৩০ আগস্ট ২০২৬

ফিফা দুর্নীতি-কাণ্ডে এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইনের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ফিফা দুর্নীতি-কাণ্ডে এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইনের

ফিফার বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুই আর্জেন্টাইন ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। লাভজনক বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব নিশ্চিত করতেই তারা এই ঘুষ দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর বাবা-ছেলে হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস এই স্বীকারোক্তি দেন। চুক্তির আওতায় বিচার এড়ানোর বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।

হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের সহ-মালিক। ফিফা ও দক্ষিণ এবং উত্তর আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক দুর্নীতি তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

বিচার স্থগিতের চুক্তি বা ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টের (ডিপিএ) আওতায় জিনকিসরা স্বীকার করেছেন, ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাঁরা একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। চুক্তির অংশ হিসেবে ৫ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করতেও সম্মত হয়েছেন তাঁরা।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের লাভজনক সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার প্রচেষ্টায় সমর্থন নিশ্চিত করতে জিনকিসরা ফুটবল নির্বাহীদের বাণিজ্যিক ঘুষ হিসেবে কয়েক কোটি ডলার দিতে সম্মত হন এবং তা পরিশোধ করেন।

নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করতে ঘুষের আশ্রয় নিয়েছিলেন জিনকিসরা।

২০১৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ওই তদন্ত ফিফা ও আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। পরে একাধিক গ্রেপ্তার, বিচার, দোষ স্বীকার এবং সাজা হওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেই বহুল আলোচিত দুর্নীতি তদন্তের এক দশকের বেশি সময় পর এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন আর্জেন্টিনার এই দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী।

আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কোচদের শাস্তি তুলে নিল ফিফা

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কোচদের শাস্তি তুলে নিল ফিফা

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তো কম হয়নি। বিশেষ করে ফাইনাল শেষে স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোয় আর্জেন্টিনার ফুটবলার-কোচদের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। অবশেষে তাঁরা পেলেন সুখবর। ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিচ্ছে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে ফুটবলার-কোচদের শাস্তি তুলে নিতে ফিফার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা তা অনুমোদন করেছে। এক বিবৃতিতে এএফএ বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষায় সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছে। এরপর ফিফার আপিল কমিটির কাছে যথাযথ আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ক্রীড়া আদালতে যাব।’

১৯ জুলাই নিউজার্সির ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর লেয়ান্দ্রো পারেদেস মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। এমনিতেই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে একটা হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। রানার্সআপ হওয়ার পর পারেদেস স্পেনের দুই ফুটবলার গাভি ও দানি অলমোর গলা চেপে ধরেছিলেন। জোড়া হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখার পর ফিফা সেই শাস্তি তুলে নিয়েছিল।

পারেদেসের শাস্তি তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা আর্জেন্টিসা-স্পেন ফাইনাল নিয়ে তদন্ত করে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এরপর পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাউয়েল মলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাছাড়া গলা চেপে ধরার কাণ্ডে জড়িত থাকায় সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা জড়িত থাকায় তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়।

বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে বড় শাস্তি পেলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররাবিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে বড় শাস্তি পেলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা
মলিনা-পারেদেসদের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কথা থাকলেও এএফএর পক্ষ থেকে ফিফার কাছে বিশেষ অনুরোধ করা হয়। ফুটবলাররা যেন অফিশিয়াল টুর্নামেন্টের বাইরে প্রীতি ম্যাচগুলোতেও তাঁদের নিষেধাজ্ঞা কাটাতে পারেন, সেই অনুরোধ করেছে এএফএ।বিশ্ব
ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর্জেন্টিনার এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। দরকার পড়লে ক্রীড়া আদালত পর্যন্ত যাওয়ার চিন্তা করছে এএফএ।

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। স্পেনের মতো ফ্রান্সও দুইবার জিতেছে বিশ্বকাপ। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি-ইতালি চারবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছে।

রেকর্ডের চূড়ায় উঠেও সাফল্যের কৃতিত্ব সতীর্থ ও সমর্থকদের দিলেন রোনালদো

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
রেকর্ডের চূড়ায় উঠেও সাফল্যের কৃতিত্ব সতীর্থ ও সমর্থকদের দিলেন রোনালদো

