২৯ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

‘ঘটনার কতদিন পর আজকা লাশ পাঠাইলো। এতগুলো দিন আমি ঘুমাইতে পারি নাই। আগুন আমার ছেলে দুটাকে কয়লা বানায়া দিছে। বিশ্বাস করতে পারতেছি না যে এরা আমার সেই সোনা বাজান।’

এসব কথা বলে আহাজারি করছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের ময়না খাতুন। তাঁর দুই ছেলে সুমন ও মোহন গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাঁরা হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা হয়। জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

গণ্ডগোহালী, উদনপৈ ও ডুবাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন মরদেহের দিকে।

দুই ছেলের সঙ্গে কথোপকথন তুলে ধরে ময়না খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে দুটো বলত, “মা আর কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরব। দেশে এসে বাড়ির কাজ শেষ করব। একসঙ্গে সুখে থাকব।” আমার দুনিয়া থেকে সবকিছুই চলে গেল।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের নিহত কলিমউদ্দিনের বাবা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে গেল আমাগো ভাগ্যের চাকা ঘুরাইতে, আর আমরা পাইলাম ওর লাশ! ওখানকার ফ্যাক্টরিতে কোনো নিরাপত্তা আছিল না কেন? আমার মতো আর কারও কোল যেন খালি না হয়।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এর আগে এতগুলো মরদেহ কখনো দেখিনি। এ ঘটনার পর থেকেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপার্জন সক্ষম ছেলেদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’

উদনপৈ গ্রামের নিহত ফরিদের মা সাফিয়া খাতুন বলেন, ‘ছেলেটাই আমাদের ভরসা আছিল। পেটের টানেই পাঠাইছিলাম দেশের বাইরে। আগুনে সব শেষ হয়া গেল রে!’

ডুবাই গ্রামের সোহেল রানার বাবা বাদল তরফদার বলেন, ‘সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দেশের বাইরে পাঠায়ছিলাম। এখন আমার তো আর কেউ নাই রে! তুই ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কে আছিল?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনই আত্রাইয়ের। সৌদি কর্তৃপক্ষ বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না করায় তাদের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘ছেলের মুখটা দেখার জন্য ব্যাকুল হইয়া আছি। আমার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এ জন্য পরে আসবে। শেষবার একটু ছোঁয়াও পাব না? সরকারের কাছে আবদার, ছেলের লাশটা দ্রুত নিয়ে আসে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান। ডিএনএ মিললে দ্রুত তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হবে।

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া নওগাঁর ৭ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন

‘ঘটনার কতদিন পর আজকা লাশ পাঠাইলো। এতগুলো দিন আমি ঘুমাইতে পারি নাই। আগুন আমার ছেলে দুটাকে কয়লা বানায়া দিছে। বিশ্বাস করতে পারতেছি না যে এরা আমার সেই সোনা বাজান।’

এসব কথা বলে আহাজারি করছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের ময়না খাতুন। তাঁর দুই ছেলে সুমন ও মোহন গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

রিয়াদের ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তাঁরা হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে সাতজনের একসঙ্গে জানাজা হয়। জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

গণ্ডগোহালী, উদনপৈ ও ডুবাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন মরদেহের দিকে।

দুই ছেলের সঙ্গে কথোপকথন তুলে ধরে ময়না খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে দুটো বলত, “মা আর কয়েকদিন পরেই দেশে ফিরব। দেশে এসে বাড়ির কাজ শেষ করব। একসঙ্গে সুখে থাকব।” আমার দুনিয়া থেকে সবকিছুই চলে গেল।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের নিহত কলিমউদ্দিনের বাবা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিদেশে গেল আমাগো ভাগ্যের চাকা ঘুরাইতে, আর আমরা পাইলাম ওর লাশ! ওখানকার ফ্যাক্টরিতে কোনো নিরাপত্তা আছিল না কেন? আমার মতো আর কারও কোল যেন খালি না হয়।’

গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এর আগে এতগুলো মরদেহ কখনো দেখিনি। এ ঘটনার পর থেকেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপার্জন সক্ষম ছেলেদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে।’

উদনপৈ গ্রামের নিহত ফরিদের মা সাফিয়া খাতুন বলেন, ‘ছেলেটাই আমাদের ভরসা আছিল। পেটের টানেই পাঠাইছিলাম দেশের বাইরে। আগুনে সব শেষ হয়া গেল রে!’

