১৫ অক্টোবর ২০২৬

ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল গিলছে যুক্তরাষ্ট্র, আসল লাভ কার?

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২৮ আগস্ট এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণের বেশি করবে। একই সঙ্গে, মার্কিণ নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবে এই চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অল্প সময়ে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের নিয়ন্ত্রণ
ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন (৩০ হাজার ৩০০ কোটি) ব্যারেল। এটি বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেলের নিয়ন্ত্রণ পাবে। এটি দেশটির মোট পরিচিত তেল মজুতের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি।

তবে ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল।

কার হাতে যাচ্ছে তেলের নিয়ন্ত্রণ
হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের সঙ্গে একটি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক ভেনেজুয়েলার ধনকুবের আলেহান্দ্রো বেতানকুর্ট। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সাবেক মিত্র ছিলেন।

ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদনে মার্কিন কোম্পানি শেভরনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স। চুক্তিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটালের ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে।

যৌথ উদ্যোগটির দৈনিক প্রায় দুই লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচের দামে কেনার অধিকার পাবে।

এখনই কমছে না তেলের দাম
চুক্তি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বরং বেড়েছে।

কোপলারের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল বলেন, চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল প্রতি ব্যারেল ৮৩ থেকে ৮৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৮৮ ডলারের মধ্যে। এরপর ডব্লিউটিআই ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ব্রেন্টের দামও ৯৫ ডলারের ওপরে ওঠে।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভেনেজুয়েলার তেল তুলতে লাগবে বহু বছর
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত থাকলেও তা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব নয়।

দেশটির তেল অবকাঠামোর বড় অংশ পুরোনো। পাইপলাইন ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও পর্যাপ্ত নয়।

এ ছাড়া ভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতের জন্য বিশেষায়িত অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।

রাউবালের মতে, চুক্তির কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলোও এরই মধ্যে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল এলেও তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের দাম কমানোর মতো প্রভাব তৈরি হবে না।

হরমুজ প্রণালির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে ভেনেজুয়েলা?
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর ব্রেন্ট তেলের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

তাই ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ফ্রেডেরিক স্নাইডার বলেন, হরমুজ দিয়ে বাজারে আসা তেলের ঘাটতি ভেনেজুয়েলা পূরণ করতে পারবে না।

এর একটি কারণ হলো, ভেনেজুয়েলার তেল ভারী ও সালফারসমৃদ্ধ। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা অনেক তেল তুলনামূলকভাবে হালকা। ফলে দুই ধরনের তেল একইভাবে বাজারে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

আসল লাভ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো।

চুক্তি ঘোষণার পর ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে সক্রিয় বড় মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরনের শেয়ারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এর মধ্যে শেভরন, ইতালির এনিই, ভারতের ওএনজিসি, কলম্বিয়ার জিওপার্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের জিই ভারনোভা থাকার কথা রয়েছে।

আছে তেলের ভাণ্ডার, সঙ্গে ঝুঁকিও
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি ছিল। এরপর বিনিয়োগের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।

ভেনেজুয়েলায় নতুন করে বিনিয়োগ করতে কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হবে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। তাই দীর্ঘমেয়াদে তেল উৎপাদন বাড়লেও কতটা বাড়বে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ফলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার তেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে জ্বালানির কম দাম পাবেন— এমন সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।

বরং চুক্তির তাৎক্ষণিক ও সবচেয়ে স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো।

ইরিত্রিয়া সীমান্তবর্তী শহরে অগ্রসর হচ্ছে ইথিওপীয় সেনারা, যুদ্ধের শঙ্কা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইরিত্রিয়া সীমান্তবর্তী শহরে অগ্রসর হচ্ছে ইথিওপীয় সেনারা, যুদ্ধের শঙ্কা
ইথিওপিয়ার সরকারপন্থি ‘তিগ্রাই পিস ফোর্স’-এর সদস্যরা সড়কে টহল দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স

আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী শহর জালামবেসায় ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্র। মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় রয়টার্স।

কূটনীতিকরা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত এড়াতে যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখনই সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরিত্রিয়ার সেনারা বিদ্রোহীদের সহায়তায় ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জালামবেসায় প্রবেশ করেছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ইরিত্রিয়ার সেনা কিংবা বিদ্রোহীরা অবস্থান করছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা ইথিওপিয়ায় সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ইরিত্রিয়ার দাবি, তাদের সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ নিয়ে আদ্দিস আবাবার অভিযোগ কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল।

গত মাসে ইথিওপিয়ায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।

বর্তমানে ইথিওপীয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শহর পুনর্দখল করেছে। এতে বিদ্রোহীরা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ইথিওপীয় সেনারা জালামবেসায় পৌঁছেছে। সূত্রগুলোর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন চারজন, একজন কূটনীতিক এবং সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

