৩০ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: বাংলাদেশে ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি দেখছে বিশ্বব্যাংক

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: বাংলাদেশে ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি দেখছে বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশের অর্থনীতির কাটিয়ে ওঠা পুরোনো সমস্যাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘায়িত ও অনিশ্চিত এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্য পরিবহনের গতিপথেও তৈরি হয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। ফলে সমুদ্রপথে জাহাজীকরণ ব্যয় বেড়েছে, বাড়ছে আমদানি খরচও। এর সবচেয়ে বড় চাপ এখন জ্বালানি খাতে। তেল ও এলএনজি নিয়ে দেশে দীর্ঘদিনের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

জ্বালানিসংকটের এই ধাক্কা এখন শুধু জ্বালানি খাতে থেমে নেই। গ্যাসের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, কোথাও কমছে কাজের সময়, আবার কোথাও বন্ধ হচ্ছে কারখানা। কমছে সার উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বাড়ছে চাপ, বাড়ছে লোডশেডিং ও জ্বালানি ব্যয়। এর সঙ্গে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাড়ছে পণ্যের দামও। এসবই মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে মানুষের আয়রোজগার ও কর্মসংস্থানে।

সার্বিক পরিস্থিতি অনুমান করে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, এই সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। একই কারণে দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে আরও ১২ লাখ মানুষ। চলতি বছরের জুনের মাঝামাঝি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেট সহায়তা প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক এই আশঙ্কামূলক মূল্যায়ন করেছিল।

এর আগে খোদ বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে চলতি বছর ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসবে—এমন পূর্বাভাস ছিল। কিন্তু জুনের মূল্যায়ন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সেই সংখ্যা নেমে আসতে পারে ৫ লাখে। অর্থাৎ যুদ্ধের ধাক্কায় দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাব্য অগ্রগতির বড় অংশ এখন থেমে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার পুরোনো দুর্বলতা এই আশঙ্কাকে আরও বড় করে তুলেছে। দেশের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহের অর্ধেকের বেশি আসে গ্যাস থেকে। অথচ দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ঘাটতি মেটাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ৬০-৬৫ শতাংশ এবং এলএনজির ৫৫-৬০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ মানে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে পেট্রোবাংলার ছয়টি এলএনজি সরবরাহ চুক্তির পাঁচটিকে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করা হয়েছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে উঠেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সেপ্টেম্বরের জন্য কেনা দুটি এলএনজি কার্গোর দামও প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ ডলারের বেশি পড়েছে।

জ্বালানির এই বাড়তি খরচের সঙ্গে যোগ হয়েছে সরকারের ভর্তুকির চাপ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বোঝা ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যা ছিল প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে অন্য খাতের বরাদ্দেও চাপ নিতে হতে পারে।

কৃষিতেও এর প্রভাব পড়ছে। ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাস দরকার; আবার ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মতো সারের জন্য বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। গ্যাস-সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার পাঁচটিতে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সংকট দীর্ঘ হলে দাম দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।

শিল্পের অবস্থাও স্বস্তির নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাসে গড়ে ২৬ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে বছরে বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের সঙ্গে বাড়তি আমদানি ব্যয় যোগ হওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। কোথাও কাজের সময় কমছে, কোথাও উৎপাদন কমছে, আবার কিছু কারখানা বন্ধও হচ্ছে।

সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, গ্যাস না পাওয়ায় শিল্পকারখানায় নতুন করে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না; কোথাও কাজের সময় কমেছে, আবার জ্বালানিসংকটে কিছু কারখানা বন্ধও হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাংকের কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার কিছু লক্ষণ ইতিমধ্যে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে।

মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে (এমজেডিএ) নতুন দেশ যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

তবে কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আবেদন করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই তা বিবেচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন উত্তর দেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ফ্রন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না। এছাড়া সিরিয়া ও ইরানের মত দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হল শান্তি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তা বলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আমাদের অংশীদার রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি পাকিস্তানের মুখপাত্র। ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহ নিয়েও তিনি আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনা

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার একই ধরনের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
সৌদি থেকে ফিরছে রিয়াদ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৯ বাংলাদেশির কফিন

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

শনাক্ত হওয়া নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ওই বাংলাদেশিরা। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম ধাপে নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তবে বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষা এখনো শেষ না হওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ফলে স্বজনদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে। আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘হামার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এজন্য পরে আসবে। সরকারের কাছে আবদার, হামার ছেলের লাশ য্যান দ্রুত নিয়ে আসে। শেষবারের মতো ছেলেটাক এক নজর দেখতে মন স্থির রাখতে পারোছি না।’

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজনের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ইউএনও আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রাথমিকভাবে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্য মরদেহগুলোও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসে পরিবারের ভাগ্য বদলের আশায় যাওয়া এসব মানুষের মৃত্যুতে এখন স্বজনদের ঘরে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা ঢাকার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা ঢাকার

নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশটিতে উদ্ভূত এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ঢাকা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষের মৃত্যু ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশ সরকার বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নেপাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ এই কঠিন সময়ে বন্ধুপ্রতিম নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।

সহযোগিতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঠমান্ডুকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে ঢাকা। বিশেষ করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহযোগিতা করা হবে।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনরুদ্ধার ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
নেপালের পাশে থাকার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই সংকটকালীন মুহূর্তে বন্ধুপ্রতিম দেশটিকে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নেপালে বিধ্বংসী বন্যায় প্রাণহানির খবরে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও ব্যথিত। বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমি নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে নেপালের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।’

এদিকে নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ জন নিখোঁজের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের নাগরিকও রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নেপালে আটকে পড়াদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রস্তুত রয়েছে। তবে দুর্গম এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

সরকারিভাবে কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েেশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং অবৈধভাবে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা:

বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও, এর জন্য কবে থেকে আবেদন শুরু হবে বা কোথায় আবেদন করতে হবে—তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। অনলাইন আবেদন লিংক, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাভিত্তিক শর্ত কিংবা প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি সম্পর্কেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় সাধারণ কর্মী ও প্রবাসপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে:

প্রতারণা থেকে সাবধান: সরকারি কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে যদি কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘মালয়েশিয়ার ১০ হাজার কর্মীর আবেদন’ বা নিবন্ধনের নামে টাকা দাবি করে, তবে তাতে একেবারেই সাড়া দেওয়া যাবে না।

অফিশিয়াল তথ্যের ওপর ভরসা: আবেদন প্রক্রিয়া বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং অনুমোদিত সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমেই জানানো হবে। তাই সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি মাধ্যমের ওপর ভরসা করা উচিত।

প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর গুরুত্ব:

বিদেশগামীদের শুধু পাঠানোই নয়, বরং তাদের দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। বিদেশযাত্রার আগে কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি ইংরেজি, আরবি, জাপানি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষার মতো বিদেশি ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী এলাকায় ৫টি নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

সংক্ষেপে, ১০ হাজার কর্মীর এই বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের এখন কোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।