২৯ জুলাই ২০২৬

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছরই গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের যুক্তি হলো, বর্তমানে ইইউতে যাদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমসংখ্যককে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে থেকে যান এবং আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। রিটার্ন হাব চালু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হবে বলে দেশগুলোর ধারণা।

পরিকল্পনাটি অবশ্য শুরু থেকেই নানা তর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার পাঁচ দেশের সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ও নন-রিফাউলমেন্ট নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, কার্যকর বিচারিক প্রতিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির তাৎপর্য উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশী নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। একই সময়ে বাংলাদেশীদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

তবে বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন বিভিন্ন সদস্যদেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। একই বছরে ১ হাজার ১৭০টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় অনেক বাংলাদেশীর আশ্রয় আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ এখনো ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় উৎস দেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ইইউর পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’”

প্রতিমন্ত্রী বলেন,”‘বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত রয়েছে। তাই এখন বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

মো. নুরুল হক আরো বলেন, ‘সরকার সবসময়ই অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, সবাই বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যাক। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে আসছি।’”

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কেবল অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে এখানে বসবাসের পরিবেশ নেই বা নাগরিকরা নিরাপদ নয়। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের নতুন রিটার্ন নীতি প্রস্তাব এবং পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তি, প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন,”‘আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানবতাবিরোধী। প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ড. তাসনিম সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অফশোর প্রসেসিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপ যদি একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
ইউরোপে আশ্রয় না মিললে বাংলাদেশীদের আফ্রিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা

প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের পাঁচ দেশ। জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস যৌথভাবে এ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এর আওতায় এ দেশগুলোর কোনোটিতে আশ্রয়ের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ীভাবে তৃতীয় কোনো দেশে রাখা হবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য হোস্ট দেশ হিসেবে কেনিয়াসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।

পাঁচটি দেশের মধ্যে গ্রিস রিটার্ন হাব বাস্তবায়নে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বছরই গ্রিসসহ বাকি চার দেশ রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার জন্য তৃতীয় দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে সামনের বছরই এ প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত নতুন রিটার্ন রেগুলেশন থেকেই পাঁচ দেশের এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এ আইনি কাঠামোয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস সম্ভাব্য হোস্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং যাদের নিজ দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে না, তাদের অস্থায়ীভাবে এসব রিটার্ন হাবে রাখা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, ঘানা, রুয়ান্ডা, বেনিন, মৌরিতানিয়া এবং এশিয়ার উজবেকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সক্ষমতা, আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কেউই এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় ও বিদেশে কর্মরত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রিটার্ন হাব নিয়ে ইউরোপের পাঁচ দেশের উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। কারণ বিষয়টি এখনো নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবটি নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে, সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। মূল উদ্দেশ্য হলো যাদের আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে নাকচ হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে, তাদের ইইউর বাইরে তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা। সেখানে অবস্থান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউরোপে বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার খুবই কম, যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক। বর্তমানে প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার প্রায় ৩-৪ শতাংশ। তৃতীয় দেশে রিটার্ন হাবে পাঠানোর বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ-সংক্রান্ত রেগুলেশন এখনো অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার যে নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সেটি কার্যকর হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশীদের নতুন আশ্রয় আবেদন আগের তুলনায় দ্রুত নিষ্পত্তির আওতায় আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিটার্ন রেগুলেশন অনুযায়ী, নতুন আবেদনগুলো প্রায় ১২ সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। যেসব আবেদন এ সময়ের মধ্যে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের পক্ষে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেশের যুক্তি হলো, বর্তমানে ইইউতে যাদের প্রত্যাবাসন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, তাদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমসংখ্যককে শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। এতে বিপুলসংখ্যক প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ইউরোপে থেকে যান এবং আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। রিটার্ন হাব চালু হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরো কার্যকর হবে বলে দেশগুলোর ধারণা।

পরিকল্পনাটি অবশ্য শুরু থেকেই নানা তর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার পাঁচ দেশের সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ও নন-রিফাউলমেন্ট নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপের বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করলে আশ্রয়প্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা, কার্যকর বিচারিক প্রতিকার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির তাৎপর্য উঠে এসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) ‘লেটেস্ট অ্যাসাইলাম ট্রেন্ডস ২০২৫’ প্রতিবেদনে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইইউতে আশ্রয় আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ বৃহত্তম উৎস দেশ। বাংলাদেশের আগে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলোয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশী নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ২৪৫টি ছিল প্রথমবারের আবেদন। একই সময়ে বাংলাদেশীদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

তবে বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন বিভিন্ন সদস্যদেশে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। একই বছরে ১ হাজার ১৭০টি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়। বাংলাদেশীদের আশ্রয় আবেদনের প্রথম ধাপের স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ইইউএএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশবিষয়ক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় অনেক বাংলাদেশীর আশ্রয় আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ এখনো ইইউতে আশ্রয়প্রার্থীদের অন্যতম বড় উৎস দেশ। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

ইইউর পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ সম্পর্কে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা যোগাযোগ আমাদের কাছে আসেনি।’”

প্রতিমন্ত্রী বলেন,”‘বাংলাদেশের নাগরিকদের এখন রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত রয়েছে। তাই এখন বিদেশে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার যৌক্তিকতা আমি দেখি না।’

মো. নুরুল হক আরো বলেন, ‘সরকার সবসময়ই অনিয়মিত অভিবাসন নিরুৎসাহিত করে। আমরা চাই, সবাই বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে যাক। কিন্তু দেখা যায়, অনেকে অনিয়মিত পথে ইউরোপে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। আমরা শুরু থেকেই এ ধরনের প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে আসছি।’”

