২৭ আগস্ট ২০২৬

সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

শনাক্ত হওয়া নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই বাংলাদেশিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ইউএনও আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্য মরদেহগুলোও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

শনাক্ত হওয়া নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই বাংলাদেশিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ইউএনও আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্য মরদেহগুলোও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকটকালীন মুহূর্তে বন্ধুপ্রতিম দেশটিকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নেপালে বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত। বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে নেপালের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।’

এদিকে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ জন নিখোঁজের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নাগরিকও রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নেপালে আটকে পড়াদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সরকারিভাবে কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েেশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা:

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও, এর জন্য কবে থেকে আবেদন শুরু হবে বা কোথায় আবেদন করতে হবে—তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। অনলাইন আবেদন লিংক, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাভিত্তিক শর্ত কিংবা প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় সাধারণ কর্মী ও প্রবাসপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে:

প্রতারণা থেকে সাবধান: সরকারি কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যদি কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মালয়েশিয়ার ১০ হাজার কর্মীর আবেদন’ বা নিবন্ধনের নামে টাকা দাবি করে, তবে তাতে একেবারেই সাড়া দেওয়া যাবে না।

অফিশিয়াল তথ্যের ওপর ভরসা: আবেদন প্রক্রিয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমেই জানানো হবে। তাই সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি মাধ্যমের ওপর ভরসা করা উচিত।

প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব:

বিদেশগামীদের শুধু পাঠানোই নয়, বরং তাদের দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। বিদেশযাত্রার আগে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষার মতো বিদেশি ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী এলাকায় ৫টি নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

সংক্ষেপে, ১০ হাজার কর্মীর এই বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের এখন কোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে তাদের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে দেশটির সরকার অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য বাংলাদেশের ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাংলাদেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৪০টির বেশি মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু এসব এজেন্সির নাম প্রকাশের পর জনশক্তি রপ্তানি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এটিকে ‘সিন্ডিকেট’ উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, যেসব এজেন্সির নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এগুলোর ২-৩টি ছাড়া বাকি সবই মূলত ডামি এজেন্সি, যেগুলোর পেছনে প্রভাবশালীরা সক্রিয় আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শ্রমবাজার নিয়ে দুই দেশের সরকার কাজ করছে এবং এখানে যা হবে স্বচ্ছতার সঙ্গেই হবে। আশা করছি, দ্রুতই শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সে দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আমরা পেয়ে যাব। কোনো গোপনীয়তা বা সিন্ডিকেট থাকবে না, নিয়ম মেনে সবাই কাজের সুযোগ পাবে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।’ পরে চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়েও একই কথা বলেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক কবে শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা মালয়েশিয়া দেবে—তা এখন পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানতে পারেনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যা বলেছে মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২১ সালে, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। যদিও নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা অভিযোগের জের ধরে ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকায় সেটি অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে কর্মী পাঠাতে হবে। তবে ডিসেম্বরের পর নতুন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে সরকার।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগে যারা সিন্ডিকেট করেছে এবং যাদের দুর্নীতির কারণে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে তারাসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুরু থেকেই মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলছেন, ‘যাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাদের আমরা নিজেরাই তো চিনি না। মালয়েশিয়া সরকার তাদের কিভাবে চিনল। আসলে আগের সিন্ডিকেটের একটি অংশের সঙ্গে নতুন কিছু প্রভাবশালীরা এগুলোর পেছনে আছে এবং এক্ষেত্রে বড় দুর্নীতিও কাজ করেছে।’

যদিও সিন্ডিকেট বা এ ধরনের কোনো কিছুর তৎপরতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এজেন্সি ও মেডিক্যাল সেন্টার নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যেই রবিবার মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন নির্দেশনা জারি করাকে দ্রুতই ‘শ্রমবাজার খোলার’ ইঙ্গিত বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।

ওই নির্দেশনা জারি করে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।

মালয়েশিয়া সরকারে এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মী নিয়োগ কিংবা মালয়েশিয়ায় গিয়ে কাজে যোগদান পর্যন্ত আটটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

এর প্রথম ধাপে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বা নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মী চেয়ে আবেদন করতে হবে বা অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্লাটফর্মে সংশ্লিষ্ট শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

এরপরের ধাপে আগ্রহী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং কোটা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তৃতীয় ধাপে লেভি বা নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে, যা মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং মাইআইএমএমএস ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

এরপর নিয়োগদাতা শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করবেন। এ প্রক্রিয়াটিও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর ওয়ান-স্টপ সেন্টার এবং সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

এটি হয়ে যাওয়ার পর বিদেশি কর্মীর নিজ দেশের মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

এগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর ষষ্ঠ ধাপে কর্মী উৎস দেশ থেকে নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং এটি করতে হবে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি (আরএ) বা নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে।

সপ্তম ধাপে বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিয়োর) সংগ্রহ করতে হবে এবং শেষ বা অষ্টম ধাপে বিদেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ সম্পন্ন হবে। এই ধাপ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নিয়োগের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ওই নির্দেশনায় মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও অনুমোদিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি-এর তালিকা জানতে নিয়োগদাতাদের মালয়েশিয়া সরকারের বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্লাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফডব্লিউসিএমএস পোর্টাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ন্যাটোর আদলে গড়া ‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ: কী ভাবছে ঢাকা?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
ন্যাটোর আদলে গড়া ‘মক্কা চুক্তিতে’ বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ: কী ভাবছে ঢাকা?

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই নতুন জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশও বিবেচনা করতে পারে বলে একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে এমন পদক্ষেপে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়, তবে সেখানে আমাদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, তারা বাংলাদেশকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেখানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, মূলত সৌদি আরবই ঢাকাকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

চলতি মাসে সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কায় সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন দেশ চুক্তিটিতে সই করে। এটি মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর-- এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে; যৌথ-প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে যখন চরম আঞ্চলিক উত্তেজনা চলছে, তখন তারা এমন চুক্তি করেছে।

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিতে আরও দেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ তুরস্ক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি এক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়বে। কারণ, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে এড়িয়ে চলাই ছিল ঢাকার নীতি। মূলত এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। এর বড় বাজার হলো ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কর্মরত লাখো শ্রমিকের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি উৎস।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্লোল কিবরিয়া জানান, আনুষ্ঠানিক কোনো জোটে গেলে শুধু ভারতের সঙ্গে নয়; বরং চীন, ইরান, জাপান, কুয়েত, ওমান, কাতার, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক জটিল হতে পারে। তিনি বলেন, সম্পর্কগুলো হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেঙে যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশ একবার কোনো সামরিক জোটে যোগ দিলে, তারা আসলে কোন পক্ষে আছে—সেই প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় মাস বয়সী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এক স্পর্শকাতর সময়ে এই আমন্ত্রণ এলো। যদিও উভয় দেশই আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে জোরপূর্বক মানুষ পুশ-ইনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি হাসিনাকে ফেরত চেয়েও অনুরোধ করেছে ঢাকা। এসব কারণে দুদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র চলতি মাসে জানিয়েছেন, সরকারপ্রধান ভারত সফর করবেন কি না—সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। মূলত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধের বিষয়ে নয়াদিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর ঢাকা এ ঘটনার সমালোচনা করে। বাংলাদেশ আগেই জানিয়েছে যে, ভারত সফরের জন্য একটি ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ প্রয়োজন।

এদিকে মক্কা চুক্তির বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ শাহান বলেন, কোনো এক পক্ষে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ এই অর্থনীতি বহুমুখী অংশীদারদের সঙ্গে স্থিতিশীল বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি এই জোটে যোগ দেয়, তবে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ খুশি হবে না। তবে সেটি বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।