১৪ আগস্ট ২০২৬

১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সরকারি ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি ইরানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আমিরাত প্রশাসন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমিরাতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলপথটি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ নিয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার খবর জানানো হয়েছিল। একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।

প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, এর জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শনিবারও জাহাজে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।

এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
১ সপ্তাহের ব্যবধানে আমিরাতের ২ তেল ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি সরকারি ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরাসরি ইরানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আমিরাত প্রশাসন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আমিরাতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলপথটি অতিক্রম করার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ নিয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গত শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার খবর জানানো হয়েছিল। একই সপ্তাহের মধ্যে আবারও প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায় করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করেছে।

প্রণালিটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত অথবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ যদি প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। এটি এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, এর জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, গত শনিবারও জাহাজে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।

এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

মানবেতর জীবনযাপন ও অবসাদ: মার্কিন রণতরীতে আত্মহত্যার চেষ্টা

আব্রাহাম লিংকনের বিকল্প হিসেবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী
প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২৬
মানবেতর জীবনযাপন ও অবসাদ: মার্কিন রণতরীতে আত্মহত্যার চেষ্টা

সমুদ্রে টানা আড়াইশ’ দিনের বেশি সময় কাটাতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‌‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর হাজার হাজার সেনা ভয়ংকর মানবিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার ও সুপেয় পানির ঘাটতি, বিকল শৌচাগার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দীর্ঘদিনের ক্লান্তি মিলিয়ে রণতরীটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সেনাসদস্যদের এই দুরবস্থার খবর সামনে আসার পর পেন্টাগনের কাছে জরুরি জবাবদিহিতা দাবি করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান বিষয়ক সামরিক নীতির ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীটিতে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের মানসিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছে যে কেউ কেউ সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা পর্যন্ত করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকেই এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, যাকে পরবর্তীতে হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, সচল লন্ড্রি ব্যবস্থার অভাব এবং তাজা খাবারের বদলে অপ্রতুল রেশনের কারণে নাবিকদের স্বাস্থ্যে মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। এক নাবিকের স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই মিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকে চরম মানসিক চাপে পড়ে তার স্বজন প্রায় ২৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ইঞ্জিনের শব্দ, যুদ্ধবিমানের ওঠা-নামার বিকট গর্জন এবং তীরে নামার কোনো সুযোগ না থাকায় নাবিকদের মধ্যে মানসিক অবসাদ চরম সীমায় পৌঁছেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পাঠানো এক চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মৌলিক সামগ্রীর চরম ঘাটতি, পানির দূষণ, বিকল প্ল্যাম্বিং, নিরাপত্তার অভাব এবং দীর্ঘদিন চিঠি বা পার্সেল না পৌঁছানোর মতো বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন নৌবাহিনী কি সত্যিই বর্তমানে এই উচ্চমাত্রার অপারেশনাল চাপ বজায় রাখতে সক্ষম? একই সুর মিলিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস সদস্য মাইক লেভিন জানান, জাহাজে ছত্রাকযুক্ত গোসলখানা, কাজ না করা টয়লেট এবং খাবারের চরম সংকটে নাবিকদের কখনো কখনো মাত্র অর্ধকাপ চাল ও দুটি টর্টিলা খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

এছাড়া সাবান, টুথপেস্ট বা ডিওডোরেন্টের মতো জরুরি প্রসাধনসামগ্রীও তাদের কাছে নেই। পরিস্থিতি তদারকিতে আইনপ্রণেতারা একটি নিরপেক্ষ প্রতিনিধি দলকে সরাসরি জাহাজে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গণমাধ্যমে পরিবেশিত সংবাদকে অসত্য ও চরম বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। পানামায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিটি জাহাজ ও নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতিরিক্ত দীর্ঘ এই মিশনে সেনাসদস্যদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও সেনাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান চলার কারণে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে রসদ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হোয়াইট হাউজের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো সামরিক হুমকি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত উপাদানে সজ্জিত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটিকে দক্ষিণ চীন সাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বারবার এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' রণতরীটিকে পাঠাতে প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যান্য শাখার তুলনায় নৌবাহিনীর নাবিকদের মধ্যেই উচ্চমাত্রার মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এক জটিল ও কৌশলগত অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট বিজয়ের দেখা পাচ্ছে না। সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিঃশব্দে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের বিন্যাস বাড়াতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ (RUSI)-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত বিমানবাহিনীর সদস্য ও প্রতিরক্ষামূলক রসদ পাঠাচ্ছে পেন্টাগন। এটিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কিংবা সম্ভাব্য যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে স্টিফেনসের মতে, কেবল বিমান বা সেনাসদস্য বাড়িয়ে স্থলভাগে কোনো বড় ধরনের বিজয় অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।

উত্তেজনাপূর্ণ এই বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছেছে ইরাকের একটি উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিদল।

ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল আমির আল-শাম্মারি এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধিদলে ইরাকের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এবং কাউন্টার-টেররিজম সার্ভিসের প্রধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ইরাকি নিউজ এজেন্সি ও আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠকে নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:

ড্রোন হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা: সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলার উৎস এবং তা প্রতিরোধের কৌশলগত রূপরেখা।

ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি স্পষ্ট করেছেন যে, আঞ্চলিক কোনো সংঘাতের জন্য বাগদাদ তাদের আকাশসীমা বা ভৌগোলিক ভূমি অন্য কোনো পক্ষকে ব্যবহার করতে দেবে না।

যৌথ গোয়েন্দা সমন্বয়: ড্রোন অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে যৌথ সমন্বয় সেল গঠন ও তথ্য আদান-প্রদান।

একদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত পুরো অঞ্চলকে সামরিক ঝুঁকির মধ্যে রাখছে, অন্যদিকে রিয়াদ ও বাগদাদের এই প্রতিরক্ষামূলক আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রক্সি যুদ্ধ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখার একটি কূটনৈতিক চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্স এমিরেটস, কাতার ও ইতিহাদ

বিজনেস ক্লাসে রাজত্ব কাতার এয়ারওয়েজের, সার্বিক পছন্দে শীর্ষে এমিরেটস!
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
ফ্লায়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্স এমিরেটস, কাতার ও ইতিহাদ

২০২৬ সালের Flyers’ Choice Awards-এ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের শীর্ষ তিন এয়ারলাইন্সের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুই শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এমিরেটস ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের ভোটে এমিরেটস অঞ্চলটির পছন্দের এয়ারলাইন হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। দ্বিতীয় হয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

AirlineRatings.com আয়োজিত এই পুরস্কারের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে যাত্রীদের ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন কেবিন শ্রেণি, সেবা, যাত্রী আস্থা এবং আঞ্চলিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে মূল্যায়ন করেছেন যাত্রীরা।

পুরস্কারে এমিরেটস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ভালো ফল করেছে। দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনটি ‘Preferred Premium Economy Airline’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া ‘Preferred Business Class’ বিভাগে কাতার এয়ারওয়েজের পর দ্বিতীয় এবং ‘Preferred Economy’ বিভাগে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এমিরেটস।

কেবিন ক্রুদের সেবার ক্ষেত্রেও এমিরেটস উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে। ‘Best Cabin Crew’ বিভাগে এয়ারলাইনটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। একই বিভাগে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ তৃতীয় হয়েছে।

যাত্রীদের আস্থা ও স্বস্তির ক্ষেত্রেও ইতিহাদের অবস্থান শক্তিশালী। ‘Peace of Mind’ বিভাগে আবুধাবিভিত্তিক এয়ারলাইনটি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ তালিকায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস দ্বিতীয় হয়েছে। একই বিভাগে এমিরেটস চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

বিমানের বাহ্যিক নকশা বা লিভারির ক্ষেত্রেও ইতিহাদ স্বীকৃতি পেয়েছে। ‘Best Aircraft Livery’ বিভাগে এয়ারলাইনটি তৃতীয় হয়েছে। এ বিভাগে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স প্রথম এবং এয়ার নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

এবারের পুরস্কারে সবচেয়ে বেশি বিভাগে জয় পেয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। চারটি শিরোপা জিতে তারা এবারের সবচেয়ে সফল এয়ারলাইন হয়েছে। তারা ‘Preferred Economy Airline’, ‘Best Cabin Crew Service’, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পছন্দের এয়ারলাইন এবং যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ‘Peace of Mind’ দেওয়া এয়ারলাইন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এদিকে কাতার এয়ারওয়েজ ‘Preferred Business Class’ বিভাগে প্রথম হয়েছে এবং এমিরেটস ‘Preferred Premium Economy’ বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

