১১ আগস্ট ২০২৬

স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

“আমার মাইয়াডা ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর লগে লড়ছে। আমি অন্ধ মানুষ বাবা… শেষবারের মতো আমার মাইয়াডারে ধইরা দেখবার চাই। আমার মাইয়াডারে দেশে আইনা দেন!”

চোখে আলো নেই, কিন্তু ওমানের হাসপাতালের হিমশীতল বিছানায় কাতরাতে থাকা সন্তান সুমি আক্তারের কষ্ট যেন হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে অনুভব করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা জয়নব খাতুন। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী এলাকার এই বৃদ্ধা।

পাঁচ মাস ধরে ওমানের সোহার এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুমি। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে পঙ্গুপ্রায় হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা সুমি এখন আর ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আর এই মুমূর্ষু অবস্থাতেই তাঁকে বিদেশের মাটিতে একাকী ফেলে সুচতুরভাবে দেশে পালিয়ে এসেছে পাষণ্ড স্বামী।

প্রায় পাঁচ বছর আগে পাশের দক্ষিণ টাপুর চর এলাকার ওমানপ্রবাসী মো. বাবু রায়হানের সঙ্গে সুমির বিয়ে দেন দিনমজুর বাবা সাইদুর রহমান। বিয়ের পর সুমিকে ওমানে নিয়ে যান বাবু। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় চরম নিগ্রহ।

পরিবারের কাছে পাঠানো দুটি ভয়েস বার্তায় সুমি নিজের আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিদিন তাঁকে মারধর করতেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুমিকে মেঝেতে ফেলে পেটে ও কোমরে নির্মমভাবে লাথি মারা হতো। স্বামীর এমন নির্যাতনে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার পর থেকেই সুমির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হতে শুরু করে।

গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে ওমানের সোহারের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই দেশে সটকে পড়েন স্বামী বাবু রায়হান। শুধু তা-ই নয়, প্রবাসীরা সুমির চিকিৎসার জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন, সেই অর্থও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে বাবুর বিরুদ্ধে। চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে ফেলে আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই বাবু দাবি করেন, “ওটা তো বাংলাদেশ না যে চাইলেই থাকতে পারব, তাই চলে আসছি।” একই সাথে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে ওমানের ওই হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশি নারী সুযোগ পেলে ভিডিও কলে সুমিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখান। বাবা সাইদুর রহমান অশ্রুসজল চোখে বলেন, “আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না, শুধু তাকিয়ে থাকে। আমরা কথা বললে নিঃশব্দে শোনে।”

নিঃস্ব দিনমজুর বাবা ও অন্ধ মায়ের পক্ষে সুমিকে নিজস্ব খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাহায্য তো দূরের কথা, স্থানীয় থানায় গিয়েও কোনো আইনি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ পরিবারটির।

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুমির পরিবার ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে’ লিখিত আবেদন করলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁকে অতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এক অন্ধ মায়ের বুকের হাহাকার আর দিনমজুর বাবার অসহায় অশ্রু—এখন কেবলই একটি অলৌকিক অপেক্ষায়। তাঁদের একটাই আকুল আকুতি, সরকারি ও মানবিক হস্তক্ষেপে যেন সুমিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জীবনের আলো হারিয়ে যাওয়া সেই অন্ধ মা যেন শেষবারের মতো অন্তত সুস্থভাবে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন তাঁর কলিজার টুকরো সন্তানকে।

স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
স্ত্রী ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে, সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পালাল স্বামী!

“আমার মাইয়াডা ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর লগে লড়ছে। আমি অন্ধ মানুষ বাবা… শেষবারের মতো আমার মাইয়াডারে ধইরা দেখবার চাই। আমার মাইয়াডারে দেশে আইনা দেন!”