আল নাসরের হয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এখন পর্তুগিজ মহাতারকার দখলে। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের পরও কৃতিত্ব নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বরং সতীর্থ ও সমর্থকদের অবদানকেই সামনে এনেছেন আল নাসর অধিনায়ক।

আল তাওউনের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটা করেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে এই ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা এখন ১০৪টি। এর মাধ্যমে আল নাসরের সাবেক গোলদাতা মোহাম্মদ আল সাহলাওয়িকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। রিয়াদের ক্লাবটির হয়ে ১০৩ গোল করেছেন আল সাহলাওয়ি।

মাইলফলক স্পর্শের পর সৌদি আরবের থমনিয়াহ নেটওয়ার্ককে রোনালদো বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। এটি দারুণ একটি অর্জন, তবে এটি শুধু ক্রিস্টিয়ানোর জন্য নয়। আমাকে আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে হবে, কারণ তাদের ছাড়া এই অর্জনে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল।’

নিজের সাফল্যের পেছনে আল নাসর সমর্থকদেরও ভূমিকাও আছে বলে মনে করেন রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী বলেন, ‘সমর্থকদের জন্যও আমি খুশি। তারা সব সময় আমাকে সমর্থন করে এবং এই সমর্থন পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। ধন্যবাদ।’

সৌদি লিগে যোগ দেওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন রোনালদো। আল তাওউনের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের পর ক্যারিয়ারে তাঁর মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৭৮টি। অর্থাৎ আর মাত্র ২২ গোল করলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।

রোনালদোর নেতৃত্বে মৌসুমের শুরুটাও দারুণ হয়েছে আল নাসরের। প্রথম চার ম্যাচে শতভাগ জয়ে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ক্লাবটি। ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে আল হিলাল। আল নাসরের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা।

ফিফা দুর্নীতি-কাণ্ডে এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইনের

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
ফিফা দুর্নীতি-কাণ্ডে এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার দুই আর্জেন্টাইনের

ফিফার বহুল আলোচিত দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুই আর্জেন্টাইন ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। লাভজনক বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব নিশ্চিত করতেই তারা এই ঘুষ দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর বাবা-ছেলে হুগো জিনকিস ও মারিয়ানো জিনকিস এই স্বীকারোক্তি দেন। চুক্তির আওতায় বিচার এড়ানোর বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।

হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের সহ-মালিক। ফিফা ও দক্ষিণ এবং উত্তর আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক দুর্নীতি তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

বিচার স্থগিতের চুক্তি বা ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টের (ডিপিএ) আওতায় জিনকিসরা স্বীকার করেছেন, ফিফা, কনকাকাফ ও কনমেবলের সঙ্গে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তাঁরা একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। চুক্তির অংশ হিসেবে ৫ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করতেও সম্মত হয়েছেন তাঁরা।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের লাভজনক সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার প্রচেষ্টায় সমর্থন নিশ্চিত করতে জিনকিসরা ফুটবল নির্বাহীদের বাণিজ্যিক ঘুষ হিসেবে কয়েক কোটি ডলার দিতে সম্মত হন এবং তা পরিশোধ করেন।

নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সম্প্রচারস্বত্ব নিশ্চিত করতে ঘুষের আশ্রয় নিয়েছিলেন জিনকিসরা।

২০১৫ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ওই তদন্ত ফিফা ও আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। পরে একাধিক গ্রেপ্তার, বিচার, দোষ স্বীকার এবং সাজা হওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেই বহুল আলোচিত দুর্নীতি তদন্তের এক দশকের বেশি সময় পর এবার ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন আর্জেন্টিনার এই দুই ক্রীড়া বিপণন নির্বাহী।

৩.৩৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
৩.৩৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হলো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ বল!