ইথিওপিয়ার সরকারপন্থি একটি মিলিশিয়ার মুখপাত্র শহরটির নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এ বিষয়ে ইথিওপীয় সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জালামবেসা ইরিত্রিয়া সীমান্তের ইথিওপীয় অংশে অবস্থিত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একটি শহর। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র: রয়টার্স

সৌদি আরবকে সহায়তায় এরদোয়ানের সঙ্গে ‘কথা বলবেন’ ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদি আরবকে সহায়তায় এরদোয়ানের সঙ্গে ‘কথা বলবেন’ ট্রাম্প

সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সহায়তার অনুরোধ জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইরান নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতি বিদ্রোহীরা ‘খুবই খারাপ আচরণ করছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে সৌদি আরবের স্বার্থে সহায়তার জন্য অনুরোধ করার কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আমার মনে হয়, আমি যা বলব, তিনি তা-ই করবেন।’

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুরস্ক সম্প্রতি রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ প্রতিশ্রুতি এসেছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরান বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এরদোয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা তুরস্ক সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে গিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করছে উত্তর কোরিয়া। এর ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রানসন।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রানসন বলেন, রাশিয়াকে সহায়তা করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়া কীভাবে নিজ ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ায় সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে হয়, সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দূরত্বে সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সামরিক সম্পদ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এর ফলে দেশটির সক্ষমতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সামরিক অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

মার্কিন এই জেনারেল সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া তার সামরিক কার্যক্রমে কাজে লাগাতে পারলে ওয়াশিংটন ও সিউলের জন্য দেশটিকে প্রতিহত করার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ব্রানসনের দাবি, রাশিয়াও উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্যামারও রয়েছে। রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সহায়তার বিনিময়ে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুদ্ধকালীন সামরিক বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন ব্রানসন।

তিনি শর্তসাপেক্ষে এই নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন ব্রানসন। এর মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে জুলাইয়ে রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার আরও সেনা মোতায়েনের খবর পর্যবেক্ষণ করছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একই সময়ে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার নিন্দা জানায় জাপান।

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট-ক্রু নিষিদ্ধ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট-ক্রু নিষিদ্ধ

তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা ‘এয়ার ফ্রান্স’। মূলত ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন ও বিতর্কিত নির্দেশনার শর্ত মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফরাসি গণমাধ্যম ‘মিডিয়াপার্ট’ এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে পাকিস্তান, ইরান, আলজেরিয়া ও তিউনিশিয়ার মতো দেশ।

এই নির্দেশনায় সরাসরি কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরা কার্যত চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এয়ার ফ্রান্স ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। তথ্য গোপন করলে বা নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্যমতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে গত ১ অক্টোবর ইসরায়েল এই নতুন নিয়ম কার্যকর করে।

এই নির্দেশনার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলোও তাদের প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাইবাছাই শুরু করেছে। এদিকে, এয়ার ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

সুদান সীমান্তে মর্মান্তিক বিমান হামলা! স্বর্ণখনিতে প্রাণ গেল ৭২ শ্রমিকের, দায়ী কে?

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সুদান সীমান্তে মর্মান্তিক বিমান হামলা! স্বর্ণখনিতে প্রাণ গেল ৭২ শ্রমিকের, দায়ী কে?

সুদান-মিশর সীমান্তে স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় ৭২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সুদানি সংস্থার সূত্রে আল জাজিরা জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলের ওই খনিতে হামলার পর চারিদিকে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা গেছে। হামলায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই মুহূর্তের ভয়াবহ চিত্র।

সুদানের যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার তথ্য নথিভুক্তকারী সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ এই হামলার জন্য মিশরীয় সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে। খারতুমভিত্তিক অধিকার সংগঠনটি রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘মিশরীয় যুদ্ধবিমানগুলো সুদানি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে উত্তর ওয়াদি এলাকায় বেসামরিক খনি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে ৭২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।’

শনিবারের (১০ অক্টোবর) এই হামলার খবরটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। আর মিশর সরকারও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

স্বর্ণসমৃদ্ধ পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চল জাবাল আল-উকাইদাতে চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে গত জুনে একই স্বর্ণখনির এলাকায় অনুরূপ বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। তখনও হামলার জন্য মিশরকে দায়ী করা হয়েছিল।

মিশরীয় সামরিক বাহিনী সেসময় জানিয়েছিল, নিজেদের সীমান্তের ভেতরে অবৈধ স্বর্ণখনির বিরুদ্ধে একটি ‘বড় পরিসরে অভিযান’ পরিচালনা করেছে তারা।

সুদান ও মিশর সীমান্ত নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। দুই দেশই সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিকোণ অঞ্চলের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় অধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ডজন ডজন মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। অন্যগুলোকে কাফনে মোড়ানো হয়েছে। ওই এলাকায় বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন খনি শ্রমিকরা।