৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেন সামরিক সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
কেন সামরিক সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর ঝুঁকছে বাংলাদেশ?

চীন থেকে বাংলাদেশ প্রথম যে যুদ্ধবিমান কিনেছিল এর আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান কিনেছিলো বাংলাদেশ। ঢাকার বিজয় সরনি থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে গেলে রাস্তার মোড়ে মাঝারি আকারের যে যুদ্ধবিমান চোখে পড়বে, সেটি এ ধরনের বিমান। বিমানটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়। আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬ হলেও চীনে বিমানটি পরিচিত জে-সিক্স নামে। বাংলাদেশ এখন চীন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন যেসব যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে সেটার নাম অবশ্য জে-টেন সি ই।

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে আলোচিত এই যুদ্ধবিমানটি দিয়েই পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষ ভারতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রাফাল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। রাফাল ফ্রান্সের তৈরি ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান। রাফাল ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে সেসময় আলোচনা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চীনের জে-টেন বিমান নিয়ে খবর-বিশ্লেষণ উঠে আসে।

বাংলাদেশ এখন যে তার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের কথা বলছে, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চীনের এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-টেন কেনার ওপর। বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই এই বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় শুধু কি যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট? আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো বিবেচনায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? আর চীনের এই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে?

বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান কোন দেশের?
বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনে এটা ঠিক। তবে দেশটির প্রথম যুদ্ধবিমানের বহর এসেছিল আরও কয়েক বছর আগে ১৯৭৩-৭৪ সালে। তখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে যুদ্ধবিমান উপহার হিসেবে দিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেটা ছিল তখনকার অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১।

‘এগুলো ছিল একেবারে ফ্যাক্টরি ফ্রেশ। কারখানা থেকে বের হয়েই আমরা পেয়েছিলাম। মানে রাশান বিমানবাহিনীর বাইরে আমরাই প্রথম পেয়েছিলাম। এমনকি ভারতও আমাদের কয়েকবছর পর মিগ-২১ পেয়েছিলো। তখনকার এই অত্যাধুনিক বিমান আমাদের এগিয়ে দিয়েছিলো অনেক,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী, তিনি তখন বিমানবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার ছিলেন।

‘শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যত ধরনের মিসাইল, বোমা, রকেট- সব আমাদের দিয়েছিল। তখন থেকেই বিমানবহর শুরু হলো বলা যায়। তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না। যুদ্ধের পর এয়াফিল্ডগুলো মেরামত হচ্ছিলো। এমনকি ব্যাচের পর ব্যাচ প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছিল,’ যোগ করেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এখন কী আছে?
বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধবিমান পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, সেটা হচ্ছে মিগ-২১। এরপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মূল উৎস পরিবর্তিত হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এফ-৬, এরপর আশির দশকে আনা হয় এফ-৭।

বাংলাদেশ এরপরও যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটা বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে। তখন রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। সেগুলো ছিল সেসময়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ফাইটার জেট। তবে ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বহর বেশ পুরোনো হয়ে পড়েছে। একটা অংশ এখন অচল, আরেকটা অংশ পুরোনো হয়ে অচল হওয়ার পথে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবহরে এখন আসলে কী আছে? সরকারিভাবে অবশ্য এর কোন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না।

তবে সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 'ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশ' এর হিসেবে এর একটা চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী বহরে এখন বিমান আছে ২১২টি। এর মধ্যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৪৪টি। এই ৪৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে রাশিয়ার মিগ-২৯ আছে আটটি। আর চীনের নির্মিত এফ-৭ যুদ্ধবিমান ৩৬টি। এই মডেলগুলো কিছুটা পুরেনো।

এছাড়াও আছে ১৪টি ইয়াক-১৩০ বিমান যেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। রাশিয়া থেকে বিমানগুলো কেনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

চীনের এফটি সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যুক্তরাষ্ট্রের লকহিডের দুটি সিরিজের কৌশলগত পরিবহন বিমানও আছে বাহিনীতে।

চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনবে সরকার

বিমানবাহিনীর বহরে ৭৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলেও ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশে তথ্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি। এর পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, চেকোস্লোভাকিয়া (চেক রিপাবলিক) থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে বলে জানাচ্ছে ওয়েবসাইটটি। এর মধ্যে ৩৬ টিই স্লোভেনিয়ায় নির্মিত ব্রামর সি ফোর আই। তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি টু আছে ছয়টি। গত বছরই এগুলো যুক্ত হয়।