ডুবাই গ্রামের সোহেল রানার বাবা বাদল তরফদার বলেন, ‘সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দেশের বাইরে পাঠায়ছিলাম। এখন আমার তো আর কেউ নাই রে! তুই ছাড়া এই দুনিয়ায় আমার আর কে আছিল?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১২ জনই আত্রাইয়ের। সৌদি কর্তৃপক্ষ বাকি পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত না করায় তাদের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, ‘ছেলের মুখটা দেখার জন্য ব্যাকুল হইয়া আছি। আমার ছাওয়ালের লাশ নাকি শনাক্ত হয়নি, এ জন্য পরে আসবে। শেষবার একটু ছোঁয়াও পাব না? সরকারের কাছে আবদার, ছেলের লাশটা দ্রুত নিয়ে আসে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অন্য মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান। ডিএনএ মিললে দ্রুত তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা হবে।

সৌদি প্রবাসীদের জন্য কঠোর সতর্কতা, থাকছে জেল-জরিমানা

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
সৌদি প্রবাসীদের জন্য কঠোর সতর্কতা, থাকছে জেল-জরিমানা

সৌদি আরবে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার বাইরে বা নিজস্ব হিসাবে কাজ করা প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, একই অপরাধ বারবার করলে নির্দিষ্ট সেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড দেবে। অবস্থার বিবেচনায় দেশে ফেরত পাঠানোর শাস্তিও হতে পারে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ কর্মসংস্থানের কাঠামোর বাইরে প্রবাসীদের নিজস্বভাবে কাজ করা আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার অপরাধ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও ডিপোর্ট করা হতে পারে। দ্বিতীয়বার ২৫ হাজার রিয়াল জরিমানা, এক মাসের কারাদণ্ড ও ডিপোর্ট এবং তৃতীয়বার বা এরপর সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ডিপোর্টের বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া প্রবাসীদের অবৈধভাবে কাজ করতে সহায়তা করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও শাস্তির আওতায় আসবে। অবৈধ কর্মীকে নিয়োগ, পরিবহন, আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা ও ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

শ্রমবাজারে অনুমোদনহীন কর্মসংস্থান বন্ধে সৌদি আরবজুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিমানবন্দর এলাকায় বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা মো. মনছুর আলম (৩২) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (২২ আগষ্ট) রিয়াদের স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনছুর রাঙ্গুনিয়ার কদমতলী ইউনিয়নের পশ্চিম কদমতলীর এলাকার কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের সৌদি প্রবাসী বন্ধ ইউছুপ আলীর বরাতে স্বজনরা জানান, গত শনিবার কাজ শেষে বাসার ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় মনছুর ও তার আরেক বাংলাদেশী সহকর্মীকে বহনকারী গাড়ীকে অন্য একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে ধাক্কা দেয়। পরে মনছুর ও তার সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা মনছুরকে মৃত ঘোষনা করেন। তার অন্য সহকর্মীর অবস্থাও সংকটাপন্ন।

নিহতের প্রতিবেশী নাঈম উদ্দিন জানান, নয় বছর ধরে রিয়াদে কর্মরত মনছুর এক বছর আগে বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গেছেন। তার লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান আছে। তার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছাড়াও স্বজনরা লাশের অপেক্ষায় আছেন। তাদের পরিবারে শোক নেমে এসেছে।

এ ব্যাপারে জানতে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রোমে ট্রিপল মার্ডার! প্রেমিকার পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করতে ইতালিতে সাবেক প্রেমিক শাহাদাত

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
রোমে ট্রিপল মার্ডার! প্রেমিকার পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন করতে ইতালিতে সাবেক প্রেমিক শাহাদাত

প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ২২ বছর পর প্রতিশোধ নিতে অবৈধভাবে ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেন। তিনি সাবেক প্রেমিকা, তার স্বামী ও তার এক কন্যাসন্তানকে ইতালির রাজধানী রোমে গত ২৬ জুন রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতালীয় পত্রিকার প্রতিবেদন, পুলিশ সূত্র এবং নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ঘাতক শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরজু আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব আরজুর পরিবার প্রত্যাখ্যান করে। তারা ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন।

বিয়ের পর কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী আরজুকে নিয়ে ইতালি চলে যান। সেখানে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক শাহাদাত এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। দুই দশক ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজখবর রাখতে থাকেন এবং প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।