চোখে আলো নেই, কিন্তু ওমানের হাসপাতালের হিমশীতল বিছানায় কাতরাতে থাকা সন্তান সুমি আক্তারের কষ্ট যেন হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দনে অনুভব করছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা জয়নব খাতুন। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী এলাকার এই বৃদ্ধা।

পাঁচ মাস ধরে ওমানের সোহার এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুমি। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে পঙ্গুপ্রায় হয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা সুমি এখন আর ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না, কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। আর এই মুমূর্ষু অবস্থাতেই তাঁকে বিদেশের মাটিতে একাকী ফেলে সুচতুরভাবে দেশে পালিয়ে এসেছে পাষণ্ড স্বামী।

প্রায় পাঁচ বছর আগে পাশের দক্ষিণ টাপুর চর এলাকার ওমানপ্রবাসী মো. বাবু রায়হানের সঙ্গে সুমির বিয়ে দেন দিনমজুর বাবা সাইদুর রহমান। বিয়ের পর সুমিকে ওমানে নিয়ে যান বাবু। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় চরম নিগ্রহ।

পরিবারের কাছে পাঠানো দুটি ভয়েস বার্তায় সুমি নিজের আকুতি জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিদিন তাঁকে মারধর করতেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সুমিকে মেঝেতে ফেলে পেটে ও কোমরে নির্মমভাবে লাথি মারা হতো। স্বামীর এমন নির্যাতনে গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার পর থেকেই সুমির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচল হতে শুরু করে।

গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে ওমানের সোহারের একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েই দেশে সটকে পড়েন স্বামী বাবু রায়হান। শুধু তা-ই নয়, প্রবাসীরা সুমির চিকিৎসার জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন, সেই অর্থও আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে বাবুর বিরুদ্ধে। চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে ফেলে আসার কারণ জানতে চাইলে কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই বাবু দাবি করেন, “ওটা তো বাংলাদেশ না যে চাইলেই থাকতে পারব, তাই চলে আসছি।” একই সাথে মারধরের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

বর্তমানে ওমানের ওই হাসপাতালে কর্মরত এক বাংলাদেশি নারী সুযোগ পেলে ভিডিও কলে সুমিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখান। বাবা সাইদুর রহমান অশ্রুসজল চোখে বলেন, “আমার মেয়ে কথা বলতে পারে না, শুধু তাকিয়ে থাকে। আমরা কথা বললে নিঃশব্দে শোনে।”

নিঃস্ব দিনমজুর বাবা ও অন্ধ মায়ের পক্ষে সুমিকে নিজস্ব খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সাহায্য তো দূরের কথা, স্থানীয় থানায় গিয়েও কোনো আইনি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ পরিবারটির।

তবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুমির পরিবার ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে’ লিখিত আবেদন করলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁকে অতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এক অন্ধ মায়ের বুকের হাহাকার আর দিনমজুর বাবার অসহায় অশ্রু—এখন কেবলই একটি অলৌকিক অপেক্ষায়। তাঁদের একটাই আকুল আকুতি, সরকারি ও মানবিক হস্তক্ষেপে যেন সুমিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। জীবনের আলো হারিয়ে যাওয়া সেই অন্ধ মা যেন শেষবারের মতো অন্তত সুস্থভাবে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন তাঁর কলিজার টুকরো সন্তানকে।

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে নিঃস্ব ১৫ বাংলাদেশি: ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে নিঃস্ব ১৫ বাংলাদেশি: ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার

ভূমধ্যসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধারভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ১৫ বাংলাদেশি ও ৩২ মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জনকে উদ্ধার করেছে ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃতদের মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন পোর্ট সাঈদে যান। সেখানে তারা সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা ও দ্রুত দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে আগ্রহী গ্রিস