‘বাংলাদেশের মিগ-২৯ একটু আধুনিক। কিন্তু সেটাও এখনকার যুগে পুরনো। এর বাইরে আমাদের বাকি যা আছে সবগুলো আরও পুরনো থ্রি-জি প্রযুক্তির। অথচ এখন যে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি এমনকি ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্টেলথ বিমানও ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন করার বিকল্প ছিল না। এখন চীন থেকে যে বিমানগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আধুনিক ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির। সুতরাং এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার।

শুধু যুদ্ধ বিমান কেনাই কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এগুলোকে বলা হচ্ছে মাল্টিরোল ফাইটার জেট। অর্থাৎ বিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় একইসঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। যেমন-

এয়ার টু এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ এটি আকাশসীমায় শত্রুবিমানকে প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যায়।

এয়ার টু গ্রাউন্ড অর্থাৎ শত্রু দেশের মাটিতে কোনো টার্গেট থাকলে সেখানে বোমবর্ষণে দক্ষ।

ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সেনাবাহিনী কোথাও যুদ্ধরত আছে, এই বিমান গিয়ে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারে।

মেরিটাইম এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সমুদ্রে নৌবাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া।

‘এই একটা বিমান, যেটা আমরা কিনতে যাচ্ছি, এটা একাই সব ধরনের কাজ করতে পারে,’ বলেন বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার। তিনি এটাও বলেন যে, আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে শুধু যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট নয়। রাডার, জ্যামিং প্রযুক্তি, মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া বিমান-নৌ-সেনা অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে একধরনের 'রিয়েল টাইম' সমন্বয়ের উপরও যুদ্ধের সফলতা নির্ভর করছে।

সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বাংলাদেশ শুধু যুদ্ধ বিমান কিনছে না, বরং এর সঙ্গে 'ফুল প্যাকেজ' আনা হচ্ছে। ‘এটা আসলে একটা ফুল প্যাকেজ। শুধু এয়ারক্রাফট কিনলে তো হবে না। এখানে স্পেয়ার পার্টস থাকে, মেইনটেন্যান্স থাকে, এসবের জন্য দশ বছরের একটা কন্ট্রাক্ট থাকে। প্লাস এরসঙ্গে বাড়তি ইক্যুইপমেন্ট নেওয়া হয় সামনে কী সিনারিও হতে পারে, কী কী লাগতে পারে সেটা হিসেব করে।’

‘এই এয়ারক্রাফটে জ্যামার তো ইনবিল্ড থাকবে, রাডার থাকবে। এর সঙ্গে সার্ভেইল্যান্স ক্যাপাসিটি চাইলে সেটা নেওয়া যায়। এগুলোর জন্য আলাদা ইক্যুইপমেন্ট প্যাকেজে থাকে। আরও থাকে মিসাইল অর্থাৎ লং রেঞ্জ মিসাইল যেটা হচ্ছে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ। চোখে দেখা যায় না। কিন্তু টার্গেট করে হামলা করা যায়। পাকিস্তান এটা ভারতের সঙ্গে ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। সেই একই এয়ারক্রাফটই তো আমরা কিনছি,’ তিনি বলেন।

পাকিস্তান থেকে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ

এছাড়া বাংলাদেশে এখন আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য 'গ্রাউন্ড বেইজড রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা' সম্প্রতি চালু হয়েছে বলে বিবিসিকে জানান এম আবুল বাশার।

এটা শত্রু বিমান আক্রমণের আগাম সতর্কতা দেবে এবং টার্গেট নির্ধারণ করে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করবে।

‘আমরা এখন এয়ারক্রাফটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাটা নিয়ে আসবো এবং এটা সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত করবো। এছাড়া আমাদের কাছে ড্রোন আছে। আমরা অলরেডি চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আমাদের কেনা এয়ারক্রাফটগুলো রাডার ব্যবস্থা থেকে যে ছবি পাবে, সেটার ভিত্তিতে এই ড্রোনগুলোকে গাইড করে নির্দিষ্ট দিকে পাঠাতে পারবে।’

অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে?

