১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছরই গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের যুক্তি হলো, বর্তমানে ইইউতে যাদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমসংখ্যককে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে থেকে যান এবং আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। রিটার্ন হাব চালু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হবে বলে দেশগুলোর ধারণা।

পরিকল্পনাটি অবশ্য শুরু থেকেই নানা তর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার পাঁচ দেশের সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ও নন-রিফাউলমেন্ট নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, কার্যকর বিচারিক প্রতিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির তাৎপর্য উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশী নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। একই সময়ে বাংলাদেশীদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

তবে বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন বিভিন্ন সদস্যদেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। একই বছরে ১ হাজার ১৭০টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় অনেক বাংলাদেশীর আশ্রয় আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ এখনো ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় উৎস দেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ইইউর পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’”

প্রতিমন্ত্রী বলেন,”‘বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত রয়েছে। তাই এখন বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

মো. নুরুল হক আরো বলেন, ‘সরকার সবসময়ই অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, সবাই বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যাক। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে আসছি।’”

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কেবল অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে এখানে বসবাসের পরিবেশ নেই বা নাগরিকরা নিরাপদ নয়। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের নতুন রিটার্ন নীতি প্রস্তাব এবং পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তি, প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন,”‘আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানবতাবিরোধী। প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ড. তাসনিম সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অফশোর প্রসেসিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপ যদি একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবাসীর স্ত্রীর ভাড়া বাসা থেকে কবীর হোসেন (২৫) নামে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন প্রবাসী উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিন আক্তার ও তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে।

উজ্জল হোসেন ওমানে থাকেন। প্রায় দুই বছর ধরে শিরিন আক্তারের ছেলেকে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন কবীর হোসেন।

গত বৃহস্পতিবার শিরিন আক্তার ময়মনসিংহ শহরে তাঁর বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার সময় কবীর হোসেনকে বাসায় থাকার জন্য চাবি দিয়ে যান।

এরপর শুক্রবার কোনো এক সময় বাসার ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।


তবে নিহতের মা জোসনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ছেলে বাড়িতে গেলে উজ্জল হোসেনের স্ত্রী শিরিনা আক্তার ফোন করে তাঁকে বাসায় ডেকে নিতেন। তাঁর দাবি, শিরিনা আক্তারের কারণেই তাঁর ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার আজাদ

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফুলবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং সেখানেই প্রবাসীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
মৃত্যুর ৯ মাস পর দেশে পৌঁছাল প্রবাসী তরিকুলের মরদেহ

লিবিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ মাস পর সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক প্রবাসী যুবকের মরদেহ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। নিহত তরিকুল ইসলাম ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে।

​নিহতের স্বজনরা জানান, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ও জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তরিকুল। প্রবাসে অবস্থানকালে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি হঠাৎই তার করুণ মৃত্যু হয়।

তবে মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পথটি মসৃণ ছিল না। নানা কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা পার করতে করতেই পার হয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি মাস।

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

অবশেষে শনিবার দুপুরে বিমানযোগে কফিনবন্দি হয়ে তরিকুলের মরদেহ বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকেল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিজ গ্রামে আনা হয় তার কফিন।

দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর তরিকুলের কফিনবন্দি দেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের কফিন জড়িয়ে ধরে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, গ্রামজুড়ে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

পরবর্তীতে বিকেল ৫টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

প্রবাসীরা চাইলে বাড়ি পাহারায় মিলবে আনসার

শাহজালালে ফ্রি শাটল বাস চালু হলেও যাত্রীদের সাড়া নেই!