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আটক বাংলাদেশিরা জানান, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা লিবিয়া যান। সেখানে অবস্থানকালে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারী বা মাফিয়া চক্রের ফাঁদে পড়েন। ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যেকে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে ইউরোপযাত্রার চুক্তি করেন। এই টাকার জোগান দিতে অনেকে দেশে থাকা জমিজমা বিক্রি করেছেন বলেও জানান।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, গত ১০ জুলাই রাতে একটি রাবারের নৌকায় লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হন তারা। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিক হারিয়ে সাগরে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে অচল হয়ে পড়লে দুই দিন তিন রাত পর্যাপ্ত খাবার ও পানি ছাড়া তারা সাগরে ভাসতে থাকেন। রাতে দূর থেকে কোনো জাহাজ দেখলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট দিয়ে সংকেত পাঠাতেন তারা। অবশেষে ডেনমার্কের একটি জাহাজ তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি হলেন— মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান, সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুলেমান মিয়া, মো. সেলিম হোসেন, মো. মেহেদী হাসান ও মো. মাসুম মিয়া; হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, মো. সারওয়ার হোসেন, জয় শেখ, আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, মো. শিহাব উদ্দিন ও তুহিন মিয়া; ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ, কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন এবং সিলেটের জয়নাল উদ্দিন।

দীর্ঘ সময় সমুদ্রে না খেয়ে থাকায় তাদের অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা চলছে। যাদের পাসপোর্ট নেই, তাদের জন্য জরুরি ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যু করছে দূতাবাস।

বাংলাদেশিদের জন্য গ্রিসের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে, যাবে নতুন কর্মী!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
বাংলাদেশিদের জন্য গ্রিসের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে, যাবে নতুন কর্মী!

ইউরোপের দেশ গ্রিস বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেওয়ার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ২০২২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত শ্রম অভিবাসনবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়নের স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছে দেশটির সরকার।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই আশ্বাস পান বলে জানিয়েছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মানব পাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, বৈধ পথে শ্রম অভিবাসন সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের সার্বিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে গ্রিক অভিবাসনমন্ত্রী সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সঙ্গে এক বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। ওই বৈঠকে বোয়েসেলের মাধ্যমে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী খরচে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানান, গ্রিক মন্ত্রী সমঝোতা স্মারক নবায়ন ও অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার ইতিবাচক বার্তা দিলেও একটি বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অবৈধ উপায়ে অনুপ্রবেশ করে যারা আশ্রয়ের আবেদন করবেন, তাদের থাকার কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না। তা ছাড়া দ্রুতই গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে গ্রিসের কৃষি, পর্যটন, রেস্টুরেন্ট ও নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। বোয়েসেলের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়লে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়বে, তেমনি ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২২ সালে দুই দেশের সই হওয়া ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার পাশাপাশি গ্রিসে ইতোমধ্যে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশিকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি

স্বপ্ন ছুতে গিয়ে ফিরছেন লাশ হয়ে, স্বজনদের কান্নায় ভারী বাতাস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
স্বপ্ন ছুতে গিয়ে ফিরছেন লাশ হয়ে, স্বজনদের কান্নায় ভারী বাতাস

কেউ গিয়েছিলেন অর্থ আয় করে ঋণ শোধ করতে, কারও ইচ্ছা ছিল স্বপ্নের বাড়ি বানানো। কারও স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে ভালো পরিবারে বিয়ে করে সংসার পাতার। কেউ আবার গিয়েছিলেন সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে।

কারও ঘরে সন্তান জন্ম নিয়েছে মাত্র ১৪ দিন আগে। কেউ ফিরে বিয়ে করবেন বলে দিন গুনছিলেন দেশে ফেরার। দেশে স্বজনদের অপেক্ষা, কবে বাড়ি ফিরবে প্রিয় মানুষটি। সবার ফেরার সময় হয়েছে, কিন্তু জীবন্ত নয়, লাশ হয়ে। স্বজনদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে তবে আনন্দ নিয়ে নয়, শোকের কান্নায়।

গত রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলা ও একজনের সদর উপজেলায়, দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং আরেকজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

নিহতরা হলেন–নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মোহন প্রামাণিক (২২), তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) ও নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ মহল্লার শাহিন (৩৮); নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯), দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়ার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)।

‘বাড়ি এসে বিয়া করমু মা’
গন্ডগোহালি গ্রামের মোহন ও সুমনের বাড়িতে এখন শুধু কান্নার শব্দ। দুই সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ময়না খাতুন। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ছেলেদের ছবি বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ময়না খাতুন বলেন, ‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল, মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করে বিয়া করমু মা। মেয়ে-টেয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু। কিন্তু আসা হলো না। কী সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’

মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। যে ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার কথা ছিল, এখন তাঁরই শেষ মুখ দেখার অপেক্ষায় মা।

১৪ দিনের সন্তান বাবার অপেক্ষায়
রুবেল প্রামাণিকের বাড়ির শোক যেন আরও গভীর। ৯ বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। সাড়ে ছয় বছর পর ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেন। এরপর আবার ফিরে যান সৌদি আরব। তাঁদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান। ছয় মাসের ছুটি কাটিয়ে মাত্র তিন মাস আগে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন রুবেল। এর মধ্যেই জন্ম নেয় তাঁর আরেক সন্তান। সেই নবজাতকের বয়স এখন মাত্র ১৪ দিন।

রুবেলের বাবা মোহাম্মদ সাইদুর বলেন, ‘আমার রুবেলের ৯ বছর হচ্ছে সৌদি যাওয়ার বয়স। সাড়ে ছয় বছর পরে ছুটিতে আইছিল। আসার পরে ছাওয়ালোক আবার বিয়া দিনু। বিয়া করে আবার গেলো সৌদি। যেয়ে দুই বছরকার মাথাত আলো বাড়িত। আসে ছয় মাসের ছুটি কাটে গেলো। ছয় মাস ছুটি কাটায়ে যায়ে কেবল তিন মাস হলো।’

কথা বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর। বলেন, ‘আমার তো আর দুনিয়ার বুকে কেউ থাকলো না বাবা। আমার নাতনি হছে, কেবল ১৪ দিন হচ্ছে। ১৪ দিনের ছাওয়াল থুয়ে চলে গেল।’

বাবা জানেন না, কীভাবে ১৪ দিনের শিশুকে বোঝাবেন; যার জন্য বাবা আর কখনও ফিরবেন না।

ঋণের বোঝা এখন কার কাঁধে?
উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ দেড় বছর আগে সৌদি আরব যান। বিদেশ যাওয়ার জন্য পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছিল। ফরিদের পাঠানো টাকায় চলছিল সংসার, শোধ হচ্ছিল ঋণ। স্ত্রী ও দুই বছরের মেয়েকে রেখে এখন তিনি ফিরবেন লাশ হয়ে।

ফরিদের বাবা ময়েন শেখ বলেন, ‘ছেলেটাক বিদেশ পাঠাতে হামি অনেক ঋণের মধ্যে পড়ে আছি। ফরিদের পাঠানো টাকা দিয়েই সংসার চলছিল। এখন ঋণ শোধ করমু ক্যামন করে আর সংসার চালামু ক্যামনে?’

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এখন পরিবারটির সামনে আরও বড় অনিশ্চয়তা। ছোট্ট মেয়েটি হয়তো বাবাকে খুঁজবে; কিন্তু সেই বাবা আর কোনোদিন তাকে কোলে নিতে পারবেন না।

ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু
ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভর চাচা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল বলে তাঁদের কাছে খবর এসেছে। দিনের বেলায় শ্রমিকেরা ঘুমাতেন এবং রাতে কাজ করতেন। তিনি বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় হাসিবুলসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বিএ পাস করার পর স্থানীয় একটি এনজিওতে চাকরি করতেন হাসিবুল। চাকরি চলে যাওয়ার পর কিছুদিন বেকার ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় তিন বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। চাচার ভাষায়, পরিবারের জন্যই বিদেশে গিয়েছিল। এখন সেই পরিবারের কাছেই ফিরবে লাশ হয়ে।

শেষ দেখার অপেক্ষা
গন্ডগোহালি, উজানপৈ, ডুবাইসহ নিহতদের গ্রামগুলোতে এখন একই দৃশ্য। স্বজনদের চোখে পানি, মুখে আহাজারি। কেউ প্রিয়জনের ছবি বুকে জড়িয়ে আছেন। কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন। আবার কেউ বারবার মোবাইল ফোনের দিকে তাকাচ্ছেন–যদি ওপার থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর কোনো খবর আসে।