শাহাদাত হোসেন ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। সেখান থেকে কিছুদিন আগে অবৈধভাবে ইতালির রোমে পৌঁছে সুকৌশলে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তিনি নিজেকে আরজুর ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করেন। নিহত আরজুও সরল বিশ্বাসে তার পুরনো পরিচিত শাহাদাতকে তার বাড়িতে যেতে দিয়েছিলেন।


২৬ জুন রাতে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারীদের ধারণা, শাহাদাত ওই দিন ওই বাসায় গিয়ে শুধু আরজু ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে আরিশাকে দেখেন। প্রথমে আরজুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বা চিৎকার করলে শিশু আরিশাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরও শাহাদাত পালিয়ে যাননি। বরং তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে ঘরের মেঝের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন এবং লাশগুলো লুকিয়ে রাখেন।

তিনি জানতেন, একে একে পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাসায় ফিরবেন। তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন বাকিদের হত্যার জন্য। কিছুক্ষণ পর আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে বাসায় ফিরলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

সবশেষে বাসায় ফেরেন বড় ছেলে আয়ান (২০)। আয়ান তদন্তকারীদের জানান, তিনি ঘরে ঢুকে শাহাদাতকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাকে বলেন যে তার মা-বাবা ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আয়ান যখন তার মা-বাবার কক্ষের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ খাটের নিচ থেকে তার ছোট বোন আরিশার একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তেই আয়ান বুঝতে পারেন যে ভয়াবহ কিছু ঘটেছে। ঠিক সেই সময় শাহাদাত তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আয়ানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।


আয়ান প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তার সেই চিৎকারে শাহাদাত ভয় পেয়ে পালিয়ে যান।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন লাপাত্তা। ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ইল মেসাজ্জেরো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হয়তো ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ সেখানে তার স্ত্রী ও কন্যা বসবাস করেন। আবার এমনও হতে পারে যে, তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এই চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের পর রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অস্বস্তি বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্মম হত্যাকাণ্ডটি তদন্তের জন্য ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ’


ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘ফ্যানপোস্ট’ লিখেছে, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। কারণ হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তাঁর ফেসবুকে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গানটি শেয়ার করে একটি রহস্যময় স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকে মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারো জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’

বন্দুকধারীর গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
বন্দুকধারীর গুলিতে প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত সেই ব্যক্তিও বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাউনসভিলের রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

মো. রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রাজু ও অন্য বাংলাদেশিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজুর মৃত্যু হয়। পায়ে গুলিবিদ্ধ অন্য বাংলাদেশি চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে সুস্থ আছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার খবরে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজুর স্বজনেরা জানান, ঘটনার সময় এক বন্দুকধারী ওই দোকানে ঢুকে হঠাৎ গুলি চালায়। এতে দোকানে কর্মরত রাজু এবং সেখানে থাকা আরও এক বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন। রাজুর বুকে এবং অন্য বাংলাদেশির পায়ে গুলি লাগে।

নোয়াখালীর আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।’

রাজুর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, রোববার গভীর রাতে ব্রুকলিনে কাজ করার সময় একটি ফাস্টফুড দোকানের কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যরাতের ঠিক পরপরই ব্রাউনসভিলের রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছে ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ রেস্তোরাঁর ভেতরে ৪৪ বছর বয়সী ওই কর্মীর মাথায় গুলি করা হয়। একই ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ডান পায়ে গুলি লাগে।

চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরের ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে দুই ভুক্তভোগীকে নিয়ে যান। সেখানে ওই ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত অন্যজনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি রেস্তোরাঁটির কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ব্রুকলিনে একটি সহিংস সপ্তাহ পার হওয়ার পরপরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইস্ট নিউইয়র্কের নাইচার পিংক হাউসের বাইরে ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘটনাটিকে রোড রেইজ বা সড়ক-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষ হিসেবে সন্দেহ করে পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুরদীপ সিং নামের ওই ব্যক্তি পিৎজা ডেলিভারি দিতে যাওয়ার সময় ক্রিসেন্ট স্ট্রিট ও স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের কাছে বাগবিতণ্ডার মধ্যে তার বুক ও পেটে সাতটি গুলি করা হয়। পরে হত্যাকারী গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে, গুরদীপ সিং যে স্থানে খুন হন সেখান থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে ইস্ট নিউইয়র্কের হাকিমসে ১৭ বছর বয়সী অহমীর জর্ডানকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তবে এ ঘটনায়ও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।