আঞ্চলিক ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডেল্টা এয়ার লাইনস, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কান্তাস এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ক্যাথে প্যাসিফিক শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।

Flyers’ Choice Awards-এর বিশেষত্ব হলো, এটি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পরিবর্তে সরাসরি যাত্রীদের ভোটের ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করে। ফলে যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পছন্দের প্রতিফলনই এ পুরস্কারের মূল ভিত্তি।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াচ্ছে তুরস্ক, তালিকায় কাতার-মিসর-কুয়েত!

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট' (Makkah Joint Deterrence Agreement) কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এক নতুন মাইলফলক রচিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই সমঝোতাকে কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জোটে আরও বেশি সংখ্যক মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এর পরিধি বহুগুণ বাড়াতে চায় আঙ্কারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই জোটকে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাতার রূপ দেওয়া হবে।

কী রয়েছে 'মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স' চুক্তিতে?

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা সমঝোতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই চুক্তির প্রধান প্রধান দিকগুলো হলো:

  • যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি: জোটের যেকোনো একটি দেশের ওপর বাইরের যেকোনো সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

  • পরামর্শ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত: সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে ঠিক কোন পদ্ধতিতে, কতখানি এবং কী ধরনের সামরিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে—তা তাৎক্ষণিক ট্রিপক্ষীয় পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

  • কাউকে লক্ষ্য না করা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো দেশ আক্রান্ত না হলে অন্য কোনো রাষ্ট্রকে এই জোটের হুমকি হিসেবে ধরা হবে না। এছাড়া ন্যাটোর (NATO) সক্রিয় সদস্য তুরস্ক এবং সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ (যেমন: ইরান)-কে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এটি বিদ্যমান কৌশলগত জোটের বিকল্প নয়।

পরবর্তী সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে কাদের নাম আলোচনায়?

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈশ্বিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির পরবর্তী ধাপে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দেশের অন্তর্ভুক্তির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে:

সম্ভাব্য সদস্য দেশ যোগদানের সম্ভাবনা ও কৌশলগত প্রেক্ষাপট
মিসর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মতে, মিসর এই জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’। কায়রোকে নিয়ে 'আর-৪' (R-4) ফ্রেমওয়ার্কে কাজ চলছে। কারিগরি কিছু বিষয় সমাধান হলেই মিসর এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে, যা জোটের সামরিক কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
কাতার সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা ও সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারে কাতারকে সবচেয়ে স্বাভাবিক সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি জিসিসির সকল দেশকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুয়েত কাতার ও কুয়েত উভয় দেশেরই তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় দেশই নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত যৌথ গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নিশ্চিতে আগ্রহী।
অন্যান্য দেশ কৌশলগত কারণে আজারবাইজান, জর্ডান এবং নতুন গতিপথের সিরিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সীমিত বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে।

মিসরের যোগদানে প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের সামনে কিছু আইনি ও কূটনৈতিক বাধা রয়েছে:

১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংক্রান্ত নীতি: কায়রো এমন কোনো কঠোর সামরিক বাধ্যবাধকতায় যাবে না যা ওয়াশিংটনের সাথে তাদের সম্পর্ক, বিদ্যমান সামরিক সহায়তা এবং পূর্বের শান্তিকৌশলকে সংকটে ফেলে।

২. নিজেদের শর্ত ও অবস্থান: লিবিয়া বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অবস্থান কিংবা অন্য দেশের যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর মতো বাধ্যবাধকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে কায়রো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ন্যাটোর মতো কঠোর কোনো একীভূত সামরিক কমান্ড অর্গানাইজেশন হবে, নাকি 'ইচ্ছুক দেশগুলোর' (Coalition of the Willing) একটি নমনীয় কিন্তু কার্যকর আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠবে—তা নির্ভর করবে আগামী দিনে মিসর, কাতার ও কুয়েতের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ওপর। তবে এটি যে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।

(তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সি)