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিমান থাকলেই হয় না। এগুলো পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো লাগে। তাছাড়া বিমানগুলোকে কোথায়, কীভাবে রাখা হবে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিমান ওড়ার আগে অর্থাৎ মাটিতে থাকার সময়ই যদি শত্রুপক্ষের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে সেই বিমান কোনো কাজে লাগবে না। ফলে বিমানগুলোকে লুকিয়ে রাখা এবং এর জন্য শক্ত অবকাঠামো দরকার হয়। একইসঙ্গে দরকার হয় একাধিক রানওয়ে। কারণ রানওয়ে ধ্বংস হলে বিমান তখন আর উড্ডয়নেরই সুযোগ পাবে না।

একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক একই পরিস্থিতিতে পড়েছিলো পাকিস্তানি বাহিনী। সেই সময় ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা হামলায় তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়েতে বড় বড় গর্ত বা ফাটল তৈরি হয়। যার ফলে পাকিস্তানি বিমানগুলোর পক্ষে উড্ডয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে পাকিস্তানের ১৪ নং স্কোয়াড্রনের অত্যাধুনিক স্যাবর ফাইটার জেটগুলো মাটির ওপর একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিমানগুলো ভারতীয় বিমানের সহজ টার্গেটে পরিণত হয় এবং মাটিতে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের এক্ষেত্রে বিমান পরিচালনা বা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কী আছে? এমন প্রশ্নে বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী অবকাঠামো দুর্বলতা আছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান। ‘আমাদের বিমানবাহিনীর সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে যে, এর নিজস্ব কোনো এয়ারফিল্ড নেই।

আমাদের প্রত্যেকটি এয়ারফিল্ড যেগুলো আমরা এখনো ব্যবহার করছি যেমন-ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর -এগুলো বেসামরিক যানবাহনের সঙ্গে মিলে ব্যবহার করছি। যশোরে বেসামরিক ব্যবহার কম। কিন্তু সেটা আবার ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছে। আর ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তো সামরিক-বেসামরিক বিমান, হেলিকপ্টার সবই চলাচল করে।’

এছাড়া যুদ্ধ বিমান লুকিয়ে রাখার জন্য কংক্রিটের শক্ত অবকাঠামোও সেভাবে নেই বলে জানান তিনি। ‘এগুলো খুব ব্যয়বহুল। বোমার বিরুদ্ধে টিকে থাকার উপযোগী করে বানাতে হয়। সুতরাং খরচ অনেক বেশি। কিন্তু এগুলো আমাদের বানাতে হবে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা অন্তত একটা বিমানঘাঁটি দরকার যেটা সামরিক ডিজাইন মেনে সামরিক ব্যবহারের জন্য থাকবে। সেখানে মাল্টিপল রানওয়ে থাকবে যেন একটা রানওয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়,’ বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী।

বাংলাদেশের বর্তমানে যুদ্ধবিমানের জন্য ব্যবহার উপযোগী এয়ারফিল্ড আছে ১৩টি। ‘এরমধ্যে সবগুলোকে আমরা হয়তো সবসময় অপারেশনাল রাখতো পারবো না। কারণ সেই সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের এখন চারটা এয়ারবেইজ -ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার -এই চারটা থেকে সহজেই অপারেট করতে পারি।

আরো ২/৩টি এয়ারফিল্ড আছে, যেগুলো আমার জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি। এই রানওয়েগুলোকে অ্যাকটিভ রাখতে হবে।’ বলেন সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার। একইসঙ্গে তিনি জোর দেন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হার্ড এয়ারক্রাফট শেল্টার থাকতে হবে। বিপদের সময় যেন লুকিয়ে রাখা যায় কিংবা কন্টিনিউয়াস মুভমেন্টে রাখা যায়। এছাড়া ঘাঁটিগুলোতে আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম থাকতে হবে যেন শত্রু বিমান আসার খবর পেলেই বিমানগুলো আকাশে উঠে যেতে পারে। এটাতে আমাদের হয়তো শতভাগ সক্ষমতা নেই। কিন্তু অন্তত ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সক্ষমতা আছে আমাদের।’

চীনা নির্ভরতার কারণ কী?
বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর জন্য দেশটি মূলত চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে শুরু করে রণতরী কিংবা সেনাবাহিনীর ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা - সবকিছুর বড় অংশটাই আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সাবমেরিন রয়েছে দু'টি। দুটিই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে এগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সব মিলিয়ে নৌযান রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট বা রণতরী আছে বাংলাদেশের। সাথে আরও আছে ছয়টি কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ। কর্ভেট জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি চীনের, দুটি যুক্তরাজ্যের। ফ্রিগেটগুলোর চারটির নির্মাতা চীন, দুইটির যুক্তরাষ্ট্র আর একটি দক্ষিণ কোরিয়ার।