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ব্যবহৃত বলটি নিলামে বিক্রি হয়েছে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, সম্প্রতি ডালাসভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশন্সের আয়োজনে বলটি বিক্রি হয়।

হেরিটেজ অকশনসের তথ্যমতে, ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টাইন ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল এবং প্রশংসিত একক প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত বলটি নিলামে ৩.৩৫ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে।

আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জেতা কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছিল অ্যাডিডাসের ‘অ্যাজটেকা’ বলটি। ওই ম্যাচেই ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দুটি গোল করেন।

ম্যাচের প্রথম গোলটিই পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়। গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠাতে ম্যারাডোনা বাঁ হাত ব্যবহার করেছিলেন। তবে ম্যাচ কর্মকর্তারা গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।

এর মাত্র চার মিনিট পর নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক পাঁচ ইংলিশ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পরবর্তীতে গোলটি ফিফার ভোটে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নির্বাচিত হয়।

হেরিটেজ অকশন্স জানিয়েছে, ম্যাচ চলাকালীন তোলা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলটির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিলামের আগে বলটির সম্ভাব্য মূল্য অন্তত ১ কোটি ডলার ধরা হয়েছিল। সেই হিসাবে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিক্রিমূল্য প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

ম্যাচটির তিউনিসিয়ান রেফারি আলি বিন নাসের ৩৬ বছর ধরে বলটি নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০২২ সালে লন্ডনের একটি নিলামে বলটি ২০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ২৩ লাখ ৭০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সিও ২০২২ সালে সোথবির নিলামে প্রায় ৯৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

তবে এবারের বিক্রি কোনো ক্রীড়া বলের নিলাম রেকর্ড গড়তে পারেনি। ২০২৪ সালে মেজর লিগ বেসবলের ঐতিহাসিক মৌসুমে শোহেই ওতানির ৫০তম হোম রান করা বল ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

আর সব ধরনের ক্রীড়া স্মারকের নিলাম রেকর্ড এখনো বেবে রুথের জার্সির দখলে। ১৯৩২ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে পরা নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজের কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের সেই জার্সি ২০২৪ সালে ২ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ডলারে বিক্রি করে হেরিটেজ অকশন্স।

অক্টোবরে কি তবে ঢাকায় আসছেন ভিনিতিউস-রদ্রিগোরা?

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
অক্টোবরে কি তবে ঢাকায় আসছেন ভিনিতিউস-রদ্রিগোরা?

ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় ব্রাজিল, সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছে। ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের জাতীয় স্টেডিয়ামে মাঠ পরিদর্শনের পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। বাফুফে সূত্র বলছে, ফিফা আসিয়ান কাপ শেষ হওয়ার পর আগামী অক্টোবরেই বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে চায় ব্রাজিল।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) বিমানবন্দর থেকে সরাসরি জাতীয় স্টেডিয়ামে যায় ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সেখানে মাঠ, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি ও মিডিয়াবক্সসহ স্টেডিয়ামের প্রায় পুরো অংশ ঘুরে দেখেন তারা। পরে তারা বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাও পরিদর্শন করেন। রাতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাজিলের প্রতিনিধিরা।

এ সফরের মধ্যেই বাংলাদেশে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা আরও সামনে এসেছে। বাফুফের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ফিফা আসিয়ান কাপ শেষ হওয়ার পর ঢাকায় এসে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল দল।

আগামী সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডো শেষ হবে ৬ অক্টোবর। এর মধ্যেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)।

ব্রাজিল আগামী ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ম্যাচটি আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে প্রায় ৯০ সদস্যের বহর নিয়ে ঢাকায় আসতে চায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

যদিও জাতীয় দলের ব্যস্ততা বিবেচনায় ব্রাজিলের প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান কাপের ফাইনাল হবে ৩ অক্টোবর। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সূচি বিবেচনায় নিয়ে ব্রাজিলের প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বাফুফেকে। তবে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের ঢাকায় এসে স্টেডিয়াম পরিদর্শন এবং ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব- দুই মিলিয়ে সম্ভাবনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারত জাতীয় দলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। মূলত এই ম্যাচটি আয়োজনের জন্যই ভারতের ফুটবল ফেডারেশন ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নিয়েছিল। পরে তাদের জায়গায় বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানায় ফিফা।

এরপরই বাংলাদেশের জাতীয় দলের সূচিতে আসে আসিয়ান কাপের ব্যস্ততা। অন্যদিকে ব্রাজিলের ভারত সফরের সঙ্গে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল দল এর আগে কখনো বাংলাদেশে খেলতে আসেনি। তাই অক্টোবরের সম্ভাব্য ম্যাচটি বাস্তবে রূপ নিলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হবে বিশেষ এক উপলক্ষ।

এর আগে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এবার সেই জাতীয় স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের পা রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশের জাতীয় দলের সূচি এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে।