ব ইতোমধ্যে তেহরানের 'বিজয় মেনে নিয়েছে' এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ব্যাপকভাবে 'ঘৃণা' করা হয়।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত তেমন সফল হননি। সর্বাত্মক যুদ্ধ আবার শুরু করতে অনিচ্ছুক এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতার অভাব থাকায় তিনি এখন ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর পথেই এগোচ্ছেন।

তবে এই কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রশ্ন উঠতে পারে। বহু বছর ধরে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকলেও ইরানকে এখনো নতি স্বীকার করানো যায়নি।

তবু ট্রাম্পের বিশ্বাস, নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করা গেলে শেষ পর্যন্ত দেশটির সরকার চুক্তিতে রাজি হতে বাধ্য হবে।

সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
সামরিক শক্তিতে তুরস্ক এত শক্তিশালী হলো কীভাবে

তুরস্ক এখন শুধু ন্যাটোর বড় সামরিক শক্তি নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলেও নিজেদের সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। দেশটির হাতে বিপুলসংখ্যক সেনা, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন রয়েছে। একই সঙ্গে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পও দ্রুত শক্তিশালী করছে আঙ্কারা।

২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তুরস্কের সক্রিয় সেনাসদস্য প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার। এর সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার রিজার্ভ সেনা এবং দেড় লাখের মতো আধাসামরিক সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।

স্থলবাহিনী তুরস্কের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশটির কাছে প্রায় ২ হাজার ২৮৪টি ট্যাংক এবং প্রায় ৯৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের সামরিক যান রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে এক হাজারের বেশি স্বচালিত কামান, ৬৩৫টি টানা কামান এবং ২৩৭টি রকেট লঞ্চার।

আকাশপথেও তুরস্কের শক্তি বড়। দেশটির সামরিক বহরে প্রায় ১ হাজার ১০১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১টি যুদ্ধবিমান, ৮৪টি পরিবহন বিমান, ৩০১টি প্রশিক্ষণ বিমান এবং ৫০৯টি হেলিকপ্টার রয়েছে। তুরস্কের যুদ্ধবিমান বহরের মূল শক্তি এখনো এফ-১৬। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি কেএএএন যুদ্ধবিমানও উন্নয়ন করছে দেশটি।

তবে তুরস্কের সামরিক শক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো ড্রোন। দেশটির বায়কার কোম্পানির তৈরি বায়রাকতার টিবি-২ বিশ্বের পরিচিত সামরিক ড্রোনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তুরস্ক এখন বিভিন্ন দেশে এসব ড্রোন রপ্তানিও করছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

নৌবাহিনীতেও তুরস্কের বড় উপস্থিতি রয়েছে। দেশটির নৌবহরে প্রায় ১৯২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ফ্রিগেট, ৯টি করভেট এবং ১৪টি সাবমেরিন। কৃষ্ণসাগর, এজিয়ান সাগর ও ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের নৌবাহিনী সক্রিয়। বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালির নিয়ন্ত্রণও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তুরস্ক এখন নিজের অস্ত্র নিজেই তৈরির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি কোম্পানি কাজ করছে এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে স্থানীয়ভাবে তৈরি সামরিক সরঞ্জামের অংশ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ, এখন তা ৮৫ শতাংশের বেশি বলে তুরস্কের সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের সামরিক শক্তির পেছনে ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে অবস্থান করার পাশাপাশি দেশটির সীমান্ত রয়েছে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, জর্জিয়া ও বুলগেরিয়ার সঙ্গে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ককেশাস, বলকান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তুরস্ক বহু বছর ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে এবং সিরিয়া ও ইরাকের উত্তরাঞ্চলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তির সুবিধাও পাচ্ছে দেশটি।

তবে শুধু ট্যাংক, বিমান বা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামরিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। এসব অস্ত্রের কতগুলো কার্যকর, আধুনিক যুদ্ধে কতটা সক্ষম এবং বিভিন্ন বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি তুরস্কের

গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে তাকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও আরও একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও আটকের ঘটনায় মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

গুরলেক জানান, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে তাকে খুঁজে বের করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করা হয়েছে। গাজায় সংঘটিত অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত মে মাসে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত দুটি নৌযানে হামলা চালিয়ে সেগুলো আটকে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। বহরে প্রায় ৫০টি নৌযান ছিল। নৌযানগুলো থেকে আটক কর্মীদের পরে ইসরায়েলের একটি কারাগারে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও এ ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।

তুরস্কের এ উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পদক্ষেপকে ‘ভয় দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি এরদোয়ানকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে অভিযোগ করে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল।

এর জবাবে এরদোয়ানের কার্যালয় নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘তুচ্ছ রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের ইসরায়েলি প্রচেষ্টার নিন্দা জানায়।