কিন্তু চীন কীভাবে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস হয়ে উঠল? এর কয়েকটি কারণ আছে-

প্রথমটি হচ্ছে, কম টাকায় আধুনিক অস্ত্র। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফংয়ে বলেছেন, চীনের যুদ্ধবিমানগুলোর সমমানের যেসব বিমান ইউরোপ বা আমেরিকায় আছে, সেগুলোর তুলনায় চীনের যুদ্ধবিমানগুলো ‘অর্ধেকেরও কম বা ওয়ান থার্ড খরচে পাওয়া সম্ভব।’

দ্বিতীয়টি হচ্ছে, প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত-মিয়ানমারের থেকে ভিন্ন ধরনের বিমান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা। যেটা বাংলাদেশকে কৌশলগত সুবিধা দেবে। ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশই রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। বাংলাদেশ ভিন্ন ধরনের বিমান ব্যবহার করলে সেটা দুই দেশের কাছেই 'অচেনা' থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে, চীন-বাংলাদেশ দুই দেশের ধারাবাহিক উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।

আর চতুর্থটি হচ্ছে, চীনা অস্ত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর মতো শর্তের বেড়াজাল নেই।

‘ইউরোপ বা আমেরিকা কিন্তু শর্ত দেয়- কার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন, কখন ব্যবহার করছেন। যেমন পাকিস্তান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিনেছে। তারা কিন্তু এটা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে না। যেখানে এফ-১৬ আছে, এরকম প্রত্যেক ঘাঁটিতেই আমেরিকার লোক আছে। তারা সর্বক্ষণ মনিটর করে। কিন্তু চীন এরকম কোনো শর্ত দেয় না,’ বলেন ইশফাক ইলাহী চৌধুরী। সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

নিলোফার চৌধুরী মনি জানতে চেয়েছিলেন, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোন কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব অর্থে দুই অর্থবছরে কোথায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও জানতে চান তিনি।

যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬০ শতাংশ

সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার আসে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক বছরে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৬০.১%।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসী আয় ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার।

ওমান থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং ইতালি থেকে ১.৬৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২.৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স ১.৬২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার, এবং কাতার থেকে ১.২০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কমেছে

তবে সব উৎস দেশ থেকে রেমিট্যান্স বাড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও—২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩৫.৯%।

কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২১ মিলিয়ন ডলার এলেও—পরের অর্থবছরে তা কমে ১১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৫০% কমেছে।

এ ছাড়া মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বেড়েছে

ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জর্ডান থেকে রেমিট্যান্স ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৭.৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ উৎস দেশ থেকেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে রেমিট্যান্স কমেছে।

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে মালয়েশিয়া। নতুন নীতিতে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিজিট ভিসায় মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা সীমিত করেছে দেশটি। এর ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব দেশের নাগরিকদের জন্য আগের মতো ঢালাওভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে না।

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসা, ‘ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ’ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।

অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের সাধারণ ভিজিট বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এ-সংক্রান্ত দেশগুলোর তালিকাও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওপর পড়বে না। কারণ, ইমিগ্রেশন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ভিসা এই পরিবর্তনের আওতাভুক্ত নয়।

মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন এই ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ায় পর্যটকদের আগের তুলনায় ভিসা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মুখে পড়তে হবে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণ/

চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে দেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়বে। কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসছে—নতুন যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে চীনের আরও বড় একটি সামরিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে?

বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। একটি খসড়া প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, পুরো প্যাকেজে আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহনের হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন আকাশযানও থাকার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই কেনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তা না হলে সেটি চলে যেতে পারে পরবর্তী বাজেট চক্রে।

বাংলাদেশ ২০ থেকে ২৪টি জে-১০সিই কেনার কথা ভাবছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল দাম প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু দামই শেষ কথা নয়। প্রশিক্ষণ, রসদ, অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের পেছনে মোট ব্যয় প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জে-১০সিই নিয়ে এত আগ্রহ কেন
জে-১০সিই নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের পেছনে ২০২৫ সালের মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের প্রভাব থাকতে পারে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০সিই ভারতীয় কয়েকটি যুদ্ধবিমান, এমনকি রাফালও ভূপাতিত করেছে। তবে পাকিস্তানের দাবিটি এখনো বিতর্কিত এবং স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারপরও সংঘর্ষে জে-১০সিই-এর ব্যবহার এই যুদ্ধবিমানটির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে। পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত এই রপ্তানি সংস্করণের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। পাকিস্তানের জে-১০সিই যে সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার পুরোটা হয়তো শুধু যুদ্ধবিমানটির নিজের ক্ষমতা নয়।

পাকিস্তান এসব যুদ্ধবিমান একা ব্যবহার করেনি। এর পেছনে ছিল চীনা প্রযুক্তিনির্ভর একটি বড় সামরিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে নজরদারি ও নির্দেশনা দেওয়ার বিমান—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।

তাই বাংলাদেশ শুধু জে-১০সিই কিনলেই পাকিস্তানের মতো একই ধরনের সক্ষমতা পেয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

জে-১০সিই আর জেএফ-১৭
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের আলোচনায় এর আগে চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩-এর নামও এসেছে। এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুরোনো এফ-৭ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বদলে জেএফ-১৭ কেনার পরিকল্পনা করছে। এসব বিমানে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত এভিওনিকস থাকার কথা।

জে-১০ এবং জেএফ-১৭কে একই ধরনের বিমান হিসেবে দেখলে বিষয়টি বোঝা কঠিন হবে। দুটির কাজ অনেকটা আলাদা।

জে-১০ তুলনামূলক ভারী এবং এর মূল শক্তি আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, উন্নত রাডার ও বেশি গতিশীলতা। অন্যদিকে জেএফ-১৭ হালকা, তুলনামূলক কম খরচে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা সম্ভব।

দুটি বিমান একসঙ্গে থাকলে বাংলাদেশ একটি ‘হাই-লো’ ধরনের যুদ্ধবিমান কাঠামো পেতে পারে। সহজ করে বললে, বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ আকাশপ্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকতে পারে জে-১০। আর নিয়মিত আকাশ টহল ও আঘাত হানার মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে জেএফ-১৭।

চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে চীনের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। ফলে এসব সরঞ্জাম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক এবং তুলনামূলক কম দাম—সব মিলিয়ে চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে স্বাভাবিক একটি বিকল্প।

আসল বিষয় যুদ্ধবিমান নয়
২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে পাকিস্তানের জে-১০সিই-এর কথিত সাফল্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধবিমানগুলোর সঙ্গে চীনা প্রযুক্তির আরও অনেক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করেছিল।

সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের চীনা তৈরি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় বিমান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার কাজে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের চীনা তৈরি যুদ্ধবিমানগুলো চীনা প্রযুক্তিনির্ভর আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণের বিমান বা এ-ডব্লিউ অ্যান্ড সি-এর সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন কেন ভারতচীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিমান যত আধুনিকই হোক, তার পুরো সক্ষমতা পেতে হলে সেটিকে রাডার, নজরদারি, যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং কমান্ড ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে চালাতে হয়।

এখানেই বাংলাদেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। জে-১০সিই কেনার পর যদি এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আরও চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশের চীনা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কও আরও গভীর হতে পারে।

যুদ্ধবিমান কিনলেই কাজ শেষ নয়
একটি যুদ্ধবিমান কেনার পর সেটিকে বছরের পর বছর সচল রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। উন্নত যুদ্ধবিমানের জন্য নিয়মিত খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয়। ফলে অস্ত্র কেনার চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ও সহায়তা সম্পর্কও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ২০ বছরে কেনা মোট অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। চীন বাংলাদেশকে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে আটকে নেই। এসব সরঞ্জাম সচল রাখতে যে খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার, সেগুলোর সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক তৈরি হয়।

দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা চীনের প্রভাবকে অস্ত্রের বাজারের বাইরেও নিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত বেশি একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে, তার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থও তত বেশি সেই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মিয়ানমারের জেএফ-১৭ এর সতর্কবার্তা
চীনা সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি বোঝাতে মিয়ানমারে থাকা জেএফ-১৭গুলোর উদাহরণ সামনে আসে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলোতে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। উচ্চমাত্রার জি-ফোর্সে চালানোর সময় বিমানগুলোর কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া জেএফ-১৭-এর কেএলজে-৭এল রাডারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ভুলতা নিয়েও সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থার কম্পিউটারে ত্রুটির অভিযোগও আছে। এসব সমস্যা বিমানের দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আরেকটি সমস্যা খুচরা যন্ত্রাংশ নিয়ে। মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জেএফ-১৭তে ব্যবহৃত পশ্চিমা এভিওনিকস ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধবিমানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এর মানে এই নয় যে একই সমস্যা বাংলাদেশের জে-১০সিইতে হবেই। তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে বিমানটির দাম বা সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হিসাবেও বদল আসতে পারে
বাংলাদেশ জে-১০সিই বা জেএফ-১৭ কিনলে ভারতের সামগ্রিক আকাশ-আধিপত্য অবশ্যই পাল্টে যাবে না। ২০২৬ সালের আইআইএসএসের হিসাবে ভারতের ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের হাতে আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান এলে দুই দেশের কৌশলগত সক্ষমতার ব্যবধান কিছুটা কমবে। বাংলাদেশের আকাশসীমায় টহল ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতাও বাড়বে। এর প্রভাব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে। প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই স্থলপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

বাংলাদেশের বিমান সক্ষমতা বাড়লে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এই এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বড় কোনো আঞ্চলিক সংকটের সময় ভারতকে পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও পরিকল্পনা ও কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিতে হতে পারে।

এখানে অবশ্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো সক্রিয় ভূখণ্ডগত বিরোধ নেই। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের তার বিরোধীদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষের কারণ ছিল। এরই মধ্যে ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের আশপাশে সামরিক অবকাঠামোও শক্তিশালী করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতির পেছনে করিডোরটির ভঙ্গুরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।

চীনের সীমান্তবর্তী চুম্বি উপত্যকার কাছাকাছি অবস্থান করায় শিলিগুড়ি করিডোর এমনিতেই ভারতের জন্য স্পর্শকাতর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি ভারতীয় সামরিক উপস্থিতি বাড়লে সেটিকে বাংলাদেশেও উত্তর সীমান্তে ভারতের চাপ বাড়ার দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে, বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন আগের মতো স্বস্তিদায়ক নয়।

চীনের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে—এমন পরিস্থিতি চীনের জন্যও বাংলাদেশে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের প্রভাবের ভারসাম্য তৈরির একটি উপায়। কিন্তু ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি অন্যরকম। তাদের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় চীনের প্রভাবের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে। এখানেই বাংলাদেশের জন্য মূল কৌশলগত প্রশ্নটি আসে।

ভারতের অতিরিক্ত প্রভাব এড়াতে গিয়ে যদি বাংলাদেশ চীনের সামরিক ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এক ধরনের নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আরেক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বাংলাদেশের কয়েক দশকের চীনা অস্ত্রনির্ভরতা একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়িয়ে এই নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।

এরই মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এগিয়েছে। দুই দেশ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার সম্পর্ক না রেখে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির উচ্চপর্যায়েও সম্পর্ককে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এছাড়াও তুরস্কের বাইরে জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তরের সুযোগ তৈরির জন্য একটি চুক্তি করেছে। ফলে জে-১০সিই ও জেএফ-১৭ বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান বহরকে আধুনিক করার বড় সুযোগ দিতে পারে। এগুলো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ব্যবধানও কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা শুধু বিমানের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যে রাডার, অস্ত্র, যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের পুরো ব্যবস্থাই যদি ক্রমশ চীনকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ যে সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে, তা একদিকে তার বিকল্প বাড়াবে, আবার অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত স্বাধীনতার জায়গাটিও সংকুচিত করতে পারে।

(এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি দুই দেশের সুসম্পর্ক ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আপনার চিঠি আমি মাত্র পেয়েছি এবং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না এবং আমি এই বিষয়টি মনে রাখব। এই বিষয়ে আপনার বিশেষ মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। নিকট ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠিতে আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পৌঁছে দেবেন। তারা অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তবে আপনার নেতৃত্বে তারা এবং আপনার দেশ নিজেই একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী হবে বলে আমি নিশ্চিত।’

চিঠির শেষাংশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সর্বোত্তম শুভেচ্ছাসহ’ নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক বার্তা দেন।