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন কেবল অভিবাসনের একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ব্যক্তি ও দেশ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি হওয়া উচিত নয় যে এখানে বসবাসের পরিবেশ নেই বা নাগরিকরা নিরাপদ নয়। বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় কমিশনের নতুন রিটার্ন নীতি প্রস্তাব এবং পাঁচ দেশের রিটার্ন হাব উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ এগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক উদ্যোগ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন নিষ্পত্তি, প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়তে পারে।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন,”‘আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানবতাবিরোধী। প্রত্যাবাসন সহজ করার উদ্দেশ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ড. তাসনিম সিদ্দিকী ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার অফশোর প্রসেসিং ব্যবস্থার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নীতির ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কার্যকর আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। তাই ইউরোপ যদি একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে চায়, তাহলে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

এসি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
এসি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুজনের নাম সাফিকুল মিয়া (৩২) ও মোজাহিদ (২৬) বলে জানা গেছে।

রোববার (২৬ মে) দুপুরে রিয়াদের একটি ভবনে এসি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এ দুজন। নিহত দুজনের বাড়িই ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নে। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহমেদ।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাফিকুল মিয়া সাত বছর আগে কাতার প্রবাসী ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি দেশে আসেন। দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পাড়ি জমান তিনি।

আরেক নিহত মোজাহিদ রিয়াদে যান আড়াই বছর আগে। পরিচিত হওয়ার সুবাদে মোজাহিদ ও সাফিকুল রিয়াদের ইশারা ডাইরেক্টর এলাকায় একইসঙ্গে থাকতেন। কাজও করতেন একসঙ্গে।

এ বিষয়ে আগানগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহমেদ বলেন, একই গ্রামের দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের কথা চিন্তা করে আমাদের গ্রামের সন্তানরা বিদেশে পাড়ি জমান। একটি দুর্ঘটনায় উপার্জনক্ষম দুটি সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার। মরদেহ দুটি যেন ঠিকভাবে দেশে আনা যায় সেজন্য নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রবাসী যুবকের গো.পনা.ঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, আটক চাচি

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
প্রবাসী যুবকের গো.পনা.ঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, আটক চাচি

নোয়াখালীর চাটখিলে প্রবাসী জুয়েল (২৪)-এর গোপনাঙ্গ কেটে পালালো তার আপন চাচি জেসমিন আক্তার। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মর্জাতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর জুয়েলকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে চাটখিল সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জুয়েলের চাচা মনির হোসেন দেড় বছর আগে মারা যান।

জুয়েল ৮ বছর পর ওমান থেকে বাড়ি আসে। জুয়েলের সঙ্গে জেসমিনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জুয়েল চাচিকে বিবাহ করার আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত বুধবার চাচি জানতে পারে জুয়েলের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছে।

এ সংবাদ পেয়ে চাচি কৌশলে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জুয়েলকে তার শয়ন কক্ষে ডেকে নিয়ে কৌশলে কেচি দিয়ে গোপনাঙ্গ কেটে দেয়। জুয়েলের বাবা কামাল হোসেন জানান, রাত ২টার দিকে তার ভাইয়ের ঘরে হঠাৎ জুয়েলের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসে।


এ সময় জুয়েলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢাকা-মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল জানান, চাচির সঙ্গে তার কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।

রাতে সে ঘরের বাহিরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে চাচি তাকে ডেকে নিয়ে জোর করে ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এ সময় চাচিকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাব দিলে জুয়েল তাতে রাজি হয়নি।

জুয়েল আরও জানান, এ সময় চাচি তাকে জোর করে পানি খেতে দেয়। পানি পান করার পর কিছু বুঝে উঠার আগেই চাচি তার গোপনাঙ্গ কেটে দেয়।

২২ দিনে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
২২ দিনে ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠালেন প্রবাসীরা

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা হিসাবে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা জানান, ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন (২.১৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যার মধ্যে কেবল ২২ জুলাই একদিনেই এসেছে ৭৫ মিলিয়ন ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৭৫৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

এদিকে প্রবাসীদের পাঠানো আয় বাড়ার ইতিবাচক প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও বড় উত্থান ঘটেছে। বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন বা ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবরীতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবে রিয়াদ থেকে মক্কায় হজ্বে যাওয়া পথে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় মা, ছেলে ও মেয়েসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন বাবা ও ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), ছেলে তাসবিক (২০) ও মেয়ে জারা(১৫)। আহতরা হলেন,স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল। তানিয়া তাহমিনা রিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে। তানিয়া তাহমিনা রিনার স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৌরব এলাকার বাসিন্দা।

নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর বলেন, আমার ফুফাতো বোন, দুলাভাই এবং তাদের তিন ছেলে মেয়েসহ বৃহস্পতিবার সকালে ওমরাহ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কা যাচ্ছিল। রিয়াদ থেকে রওনা হয়ে ৩০০ কিলোমিটার যাওয়ার পরে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হয়েছেন। দুইজন মারাত্মক আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মাদ মুরাদ বলেন, আমার বোন, দুলাভাই তাদের ছেলে মেয়েসহ পাঁচজন ওমরাহ পালনের জন্য রিয়াদ থেকে মক্কা যাওয়ার পথে প্রাইভেটকারের পিছন থেকে বড় কোন গাড়ী সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে আমার বোন,ছোট ভাগ্নে ও ভাগ্নি নিহত হয়েছেন। আমার ভগ্নিপতি ও আরেক ভাগ্নে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।