মৃত্যুর ১১ মাস পর অবশেষে দেশে ফিরল প্রবাসী মিন্টু মিয়ার মরদেহ

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
নারী কণ্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও  প্রতারণা, গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য

নারী কন্ঠে প্রবাসীদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব, এরপর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চলতো নানা ধরনের কথোপকথন। এক পর্যায়ে হাতিয়ে নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের অর্থ। সংবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘ দিন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবে প্রতারণা করে আসছিল। ওই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া ভাঙাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জব্দ করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ বলছে, লালপুরের প্রতারক চক্র ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া (ভাঙাপাড়া) গ্রামের সাজদার প্রামাণিকের ছেলে কাউসার আলী (২০), একই গ্রামের মিজানুর রহমান বিশুর ছেলে সোহাগ আলী (২৩) ও টুটুল প্রামাণিকের ছেলে ইমন আলীকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে প্রতারণা করা হতো

প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ নিতেন। এক পর্যায়ে স্বজন সেজে প্রবাসীর পিতা মাতা, স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ফোনে টাকা দাবি করতেন আকামার (ভিসা) মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

চক্রটি কখনও কখনও বিদেশের মাটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির মতো গুরুতর খবর দিতো পরিবারের কাছে। আবার বিদেশি পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে এমন খবরও দেওয়া হতো। চিকিৎসা বা সমস্যা সমাধানে চাওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা।

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো বলছে, শুধু ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার হ্যাকিংই নয়, ব্যাংক রসিদ জালিয়াতি করেও টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি। এ ছাড়া নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। সম্মানের ভয়ে প্রবাসীরাও টাকা দিয়ে দিতেন।

তারা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া ইমো হ্যাকিং চক্র এখন জেলা বিভিন্ন এলাকায় বিস্তার লাভ করেছে। এ পর্যন্ত বহু প্রবাসী এই প্রতারক চক্রের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন এসব চক্রকে নির্মূল করতে পারেনি। এ ধরনের প্রতারণা থেকে মুক্তি পেতে তারা প্রশাসনের জোর তৎপরতা দাবি করেন।

প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে মো. আল আমিন (৩০) নামে এক যুবককে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব ১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।

শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী তার বাবার বাড়িতে গোসল করার সময় জনি নামে এক আসামি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই নারী বাথরুম থেকে বের হলে বাইরে থাকা আল আমিন তাকে গলা ধরে আবার বাথরুমে নিয়ে যায়। এ সময় জনি ওই নারীর ভিডিও ধারণ করে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আল আমিনও তাকে ধর্ষণ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার ভিডিও ধারণের পর আসামিরা সেটি অন্যত্র স্থানান্তর করে এবং ওই নারীকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। তারা তাকে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও চাপ দেয়। গত ২ আগস্ট মামলার অপর আসামি মাহবুব আলম তার মোবাইলে থাকা ভিডিও ওই নারীকে দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

র‌্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১৩ এর সদর কোম্পানি ও র‌্যাব ১ এর সিপিএসসি গাজীপুরের যৌথ অভিযানে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামালার আরও ৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানায় র‌্যাব।

চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ডিএমপির এএসআই আটক

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানা এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে স্থানীয়রা আটক করেছেন।পরে অভিযুক্ত নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় আকবরশাহ থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার (৩৯) এবং নুরুন্নবী মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। আর কাজী পারভীন আক্তার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী জহির শাহ সৌদি আরবপ্রবাসী।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তার ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে জহিরের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে পারভীনের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জহির শাহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি স্ত্রীকে ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য একাধিকবার নিষেধ করেন। তবে এরপরও তাদের সম্পর্ক অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাতটার দিকে নুরুন্নবী আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে পারভীনের সঙ্গে রাত যাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জহির শাহ প্রবাস থেকে তার ভাই নাদিম ও স্থানীয় লোকজনকে জানালে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে নুরুন্নবী ও পারভীনকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে, পারভীন তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করেন এবং তার পরিহিত শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।News

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সামনে নুরুন্নবী দাবি করেন, জহির শাহের সঙ্গে পারভীনের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি পারভীনকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন পারভীনকে আকবরশাহ থানায় সোপর্দ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাসা থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরির অভিযোগও করা হয়েছে।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আটক হন। পরে জানা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রবাসী জহির একই এলাকার এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।

ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।