২০০ টাকায় রাতযাপন, তবুও প্রবাসীরা যান না ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
২০০ টাকায় রাতযাপন, তবুও প্রবাসীরা যান না ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী ঢাকায় আসেন। আবার মধ্যরাতে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেও অনেকে ঢাকায় অবস্থান করেন। কম খরচে নিরাপদ আবাসনের অভাবে তাদের কেউ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের ব্যয়বহুল হোটেলে ওঠেন, আবার অনেকে বিমানবন্দরের টার্মিনালেই রাত কাটান।

অথচ এসব প্রবাসী কর্মীর জন্য মাত্র ২০০ টাকায় থাকা ও বিমানবন্দরে বিনা খরচে যাতায়াতের সুবিধা দিচ্ছে ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার’। কিন্তু উদ্বোধনের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রচারণার অভাবে ফাঁকা পড়ে আছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেন্টারটি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে খিলক্ষেত থানাধীন বরুয়া এলাকার লঞ্জনীপাড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতে স্বাভাবিক সময়ে সড়কপথে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতেই এটি নির্মাণ করা হয়। এখানে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ৫০ জন একসঙ্গে অবস্থান করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

তহবিল পেলে বিনা খরচে সব প্রবাসীর লাশ দেশে আনা হবে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিমানবন্দর থেকে এ সেন্টারে যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণে প্রায় দুই বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে সেন্টারে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাস্তার এ অবস্থার কারণে সেন্টারে প্রবাসীদের ফ্রিতে যাতায়াতের জন্য যে বাসটি রয়েছে, সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।—মো. সাইদুর রহমান

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনের পর থেকে অধিকাংশ সময় সেন্টারের ৯৯ শতাংশ শয্যাই ফাঁকা থাকে। সবশেষ গত জুনে ৮৪, জুলাইয়ে ৮০ জন প্রবাসী সেখানে অবস্থান করেন। অথচ প্রতিদিন যেখানে কয়েক হাজার বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মী ঢাকায় অবস্থান করছেন, সেখানে এ সংখ্যা ‘অত্যন্ত কম’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীদের অভিযোগ, সেন্টারটি সম্পর্কে অধিকাংশ প্রবাসীই জানেন না। ফলে তারা বিমানবন্দরের আশপাশের হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকছেন অথবা টার্মিনালে বসেই দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন। সেন্টারটির সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর দাবি তাদের।

আরও পড়ুন

মৃত ভেবেছিল পরিবার, ২৫ বছরের প্রবাস ট্র্যাজেডির অবসান!

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকে তারা নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু সে অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আশার দিক হচ্ছে, আগের তুলনায় সেন্টারে প্রবাসীর যাতায়াত বাড়ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেন্টারটি নিরিবিলি পরিবেশে নির্মিত। আবাসনের কক্ষগুলো পরিচ্ছন্ন, প্রতিটি কক্ষে তিন থেকে চারটি শয্যা রয়েছে। রয়েছে নিরাপদ লাগেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ইন্টারনেট, টেলিফোন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, প্রাথমিক চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান। এছাড়া বিদেশগামী কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত তথ্যও দেওয়া হয় এখানে।

জানতে চাইলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইদুর রহমান বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্যই এ সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে খুবই কম খরচে তারা থাকতে পারবেন। কিন্তু প্রত্যাশার তুলনায় প্রবাসীরা কম আসছেন। এজন্য বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবাসী লাউঞ্জে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে এ সেন্টারে যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেন ও নালা নির্মাণে প্রায় দুই বছর ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে সেন্টারে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাস্তার এ অবস্থার কারণে সেন্টারে প্রবাসীদের ফ্রিতে যাতায়াতের জন্য যে বাসটি রয়েছে, সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

দূরত্ব বড় বাধা

ওয়েজ আর্নার্স বোড সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়ার দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। এ কারণে অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না।

তবে প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো বিনামূল্যে যাতায়াত। কিন্তু সেন্টারের সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় দেড় বছর ধরে সে সেবাও পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। ফলে বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত যাত্রীরা বিনা খরচে বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে এবং সেন্টার থেকে বিমানবন্দরে যাতায়াত করতে পারছেন না।