স্বজনদের এখন আর কোনো দাবি নেই। নেই স্বপ্ন পূরণের হিসাবও। শুধু একটাই অপেক্ষা–কবে দেশে আসবে প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ।
কোনো মা অপেক্ষা করছেন শেষবার ছেলের মুখ দেখবেন বলে। কোনো স্ত্রী অপেক্ষা করছেন স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসবেন বলে। কোনো বাবা অপেক্ষা করছেন সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার জন্য। আর ১৪ দিনের শিশুটি জানবে না যে বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকার কথা, সেই বাবা ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।

শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি মুহূর্ত এখন দীর্ঘ হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের কণ্ঠ আর শোনা যাবে না–তবু শেষবারের মতো মুখটি দেখার আশায় দিন গুনছেন স্বজনরা।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

৪০ দিনের শিশুকে নিয়ে শামীমের স্ত্রীর আহাজারি
মাত্র ৪০ দিনের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন শামীমের স্ত্রী মিতু বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেটা বাবার মুখ চিনে উঠতে পারল না। সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গিয়েছিল, এখন শুধু তাঁর লাশটাই দেশে ফিরবে। আমার সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কীভাবে বাঁচব?’

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০)। সাত মাস আগে সৌদি আরব যান। অপর দুজন রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮) পাঁচ বছর আগে ও তিন বছর আগে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯) সৌদি আরব পাড়ি জমান। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশ যান। এখনও তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতে ঋণ রয়েছে।

শামীমের বাবা জাকির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটা সংসারের হাল ধরেছিল। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেলো। দেনা কীভাবে পরিশোধ করব?’

টিকিট কেটেও ফেরা হলো না শ্যামলের
তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটাতে আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি। তবে এ সময়ের মধ্যে পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারেননি তিনি। ঋণ করে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে ছিলেন দীর্ঘ সময়। কিছু দিন আগে এক লাখ টাকাও নিয়েছেন মেয়ে জামাইয়ের কাছ থেকে। পরিবারের অনুরোধে আগামী শুক্রবার একবারে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট কেনাসহ সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জীবিত নয় যদি ফেরার সুযোগ হয় ফিরবেন লাশ হয়ে।

শ্যামল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন।

সংজ্ঞা ফিরতেই রশিদা খাতুন বিলাপ করে বলে ওঠেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’

প্রধানমন্ত্রীর শোক
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুততম সময়ে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জামায়াতের শোক
সৌদি আরবে আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের পক্ষে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক জানান।

সৌদি আরবে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু: চুল কাটতে গিয়ে বেঁচে গেছেন হাবিবুর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
সৌদি আরবে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু: চুল কাটতে গিয়ে বেঁচে গেছেন হাবিবুর

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহতদের মধ্যে ১১ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতদের মধ্যে আত্রাইয়ের ১৩ জন রয়েছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, রিয়াদের শিফা থানা এলাকার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই সোফা তৈরির কারখানাটি বাংলাদেশী কর্মীরাই পরিচালনা করে আসছিলেন। রোববার স্থানীয় সময় বেলা দুইটার দিকে আগুন লাগে এবং এর পরপরই সেখানকার ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইং জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে এবং সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কাজ করতেন। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন মাত্র ব্যক্তি ঘটনার সময় বাইরে থাকায় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন।

দূতাবাসের লেবার উইং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, ‘একজন জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন দুপুর দেড়টার দিকে তিনি চুল কাটার জন্য সেলুনে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন কারখানায় আগুন জ্বলছে। ফলে ১৭ জন কর্মীর মধ্যে ১৬ জনই মারা গেছেন।’

স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্র দূতাবাসকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। বাকিরা কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

যে ১৬ জন মারা গেছেন তারা হলেন- ফরিদ, শুভ, রুবেল প্রামাণিক, সুমন, কলিম উদ্দিন, মোহন, সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল।

এর মধ্যে সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার, আর শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

এদিকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁ, নাটোর এবং রাজশাহীর ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এক শোক বার্তায় মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

নিহত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও ওই বার্তায় জানিয়েছেন তিনি।