অনেক সময় সড়কে যানজটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকায় আসতে দেরি হয়। এতে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগেভাগেই বিমানবন্দরে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বিপদে পড়লাম। এখানে তো ঠিকমতো বসারও ব্যবস্থা নেই।—তোফাজ্জল হোসেন

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি অথবা অনলাইনে সিট বুকিং করা যায়। প্রতি রাতের ভাড়া ২০০ টাকা এবং একজন কর্মী সর্বোচ্চ দুই রাত অবস্থান করতে পারেন। বুকিংয়ের সময় পাসপোর্ট ও ফ্লাইটের টিকিটের কপি জমা দিতে হয়।

আরও পড়ুন

বিদায়ী আগস্ট মাসে ৩৪ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঢাকার সড়কে তীব্র যানজট, ফ্লাইটের কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চাপ এবং উচ্চমূল্যের হোটেল ভাড়া—এসব বিবেচনায় ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারটি প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। কিন্তু যথাযথ প্রচারণার অভাবে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অধিকাংশ প্রবাসী।

গত ২৮ আগস্ট ভোর ৪টার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সৌদি আরব যান চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন। ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগেই তিনি বিমানবন্দরে চলে আসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে তাকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেননি নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে বহির্গমন টার্মিনালের ক্যানপি-২ এর সামনে হাঁটাচলার পথে লাগেজ রেখে বাকি সময় পার করতে হয় তাকে।

আরও পড়ুন

কাতারে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা

আলাপকালে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, অনেক সময় সড়কে যানজটসহ বিভিন্ন কারণে ঢাকায় আসতে দেরি হয়। এতে ফ্লাইট মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আগেভাগেই বিমানবন্দরে চলে এসেছি। কিন্তু এখানে এসেও বিপদে পড়লাম। এখানে তো ঠিকমতো বসারও ব্যবস্থা নেই।

ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার সম্পর্কে জানেন কি না, এমন প্রশ্নে এই প্রবাসী বলেন, এটা কী? কখনো নাম শুনিনি। তবে শুনেছি, ঢাকায় কোথায় যেন প্রবাসীদের থাকার জন্য সরকার ব্যবস্থা রাখছে। কিন্তু সেটা কোথায়, কীভাবে যেতে হয়, তা তো জানি না।

ফেসবুকের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ওয়েজ আর্নাস সেন্টারে যান রাজশাহীর পবা উপজেলার মোজাম্মেল হক। তিনি ৯ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকেন। গত ১৯ আগস্ট মধ্যরাতে তার ফ্লাইট ছিল।

আরও পড়ুন

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী


সেন্টারের পরিবেশ ভালো। কিন্তু সেন্টারটির কথা অনেক প্রবাসী জানেন না। আবার বিমানবন্দর থেকে সেন্টারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না।—মোজাম্মেল হক

মোজাম্মেল হক বলেন, ফ্লাইটের একদিন আগেই ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে চলে এসেছি। দুই বছর আগে ছুটিতে যখন দেশে আসি, ফেরার সময়ও ওই সেন্টারে একদিন অবস্থান করেছিলাম।

তিনি বলেন, সেন্টারের পরিবেশ ভালো। কিন্তু সেন্টারটির কথা অনেক প্রবাসী জানেন না। আবার বিমানবন্দর থেকে সেন্টারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক প্রবাসী সেখানে যেতে চান না। এ সেন্টারটি বিমানবন্দর সংলগ্ন কোথাও স্থাপন করা দরকার ছিল। তাহলে শতভাগ সেবা নেওয়ার সুযোগ পেতেন প্রবাসীরা।

‘এরমধ্যে বিমানবন্দর সংলগ্ন হাজি ক্যাম্প এলাকা থেকে খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়া পর্যন্ত সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ কারণে ঠিকমতো অটোরিকশা দিয়েও যাতায়াত করা যায় না’—যোগ করেন এ প্রবাসী।

খিলক্ষেতের বরুয়ার লঞ্জনীপাড়া সাবেক দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে ছিল। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ওয়ার্ড ও সীমানা বিন্যাসের পর এই এলাকাটি ডিএনসিসির ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের (অঞ্চল-৭) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

২০২২ সালে এমন নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নং ৩৭ থেকে ৫৪) জনদুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ওই কাজের মধ্যে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সামনের রাস্তাটিও রয়েছে।

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মায়ের স্মরণে কাতারের আল খোরে চালু হলো মহিলাদের জন্য ফ্রি কোরআন হিফজ কেন্দ্র